সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

শরীরের নানা পরিবর্তনের জন্য পরিচিত ব্রাজিলের মিশেল প্রাদ্দো এবার নখরের মতো হাতের রূপ নিয়ে আলোচনায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘মানব শয়তান’ নামে পরিচিত ব্রাজিলীয় ব্যক্তির নতুন রূপ, নখরের মতো হাত গড়তে বাদ দিলেন আরও আঙুল

শরীরের চেহারা আমূল বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া ব্রাজিলের মিশেল প্রাদ্দো এবার হাতকে নখরের মতো রূপ দিতে আরও আঙুল অপসারণের কথা জানিয়েছেন। ‘দিয়াবাও’ নামে পরিচিত ৫০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁর দুই হাতের আঙুলে ব্যান্ডেজ দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা আঙুল আর নেই। ফলে প্রতিটি হাতে এখন শুধু বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমা রয়েছে। শরীরের এই পরিবর্তনকে তিনি ‘দ্য ক্লজ’ বা ‘নখর’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখছেন।       প্রাদ্দোর শরীর পরিবর্তনের এই যাত্রা নতুন নয়। ২০২৩ সালে তিনি প্রথমবার আঙুলের অংশ অপসারণ করে হাতের আকৃতি বদলানোর উদ্যোগ নেন। সেই প্রকল্পের নাম দেন ‘লাস গারাস’, যার অর্থ নখর। সাম্প্রতিক ভিডিওতে তিনি জানান, নিজের কাঙ্ক্ষিত রূপে পৌঁছানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য নিজের অনুপ্রেরণা ও শরীর পরিবর্তনের শিল্পীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। তবে সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত সময় ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর প্রাইয়া গ্রান্দের বাসিন্দা প্রাদ্দো দীর্ঘদিন ধরেই শরীরের নানা ধরনের পরিবর্তনের জন্য পরিচিত। তাঁর নিজের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তিনি ৬০টির বেশি অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশজুড়ে রয়েছে উল্কি। দাঁতের আকৃতি পরিবর্তন এবং কানের অংশ অপসারণসহ আরও নানা পরিবর্তন করেছেন তিনি। মাথায় শিংয়ের মতো ত্বকের নিচে স্থাপন করা বিশেষ ইমপ্ল্যান্টের সংখ্যার জন্য তাঁর নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও রয়েছে। ২০২৩ সালে তাঁর মাথায় এ ধরনের ৩৩টি ইমপ্ল্যান্ট থাকার রেকর্ড যাচাই করা হয়।       সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাদ্দোর অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি। তাঁর সাম্প্রতিক শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য একরকম নয়। কেউ তাঁর নতুন রূপের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ আঙুল ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনের অসুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারও মতে, নিজের শরীর নিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা রয়েছে; অন্যরা এত বড় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগেও তাঁর শরীর পরিবর্তনের বিভিন্ন উদ্যোগ অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল।   প্রাদ্দোর এই ঘটনা শরীর পরিবর্তনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং এমন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনাকে সামনে এনেছে। হাতের আঙুল দৈনন্দিন কাজ, সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও বিভিন্ন জিনিস ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের স্থায়ী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাদ্দোর সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর দৈনন্দিন কাজে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   সূত্র: ইউপিএসওসিএল, নিড টু নো, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
অনলাইনে পরিচিত নারীর সঙ্গে দেখা করতে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেন ব্রাজিলের এডিমার মার্টিন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সব সম্পদ বিক্রি করে স্বপ্নের নারীর খোঁজে ছুটে গিয়েছিলেন, দেখা করতে গিয়ে জানলেন প্রেমিকা আসলে এআই

বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক এডিমার রোশা মার্টিন্স। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, যে নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশা করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের ওই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। ঘটনাটি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।       ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও অঙ্গরাজ্যের ইম্পেরাত্রিজ শহরে থাকতেন মার্টিন্স। ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই চরিত্রটি ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিল। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে তাকে খামারের মালিক হিসেবে তুলে ধরা হতো। সেখানে সে একজন জীবনসঙ্গী খুঁজছে বলে জানাত এবং নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে সঙ্গীকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিও দিত। এসব দেখে মার্টিন্স বিশ্বাস করেছিলেন, তিনি বাস্তব একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।   গত ৯ অক্টোবর মার্টিন্স সিদ্ধান্ত নেন, এবার সরাসরি দেখা করবেন ওই নারীর সঙ্গে। বাসভাড়ার অর্থ জোগাড় করতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর মারানিয়াও থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুই শহরের দূরত্ব দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। ১১ অক্টোবর সেখানে পৌঁছে কথিত প্রেমিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু কোথাও তাঁকে না পেয়ে স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানেই তাঁকে জানানো হয়, ওই নারী বাস্তবে নেই এবং তাঁর পরিচয়টি ভুয়া।       যাত্রার জন্য সব সম্পদ বিক্রি করে দেওয়ায় বেলো হরিজন্তে পৌঁছানোর পর মার্টিন্স আর্থিক সংকটে পড়েন। দেশে ফেরার মতো অর্থও তাঁর হাতে ছিল না। পরে তিনি শহর কর্তৃপক্ষের অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে যান এবং সমাজকর্মীদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। কর্তৃপক্ষ তাঁকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ফেরার টিকিটের ব্যবস্থাও করে। টিভি মিরান্তেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্টিন্স বলেন, তিনি একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় এই যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।       মার্টিন্সের যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়। একই সঙ্গে মার্টিন্সের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কখনো কথা বলা বা তাঁকে বেলো হরিজন্তে আসার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, অ্যাকাউন্টটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আগ্রহ তৈরি এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।       এত কিছুর পরও নতুন করে জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আবার বেলো হরিজন্তে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, তবে এবার বাস্তব কোনো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আশায়। তাঁর এই অভিজ্ঞতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত ছবি, ভিডিও ও অনলাইন পরিচয়ের বিষয়ে নতুন করে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। অনলাইনে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁর পরিচয় যাচাই করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরাসরি যোগাযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যে জরুরি, ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
এআইয়ের অপব্যবহার রোধে সচেতনতার আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
এআই দিয়ে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ারকারী, উভয়ই অপরাধী: মেহজাবীন চৌধুরী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়াকে সুস্পষ্ট অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একই সঙ্গে যারা এসব ভুয়া কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করে শেয়ার করেন, তাদের মানসিকতা ও ভূমিকা নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সাইবার বুলিং ও সামাজিক অবক্ষয়ের এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে হেয় করার এই প্রবণতাকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।   নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন চৌধুরী লেখেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই বিনোদন হতে পারে না, এটি একটি সাইবার অপরাধ। যখন এই একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকে, তখন বিষয়টি আর শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আমাদের সামগ্রিক সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে। সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কতটা নিচে নেমে গেছি, সেই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   সম্মানবোধের বিষয়টি তুলে ধরে এই অভিনেত্রী তার পোস্টে আরও লেখেন, এই পর্যায়ে এসে সেই পুরোনো কথাটাও আর বলতে ইচ্ছে করে না যে, একবার ভাবুন তো, এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত। কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করার জন্য তাকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে কল্পনা করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব সম্মান রয়েছে এবং তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। মানুষ হিসেবে অন্য একজন মানুষকে সম্মান করতে না পারাটা চরম ব্যর্থতা বলে তিনি তার লেখায় ইঙ্গিত দিয়েছেন।   সামাজিক মাধ্যমে ভিউ ও লাইকের আশায় অন্যের সম্মানহানি করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মেহজাবীন। তিনি বলেন, কিছু ভিউ, কিছু লাইক, কিছু শেয়ার, ট্রেন্ডিংয়ে থাকা এবং সেখান থেকে হয়তো কয়েকটা ডলার আয় করার জন্যই এখন এসব করা হচ্ছে। মানুষের জীবনে সংগ্রাম আছে এবং কনটেন্ট তৈরি করা অনেকের জীবিকা নির্বাহের উপায়, এই বাস্তবতাকে তিনি অস্বীকার করেন না। কিন্তু অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান কবে থেকে আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল, সেই নৈতিক প্রশ্নটি তিনি সবার সামনে ছুড়ে দিয়েছেন।   বিষয়টি এখন কেবল নারী বা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই উল্লেখ করে এই তারকা জানান, ভিউ এবং এনগেজমেন্টের এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা এখন লিঙ্গের সীমারেখাও ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিকর কিছু ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় যে কেউ অংশ নিতে পারে, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারে। মেহজাবীনকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় সেই অসংখ্য মানুষ, যারা স্বেচ্ছায় এসব কন্টেন্ট শেয়ার করে এবং হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। পরিশেষে তিনি সবাইকে ভেবে দেখতে বলেছেন, একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে মানুষ নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবে কি না।   সূত্র: ইত্তেফাক, মেহজাবীন চৌধুরীর ফেসবুক পেজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের আইন কার্যকরের অনুমতি পেয়েছে ফ্লোরিডা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের আইন কার্যকরের পথে বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ১৪ ও ১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করার আইন কার্যকরের অনুমতি দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত দেয়। আদালতের মতে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইনটি সাংবিধানিক পরীক্ষায় টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   ২০২৪ সালে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্রে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম কঠোর আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সীরা নির্ধারিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। আর ১৪ ও ১৫ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে। তবে আইনটি সব ধরনের অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এতে মূলত এমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো অ্যালগরিদমের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রাখতে পারে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে।   আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এটি সম্ভবত নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিচারকদের মতে, শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থে আইনটি যতটুকু প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে না। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ আইনি পর্যালোচনার পরও আইনটি বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালত মনে করছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সব ধরনের আইনি বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।   ফ্লোরিডার আইনটির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি সংগঠন, কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন এবং নেটচয়েস। তাদের যুক্তি, এ ধরনের বিধিনিষেধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে। ২০২৫ সালে নিম্ন আদালতের একজন বিচারক আইনটি সম্ভবত অসাংবিধানিক বলে মত দিয়ে এর প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। পরে আপিল আদালতে মামলার শুনানি চলাকালে সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়। এবার আপিল আদালত নিম্ন আদালতের ওই আদেশ বাতিল করায় আইনটি কার্যকরের পথ খুলেছে।   আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আইনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব ধরনের ব্যবহার বন্ধ করে দিচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট বয়সীদের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ আইনে বয়সের ভিত্তিতে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবকের সম্মতি নিশ্চিত করতে হতে পারে। আইনটির আওতায় পড়া প্ল্যাটফর্মে আগে থেকেই থাকা অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বন্ধ করতে হবে।   নেটচয়েস আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির আইনজীবী পল টাস্কে বলেছেন, অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা বজায় রাখতে তাঁরা আইনি বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছেন। অন্যদিকে, ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের পর মামলাটি ফ্লোরিডার রাজধানী টালাহাসির ফেডারেল আদালতে ফিরে যাবে। সেখানে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলবে। ফলে আইনটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগ এবং ইন্টারনেটে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এই মামলার পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের রায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের জেরে মৃত্যুদণ্ডের রায় পেয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি শিক্ষার্থী নাজমেহ আমিনির বিষয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠনগুলো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সামাজিক মাধ্যমে ‘নবীকে অবমাননা’র অভিযোগে ইরানি তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে নবীকে অবমাননার অভিযোগে ইরানে নাজমেহ আমিনি নামে ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর, ছয় মাস ও এক দিনের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত নয়, ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে।   মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস এবং হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, আমিনি হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলায় রায় দেওয়া হয়। এর একটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবীকে অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম খোরাসানও তাঁর মামলার খবর প্রকাশ করেছে। তবে বিতর্কিত পোস্টটির সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি মাশহাদের একটি বাণিজ্যিক এলাকা থেকে আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ভাকিলাবাদ কারাগারে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথমে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। পরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ পরিবর্তন করে নবীকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইনে এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।   কারাগার থেকে পাঠানো বলে পরিচিত একটি অডিও বার্তায় আমিনি নিজের মামলার পুনর্বিবেচনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ করে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি আইনজীবী, আইনি বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে তাঁর মামলার নথি পর্যালোচনার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য যেন কারাগারের নথিতে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং তাঁর হয়ে অন্যরা যেন কথা বলেন। অডিও বার্তাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রকাশিত তথ্যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।   ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে একজন তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের রায় অনলাইন বক্তব্যের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রায় বাতিলের দাবিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ইরানে মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মোরায়েফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিন্নমত দমনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার মানবাধিকারের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।   ইরানের দণ্ডবিধিতে নবী মুহাম্মদকে অবমাননার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে দেশটির আইনে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানসিক অবস্থার বিষয়ও বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে আমিনির পক্ষ থেকে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ্যে না থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়ার সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে।   আমিনির মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো বলেছে, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার, আইনজীবীর সহায়তা এবং নির্যাতনমুক্ত আটক নিশ্চিত করা জরুরি। বিক্ষোভ দমনের সময় বহু মানুষ নিহত ও আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাব এক নয়।   ইরানের কর্তৃপক্ষ আমিনির মামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে জানায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উচ্চ আদালতে তাঁর আপিলের ফল কী হয় এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হয় কি না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায় পুনর্বিবেচনা এবং তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।   সূত্র: ইরান হিউম্যান রাইটস, হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, দ্য গার্ডিয়ান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্টে ৪৪ বছরের কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ফুলের তোড়া হাতে কর্মী গেইল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪ বছর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ালমার্ট কর্মীর হাতে তুলে দেওয়া হয় কেবল এক তোড়া ফুল

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির ওয়েন্সবোরো শহরে ওয়ালমার্টের একটি দোকানে দীর্ঘ ৪৪ বছর কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে গেইল নামের এক কর্মীকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে। কর্মীর দীর্ঘ কর্মজীবন উদ্‌যাপন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবিও প্রকাশ করেছিল দোকানটি। তবে সেই ছবিই পরে অনলাইনে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকের মতে, একটি বড় প্রতিষ্ঠানে চার দশকেরও বেশি সময় কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে শুধু ফুলের তোড়া তুলে ধরা যথেষ্ট নয়।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেইল ওয়ালমার্টের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের ওয়েন্সবোরো শহরের ফ্রেডেরিকা স্ট্রিট শাখায় কর্মরত ছিলেন। দোকানটির ফেসবুক পোস্টে তাঁর ৪৪ বছরের কর্মজীবনকে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের জন্য তাঁর অবদানের প্রশংসা করা হয়। তবে কর্মজীবনের এই মাইলফলক উদ্‌যাপনের ছবিতে ফুলের তোড়া সামনে আসায় স্বীকৃতির ধরন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।   ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে প্রশ্ন তোলেন, এত দীর্ঘ সময় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর একজন কর্মী আরও উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য কি না। তাঁদের মতে, চার দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করা একজন কর্মীর অবদানকে শুধু আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন ও ফুল দিয়ে মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। কেউ কেউ আর্থিক পুরস্কার, অবসরকালীন সহায়তা কিংবা দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও অর্থবহ উদ্যোগ নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাঁদের আলোচনায় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অবদান এবং তাঁদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের বিষয়টিও উঠে আসে।   তবে ফুলের তোড়া দেওয়ার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সমালোচনার মধ্যেও একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকাশিত ছবিটি বা দোকানের অভিনন্দনবার্তায় গেইলকে দেওয়া ফুলই তাঁর একমাত্র পুরস্কার ছিল, এমন তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, দীর্ঘ ৪৪ বছরের চাকরির পর তিনি অবসরে যাচ্ছেন কি না, কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কী ধরনের অবসরকালীন সুবিধা পেয়েছেন, সে বিষয়েও পোস্টে বিস্তারিত তথ্য ছিল না। ফলে ছবির ভিত্তিতে তাঁর সম্পূর্ণ কর্মক্ষেত্রের সুযোগ-সুবিধা বা আর্থিক প্রাপ্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   ওয়ালমার্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মতো বড় ব্যবসায়িক সংস্থায় দীর্ঘদিন কর্মরত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি কীভাবে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে এ ঘটনা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে কর্মীর দীর্ঘ কর্মজীবনকে প্রকাশ্যে সম্মান জানানোর উদ্যোগ রয়েছে, অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এমন অর্জনের স্বীকৃতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তবে স্থানীয় দোকানের পক্ষ থেকে দেওয়া ফুলের তোড়ার আয়োজন প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মী-সুবিধা বা অবসরকালীন ব্যবস্থার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।   এ ঘটনায় ওয়ালমার্টের করপোরেট কর্তৃপক্ষ বা গেইলের পক্ষ থেকে ভাইরাল আলোচনা নিয়ে কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে গেইল নিজে এই স্বীকৃতিকে কীভাবে দেখেছেন, তা জানা যায়নি। আপাতত তাঁর ৪৪ বছরের কর্মজীবনকে ঘিরে প্রকাশিত একটি ছবি কর্মীদের অবদান, দীর্ঘদিনের চাকরির স্বীকৃতি এবং বড় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মানিওয়াইজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করছেন নিউইয়র্কের কিছু রেস্তোরাঁ মালিক। ছবি: সংগৃহীত
রেস্তোরাঁয় খেয়ে বিল ফাঁকি: গ্রাহকদের শায়েস্তা করতে সামাজিক মাধ্যমে ছবি প্রকাশ করছেন নিউইয়র্কের মালিকরা

নিউইয়র্কে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা ঠেকাতে নতুন কৌশল নিয়েছেন কিছু রেস্তোরাঁ মালিক। পুলিশে অভিযোগ করার পাশাপাশি তারা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ ও গ্রাহকদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে ঘটনাটি জনসমক্ষে আনা এবং বকেয়া বিল পরিশোধে অভিযুক্তদের চাপ তৈরি করা। কয়েকটি ঘটনায় এমন পোস্ট প্রকাশের পর দ্রুত বিল পরিশোধও হয়েছে। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে কি না, তার নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান নেই, কারণ অনেক রেস্তোরাঁ ছোট অঙ্কের ক্ষতির ঘটনায় পুলিশে অভিযোগই করে না।   ব্রঙ্কসের মট হ্যাভেন এলাকায় তালাভেরা ক্যান্টিনার মালিক ব্রিটনি কারিনিও সম্প্রতি এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। গত ৫ মে, যুক্তরাষ্ট্রে সিনকো দে মায়ো উদ্‌যাপনের দিন, তিন নারী তার রেস্তোরাঁয় এসে টাকোস, চিপস, গুয়াকামোলে এবং চারটি ফ্রোজেন মার্গারিটা অর্ডার করেন। কারিনিওর ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানীয় নেওয়ার পর তারা ১১২ ডলারের বিল পরিশোধ না করে চলে যান। সেদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রেস্তোরাঁর বিল হিসাবের ব্যবস্থা সমস্যায় থাকায় বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়েনি। পরে অফলাইনে সম্পন্ন লেনদেন যাচাই করতে গিয়ে তিনি বকেয়া বিলটি দেখতে পান।   এরপর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কারিনিও দেখতে পান, দলটির একজন নারী বিলের ট্রে নিজের ব্যাগের নিচে সরিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে রেস্তোরাঁ পরিচালনার মধ্যে এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম ঘটনা। পুলিশে ফোন করার বদলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ছবি ও ফুটেজ প্রকাশ করেন এবং জানান, বিল পরিশোধ করা হলে তিনি বিষয়টি আর এগিয়ে নিতে চান না। পোস্ট দেওয়ার পর ওই দলের একজনের বড় ভাই রেস্তোরাঁয় এসে পুরো ১১২ ডলারের বিল পরিশোধ করেন।   কারিনিও নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবসায়ীদের এমন ঘটনার কথা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি উপায় তৈরি করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট অঙ্কের বিলের ক্ষেত্রে পুলিশে অভিযোগ করার পর তদন্ত, ফুটেজ দেখানো এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় সময় দিতে হয়। তাই তিনি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন।   লং আইল্যান্ড সিটির ভিয়েতনামি রেস্তোরাঁ শেফ পাপার মালিক জন ট্রুংও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তার দাবি, ফাহমিদা সুলতানা নামে একজন খাদ্যবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্মাতা প্রায় ২০০ ডলারের খাবার ও পানীয়ের বিনিময়ে তার রেস্তোরাঁর প্রচার করবেন বলে একটি সমঝোতা করেছিলেন। ট্রুংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি খাবার গ্রহণের পর কর্মীদের মাত্র ৬ ডলার বকশিশ দিয়ে চলে যান এবং প্রতিশ্রুত প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করেননি। পরে ট্রুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ঘটনাটি তুলে ধরেন। সেই ভিডিও প্রকাশের পর ওই নারী একটি তীব্র সমালোচনামূলক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছিলেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়। এসব দাবির বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়।   নিউইয়র্কে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে পেই ‘লু’ চুংয়ের ঘটনাও রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি পিটার লুগার, ফ্রাঁসি ও মিশির মতো রেস্তোরাঁয় বিল না দেওয়ার অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন এবং মোট সাতবার গ্রেপ্তারের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব ঘটনায় ওঠা অভিযোগগুলোর বিচারিক ফলাফল আলাদা বিষয়। পরে তাকে বিচার মোকাবিলার উপযুক্ত নয় বলে ঘোষণা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগ বাতিল করা হয়েছিল বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছিল।   নিউইয়র্ক শহরের বাইরেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পকিপসির এরিন ও’নিলস পাব অ্যান্ড গ্রিল সম্প্রতি ৪১ ডলারের একটি বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করে। মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওতে এক নারী ও তার সঙ্গে থাকা এক পুরুষকে বিলের সঙ্গে থাকা একটি কার্ড নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। পোস্ট দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে একজন ওই পুরুষের ছবি ও পরিচয় জানিয়ে রেস্তোরাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ভিডিওটি প্রায় ৮ লাখবার দেখা হয় এবং ব্যবসাটির নতুন অনুসারীও বাড়ে। মালিকের মতে, ঘটনাটি তাদের জন্য এক ধরনের বিনামূল্যের প্রচারণায় পরিণত হয়।   অন্যদিকে, কিছু প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদলে নিজেদের রেস্তোরাঁয় তথাকথিত ‘ওয়াল অব শেম’ তৈরি করেছে। ব্রঙ্কসের ইউএমআই হটপট সুশি অ্যান্ড সিফুড বুফে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগে কিছু গ্রাহকের ছবি ও বকেয়া রসিদ প্রদর্শন করছে। তবে কোনো ব্যক্তির ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি সত্যিই অর্থ না দিয়ে চলে গেছেন কি না, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করলে বিভ্রান্তি বা অন্য ধরনের আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে।   নিউইয়র্কের আইনে রেস্তোরাঁর খাবার ও সেবার মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়াকে ‘থেফট অব সার্ভিসেস’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ধরা হয়। নিউইয়র্কের আদালতের নির্দেশিকায় রেস্তোরাঁর বিল না পরিশোধকে নিউইয়র্ক পেনাল ল-এর ১৬৫.১৫ ধারার আওতায় রাখা হয়েছে। এটি ক্লাস এ মিসডিনিমারের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমান আইনে এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৩৬৪ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে।   তবে বাস্তবে ছোট অঙ্কের বকেয়া বিল নিয়ে পুলিশি প্রক্রিয়ায় সময় ও শ্রম দেওয়ার বিষয়টি অনেক ব্যবসার জন্য বড় বিবেচনা। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিসের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টোফার হারম্যান নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ৭৫ বা ১৫০ ডলারের একটি বিলের জন্য রেস্তোরাঁকে ব্যবসা থামিয়ে পুলিশ ডাকতে হতে পারে, কর্মকর্তাদের অপেক্ষা করতে হতে পারে, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দিতে হতে পারে এবং কর্মীদের বক্তব্যও দিতে হতে পারে। তাই অনেক মালিক সম্ভাব্য ক্ষতির তুলনায় এই প্রক্রিয়ার ব্যয় ও সময় বিবেচনা করে পুলিশে অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেন।   এ কারণে এই সমস্যার প্রকৃত বিস্তার সরকারি অপরাধের পরিসংখ্যানে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে না। হারম্যান বলেন, অনেক রেস্তোরাঁ ঘটনা রিপোর্ট না করায় সরকারি তথ্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক মুখপাত্রও নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে খাবার খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা বিভাগটি এত নির্দিষ্টভাবে আলাদা করে সংরক্ষণ করে না। ফলে এই প্রবণতা কতটা বেড়েছে, সে বিষয়ে বর্তমানে অনেক তথ্যই ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর নির্ভর করছে।   রেস্তোরাঁ ব্যবসার সীমিত লাভের কারণে এ ধরনের ছোট ক্ষতিও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ রেস্তোরাঁর কর-পূর্ব মুনাফার হার প্রায় ৫ শতাংশের মতো। একই হিসাবে ১১২ ডলারের সমপরিমাণ কর-পূর্ব মুনাফা অর্জন করতে প্রায় ২ হাজার ২৪০ ডলারের বিক্রি প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ ১১২ ডলারের একটি বিল না দেওয়া কেবল ওই দিনের একটি খাবারের দাম হারানো নয়, এটি সেই অর্থের সমপরিমাণ লাভ অর্জনের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত বিক্রির প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।   হারম্যানের পরামর্শ, এমন ঘটনায় রেস্তোরাঁ মালিকদের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ, বিলের রসিদ এবং কর্মীদের বক্তব্য সংরক্ষণ করা উচিত। একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়ও তদন্তে কাজে আসতে পারে। তার মতে, আলাদা আলাদা ছোট ঘটনা একত্র হয়ে কোনো পুনরাবৃত্ত আচরণের ধরন স্পষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাও জরুরি।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের নোবি সুশি রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে বিল না দিয়েই চলে যান এক গ্রাহক। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁ কর্মীদের বিরুদ্ধে অপমানের অভিযোগ, বিল না দিয়েই চলে গেলেন ট্রান্সজেন্ডার গ্রাহক

নিউইয়র্কের একটি সুশি রেস্তোরাঁয় কর্মীরা তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করছেন, এমনটা মনে হওয়ায় খাবারের বিল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক রূপান্তরকামী নারী। ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওতে কর্মীরা ওই গ্রাহককে নিয়ে উপহাস করছেন, এমন কোনো স্পষ্ট দৃশ্য দেখা যায়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।   ঘটনাটি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের কিপস বে এলাকার নোবি সুশি রেস্তোরাঁয়। রেস্তোরাঁটির ঠিকানা ৪৩৭ থার্ড অ্যাভিনিউ। এটি জাপানি খাবার ও সুশির জন্য পরিচিত একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁ। প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, ওই নারী রেস্তোরাঁয় বসে খাবার অর্ডার করেন এবং হ্যান্ড রোল খান। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, রেস্তোরাঁর কাউন্টারের পেছনে থাকা কর্মীরা তাঁর দিকে তাকাচ্ছেন এবং হাসছেন। এতে তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন বলেও জানান।   এরপর তিনি কর্মীদের জানান, তিনি খাবারের বিল পরিশোধ করবেন না। একই সঙ্গে কর্মীদের কাছে জানতে চান, তাঁরা কি পুলিশ ডাকবেন। ভিডিওতে থাকা কর্মী শান্তভাবে বিষয়টির জবাব দেন। তাঁকে উত্তেজিত হতে বা উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ওই নারী বিল না দিয়েই রেস্তোরাঁ থেকে চলে যান বলে ভিডিওসংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   তবে ঘটনাটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে অভিযোগের পক্ষে ভিডিওতে থাকা দৃশ্যমান প্রমাণের অভাব। ওই নারী কর্মীদের আচরণকে উপহাস হিসেবে দেখলেও ভিডিওতে কর্মীদের তাঁর সঙ্গে হাসাহাসি করা বা তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করার কোনো স্পষ্ট দৃশ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে দুটি ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে।   এক পক্ষের বক্তব্য, কেউ কোনো জায়গায় নিজেকে অপমানিত বা অস্বস্তিকর মনে করলে তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে রূপান্তরকামী মানুষদের সামাজিকভাবে নানা ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। অন্য পক্ষের দাবি, শুধু একজনের অনুভূতি বা ধারণার ভিত্তিতে রেস্তোরাঁর কর্মীদের বিরুদ্ধে উপহাসের অভিযোগ নিশ্চিত করা যায় না। তাঁদের মতে, খাবার খাওয়ার পর বিল না দেওয়ার সিদ্ধান্তও প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভিডিওতে অভিযোগের পক্ষে পরিষ্কার প্রমাণ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।   ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভিডিওতে রেস্তোরাঁর কর্মীকে শান্ত থাকতে দেখা যায়। তিনি ওই গ্রাহকের সঙ্গে তর্কে জড়াননি এবং পুলিশ ডাকার বিষয়েও উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখাননি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আর না বাড়িয়ে তাঁকে চলে যেতে দেওয়া হয়। নোবি সুশি ম্যানহাটনের ৪৩৭ থার্ড অ্যাভিনিউতে অবস্থি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
মেটার নতুন নীতি কার্যকর হলে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম চালাতে পারবে। ছবি: সংগৃহীত
দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সুযোগ পাবে কিশোররা, নতুন নিয়ম আনছে মেটা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইনস্টাগ্রাম কি নতুন যুগে সিগারেটের জায়গা নিতে যাচ্ছে? মেটার প্রস্তাবিত নতুন কিছু বিধিনিষেধ অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্করা কীভাবে ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি বড় ধরনের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে মেটা। এই পদক্ষেপ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঠিক সেভাবেই বিবেচনা করতে শুরু করেছে, যেভাবে তারা একসময় সিগারেটকে করেছিল। অর্থাৎ এটিকে একটি আইনি ভোগ্যপণ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে, যার ব্যবহারের ঝুঁকি কমানোর দায়ভার খোদ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তাবে।   গত বুধবার ঘোষণা করা এই চুক্তিটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে দুই ঘণ্টার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। একইসঙ্গে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকবে। এছাড়া স্কুলের সময়টাতে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে এই চুক্তিতে। মেটা ঠিকমতো এসব নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা তদারকি করবে একটি স্বাধীন নিরীক্ষক দল ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্তৃপক্ষ।   দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পরিবারের ওপরই চাপিয়ে রাখা হয়েছিল। মেটা এতদিন অভিভাবকদের জন্য কিছু টুল বা সুবিধা দিয়ে আসছিল, যার মাধ্যমে তারা সন্তানদের অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারতেন। কিশোরদের ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হতো এবং অভিভাবকের তদারকিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে প্রচার করা হতো। কিন্তু প্রস্তাবিত এই নতুন চুক্তি সেই পুরোনো ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এখন কোনো পরিবার আলাদাভাবে বিধিনিষেধ আরোপের অনুরোধ করুক বা না করুক, মেটাকে নিজ থেকেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তামাক বা সিগারেট শিল্পের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। সেখানেও ব্যবহারকারীর আচরণ নিয়ন্ত্রণের বদলে পণ্য এবং বিক্রেতা কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছিল।   সিগারেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক আগেই বদলাতে শুরু করেছিল। একসময় ধূমপানকে নিছকই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু নীতিনির্ধারকরা যখন বুঝতে পারলেন এটি মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তখন তারা পণ্যটি তৈরি ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেন। ফলে সাধারণ সামাজিক জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচিত ধূমপান এমন একটি পণ্যে পরিণত হয়, যা মূলত শিশু ও সাধারণ মানুষকে এর ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য নানা বিধিনিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ।   ১৯৯৮ সালের টোব্যাকো মাস্টার সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এই পরিবর্তনকে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য বড় বড় সিগারেট প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সেখানে তরুণদের লক্ষ্য করে চালানো বিজ্ঞাপন, প্রচার ও অন্যান্য কৌশলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং কোম্পানিগুলোর ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক দায়বদ্ধতা চাপানো হয়েছিল।   মেটার নতুন প্রস্তাবিত চুক্তিটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে অনেকটা সেরকমই একটি মোড় ঘোরানো পরিবর্তন। সন্তান কতক্ষণ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করবে, তা কেবল অভিভাবকদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বদলে মেটাকে এখন নিজ থেকেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের ওপর লাগাম টানতে হবে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুমোদিত হয়, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায়ভার পণ্য ব্যবহারকারী পরিবারের কাছ থেকে সরাসরি পরিবেশক কোম্পানির কাঁধে চলে যাবে।   অবশ্য সিগারেটের সঙ্গে এই তুলনার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানসিক ও সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও সিগারেটের মতো সরাসরি শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি এর নেই। তবে নীতিনির্ধারকদের যুক্তি এখানে বেশ পরিচিত। যখন তারা দেখেন যে শুধুমাত্র দায়িত্বশীল ব্যবহারের পরামর্শ যথেষ্ট নয়, তখন তারা সরাসরি পণ্যটিকেই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেন।   কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি এবং পরিসংখ্যানগত উদ্বেগের কথা বিবেচনা করলে এটি নিঃসন্দেহে একটি দুর্দান্ত সূচনা। তবে ইনস্টাগ্রামের ওপর দুই ঘণ্টার সীমাবদ্ধতা খুব একটা কাজে আসবে না, যদি কিশোররা সহজেই টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট বা ইউটিউবের মতো অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার সুযোগ পায়। কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে পুরো প্রযুক্তি শিল্পজুড়েই এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়া জরুরি।   এখানেও সিগারেটের উদাহরণটি প্রাসঙ্গিক। তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি কোম্পানি বা একটি চুক্তির মাধ্যমেই থেমে থাকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিধিনিষেধগুলো পুরো শিল্পের জন্য নিয়ম বদলে দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সম্ভবত একই পথে এগোচ্ছে। আগামী দিনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা হয়তো ব্যবসার একটি স্বাভাবিক শর্ত হয়ে দাঁড়াবে।   আর যখন তা হবে, তখন এই চুক্তিটি কেবল কিশোররা দিনে কত ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করতে পারবে সেই আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকেই অনেকটা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে।   খবরের সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
জাকারবার্গের স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনার একটি পোস্ট। ছবি: এক্স থেকে সংগৃহীত
জাকারবার্গের স্ত্রীর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ, সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা জবাব, ‘ভালোবাসা টাকা দিয়ে কেনা যায় না’

মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একজনের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল সম্পদের মালিক জাকারবার্গ কেন এমন একজন নারীকে বিয়ে করেছেন, যাকে তার কাছে ‘সাধারণ চেহারার’ মনে হয়েছে।   তবে মন্তব্যটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করিয়ে দেন, জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যানের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অনেক আগেই। তাদের সম্পর্কের শুরুতে দুজনই ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।   জাকারবার্গ ও চ্যানের পরিচয় ২০০৩ সালে। তখন দুজনেই হার্ভার্ডে পড়াশোনা করছিলেন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় ফেসবুকও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ জাকারবার্গের বর্তমান বিপুল সম্পদ, খ্যাতি কিংবা প্রযুক্তি ব্যবসার বিশাল সাফল্য তাদের সম্পর্কের শুরুতে কোনো বাস্তবতা ছিল না।   দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের মে মাসে তারা বিয়ে করেন। এরপর তাদের পরিবারে তিন কন্যাসন্তান আসে। ২০২৩ সালে তাদের তৃতীয় কন্যা অরেলিয়া জন্ম নেয়।   প্রিসিলা চ্যান নিজেও নিজের পেশাগত পরিচয় তৈরি করেছেন। তিনি একজন শিশু চিকিৎসক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক করার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি নেন এবং শিশু চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জাকারবার্গের সঙ্গে চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সহপ্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন।   শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ করা তাদের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রিসিলা দীর্ঘদিন ধরেই শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করে আসছেন। তিনি নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন।   এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো মানুষের জীবনসঙ্গী বাছাইকে শুধু চেহারা বা সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা কতটা যুক্তিসঙ্গত। তাদের যুক্তি, জাকারবার্গ যখন প্রিসিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, তখন তিনি আজকের বিলিয়নিয়ার ছিলেন না। দুজনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে, যখন ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে, সেটিও তারা জানতেন না।   অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মন্তব্যটির জবাবে বলেন, মানুষের প্রতি আকর্ষণ বা ভালোবাসার মূল্যায়ন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে করা যায় না। কারও জীবনসঙ্গীকে তার চেহারা দিয়ে বিচার করাও সম্পর্কের বাস্তবতাকে বোঝার জন্য যথেষ্ট নয়।   জাকারবার্গ ও চ্যানের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনও বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ২০২২ সালে তাদের বিয়ের ১০ বছর পূর্তিতে জাকারবার্গ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রায় একই ভঙ্গিতে তোলা পুরোনো ও নতুন ছবি প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ও তাদের দীর্ঘ সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।   সামাজিক মাধ্যমে প্রিসিলার চেহারা নিয়ে মন্তব্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে জাকারবার্গ তার স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় তৈরি শিল্পী ড্যানিয়েল আরশামের একটি ভাস্কর্যের ছবি প্রকাশ করার পরও সেটি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও রসিকতা হয়েছিল। তবে ওই ঘটনাতেও অনেকে প্রিসিলাকে শুধু ‘জাকারবার্গের স্ত্রী’ হিসেবে না দেখে তার নিজস্ব পেশাগত পরিচয় ও কাজের কথা সামনে আনেন।   সব মিলিয়ে জাকারবার্গ ও প্রিসিলার সম্পর্কের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সম্পদের শীর্ষে পৌঁছানোর আগে। সময়ের সঙ্গে জাকারবার্গের সম্পদ ও পরিচিতি ব্যাপকভাবে বদলেছে, কিন্তু তাদের পারিবারিক সম্পর্ক সেই পরিবর্তনের মধ্যেও টিকে রয়েছে।   সূত্র: চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
সামাজিক মাধ্যমে আত্মহ ত্যার ভিডিও দেখতে দেখতে, ১৩ বছরের কিশোরী নিজেই আত্মহ ত্যা করল
সামাজিক মাধ্যমে আত্মহ ত্যার ভিডিও দেখতে দেখতে, ১৩ বছরের কিশোরী নিজেই আত্মহ ত্যা করল

যুক্তরাজ্যের কেন্ট শহরের নর্থফ্লিটে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী ব্লেক গ্যালিয়ার। গত বছরের ৩০ অক্টোবর, নিজের ১৩তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর সে এই চরম পথ বেছে নেয়। তার শোকাহত পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম তাকে ধারাবাহিকভাবে এমন সব ভিডিও দেখাচ্ছিল, যা আত্মহত্যার মতো বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরে।   বাইরে থেকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও হাসিখুশি স্বভাবের ব্লেকের মধ্যে মানসিক অবসাদের কোনো লক্ষণই ছিল না বলে জানিয়েছেন তার মা জেমা বেস্ট।   ৪৭ বছর বয়সী জেমা বেস্ট জানান, মৃত্যুর পর ব্লেকের ফোন ঘেঁটে তারা দেখতে পান সে নিয়মিত উদ্বেগজনক সব কন্টেন্ট দেখত এবং রিপোস্ট করত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "সব বন্ধুর ফোন ছিল, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক বয়সও ছিল ১৩, তাই আমি বোকামি করে কখনোই বিষয়টি খতিয়ে দেখিনি।   এখন বুঝতে পারছি, সামাজিক মাধ্যমই ব্লেকের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।" এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জেমা এবং ব্লেকের ১৯ বছর বয়সী বড় বোন টায়লা গ্যালিয়ার এখন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার ‘রেইজ দ্য এজ’ (Raise The Age) ক্যাম্পেইনের জোরালো সমর্থক। উল্লেখ্য, তরুণদের অনলাইনে সুরক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য সরকার আগামী ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে, যা বড়দিনের আগেই পাস হতে পারে।   এদিকে, অন্য কোনো শিশুকে যেন ব্লেকের মতো পরিণতি ভোগ করতে না হয়, সেজন্য তার মা ও বোন 'ব্লেকস পিংক প্রমিস' নামে একটি দাতব্য সংস্থা গড়ে তুলেছেন। আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় থাকা এই সংস্থাটি ইতিমধ্যেই গ্রেভসেন্ডের চারটি স্কুলের ৭ থেকে ১৩ বছর বয়সী ৭৬ জন শিক্ষার্থী এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ককে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংয়ের জন্য অর্থায়ন করেছে।   টায়লা জানান, তাদের পুরো জীবন এলোমেলো হয়ে গেলেও অন্তত একটি শিশুকেও যদি তারা সাহায্য করতে পারেন, তবে এই উদ্যোগ সার্থক হবে। চলতি বছরের শেষের দিকে ব্লেকের মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা ইনকুয়েস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আদালতে প্রশ্নের মুখে মেটা। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর ফিচার বাতিলের দাবিতে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলা

শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক মামলায় মেটার বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু বহুল ব্যবহৃত ফিচার তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে, এমন অভিযোগ তুলে এসব ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার মামলাটির মূল বিচারপর্ব শুরু হয়েছে। মামলায় রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে মেটার কাছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে আদালতের নির্দেশে পরিবর্তন আনার দাবি জানানো হয়েছে।   মামলাটি ২০২৩ সালে ২৯ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা অভিযোগ থেকে শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি মামলাটির প্রধান বাদী হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার তৈরি করেছে, যাতে শিশু ও কিশোররা বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করে। একই সঙ্গে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মেটা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলার অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে অসীম স্ক্রল বা ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ব্যবস্থা। এর ফলে একটি পোস্ট শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীকে পরবর্তী পোস্টের আভাস দেখানো হয় এবং স্ক্রল করতে থাকলে নতুন নতুন কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে আসতে থাকে। রাজ্যগুলোর দাবি, এই নকশা ব্যবহারকারীকে থামার স্বাভাবিক জায়গা না দিয়ে ক্রমাগত স্ক্রল করতে উৎসাহিত করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে এই ধরনের অসীম স্ক্রল ব্যবস্থা ২০১৬ সালে চালু করা হয়।   শুধু অসীম স্ক্রল নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া, পুশ নোটিফিকেশন, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানো এবং অল্প সময় পর অদৃশ্য হয়ে যায় এমন কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব ফিচার তরুণ ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।   রাজ্যগুলোর চাওয়া পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য অসীম স্ক্রল বন্ধ করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থা সীমিত বা বন্ধ করা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফেরাতে পারে এমন নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করা। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো নির্দিষ্ট সময় পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কনটেন্ট এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নিয়েও বিধিনিষেধ চাওয়া হয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে চেহারা পরিবর্তনকারী ফিল্টারের ব্যবহার নিয়েও সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব রয়েছে।   এ ছাড়া রাজ্যগুলো মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদমেরও পরিবর্তন চায়। তাদের অভিযোগ, কোন কনটেন্ট ব্যবহারকারীকে বেশি সময় ধরে রাখতে পারে, সেই বিষয়টি অ্যালগরিদমে গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন কনটেন্টও বারবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়। রাজ্যগুলোর ভাষ্য, প্ল্যাটফর্মের নকশাই এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীর ব্যস্ততা বা ‘এনগেজমেন্ট’ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।   মামলায় শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজ্যগুলোর দাবি, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ অভিভাবকীয় সম্মতি নেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে আদালত মেটার সারসংক্ষেপ রায়ের আবেদন পুরোপুরি নাকচ করে দেয় এবং মামলাটি বিচার পর্যন্ত যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। একই আদেশে আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার এই দাবিও গ্রহণ করে যে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষার ফেডারেল আইন, শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন বা কপ্পা (COPPA) অনুযায়ী মেটার অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার পদ্ধতি যথেষ্ট ছিল না।   তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের বক্তব্য, রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের দাবিও তারা মানে না। মেটা আরও বলেছে, তরুণদের সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজ চলছে।   মামলাটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চাপ দ্রুত বাড়ছে। এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের জুরি রায় এবং পরে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা রয়েছে। ওই মামলায় শিশুদের সুরক্ষায় বয়স যাচাই জোরদার করা, রাত ও স্কুলের সময়ে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান মামলাটি অবশ্য আরও বড় পরিসরের। যদিও ২৯টি অঙ্গরাজ্য মামলায় রয়েছে, অকল্যান্ডের এই বিচারপর্বে প্রধানত ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সির অভিযোগগুলো নিয়ে শুনানি হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। মেটার শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   এই মামলার ফল শুধু মেটার জন্য নয়, পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালত যদি রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে রায় দেয় এবং নকশাগত পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়, তাহলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই ধরনের মামলায় অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকায়, এই রায় ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর শিশু-কিশোরদের জন্য পণ্য তৈরির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষ করে অসীম স্ক্রল, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও, নোটিফিকেশন এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশের মতো ফিচারগুলো যদি আদালতের নির্দেশে সীমিত করা হয়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রচলিত অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে। আর মেটার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবির পাশাপাশি এই নকশাগত পরিবর্তনের দাবিই মামলাটিকে প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
একটি অনুষ্ঠানে হেঁটে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ধারণ করা ট্রাম্পের ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের পোশাকে অস্বাভাবিক আকৃতি, ফের ছড়াল ‘ডায়াপার’ পরার গুঞ্জন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোশাকের একটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও শুরু হয়েছে ‘ডায়াপার’ পরার গুঞ্জন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পেছন দিকের পোশাকে অস্বাভাবিক আকৃতি দেখা যাচ্ছে দাবি করে অনেকে নানা মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহার করেন, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে একটি অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্পকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় তার স্যুটের নিচের অংশের আকৃতি নিয়ে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন। কারও কারও দাবি, পোশাকের নিচে একটি চৌকো ধরনের ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে।   এক্সে ব্রায়ান ক্রাসেনস্টেইন নামের এক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের পেছনের দিকের পোশাকের আকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার পোস্টের পরপরই মন্তব্যের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের সমর্থকদের অনেকে এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত শারীরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করাকে অশোভন বলে মন্তব্য করেন।   অন্যদিকে, কিছু ব্যবহারকারী ছবিতে দেখা আকৃতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেন। কেউ কেউ সরাসরি ‘ডায়াপার’ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এসব মন্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুমান ও ব্যঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোনো চিকিৎসা নথি, সরকারি বিবৃতি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব দাবিকে সমর্থন করেনি।   ট্রাম্পকে ঘিরে এমন গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেও তাঁর ‘৬০ মিনিটস’ সাক্ষাৎকারের পর একই ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। সিবিএসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ট্রাম্পের স্যুটের পেছনের দিকে একটি ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন কিছু দর্শক। পরে সেই দৃশ্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সেটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বলে অনুমান করেন।   তবে ওই সময়ও দাবিটির পক্ষে কোনো যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ পোশাকের ভাঁজ, স্যুটের কাটিং, শরীরের ভঙ্গি কিংবা নিরাপত্তা সরঞ্জামের মতো বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণের কথা বলেন। অর্থাৎ একটি ছবিতে দেখা আকৃতি থেকেই ট্রাম্পের স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   মে মাসে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অংশগ্রহণের ছবিকে ঘিরেও একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল। তাঁর যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ করার পর কিছু ব্যবহারকারী ট্রাম্পের স্যুটের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং আবারও ডায়াপার ব্যবহারের দাবি তোলেন। কিন্তু সেই দাবিরও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   জুলাই মাসেও একই ধরনের গুঞ্জন ছড়ায়। ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে একটি বড় কালো ব্যাগ হাতে তাঁর পেছনে দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী সেটিকে কথিত ‘ডায়াপার ব্যাগ’ বলে দাবি করেন। পরে এসব পোস্ট নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি হার্প যে কোনো ধরনের চিকিৎসা বা পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।   ট্রাম্পকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া এসব গুঞ্জনের পেছনে মূলত ছবি ও ভিডিওর নির্দিষ্ট কিছু অংশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনুমান কাজ করছে। বিশেষ করে স্যুট পরা অবস্থায় তাঁর বসা বা হাঁটার সময় পোশাকের আকৃতি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো ছবির দৃশ্যমান আকৃতি থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়।   এ ধরনের গুঞ্জন নিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়েছে। তবে চলতি বছরের এপ্রিল ও জুলাইয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি বা যাচাই করা চিকিৎসা প্রমাণ নেই।   সম্প্রতি জীবনীকার মাইকেল উলফও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের দীর্ঘদিনের গুঞ্জন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, কিন্তু তিনি এমন দাবির কোনো ভিত্তি দেখেননি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে উলফের বক্তব্য ও তার বিশ্বাসযোগ্যতার সমালোচনা করা হয়েছে।   ফলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ছবিকে ঘিরে আলোচনা থাকলেও ট্রাম্প সত্যিই ডায়াপার ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য ও অনুমানকে তাই প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
টাইট অ্যাকটিভওয়্যার নিয়ে মন্তব্য করে ভাইরাল হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টিকটকার পপি। ছবি: সংগৃহীত
ব্যায়ামের পোশাক পরে শপিংমলে নারীরা, 'ভদ্রতা' নিয়ে প্রশ্ন তুলে তোপের মুখে তরুণী

প্রকাশ্যে নারীদের আঁটসাঁট বা টাইট ব্যায়ামের পোশাক (অ্যাক্টিভওয়্যার) পরা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের এক নারী। জিমের পোশাক পরে শপিংমল বা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো শালীনতা পরিপন্থি কি না, তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো দুই ভাগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই যেমন ওই নারীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, তেমনি অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘নারীবিদ্বেষী’ মানসিকতার অভিযোগ তুলেছেন।   অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম ডটএইউ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পপি নামের ওই টিকটকার সম্প্রতি কুইন্সল্যান্ডের টাউনসভিলের একটি সুপারমার্কেটের ভেতর থেকে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি প্রকাশ্যে নারীদের খুব ছোট শর্টস বা টাইট লেগিংস পরার তীব্র সমালোচনা করেন। পোশাকগুলো নারীদের শারীরিক গঠনকে দৃষ্টিকটুভাবে ফুটিয়ে তোলে বলে দাবি করেন তিনি।   ভিডিওতে পপি বলেন, “যেসব নারী এ ধরনের অ্যাক্টিভওয়্যার বা ছোট শর্টস পরেন, আমি মনে করি এটা দারুণ ব্যাপার। আপনারা আত্মবিশ্বাসী এবং আপনাদের শারীরিক গঠনও সুন্দর। কিন্তু আপনারা কি বুঝতে পারেন যে হাঁটার সময় আপনাদের আঁটসাঁট পোশাকের কারণে গোপনাঙ্গের আকার স্পষ্টভাবে বোঝা যায়? আমাকে এসে বলবেন না যে আমি কেন ওদিকে তাকিয়েছি। কেউ যদি এমন পোশাক পরে আমার দিকে হেঁটে আসে, তাহলে না তাকিয়ে উপায় কী?”   নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে এই টিকটকার পরিস্থিতিটিকে একজন পুরুষের টাইট প্যান্ট পরার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “এটা অনেকটা এমন যে, একজন পুরুষ খুব টাইট প্যান্ট পরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন এবং তার গোপনাঙ্গ স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।”   পপির এই স্পষ্টভাষী ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়তে থাকে। দর্শকরা এই ইস্যুতে স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একদল তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, জনসমক্ষে শালীনতা বজায় রাখার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মন্তব্যকারী লেখেন, “তিনি একদম ঠিক কথা বলেছেন জনসমক্ষে ভদ্রতা বলে একটা কথা আছে।” আরেকজন লেখেন, “অবশেষে কেউ একজন সত্যি কথাটা বলল। আমি এই নতুন ট্রেন্ডকে ঘৃণা করি, জিমের পোশাক কেবল জিমেই মানায়।” কেউ কেউ প্রকাশ্যে এমন পোশাক পরাকে ‘জঘন্য’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।   তবে অনেকেই পপির এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, পপি নিজেই একজন নারী হয়ে অন্য নারীদের পোশাক নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অন্তর্নিহিত নারীবিদ্বেষের লক্ষণ। সমালোচনাকারীদের একজন বলেন, “শারীরিক গঠন দেখা যাওয়ার মধ্যে ভুল কিছু নেই। আমরা সবাই এভাবেই পৃথিবীতে এসেছি।”   অন্য একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনার পছন্দ না হলে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকুন এবং নিজের কাজে মন দিন। আমি অনেক কষ্ট করে নিজের শরীর এমন সুন্দর করেছি, কারও কথায় আমি আমার পোশাক পরিবর্তন করব না।” অনেকেই আবার জানান, জিমে ব্যায়াম শেষ করার পর নারীদের অনেক সময় কেনাকাটা করতে দোকানে যেতে হয়। এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন রাখেন, “জিমে ওয়ার্কআউট করার পর কি আমাদের আগে বাড়ি গিয়ে পোশাক বদলাতে হবে? অনেক মেয়েরই ব্যস্ততা থাকে এবং জিম শেষ করেই বাজার করতে হয়।”   পপির মন্তব্যের সঙ্গে মানুষ একমত হোক বা না হোক, তাঁর এই ভিডিওটি অস্ট্রেলিয়ায় মানুষের পোশাক পরার অভ্যাস নিয়ে একটি বড় আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষ করে 'অ্যাথলিজার' বা ব্যায়াম ও ক্যাজুয়াল পোশাকের মিশ্রণ কীভাবে ধীরে ধীরে দেশটির নাগরিকদের এক প্রকার অঘোষিত দৈনন্দিন পোশাকে পরিণত হয়েছে, সেটিই নতুন করে সামনে এসেছে।   বাণিজ্যিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিবিআরই-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ট্রেন্ডটি মূলত মানুষের কাজ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের প্রতিফলন। বর্তমানে রিমোট এবং হাইব্রিড কাজের সুযোগ বাড়ায় মানুষ এমন পোশাক খুঁজছে, যা পরে জুম মিটিং থেকে শুরু করে সন্তানদের স্কুল থেকে আনা বা দ্রুত কেনাকাটা সবই স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়।   বিখ্যাত ব্র্যান্ড চোবানি-এর উদ্যোগে পরিচালিত একটি জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, ৬০ বছরের কম বয়সী ৮২ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান ব্যায়াম, ঘরে অবস্থান বা বাইরে যাওয়ার জন্য সাধারণ পোশাক হিসেবে অ্যাক্টিভওয়্যার পরেন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের পোশাক পরেন। তাই বিতর্ক যা-ই হোক না কেন, জিমের পোশাক যে এখন দৈনন্দিন ফ্যাশনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন দাবি করার পর আবারও আলোচনায় আসা অস্টিন ফ্রাঙ্কো। ছবি: সংগৃহীত
বিতর্কিত মন্তব্যে পরিবার থেকে বিতাড়িত মার্কিন তরুণ, এবার ৫জি টাওয়ারের বিরুদ্ধে মস্তিষ্ক বিকৃতির অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত শিক্ষার্থী অস্টিন ফ্রাঙ্কো আবারও আলোচনায় এসেছেন। ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের কারণে সম্প্রতি সংবাদ শিরোনামে আসা এই শিক্ষার্থী এবার দাবি করেছেন, তার বাসার জানালার বাইরে থাকা একটি ৫জি মোবাইল টাওয়ার থেকে আসা বিকিরণের কারণে তিনি মাথাব্যথা ও অস্বস্তিতে ভুগছেন।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ১৯ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো অভিযোগ করেন, তার নতুন বাসার বাইরে স্থাপিত একটি ৫জি সরঞ্জাম থেকে নির্গত বিকিরণ তার মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলছে। তিনি লেখেন, গত এক ঘণ্টা ধরে তার কানে শব্দ হচ্ছে এবং তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ওই স্থানের বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। তবে নিজের দাবির পক্ষে তিনি কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।   ফ্রাঙ্কো একই পোস্টে জানান, তিনি ওই বাসায় আর বেশিদিন থাকবেন না এবং অন্য কোথাও থাকার জন্য একটি কক্ষ খুঁজছেন। এর আগে জুন মাসে চাকরির জন্য যোগাযোগ করা একটি প্রতিষ্ঠানের ইহুদি সহপ্রতিষ্ঠাতাদের উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, "আমি কোনো ইহুদির জন্য কাজ করতে আগ্রহী নই।" এই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর তা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।   পরবর্তীতে তার বাবা-মা নিউইয়র্ক পোস্টকে জানান, অনলাইন উগ্রবাদী বিষয়বস্তুর প্রভাবে তাদের ছেলে চরমপন্থী মতাদর্শে আকৃষ্ট হয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেন, তার মতামত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা সেগুলোর সঙ্গে একমত নন। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রাঙ্কো জানান, তার মতাদর্শের কারণে বাবা-মা তাকে ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত পারিবারিক বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এরপর তিনি অনলাইনে অর্থ সহায়তার আবেদন করেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি অনুদান সংগ্রহ প্ল্যাটফর্মে খোলা তহবিল থেকে তিনি ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছেন। এর আগে আরেকটি পৃথক তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম থেকেও প্রায় ২৬ হাজার ডলার পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মনোচিকিৎসক ও 'থেরাপি নেশন' বইয়ের লেখক জনাথন অ্যালপার্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ইন্টারনেটে দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের উগ্র মতাদর্শের মধ্যে থাকলে একজন মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা ও বাস্তবতা মূল্যায়নের সক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।   তবে তিনি বলেন, সবকিছুর জন্য কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমকে দায়ী করাও ঠিক নয়। ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালপার্ট আরও মন্তব্য করেন, ইন্টারনেটের একটি উদ্বেগজনক দিক হলো, অনেক সময় বিতর্কিত আচরণও আর্থিকভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে। তার মতে, এ ধরনের ব্যক্তিকে অর্থ সহায়তা দেওয়া কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তার আচরণকে উৎসাহিত করার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।   এদিকে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে অস্টিন ফ্রাঙ্কোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। উল্লেখ্য, বর্তমানে ৫জি প্রযুক্তির স্বাভাবিক ব্যবহারে মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে গবেষণা অব্যাহত রেখেছে। ফ্রাঙ্কোর দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। ছবি: সংগৃহীত
নরেন্দ্র মোদির পোস্ট ব্লক করায় মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করল ভারত সরকার, ক্ষমাপ্রার্থনায়ও মেলেনি ছাড়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। এ বিষয়ে জবাব দিতে মেটার বৈশ্বিক জননীতি বিভাগের প্রধানকে তলব করেছে দেশটির ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (মেইটি)।   মেটা ইতোমধ্যে ঘটনাটিকে একটি প্রযুক্তিগত ভুল বলে স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, পোস্টটি ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ভারত সরকার বলছে, শুধু ক্ষমা চাইলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাচ্ছে না; কীভাবে এমন ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।   ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের উদ্দেশে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করা হলে কিছু সময়ের জন্য সেটির দৃশ্যমানতা সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটি দেখতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণান বলেন, মেটা ভুল স্বীকার করেছে, যা ইতিবাচক। কিন্তু তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সরকার সন্তুষ্ট নয়। তার ভাষায়, “তারা বলেছে ভুল হয়েছে এবং ক্ষমাও চেয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাই।”   সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মেটা জানিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট যাচাই ব্যবস্থার একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মূল পোস্টটিও ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   তবে সরকারের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের মতে, যদি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে মেটার উচিত দ্রুত তাদের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করা। কারণ, কোটি কোটি ব্যবহারকারীর তথ্যপ্রবাহ পরিচালনা করা একটি প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে এ ধরনের ভুল গ্রহণযোগ্য নয়।   বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী প্রথম প্রকাশ্যে এ ঘটনাটির সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও কীভাবে সীমাবদ্ধ করা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকরা কী দেখবেন বা দেখবেন না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেই।   এই ঘটনার মধ্যেই ভারতে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে সরকারি নজরদারি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ব্যবহারকারী নাম (ইউজারনেম) সুবিধা এবং ইনস্টাগ্রামে অবৈধ কনটেন্ট নিয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী ৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মেটাসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
পেশাগত নেটওয়ার্কিংয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আলোচনায় লিংকডইন। ছবি: সংগৃহীত
লিঙ্কডইন এখন ডেটিং অ্যাপ, পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মে মিলছে জীবনসঙ্গীর সন্ধান

দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা, পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং কর্মজীবনের সাফল্য তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত লিংকডইন। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে ভিন্ন এক প্রবণতা। পেশাদার এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এখন সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী বা প্রেমের সম্পর্ক যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করছেন অনেক ব্যবহারকারী।   রিজিউমে তৈরির ওয়েবসাইট জেটি (Zety) ২০২৬ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজারের বেশি কর্মজীবী মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রতি আটজনের একজন জানিয়েছেন, লিংকডইনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।   জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৬৫ শতাংশ মনে করেন, লিংকডইন ব্যবহার করে সম্পর্কের চেষ্টা করলে পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবুও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন।   জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের একজন সম্ভাব্য সঙ্গী সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য লিংকডইন ব্যবহার করেছেন। প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইলের তুলনায় লিংকডইনে দেওয়া তথ্য বেশি নির্ভরযোগ্য।   তবে সবাই এ ধরনের ব্যবহারকে সমর্থন করেন না। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৪ শতাংশ কর্মজীবী বলেছেন, লিংকডইন কেবল পেশাগত কাজের জন্যই ব্যবহার হওয়া উচিত। অন্যদিকে ২৬ শতাংশ মনে করেন, পরিস্থিতি উপযোগী হলে সম্পর্কের উদ্দেশ্যেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা যেতে পারে।   জেটির ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ জ্যাসমিন এসকালেরা বলেন, পুরুষদের মধ্যে লিংকডইনকে ডেটিংয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য মনে করার প্রবণতা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।   প্রজন্মভিত্তিক পার্থক্যও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে জরিপে। সম্ভাব্য সঙ্গী সম্পর্কে তথ্য যাচাই করতে মিলেনিয়ালদের ৩৩ শতাংশ এবং জেন-জি প্রজন্মের ২৭ শতাংশ লিংকডইন ব্যবহার করেন। তুলনায় জেন-এক্সের ক্ষেত্রে এ হার ১৯ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ।   জরিপ অনুযায়ী, কারও লিংকডইন প্রোফাইলে রোমান্টিক আগ্রহ তৈরি হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রোফাইল ছবি, নিজের সম্পর্কে লেখা পরিচিতি, পারস্পরিক পরিচিত মানুষের সংখ্যা, পেশাগত অগ্রগতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা।   জ্যাসমিন এসকালেরার মতে, আধুনিক কর্মজীবনে ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়ের সীমারেখা আগের তুলনায় অনেকটাই ঝাপসা হয়ে গেছে। এখন একটি লিংকডইন প্রোফাইল শুধু একজনের চাকরি নয়, তার ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসযোগ্যতারও একটি ধারণা দেয়। এ কারণেই অনেকে নেটওয়ার্কিংয়ের বাইরে গিয়েও প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছেন।   তবে লিংকডইনে রোমান্টিক বার্তা পাঠানোর বিষয়ে ব্যবহারকারীদের মতামত বিভক্ত। জরিপে ৩৪ শতাংশ বলেছেন, এ ধরনের বার্তা পেলে তারা অস্বস্তি বোধ করবেন। ৩১ শতাংশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। ১৯ শতাংশ বলেছেন, এমন বার্তা পেলে প্রেরককে ব্লক বা অভিযোগ করবেন। অন্যদিকে ১৬ শতাংশ এটিকে ইতিবাচকভাবে নেবেন।   গবেষকদের মতে, লিংকডইন ধীরে ধীরে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে, যেখানে কর্মজীবনের তথ্য অনেকের কাছে পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনলাইনে ভুয়া পরিচয়, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং প্রতারণার আশঙ্কার মধ্যে অনেক ব্যবহারকারী যাচাইকৃত কর্মজীবনের ইতিহাসকে একজন মানুষের স্থায়িত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন।   তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, লিংকডইনের মূল উদ্দেশ্য এখনো পেশাগত যোগাযোগ ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন। তাই ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যের গোপনীয়তা, সম্মতি এবং পেশাগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: জেটি (Zety) জরিপ, এসএফগেট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখেন মা

ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মায়ের গল্প ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, লা গুয়াইরা এলাকার একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে ওই মা টানা ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে তার তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন। পরে উদ্ধারকারীরা তাদের চারজনকেই জীবিত উদ্ধার করেন।   ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হয়েছে, লা গুয়াইরার ওপিপি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ওই মা নিজের বুকের দুধ খাইয়েই শিশুদের বাঁচিয়ে রাখেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা শেষ পর্যন্ত মা ও তার তিন সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করলে ঘটনাটি অনেকের কাছে 'অলৌকিক' হিসেবে বিবেচিত হয়। গল্পটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ ওই মায়ের সাহস, আত্মত্যাগ ও মাতৃত্বের প্রশংসা করছেন। অনেকেই তাকে 'নায়ক' হিসেবে উল্লেখ করছেন।   তবে এ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   কয়েকটি স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার কিছু অংশ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনও আশঙ্কা করা হয়েছে যে, ভূমিকম্প-পরবর্তী বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানের তথ্য একসঙ্গে মিশে এই বর্ণনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।   ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ হতাহত বা নিখোঁজ হন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে একাধিক জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করার ঘটনাও ঘটেছে।   তবে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা এক মা ১১ দিন ধরে বুকের দুধ খাইয়ে তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন, এমন দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত তথ্যের পরিবর্তে ভাইরাল দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামসহ প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।   সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ওয়েবসাইটে লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা সীমিত করা এবং অনলাইন গেমের ভেতরে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   সরকারি সূত্রগুলো এই পরিকল্পনাকে “অস্ট্রেলিয়া-প্লাস” হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা প্রথম দেশ হিসেবে এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত নীতিটি সেই ব্যবস্থার চেয়েও বেশি কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। একজন বাবা হিসেবে আমি জানি, প্রতিটি অভিভাবকই চান তাঁদের সন্তান নিরাপদ পরিবেশে বড় হোক।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল কাঠামো শিশুদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।   দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা মোট ১০টি বড় প্ল্যাটফর্মে কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক ও কিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ, রাতের কারফিউ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।   সরকারের তিন মাসব্যাপী এক গণপরামর্শে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবক ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেন।   তবে এই প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনাও রয়েছে। অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে ১৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করা কিশোরী মলি রাসেলের বাবা ইয়ান রাসেল এই উদ্যোগকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেছেন।   তার মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিশুদের মধ্যে ভুয়া নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে এবং তারা অনলাইন জগতের আরও ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রবেশ করতে পারে।   অন্যদিকে ব্রিটেনের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী জানিয়েছেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য। এখন শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

Unknown জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ অচল ফেসবুক, ভোগান্তিতে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীরা

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হঠাৎ করে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।   বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা ফেসবুকে লগ-ইন করতে পারছেন না। কেউ কেউ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট লোড হতে বিলম্ব, নিউজফিড আপডেট না হওয়া এবং বিভিন্ন ফিচার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে না পারার অভিযোগ করেছেন।   অনলাইন সেবা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউন ডিটেক্টরসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও ফেসবুকের বিভ্রাট সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমস্যাটি একাধিক অঞ্চলে একযোগে দেখা দিয়েছে। এদিকে, বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।   প্রযুক্তিগত এই সমস্যার কারণে অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যারা যোগাযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল, তারা সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।   তবে ঠিক কী কারণে এই বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং কখন নাগাদ সেবাটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Unknown জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যিশুর আদলে ছবি পোস্ট করে সমালোচনায় ট্রাম্প, শেষ পর্যন্ত মুছে ফেললেন

নিজেকে যিশুর আদলে উপস্থাপন করে একটি ছবি পোস্ট করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে বিতর্ক বাড়তে থাকায় তিনি ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুছে ফেলেন।   ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ পোস্ট করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ওই ছবিতে দেখা যায়, সাদা পোশাকে ট্রাম্প একজন অসুস্থ ব্যক্তির কপালে হাত রেখে তাকে সুস্থ করে তুলছেন। অনেকেই ছবিটিকে যিশুর অলৌকিক নিরাময়ের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।   ছবিটি প্রকাশের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমনকি ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্য থেকেও সমালোচনা উঠে আসে।   খ্রিষ্টান কর্মী শন ফিউচট ছবিটি অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে রক্ষণশীল কর্মী রাইলি গেইনস মন্তব্য করেন, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে এমন উপস্থাপন অনুচিত। খ্রিষ্টান ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ডেভিড ব্রোডিও এটিকে ‘সীমা অতিক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   তবে সমালোচনার মুখে পড়লেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেননি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ছবিটি তাকে একজন ‘চিকিৎসক’ হিসেবে তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, ‘আমি মানুষকে ভালো করি, অনেক ভালো করি।’   উল্লেখ্য, এই ছবি পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ-এর সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। পোপ সাম্প্রতিক সংঘাতকে ‘অমানবিক সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০