যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ চিকিৎসা খরচ মেটাতে পারছেন না
আমেরিকার অর্ধেকেরও কম নাগরিক এখন তাদের প্রয়োজনীয় মানসম্মত চিকিৎসা এবং ওষুধের খরচ মেটাতে সক্ষম বলে বিশ্বখ্যাত জরিপকারী সংস্থা গ্যালাপের নতুন একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। দেশটিতে চিকিৎসা খাতের ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি অনেক উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোও এখন তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যা মার্কিন সমাজব্যবস্থায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গ্যালাপের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আমেরিকার মাত্র ৪৯ শতাংশ মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ডাক্তার দেখানো এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কেনার খরচ সহজেই মেটাতে পেরেছেন। ২০২২ সালে এই অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ নাগরিকদের হার ছিল সর্বোচ্চ ৬১ শতাংশ, যা সময়ের ব্যবধানে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়ে এখন ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।
চিকিৎসার খরচ মেটানোর এই সক্ষমতা কমার পাশাপাশি আগামী দিনে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করা নিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ অনেক তীব্র হচ্ছে। গ্যালাপের এই জাতীয় সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫১ শতাংশ মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তারা আগামী এক বছরে নিজেদের চিকিৎসা খরচ চালানো নিয়ে খুবই চিন্তিত এবং ৪২ শতাংশ মানুষ ওষুধ কেনার খরচ মেটানো নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এই তীব্র আর্থিক সংকট কেবল দেশটির নিম্ন বা মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সব স্তরের আয়ের মানুষের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যালাপের সমীক্ষায় দেখা গেছে, বছরে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৯ ডলার আয় করা সচ্ছল পরিবারগুলোর এক-তৃতীয়াংশ এবং বছরে কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় করা উচ্চবিত্ত পরিবারের এক-পঞ্চমাংশ মানুষ হয় ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না অথবা দামি ওষুধ কেনার মতো প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন।
বয়সভিত্তিক সামাজিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫০ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের একটি নির্দিষ্ট অংশকে বাদ দিয়ে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমেরিকার সব বয়সের মানুষেরই নিজের চিকিৎসা খরচ মেটানোর বাস্তব ক্ষমতা অনেক কমেছে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রয়েছেন, কারণ এই তরুণদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বর্তমানে চিকিৎসার খরচ মেটাতে নিরাপদ আর্থিক অবস্থানে আছেন।
জরিপের এই উদ্বেগজনক তথ্যগুলো মূলত গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর ওয়েব ও ডাক মেইলের মাধ্যমে নিখুঁত জরিপ চালিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই সংকটের মাঝেই গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়াম কমাতে একটি নতুন পরিকল্পনা এবং পরবর্তী মাসে সুলভ মূল্যে ওষুধ দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করার ঘোষণা দেয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এই নীতির আওতায় মেডিকেড, স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা, শিক্ষায় আর্থিক সহায়তা ও ফ্রি স্কুল লাঞ্চসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি কিছু আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার সিদ্ধান্তে বিবেচনায় আসতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নিয়মে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে আবেদনকারীর সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি মূল্যায়নের আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেটি নির্ধারণের সময় বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল হবে, এমন নিয়ম নয়। নতুন নীতির আওতায় মেডিকেড ও স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কলেজের টিউশন সহায়তা, ফ্রি স্কুল লাঞ্চ এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তাও কর্মকর্তাদের বিবেচনায় আসতে পারে। কোন সুবিধা কীভাবে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে নিয়মটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই নীতি ‘পাবলিক চার্জ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সহায়তা বিবেচনা করে আসছেন। নতুন নিয়ম সেই বিবেচনার আওতা আরও বিস্তৃত করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাসাইলামপ্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসী নতুন নিয়মের বাইরে থাকবেন। অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট পারিবারিক সদস্য, দক্ষ ও ধর্মীয় কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রিন কার্ড আবেদনকারী এই নীতির আওতায় পড়তে পারেন। নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন নীতিটি সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীদের সেই সুবিধা নিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে অতিরিক্ত ও অস্পষ্ট ক্ষমতা দিতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোই এই নীতির উদ্দেশ্য। প্রশাসনের হিসাবে, নতুন নিয়মের কারণে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে যেতে পারেন বা নতুন করে এসব কর্মসূচিতে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ব্যয় বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার কমতে পারে বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের হিসাব উদ্ধৃত করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও একই ধরনের পাবলিক চার্জ নীতি চালু হয়েছিল। পরে আদালতে তা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ হয় এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২২ সালে নীতিটি বাতিল করে তুলনামূলক সংকীর্ণ নিয়ম চালু করেছিল। ২০২৬ সালের নতুন নীতি সেই বিস্তৃত পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন করেছে। নতুন নিয়মের ফলে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের আগে নিজেদের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং কোন সুবিধা তাদের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে, তা বুঝে নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে একজন সদস্য গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন এবং অন্য সদস্যরা সরকারি সহায়তা নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
ব্রিটেনে বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটি! বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি বাড়লো আরও এক বছর, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপর
ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের বিলে সই করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক এজেন্ট হিসেবে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের তরুণ আবদুল্লাহ। তিনি বিয়ানীবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খাসা বিলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং বিলাল উদ্দিনের ছেলে। তাঁর এই সাফল্যের খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শৈশব থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত আবদুল্লাহ প্রবাসে গিয়েও নিজের লক্ষ্য ধরে রাখেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ের পর তিনি নিউইয়র্কের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদে সফল হয়েছেন। আবদুল্লাহর এই অর্জনে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন মহল থেকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সাফল্যের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নিউইয়র্কে ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টরা শহরের সড়কে যানবাহন ও পার্কিংসংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কাজটির মধ্যে ট্রাফিক ও পার্কিং বিধি প্রয়োগ, রাস্তায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যান চলাচল ব্যবস্থাপনার মতো দায়িত্ব রয়েছে। প্রবাসজীবনে নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এমন পেশায় জায়গা করে নেওয়া আবদুল্লাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাঁর সাফল্যের খবর বিয়ানীবাজারের স্থানীয় পর্যায়ে আনন্দের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। সূত্র: বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪
মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কডে বিরল দুই মাথাওয়ালা কচ্ছপের সন্ধান, চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ
মার্কিন নাগরিক পরিচয় জাল করে ৩০ বছর সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে চার সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনায় ৪০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের বাবা ব্র্যাডি হারমন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ওপর নির্যাতন ও অবহেলার নানা সংকেত থাকার পরও স্থানীয় সরকারি সংস্থা, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। ১০ সেপ্টেম্বর দাখিল করা আইনি নোটিশে হারমন মেকানিকভিল শহর, সারাটোগা কাউন্টি, মেকানিকভিল সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, বলস্টন স্পা সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং মেকানিকভিল হাউজিং অথরিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন। নিউইয়র্কের আইনে এ ধরনের নোটিশ দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে আনুষ্ঠানিক মামলা করা যায়। হারমনের চার সন্তান হলেন ১৩ বছর বয়সী হার্পার, ১১ বছর বয়সী হাডসন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্রেসলিন ও গ্যাভিন। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে মেকানিকভিলের একটি আবাসিক ভবনে চার শিশুসহ তাদের মা সারাহ মায়ার্স ও নানি অ্যামি স্টেডম্যানের মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, শিশুদের অধিকাংশের মৃত্যু বিষক্রিয়ার কারণে হয়েছে। একজন শিশুর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতও পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্ত ও বিষতত্ত্ব পরীক্ষার ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। হারমনের আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, সন্তানদের মায়ের কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও চিকিৎসাজনিত নির্যাতন করা হয়েছিল। নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেলাটোনিন, বেনাড্রিল ও ক্রাটমসহ বিভিন্ন পদার্থ নিয়মিত দেওয়া হতো। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার নথিতে ২০২৪ সালের মে মাসের একটি ঘটনাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্কুলে থাকা অবস্থায় চার শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে মাদকজাতীয় অতিরিক্ত ব্যবহারের লক্ষণ দেখা যায়। তিন শিশুকে আলবানি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। গ্রেসলিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ন্যালোক্সোন, যা ওপিওয়েডের অতিরিক্ত মাত্রার প্রভাব কাটাতে ব্যবহৃত হয়, দেওয়া হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে শিশু সুরক্ষা সংস্থাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হারমনের আইনজীবীদের অভিযোগ, এত গুরুতর ঘটনার পরও শিশুদের মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া বা দ্রুত ফৌজদারি ও নির্যাতনের তদন্ত শুরু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আইনি নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, চার শিশুর মধ্যে গ্যাভিন কথিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধ করছিল। পরে তাকে একাধিক মানসিক রোগের ভুল রোগনির্ণয় করিয়ে মানসিক চিকিৎসার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন হারমন। এসব দাবিরও বিচারিক যাচাই এখনো হয়নি। হারমন ও তাঁর সাবেক স্ত্রী সারাহ মায়ার্সের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০১৯ সালে মায়ার্স শিশুদের নিয়ে ইউটাহ থেকে নিউইয়র্কে চলে আসার পর থেকে হারমন তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে পারেননি বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সন্তানদের চিকিৎসা ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যও পর্যাপ্তভাবে পেতেন না। সন্তানদের মৃত্যুর আগে তাঁদের অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে হারমন একাধিকবার পুলিশকে খোঁজ নিতে বলেছিলেন বলেও আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রায় দুই সপ্তাহ পর প্রতিবেশীর কাছ থেকে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পুলিশের আগের তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে একটি চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে মায়ার্স হারমনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং সন্তানদের রক্ষা করার জন্যই তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। হারমন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ব্যবহার করে সহানুভূতি, সরকারি সহায়তা ও অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। হারমনের আইনজীবী নিকোলাস লিয়াকাস ও ক্যাসান্দ্রা রোমে বলেছেন, শিশু সুরক্ষা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একাধিক সতর্কসংকেত থাকার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটির উদ্দেশ্য শুধু হারমন পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্কের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পথ তৈরি করাও। তবে যেসব সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিশে আসামি করার কথা বলা হয়েছে, তাদের কয়েকটি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি। বলস্টন স্পা সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্টও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হারমনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ৪০ কোটি ডলারের অঙ্কটি প্রাথমিক দাবি এবং তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নোটিশে আরও তথ্য যুক্ত হতে পারে। তাঁদের মতে, এই অর্থের পরিমাণ সন্তানদের হারানোর ব্যক্তিগত ক্ষতির কোনো বাস্তব মূল্য নির্ধারণ করে না, বরং অভিযোগ করা ক্ষতি ও সম্ভাব্য আইনি দাবির পরিসর বোঝায়। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, টাইমস ইউনিয়ন, স্পেকট্রাম নিউজ ১
মেটার এআই চশমায় গোপনে যৌনতা, নগ্নতা ও বাথরুমের দৃশ্য ধারণের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা
পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, তবু ১৫০ শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণে পাশে ছিলেন পল