সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

পেশাগত নেটওয়ার্কিংয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আলোচনায় লিংকডইন। ছবি: সংগৃহীত
লিঙ্কডইন এখন ডেটিং অ্যাপ, পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মে মিলছে জীবনসঙ্গীর সন্ধান

দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা, পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং কর্মজীবনের সাফল্য তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত লিংকডইন। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে ভিন্ন এক প্রবণতা। পেশাদার এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এখন সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী বা প্রেমের সম্পর্ক যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করছেন অনেক ব্যবহারকারী।   রিজিউমে তৈরির ওয়েবসাইট জেটি (Zety) ২০২৬ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজারের বেশি কর্মজীবী মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রতি আটজনের একজন জানিয়েছেন, লিংকডইনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।   জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৬৫ শতাংশ মনে করেন, লিংকডইন ব্যবহার করে সম্পর্কের চেষ্টা করলে পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবুও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন।   জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের একজন সম্ভাব্য সঙ্গী সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য লিংকডইন ব্যবহার করেছেন। প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইলের তুলনায় লিংকডইনে দেওয়া তথ্য বেশি নির্ভরযোগ্য।   তবে সবাই এ ধরনের ব্যবহারকে সমর্থন করেন না। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৪ শতাংশ কর্মজীবী বলেছেন, লিংকডইন কেবল পেশাগত কাজের জন্যই ব্যবহার হওয়া উচিত। অন্যদিকে ২৬ শতাংশ মনে করেন, পরিস্থিতি উপযোগী হলে সম্পর্কের উদ্দেশ্যেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা যেতে পারে।   জেটির ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ জ্যাসমিন এসকালেরা বলেন, পুরুষদের মধ্যে লিংকডইনকে ডেটিংয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য মনে করার প্রবণতা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।   প্রজন্মভিত্তিক পার্থক্যও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে জরিপে। সম্ভাব্য সঙ্গী সম্পর্কে তথ্য যাচাই করতে মিলেনিয়ালদের ৩৩ শতাংশ এবং জেন-জি প্রজন্মের ২৭ শতাংশ লিংকডইন ব্যবহার করেন। তুলনায় জেন-এক্সের ক্ষেত্রে এ হার ১৯ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ।   জরিপ অনুযায়ী, কারও লিংকডইন প্রোফাইলে রোমান্টিক আগ্রহ তৈরি হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রোফাইল ছবি, নিজের সম্পর্কে লেখা পরিচিতি, পারস্পরিক পরিচিত মানুষের সংখ্যা, পেশাগত অগ্রগতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা।   জ্যাসমিন এসকালেরার মতে, আধুনিক কর্মজীবনে ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়ের সীমারেখা আগের তুলনায় অনেকটাই ঝাপসা হয়ে গেছে। এখন একটি লিংকডইন প্রোফাইল শুধু একজনের চাকরি নয়, তার ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসযোগ্যতারও একটি ধারণা দেয়। এ কারণেই অনেকে নেটওয়ার্কিংয়ের বাইরে গিয়েও প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছেন।   তবে লিংকডইনে রোমান্টিক বার্তা পাঠানোর বিষয়ে ব্যবহারকারীদের মতামত বিভক্ত। জরিপে ৩৪ শতাংশ বলেছেন, এ ধরনের বার্তা পেলে তারা অস্বস্তি বোধ করবেন। ৩১ শতাংশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। ১৯ শতাংশ বলেছেন, এমন বার্তা পেলে প্রেরককে ব্লক বা অভিযোগ করবেন। অন্যদিকে ১৬ শতাংশ এটিকে ইতিবাচকভাবে নেবেন।   গবেষকদের মতে, লিংকডইন ধীরে ধীরে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে, যেখানে কর্মজীবনের তথ্য অনেকের কাছে পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনলাইনে ভুয়া পরিচয়, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং প্রতারণার আশঙ্কার মধ্যে অনেক ব্যবহারকারী যাচাইকৃত কর্মজীবনের ইতিহাসকে একজন মানুষের স্থায়িত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন।   তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, লিংকডইনের মূল উদ্দেশ্য এখনো পেশাগত যোগাযোগ ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন। তাই ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যের গোপনীয়তা, সম্মতি এবং পেশাগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: জেটি (Zety) জরিপ, এসএফগেট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখেন মা

ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মায়ের গল্প ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, লা গুয়াইরা এলাকার একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে ওই মা টানা ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে তার তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন। পরে উদ্ধারকারীরা তাদের চারজনকেই জীবিত উদ্ধার করেন।   ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হয়েছে, লা গুয়াইরার ওপিপি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ওই মা নিজের বুকের দুধ খাইয়েই শিশুদের বাঁচিয়ে রাখেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা শেষ পর্যন্ত মা ও তার তিন সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করলে ঘটনাটি অনেকের কাছে 'অলৌকিক' হিসেবে বিবেচিত হয়। গল্পটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ ওই মায়ের সাহস, আত্মত্যাগ ও মাতৃত্বের প্রশংসা করছেন। অনেকেই তাকে 'নায়ক' হিসেবে উল্লেখ করছেন।   তবে এ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   কয়েকটি স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার কিছু অংশ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনও আশঙ্কা করা হয়েছে যে, ভূমিকম্প-পরবর্তী বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানের তথ্য একসঙ্গে মিশে এই বর্ণনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।   ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ হতাহত বা নিখোঁজ হন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে একাধিক জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করার ঘটনাও ঘটেছে।   তবে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা এক মা ১১ দিন ধরে বুকের দুধ খাইয়ে তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন, এমন দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত তথ্যের পরিবর্তে ভাইরাল দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামসহ প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।   সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ওয়েবসাইটে লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা সীমিত করা এবং অনলাইন গেমের ভেতরে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   সরকারি সূত্রগুলো এই পরিকল্পনাকে “অস্ট্রেলিয়া-প্লাস” হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা প্রথম দেশ হিসেবে এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত নীতিটি সেই ব্যবস্থার চেয়েও বেশি কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। একজন বাবা হিসেবে আমি জানি, প্রতিটি অভিভাবকই চান তাঁদের সন্তান নিরাপদ পরিবেশে বড় হোক।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল কাঠামো শিশুদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।   দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা মোট ১০টি বড় প্ল্যাটফর্মে কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক ও কিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ, রাতের কারফিউ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।   সরকারের তিন মাসব্যাপী এক গণপরামর্শে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবক ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেন।   তবে এই প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনাও রয়েছে। অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে ১৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করা কিশোরী মলি রাসেলের বাবা ইয়ান রাসেল এই উদ্যোগকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেছেন।   তার মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিশুদের মধ্যে ভুয়া নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে এবং তারা অনলাইন জগতের আরও ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রবেশ করতে পারে।   অন্যদিকে ব্রিটেনের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী জানিয়েছেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য। এখন শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

Unknown জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ অচল ফেসবুক, ভোগান্তিতে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীরা

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হঠাৎ করে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।   বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা ফেসবুকে লগ-ইন করতে পারছেন না। কেউ কেউ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট লোড হতে বিলম্ব, নিউজফিড আপডেট না হওয়া এবং বিভিন্ন ফিচার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে না পারার অভিযোগ করেছেন।   অনলাইন সেবা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউন ডিটেক্টরসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও ফেসবুকের বিভ্রাট সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমস্যাটি একাধিক অঞ্চলে একযোগে দেখা দিয়েছে। এদিকে, বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।   প্রযুক্তিগত এই সমস্যার কারণে অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যারা যোগাযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল, তারা সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।   তবে ঠিক কী কারণে এই বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং কখন নাগাদ সেবাটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Unknown জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যিশুর আদলে ছবি পোস্ট করে সমালোচনায় ট্রাম্প, শেষ পর্যন্ত মুছে ফেললেন

নিজেকে যিশুর আদলে উপস্থাপন করে একটি ছবি পোস্ট করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে বিতর্ক বাড়তে থাকায় তিনি ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুছে ফেলেন।   ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ পোস্ট করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ওই ছবিতে দেখা যায়, সাদা পোশাকে ট্রাম্প একজন অসুস্থ ব্যক্তির কপালে হাত রেখে তাকে সুস্থ করে তুলছেন। অনেকেই ছবিটিকে যিশুর অলৌকিক নিরাময়ের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।   ছবিটি প্রকাশের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন ও ধর্মীয় মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমনকি ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্য থেকেও সমালোচনা উঠে আসে।   খ্রিষ্টান কর্মী শন ফিউচট ছবিটি অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে রক্ষণশীল কর্মী রাইলি গেইনস মন্তব্য করেন, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে এমন উপস্থাপন অনুচিত। খ্রিষ্টান ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ডেভিড ব্রোডিও এটিকে ‘সীমা অতিক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   তবে সমালোচনার মুখে পড়লেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেননি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ছবিটি তাকে একজন ‘চিকিৎসক’ হিসেবে তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, ‘আমি মানুষকে ভালো করি, অনেক ভালো করি।’   উল্লেখ্য, এই ছবি পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ-এর সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। পোপ সাম্প্রতিক সংঘাতকে ‘অমানবিক সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। ফাইল ছবি
ফেনী সীমান্তে শিরীন শারমিন আটক—ফটোকার্ড নিয়ে যা জানা গেল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়—ফেনী সীমান্ত থেকে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ১০০ ভরি স্বর্ণসহ আটক করা হয়েছে। ফটোকার্ডটি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নামে প্রচার করা হয়, যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।   তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ দাবি সঠিক নয়। ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানার জানায়, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হলেও তা ফেনী সীমান্ত থেকে নয় এবং তার কাছে কোনো স্বর্ণ পাওয়া যায়নি।   তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।   অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ডটি Channel 24-এর নামে তৈরি করা হলেও সেটি বিকৃত। মূল ফটোকার্ডের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রচারিত ছবিতে পুলিশ সদস্যদের হাতে স্বর্ণের বারভর্তি একটি ব্যাগ যুক্ত করা হয়েছে, যা আসল ছবিতে ছিল না।   বিষয়টি যাচাই করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করা হলে দেখা যায়, ছবিটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।   এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের আসল পোস্ট ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায়, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকেই আটক করা হয়েছে।   পরে আদালতে তাকে একটি মামলায় হাজির করা হলে রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।   সব মিলিয়ে, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ফেনী সীমান্ত থেকে স্বর্ণসহ আটক করার যে দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি নয়, আপাতত ক্রিকেটেই মনোযোগ: বিতর্কের জবাবে সাকিব আল হাসান যা বললেন

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাকিব আল হাসান। তাঁর ক্রিকেটে ফেরা ও রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। গত ৫ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাকিব তাঁর ক্রিকেটে ফেরা এবং রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এই পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন সাকিব। পোস্টে তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার করতে চান—এই মুহূর্তে তাঁর পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে জাতীয় দলের হয়ে নিজের সেরাটা দিতে চান এবং সুযোগ পেলে দেশকে আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। রাজনীতি প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে রাজনীতির গুরুত্ব রয়েছে। তবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার আগে তিনি কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে চান না। ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে—এমনটা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করে বলেন, লাল-সবুজের জার্সিতে হাসিমুখে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করতে চান।

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
সিমরিন লুবাবা। ছবি: সংগৃহীত
শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা বিয়ে করলেন, পোস্ট ঘিরে জল্পনা, চুপ পরিবার

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী-মডেল সিমরিন লুবাবা-এর বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক-এ একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এই পোস্ট থেকেই মূলত বিয়ের আলোচনা শুরু হয়েছে।   যদিও পোস্টটি তাঁর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে, লুবাবার বিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিশ্চিত হয়নি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মা জাহিদা ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া পরিবারের সূত্র থেকেও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   লুবাবার পোস্টে থাকা ছবিতে বর ও কনের চেহারা পরিষ্কার নয়। পাত্রের পরিচয়ও তিনি প্রকাশ করেননি। ফলে কে তাঁর জীবনসঙ্গী তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকে পাত্রকে বিদেশপ্রবাসী বা আলেম বলে দাবী করলেও এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   গত বছরের শেষদিকে হঠাৎ করেই বিনোদন জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন লুবাবা। তখন তিনি জানিয়েছেন, ধর্মীয় অনুশীলনের দিকে মনোনিবেশ এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে চান। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিমরিন লুবাবার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিলেও বিয়ে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
তাইজুল ইসলাম
আমি শিক্ষিত না, আমাকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় করাবেন না: তাইজুল ইসলাম

মাত্র কয়েক দিন আগেও যাকে কেউ চিনত না, সেই কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চরাঞ্চলের তরুণ তাইজুল ইসলাম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তাজু ভাই’ নামে ভাইরাল। একটি সাধারণ প্রশ্ন“জিলাপির দাম কত?”তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।   গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বাজারে দাঁড়িয়ে তাজু প্রশ্ন করেন, “আজকে সরকারি রেটে সাদা জিলাপি কত, লালটা কত?”এই সরল ও আন্তরিক উপস্থাপনাই মুগ্ধ করেছে নেটিজেনদের। ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ দেখেছেন। কয়েক দিনের ব্যবধানে তার অনুসারীর সংখ্যাও হাজার থেকে বেড়ে লাখে পৌঁছেছে।   তবে ভাইরাল হওয়া এই হাসির আড়ালে রয়েছে সংগ্রামের বাস্তবতা। তাজু একটি অভাবী পরিবারের বড় ছেলে। তাঁর বাবা-মা দুজনই শ্রবণ প্রতিবন্ধী। আট সদস্যের পরিবার নিয়ে অন্যের জমিতে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন তারা। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।   জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন তাজু। কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার একমাত্র স্বস্তি। নিজের ভাষায়, “আমি সাংবাদিক না… আমাদের এলাকায় সাংবাদিক আসে না… তাই আমি নিজেই মানুষের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করি।” তিনি জানান, ভিডিও তৈরি তার কাছে শুধু বিনোদন নয় বরং নিজের কষ্ট ভুলে থাকার উপায় এবং অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরার একটি মাধ্যম।   নাগেশ্বরীর দুর্গম চরাঞ্চলে পৌঁছাতে একাধিক নৌপথ অতিক্রম করতে হয়, ফলে গণমাধ্যমের উপস্থিতি সেখানে খুবই সীমিত। এই বাস্তবতায় তাজুর ভিডিও অনেকের কাছে নতুন এক জানালার মতো হয়ে উঠেছে।   ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাজুকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ প্রশংসা করছেন, আবার কেউ করছেন সমালোচনা ও ট্রল। তবে এসব বিষয়ে তাজুর প্রতিক্রিয়া সহজ-সরল “আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। ট্রল করলে আমার কষ্ট নেই। আমি শুধু চাই আমাদের চরের উন্নয়ন হোক।”   নিজের কোনো পাকা ঘর নেই, ঝড়-বৃষ্টিতে বসতভিটা হারানোর শঙ্কা নিয়েই দিন কাটে তার। তবুও স্বপ্ন দেখেন একদিন সবকিছু বদলে যাবে।   তাজুর কথাবার্তা হয়তো পরিপাটি নয়, কিন্তু তার প্রশ্নের ভেতরে রয়েছে জনস্বার্থের ইঙ্গিত। তিনি কি শুধুই ভাইরাল কনটেন্ট নির্মাতা, নাকি অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনে।

Unknown মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০