সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#স্বাস্থ্যসতর্কতা

জ্বর ও মাথাব্যথা থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া—নিউমোনিক প্লেগের গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গগুলো জানুন
জ্বর থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া, নিউমোনিক প্লেগের যেসব উপসর্গ জানা জরুরি

রাশিয়ায় প্লেগ গবেষণাগারে কর্মরত এক নারীর গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে মৃ ত্যুর পর নিউমোনিক প্লেগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই নারী প্লেগে আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা থেকে দ্রুত নিউমোনিয়ায় পরিণত হওয়ার মতো উপসর্গগুলো নিয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক এলাকার একটি প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন, নমুনা সংগ্রহের সময় অসাবধানতাবশত জীবিত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে গিয়েছিল। এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিন পর তার মৃ ত্যু হয়। তবে রাশিয়ার ভোক্তা অধিকার ও মানবকল্যাণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোত্রেবনাদজোর জানিয়েছে, ওই কর্মীর ক্ষেত্রে ‘অজানা কারণে নিউমোনিয়া’ শনাক্ত হয়েছিল। পরীক্ষায় তার শরীরে প্লেগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অণুজীব পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত তার মৃ ত্যুর কারণ হিসেবে প্লেগ নিশ্চিত করা হয়নি। নিউমোনিক প্লেগ কী? রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, প্লেগের প্রধান তিনটি ধরন হলো বুবোনিক, নিউমোনিক ও সেপটিসেমিক প্লেগ। এর মধ্যে নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে গুরুতর ধরনগুলোর একটি। নিউমোনিক প্লেগ ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। এতে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার পাশাপাশি দ্রুত নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও কাশি হতে পারে। কখনো কাশির সঙ্গে রক্ত বা পানির মতো কফও দেখা দিতে পারে। এই রোগের উপসর্গ সংক্রমণের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা দিতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, জীবাণু শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছালে এক দিনের মতো কম সময়ের মধ্যেও উপসর্গ শুরু হতে পারে। কীভাবে নিউমোনিক প্লেগ হয়? নিউমোনিক প্লেগ দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত, চিকিৎসা না করা বুবোনিক বা সেপটিসেমিক প্লেগের জীবাণু শরীরের অন্য অংশ থেকে ফুসফুসে পৌঁছাতে পারে। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর কাশি থেকে বের হওয়া সংক্রমিত ক্ষুদ্র কণা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করলেও নিউমোনিক প্লেগ হতে পারে। প্লেগের অন্যান্য ধরন সাধারণত ভিন্ন উপায়ে ছড়ায়। বুবোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে আক্রান্ত মাছির কামড় অন্যতম প্রধান কারণ। এতে জ্বর, মাথাব্যথা, কাঁপুনি ও দুর্বলতার পাশাপাশি শরীরের এক বা একাধিক লসিকা গ্রন্থি ফুলে গিয়ে ব্যথাযুক্ত হতে পারে। সেপটিসেমিক প্লেগের উপসর্গ সেপটিসেমিক প্লেগ রক্তে সংক্রমণ ঘটায়। এতে জ্বর, কাঁপুনি, প্রচণ্ড দুর্বলতা, পেটে ব্যথা ও গুরুতর শারীরিক অবস্থা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ এবং টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা কেন জরুরি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা না করা হলে প্লেগ অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নিউমোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। নিউমোনিক প্লেগ চিকিৎসা ছাড়া খুব দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তবে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। রাশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটিতে এখন পর্যন্ত প্লেগের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি। তাই ওই ঘটনা থেকেই ব্যাপক সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার টাম্পাসহ বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু সং ক্র মণ বাড়ায় ম শার কামড় এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ
জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য ফ্লোরিডায় কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় ডেঙ্গু প্রা দু র্ভাব, ভ্রমণে সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ডেঙ্গু প্রা দু র্ভাব দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালে রাজ্যটিতে স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি আ ক্রা ন্ত হয়েছে টাম্পা শহরসহ হিলসবরো কাউন্টি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি কাউন্টিতে ম শা বা হিত রোগের সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ম শা নিয়ন্ত্রণে জোরদার কার্যক্রম চালাচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ফ্লোরিডায় যে ডেঙ্গু প্রা দু র্ভাব চলছে, সেটি মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়। উপলব্ধ সরকারি তথ্য ও পুরোনো স্বাস্থ্য রেকর্ড অনুযায়ী, অন্তত ১৯৪০-এর দশকের পর কোনো একটি অঙ্গরাজ্যে এক বছরে এত বেশি স্থানীয় ডেঙ্গু সং ক্র মণ দেখা যায়নি। ফ্লোরিডায় এর আগে ২০২৩ সালে প্রায় ২০০টি স্থানীয় সং ক্র মণ শনাক্ত হয়েছিল। চলতি বছরের আ ক্রা ন্তদের বড় অংশই হিলসবরো কাউন্টির বাসিন্দা। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শুধু এই কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৯-এ পৌঁছেছিল। এরপর সং ক্র মণ দ্রুত বাড়ে। টাম্পা ও আশপাশের এলাকায় ম শা নিধনে দিনের পাশাপাশি রাতেও স্প্রে করা হচ্ছে। বাড়িঘরের আশপাশে জমে থাকা পানি ও ম শার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্ত করতেও অভিযান চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, পাশের পাসকো কাউন্টিতেও স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সং ক্র মণ শনাক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সেখানে তৃতীয় স্থানীয় রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ম শা বা হিত রোগের সতর্কতা জারি করা হয়। অরেঞ্জ ও পোলক কাউন্টিতেও স্থানীয় সং ক্র মণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। চলতি বছরের প্রা দু র্ভাবে ফ্লোরিডায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃ ত্যুও নিশ্চিত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, টাম্পার এক বয়স্ক নারী ৪ সেপ্টেম্বর মৃ ত্যু বরণ করেন। ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ পরে মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও রোগীর বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি। ডেঙ্গু এডিস প্রজাতির সং ক্র মিত ম শার কামড়ে ছড়ায়। এটি একজন আ ক্রা ন্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তির শরীরে সাধারণ যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায় না। সং ক্র মণের পর অনেক মানুষের কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। আবার কারও ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ডেঙ্গুতে র ক্ত ক্ষরণ, র ক্ত চাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া এবং শকের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। ডেঙ্গুতে তীব্র শরীর ও হাড়ের ব্যথা হতে পারে বলে রোগটি অনেক সময় ‘ব্রেকবোন ফিভার’ নামেও পরিচিত। কেন এবারের প্রা দু র্ভাব টাম্পা এলাকায় এত বড় আকার নিয়েছে, তার একক কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চল থেকে ফ্লোরিডায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক যাতায়াত একটি সম্ভাব্য কারণ। বিদেশে আ ক্রা ন্ত কোনো ব্যক্তিকে ফ্লোরিডার এডিস ম শা কামড়ানোর পর সেই ম শা অন্য মানুষকে কামড়ালে স্থানীয় সং ক্র মণের চক্র শুরু হতে পারে। চলতি বছর পরিস্থিতির একটি ব্যতিক্রমী দিক হলো, ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত রোগীর সংখ্যা বিদেশ ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী স্থানীয় সং ক্র মণ ছিল ২৫২টি, আর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত সং ক্র মণ ছিল ২৪৫টির মতো। বিশেষজ্ঞরা ফ্লোরিডার উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়াকেও ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন। এডিস ম শা উষ্ণ পরিবেশে দ্রুত বংশবিস্তার করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বিস্তৃত এলাকায় এ ধরনের ম শার বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও গবেষকেরা সতর্ক করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে সং ক্র মিত ডেঙ্গুর অধিকাংশ ঘটনাই পুয়ের্তো রিকোতে হয়েছে। তবে মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লোরিডার পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী। অতীতে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো উষ্ণ অঙ্গরাজ্যে বিচ্ছিন্ন স্থানীয় সং ক্র মণ দেখা গেলেও এত বড় প্রা দু র্ভাব বিরল। ফেডারেল পর্যায়েও পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে। সিডিসি ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য বিভাগকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় অর্থসহায়তা দিয়েছে। তবে ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সিডিসির রোগ তদ ন্তকারী দলকে সরাসরি মাঠপর্যায়ে পাঠানোর অনুরোধ করেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ফ্লোরিডায় বসবাসকারী এবং রাজ্যটিতে ভ্রমণকারীদের ম শার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ডিইইটি, পিকারিডিন বা অনুমোদিত অন্যান্য উপাদানযুক্ত ম শা প্রতিরোধক ব্যবহারের পাশাপাশি লম্বা হাতার পোশাক ও লম্বা প্যান্ট পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দরজা ও জানালায় স্ক্রিন ব্যবহার এবং সম্ভব হলে এয়ার কন্ডিশনড জায়গায় থাকার কথাও বলা হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে বালতি, ফুলের টব, পোষা প্রাণীর পানির পাত্র, পুরোনো টায়ার কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমে থাকতে না দেওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অল্প পরিমাণ স্থির পানিতেও এডিস ম শা বংশবিস্তার করতে পারে। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জ্বর বা ব্যথার জন্য সাধারণত অ্যাসিটামিনোফেন বা প্যারাসিটামল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনের মতো কিছু ওষুধ র ক্ত ক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সেগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সং ক্র মণ নিয়ন্ত্রণে শুধু ম শা নিধন কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়। বাসিন্দাদেরও নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি সরিয়ে ম শার প্রজননস্থল কমাতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে টাম্পা ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী কিংবা সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ম শার কামড় এড়াতে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
এনার্জি ড্রিংক নিয়ে শিশু-কিশোরদের সতর্ক করছেন চিকিৎসক ও অভিভাবকেরা
স্কুলে এনার্জি ড্রিংক খেয়ে ছেলের মৃ ত্যু, অন্য বাবা-মাকে সতর্ক করতে কাজ করছেন পরিবার

স্কুল থেকে ফোন এসেছিল—ছেলেকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হচ্ছে। সেই ফোনকলের কথা আজও ভুলতে পারেননি শন ও হেইডি ক্রাইপ। তাদের ১৬ বছরের ছেলে ডেভিস ক্রাইপ স্কুলে একটি এনার্জি ড্রিংক দ্রুত পান করার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার হৃ ৎ যন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যায় এবং তার মৃ ত্যু হয়।   ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায়। ডেভিসের বাবা শন ক্রাইপ জানান, কিশোরটি মূলত বন্ধুদের মধ্যে নিজেকে কুল দেখানোর চেষ্টা করেই এনার্জি ড্রিংকটি দ্রুত পান করেছিল।   ‘সে একটা এনার্জি ড্রিংক একবারে দ্রুত পান করেছিল—শুধু কুল দেখানোর চেষ্টা করছিল,’ ছেলের সেই দিনের কথা স্মরণ করে বলেন শন।   ডেভিসের মৃ ত্যুর পর তার পরিবার এখন অন্য বাবা-মা ও কিশোরদের এনার্জি ড্রিংকের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে চাইছে। চিকিৎসকরাও বহু বছর ধরে বলে আসছেন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন শিশু ও কিশোরদের জন্য গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।   এ ধরনের পানীয় অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে হৃ ৎ স্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, হৃ ৎ স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, পানিশূন্যতা, অস্থিরতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং খিঁ চু নি র মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।   সম্প্রতি চিকিৎসা পেশাজীবীদের একটি নতুন জোট এই ঝুঁকিগুলো নিয়ে আবারও সতর্ক করেছে। কারণ, মন্সটার এনার্জি ও বিগ ১২ কলেজ অ্যাথলেটিক কনফারেন্সের মধ্যে একটি স্পনসরশিপ চুক্তি হয়েছে। চিকিৎসকদের ওই দল চুক্তিটি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং তরুণদের কাছে এনার্জি ড্রিংক বাজারজাতের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে এনসিএএকে অনুরোধ করেছে।   চিকিৎসকদের উদ্বেগ শুধু মন্সটার এনার্জিকে ঘিরে নয়। তাদের মতে, একই ধরনের ঝুঁকি সব এনার্জি ড্রিংক এবং এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রচারণার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।   আইডাহোর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ম্যাথিউ নেলসন বলেন, কলেজের বিশ্ববিদ্যালয় ও খেলোয়াড়দের মাধ্যমে এনার্জি ড্রিংকের প্রচার হলে শিশুরা এগুলোকে স্পোর্টস ড্রিংক হিসেবে ভাবতে পারে। অথচ এনার্জি ড্রিংক আর স্পোর্টস ড্রিংক এক জিনিস নয়।   আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সংগঠন শিশু ও কিশোরদের এনার্জি ড্রিংক পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক কিশোর নিয়মিত এসব পানীয় গ্রহণ করছে।   ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ‘মনিটরিং দ্য ফিউচার’ জরিপের সর্বশেষ ফল অনুযায়ী, প্রতিদিন এনার্জি ড্রিংক পান করার কথা জানিয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির ২৩ শতাংশ, দশম শ্রেণির ২০ শতাংশ এবং অষ্টম শ্রেণির ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী।   পণ্যের ধরন অনুযায়ী একটি এনার্জি ড্রিংকে ৮০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন থাকতে পারে। তুলনায়, সাধারণ ৮ আউন্স কফিতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। কিছু কোমল পানীয়তে থাকে ৫০ মিলিগ্রাম বা তারও কম।   শিশুদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন গ্রহণের সীমা নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সুপারিশ অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের দিনে সর্বোচ্চ ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনের মধ্যে থাকা উচিত। আরও কম বয়সী শিশুদের ক্যাফেইন না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।   ইন্ডিয়ানার শিশু বিশেষজ্ঞ ও একাডেমিটির পুষ্টি কমিটির চেয়ার ডা. তামারা হ্যানন বলেন, ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদান হৃ ৎ স্পন্দন বাড়ানোর পাশাপাশি স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত পরিমাণে এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করতে পারে।   ডেভিসের ঘটনাটিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তার আগে কোনো হৃ ৎ যন্ত্রের সমস্যা ছিল না। ঘটনার দিন সে একটি ম্যাকডোনাল্ডসের লাতে এবং একটি মাউন্টেন ডিউ পান করেছিল। এরপর এনার্জি ড্রিংক পান করার পর তার হৃ ৎ স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।   ডেভিস নিয়মিত এনার্জি ড্রিংক পান করত না। তারপরও তার মৃ ত্যুর ঘটনা পরিবারকে নাড়া দেয়।   ‘আমরা তার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছিলাম এবং জানিয়েছিলাম যে এগুলো স্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি যে এগুলো প্রাণঘা তী হতে পারে,’ বলেন শন ক্রাইপ।   অবশ্য চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ক্যাফেইনের কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকি থাকলেও ক্যাফেইন মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি থামিয়ে দেয়—এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই।   বিশেষ করে আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকা শিশুদের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তবে সুস্থ শিশুরাও অতিরিক্ত উত্তেজক উপাদান গ্রহণ করলে গুরুতর সমস্যায় পড়তে পারে। তরুণ অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   এনার্জি ড্রিংক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মন্সটার এনার্জি জানিয়েছে, ক্যাফেইন ও অন্যান্য উপাদান বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পানীয়তেই পাওয়া যায়। কোম্পানিটির দাবি, বিশ্বজুড়ে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এনার্জি ড্রিংক বাজারজাত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ১০০ বিলিয়নের বেশি এনার্জি ড্রিংক বিক্রি ও গ্রহণ করা হয়েছে।   অন্যদিকে আমেরিকান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, তাদের সদস্য কোম্পানিগুলো পণ্যের লেবেলে ক্যাফেইনের পরিমাণ প্রকাশ করে এবং শিশু, গ র্ভ ব তী নারী ও ক্যাফেইনে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য সতর্কবার্তাও থাকে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা কে-১২ স্কুলে এনার্জি ড্রিংক বিক্রি বা বাজারজাত করে না।   এদিকে বিগ ১২ ও মন্সটার এনার্জির চুক্তির আওতায় ফুটবল ও বাস্কেটবল জার্সি, মাঠ, কোর্ট এবং ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ লোগো ব্যবহারের কথা রয়েছে।   বিগ ১২ জানিয়েছে, কলেজ ক্রীড়ায় এনার্জি ড্রিংক খাত নতুন কোনো বিষয় নয় এবং পানীয় কোম্পানিগুলো নিয়মিত ক্রীড়া দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ খোঁজে।   চিকিৎসকদের জোটের পক্ষ থেকে শিশু ও কিশোরদের জন্য এনার্জি ড্রিংকের ঝুঁকি নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রও শিক্ষক ও কোচদের ক্যাফেইনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি এবং এনার্জি ড্রিংক ও স্পোর্টস ড্রিংকের পার্থক্য সম্পর্কে শিশুদের বোঝানোর পরামর্শ দিয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পোর্টস ড্রিংকের মূল উদ্দেশ্য হলো শারীরিক পরিশ্রমের পর ঘামের মাধ্যমে হারানো পানি ও ইলেকট্রোলাইট পূরণে সহায়তা করা। অন্যদিকে এনার্জি ড্রিংকে থাকে ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদান।   অভিভাবকদেরও সন্তানরা কী কী পানীয় গ্রহণ করছে, তা নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ছেলের মৃ ত্যুর বছরগুলো পরেও শন ক্রাইপ অন্য পরিবারগুলোকে সতর্ক করতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলে চলেছেন। তার আশা, তাদের পরিবারের কষ্ট ও অভিজ্ঞতা অন্য বাবা-মাকে সচেতন করবে এবং কোনো পরিবারকে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ
৩ হাজার ৪০০ ছাড়াল হাম আক্রান্ত, বিমানবন্দর ঘিরে নতুন সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যেই ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাম আক্রান্ত এক যাত্রী অবস্থান করায় সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ওই যাত্রী বিমানবন্দরে ছিলেন।   ফিলাডেলফিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরের বি ও এফ টার্মিনালে ছিলেন। পাশাপাশি সি, ডি ও ই টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত কিছু এলাকাতেও তার চলাচল ছিল। তবে তিনি বিমানবন্দরের বাইরে যাননি। ওই সময় এসব এলাকায় থাকা যাত্রী ও কর্মীদের নিজেদের হাম প্রতিরোধী কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষ করে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা টিকার বিষয়ে নিশ্চিত নন, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। সম্ভাব্য সংক্রমণের পর ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারও হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়টি জানাতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই সতর্কবার্তার আগে ১১ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালেও হামের সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও বিমানবন্দরের এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৪৭১টি নিশ্চিত হামের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে যেখানে ২ হাজার ২৮৯টি আক্রান্তের ঘটনা ছিল, চলতি বছর এরই মধ্যে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৩৯টি হামের প্রাদুর্ভাবও শনাক্ত করেছে সিডিসি।   অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে পেনসিলভেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৭৪৫। এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা ৬৭০ এবং ইউটাহ ৫২৭। এছাড়া টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন, ফ্লোরিডা, ওহাইও ও অ্যারিজোনাতেও ১০০টির বেশি আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।   তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। টেক্সাসে ২০২৫ সালে ৮০৩টি আক্রান্তের ঘটনা থাকলেও এ বছর এখন পর্যন্ত ১৯২টি হয়েছে। অ্যারিজোনায় গত বছর ২২২টি আক্রান্তের বিপরীতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১০টি ঘটনা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আরকানসাস, হাওয়াই, মিসিসিপি, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও নেভাডায় এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়নি।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে র্যা শ দেখা দিতে পারে। র্যা শ সাধারণত প্রথম উপসর্গের তিন থেকে পাঁচ দিন পর দেখা দিয়ে মাথা থেকে শরীরের নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।   গুরুতর ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে এবং কোনো বদ্ধ জায়গায় ভাইরাস প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।   সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকার একটি ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুটি ডোজ প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। টিকা নেওয়ার পরও বিরল ক্ষেত্রে সংক্রমণ হতে পারে, তবে সাধারণত উপসর্গ ও জটিলতার মাত্রা কম থাকে এবং অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমএমআর টিকা নেওয়ার হারও কমেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এই হার ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীর এমএমআর টিকা সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র ছিল না বলে সিডিসির তথ্য জানিয়েছে।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রেন ও বাসযাত্রীদের মধ্যে হামের সংস্পর্শের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি
টিকা না নেওয়া ব্যক্তির ট্রেন-বাস ভ্রমণ, ছয় কাউন্টিতে হামের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টিকা না নেওয়া এক ব্যক্তির ট্রেন ও বাসে ভ্রমণকে ঘিরে হামের সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে অ্যামট্রাক ট্রেন ও সংযোগকারী বাসে করে অঙ্গরাজ্যের অন্তত ছয়টি কাউন্টির মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করেন। এ ঘটনায় সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা যাত্রীদের সতর্ক করে সতর্কতা জারি করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ।   ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ (সিডিপিএইচ) জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি ১০ সেপ্টেম্বর শিকাগো থেকে অ্যামট্রাক ট্রেনে করে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছান। পরে ১২ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বেকার্সফিল্ড, সেখান থেকে স্টকটন এবং এরপর সংযোগকারী বাসে করে ওরোভিল যান। ১৩ সেপ্টেম্বর বাসে করে ওরোভিল থেকে স্যাক্রামেন্টো এবং পরে স্যাক্রামেন্টো থেকে এমেরিভিলে পৌঁছান।   এরপর ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর এমেরিভিল থেকে ডেনভারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এই ভ্রমণপথের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার আলামেডা, বাট, কার্ন, লস অ্যাঞ্জেলেস, স্যাক্রামেন্টো ও সান জোয়াকিন কাউন্টি জড়িত। নির্দিষ্ট সময়ে এসব ট্রেন, বাস বা সংশ্লিষ্ট স্টেশনে থাকা ব্যক্তিরা হামের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।   সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোর জন্য স্থানীয় কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছে সিডিপিএইচ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা যাত্রীদের নিজেদের হামের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।   হামের সংস্পর্শে আসার পর সাধারণত ৭ থেকে ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল বা পানি পড়া এবং শরীরে র‍্যাশ অন্যতম। কারও মধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে না গিয়ে আগে ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এতে অন্যদের মধ্যে সং ক্র ম ণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।   স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৩টি কাউন্টিতে মোট ৫৯টি হাম শনাক্ত হয়েছে। এসব রোগীর ৯৪ শতাংশ হয় টিকা নেননি, অথবা তাদের টিকা নেওয়ার অবস্থা জানা যায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা টিকা না নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আ ক্রা ন্ত হতে পারেন।   সিডিপিএইচ জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত সং ক্রা ম ক একটি রোগ এবং শিশুদের জন্য এর ঝুঁকি বেশি। হামের বিরুদ্ধে এমএমআর টিকার দুই ডোজ পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে। যাদের টিকা নেওয়ার তথ্য নেই বা নিজেদের টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না নিশ্চিত নন, তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে টিকার অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি? চিকিৎসকের সতর্কবার্তা
এয়ার ফ্রায়ার থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি! চিকিৎসকের সতর্কবার্তায় নতুন আলোচনা

জনপ্রিয় রান্নার যন্ত্র এয়ার ফ্রায়ার নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের চিকিৎসক ডা. পুনম দেশাই। দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা এই চিকিৎসক দাবি করেছেন, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই তার এয়ার ফ্রায়ার ফেলে দিয়েছেন।   ডা. দেশাইয়ের মতে, এয়ার ফ্রায়ারে তুলনামূলক কম তেল ব্যবহার করা হলেও উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় খাবারে অ্যাক্রিলামাইড নামের রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আলুর মতো শর্করা বা স্টার্চসমৃদ্ধ খাবার বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলে এর পরিমাণ বাড়তে পারে।   আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি (EFSA) জানিয়েছে, ভাজা, বেক করা বা রোস্ট করার মতো উচ্চ তাপমাত্রার রান্নায় অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। প্রাণীর ওপর গবেষণায় এটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে; তবে মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের মাধ্যমে পাওয়া অ্যাক্রিলামাইডের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ এখনো সীমিত ও অসঙ্গত।   ডা. দেশাই আরও দাবি করেছেন, কিছু এয়ার ফ্রায়ারে থাকা নন-স্টিক আবরণে PFAS-জাতীয় রাসায়নিক থাকতে পারে, যা উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সব এয়ার ফ্রায়ার একই ধরনের আবরণ দিয়ে তৈরি নয়।   কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, অনেক নন-স্টিক রান্নার সামগ্রীর আবরণে PFAS ব্যবহার করা হয় এবং অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রায় এসব সামগ্রী ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।   তবে এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করলেই ক্যানসার হবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেই। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) বলছে, খাবারে থাকা অ্যাক্রিলামাইড মানুষের ক্যানসারের ঝুঁকি কতটা বাড়ায়, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি অবশ্য দীর্ঘ সময় বা অতিরিক্ত তাপে খাবার রান্না না করার এবং অতিরিক্ত বাদামি বা পুড়ে যাওয়া খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।   ডা. দেশাই বলেছেন, এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করতেই হলে তিনি স্টেইনলেস স্টিলের মডেল বেছে নেবেন এবং সেটিও খুব বেশি ব্যবহার করবেন না।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
পটকা মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে প্রাণ গেল দোকানির
‘কিছু হবে না’ বলে পটকা মাছ খেয়ে অসুস্থ দোকানির প্রাণ গেল

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় পটকা মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজহারুল ইসলাম নামে এক মুদি ব্যবসায়ীর প্রাণ গেছে। একই মাছ খাওয়ার পর তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার বড়দল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজহারুল ইসলাম বড়দল গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে এবং বড়দল বাজারের মুদি দোকানি ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজার থেকে পটকা বা টেপা মাছ কিনে বাড়িতে রান্না করে পরিবারের সদস্যরা খাওয়ার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। আজহারুলের বমি শুরু হলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আজহারুলের আট বছরের ছেলে, ১১ বছরের মেয়ে এবং ৬০ বছর বয়সী মা-ও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ওই মাছ খাননি। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ভাষ্য, পটকা মাছ খাওয়ার আগে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের সতর্ক করেছিলেন। তবে আজহারুল বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বলে জানা গেছে। পটকা মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হলো টেট্রোডোটক্সিন নামের শক্তিশালী এক ধরনের বিষ। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মাছটির ডিম্বাশয়, যকৃত, অন্ত্র ও চামড়ায় এই বিষ বেশি থাকতে পারে। শরীরে এটি প্রবেশ করলে ঠোঁট ও মুখে অবশভাব বা ঝিনঝিন করা, বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় কথা বলা, গিলতে কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যাও হতে পারে। পটকা মাছ রান্না করলেই এর ক্ষতিকর উপাদান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় না। কোন প্রজাতির মাছ কতটা ক্ষতিকর এবং এর কোন অংশে বিষের পরিমাণ বেশি—তা ভিন্ন হতে পারে। এ কারণে যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া পটকা মাছ প্রস্তুত করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন। জাপানে ‘ফুগু’ নামে পটকা মাছ খাবার হিসেবে পরিচিত। সেখানে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত রাঁধুনিরা মাছটি প্রস্তুত করেন। বিষাক্ত অংশ অপসারণের পর নির্দিষ্ট অংশ খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়। জাপানের সরকারি তথ্যেও পটকা মাছের যকৃত ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অংশে উচ্চমাত্রার টেট্রোডোটক্সিন থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। আশাশুনির ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ হওয়ার পর পটকা মাছের বিষের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, পটকা মাছ খাওয়ার পর বমি, মুখ বা শরীর অবশ হয়ে আসা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া জরুরি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০