সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হার্ভার্ড

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপ!
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপ: দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে ও কখন আবেদন করবেন?

যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ। তবে শিক্ষার্থীর একাডেমিক যোগ্যতা, পরিবারের আর্থিক অবস্থা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হার্ভার্ড, এমআইটি ও ইয়েলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফুলব্রাইট, নাইট-হেনেসি এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি স্নাতকোত্তর ও পেশাগত পর্যায়ে পড়াশোনার খরচ বহনে সহায়তা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব স্কলারশিপের নিয়ম এক নয়। কিছু সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বাসিন্দাদের জন্য, কিছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য, আবার কিছু কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব, পড়াশোনার বিষয় বা কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো স্কলারশিপ সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারে, আবার কোনোটি কেবল আংশিক অর্থায়ন দেয়। তাই আবেদন করার আগে যোগ্যতা, সহায়তার পরিমাণ এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করা জরুরি।   হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা : যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এখানে সাধারণ বৃত্তির মতো শুধু পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়া হয় না; পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য ও শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা বিবেচনা করে সহায়তা নির্ধারণ করা হয়। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তার মধ্যে টিউশনসহ অন্যান্য শিক্ষাব্যয়ের বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, আর সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতির ওপর।   আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের শরৎকালীন ভর্তি প্রক্রিয়ায় আগাম আবেদনের সময়সীমা সাধারণত ১ নভেম্বর এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা ১ জানুয়ারি। আর্থিক সহায়তার কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ভর্তির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট বছরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।   এমআইটি (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) আর্থিক সহায়তা : বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে এমআইটি অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্নাতক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে সহায়তা দেয়। ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্যকে বাধা হিসেবে বিবেচনা না করার নীতি অনুসরণ করে এমআইটি। যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী টিউশন, আবাসন, খাবার ও অন্যান্য শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের সহায়তা পেতে হলে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে এবং নির্ধারিত আর্থিক নথি জমা দিতে হবে।   আবেদনের সময়: আগাম ও নিয়মিত ভর্তি প্রক্রিয়ার সময়সীমা আলাদা। সাধারণত আগাম আবেদনের সময় নভেম্বরের শুরু এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা জানুয়ারির শুরুতে থাকে। আর্থিক সহায়তার আবেদনও সংশ্লিষ্ট ভর্তি সময়সূচি অনুসারে সম্পন্ন করতে হয়।   ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা : ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রাখে। স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি ও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যকে বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্য রাখা হয়। সহায়তা সাধারণত ঋণের পরিবর্তে বৃত্তির মাধ্যমে দেওয়া হয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।   আবেদনের সময়: সাধারণত আগাম আবেদনের সময়সীমা ১ নভেম্বর এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা ২ জানুয়ারির কাছাকাছি থাকে। প্রতিবছর তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি যাচাই করতে হবে।   ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম :  যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ কর্মসূচির আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য অনুদান পেতে পারেন। সাধারণত ভালো একাডেমিক ফল, ইংরেজিতে দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং নিজ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। অনুদানের মধ্যে অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসুবিধা ও অন্যান্য সহায়তা থাকতে পারে। তবে প্রতিটি দেশের জন্য যোগ্যতা, নির্বাচনপদ্ধতি এবং অর্থায়নের পরিমাণ এক নয়; সব নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করা হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।   আবেদনের সময়: সময়সীমা আবেদনকারীর নাগরিকত্বের দেশের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের নিজ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট ফুলব্রাইট কর্তৃপক্ষের ঘোষিত সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে এই কর্মসূচিতে যোগ্য হয়ে যাবেন না; নাগরিকত্ব, বসবাস ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   নাইট-হেনেসি স্কলারস, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় : স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট-হেনেসি স্কলারস কর্মসূচি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী মেধাবী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের স্ট্যানফোর্ডের অনুমোদিত পূর্ণকালীন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হয়। কর্মসূচিটি সাধারণত টিউশন, জীবনযাপনের ব্যয় এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কিছু অন্যান্য খরচের জন্য অর্থায়ন দেয়। তবে স্কলারশিপে নির্বাচিত হওয়া এবং স্ট্যানফোর্ডের নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া দুটি পৃথক প্রক্রিয়া। তাই উভয় আবেদনের শর্ত পূরণ করা জরুরি।   আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর জন্য আবেদন ৬ অক্টোবর ২০২৬-এ বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী ২০২৮ সালের গোষ্ঠীর আবেদন ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে শুরু হওয়ার কথা। আগ্রহীদের স্কলারশিপের পাশাপাশি পছন্দের ডিগ্রি প্রোগ্রামের সময়সীমাও যাচাই করতে হবে।   এএইউডব্লিউ আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ : যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহায়তার জন্য আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি উইমেনের আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ কর্মসূচি রয়েছে। যোগ্য আন্তর্জাতিক নারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স, ডক্টরাল বা নির্দিষ্ট পোস্টডক্টরাল পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য অর্থায়নের আবেদন করতে পারেন। একাডেমিক যোগ্যতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশ বা সমাজে অবদানের সম্ভাবনা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি সব নারী শিক্ষার্থী বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত সাধারণ বৃত্তি নয়; নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত শর্ত রয়েছে।   আবেদনের সময়: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী চক্রের নতুন সময়সূচি প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনকারীদের আগে থেকেই একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সুপারিশপত্র ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি প্রস্তুত রাখা উচিত।   হুবার্ট এইচ. হামফ্রে ফেলোশিপ : হুবার্ট এইচ. হামফ্রে ফেলোশিপ অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের পেশাগত ও একাডেমিক উন্নয়নের সুযোগ। এটি সাধারণ ডিগ্রি প্রদানকারী স্কলারশিপ নয়; বরং নেতৃত্ব, জনসেবা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়। যোগ্য হতে হলে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি, অন্তত পাঁচ বছরের পূর্ণকালীন পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের প্রমাণ, জনসেবায় অবদান এবং ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হয়। নির্বাচিত ফেলোদের জন্য টিউশন ও ফি, জীবনযাপনের ভাতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।   আবেদনের সময়: সময়সীমা দেশভেদে আলাদা। আবেদনকারীদের নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা দ্বিপক্ষীয় ফুলব্রাইট কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। সাধারণত পরবর্তী বছরের কর্মসূচির জন্য আগের বছরই আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই আগ্রহী পেশাজীবীদের আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।   রোটারি পিস ফেলোশিপ : শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত নিরসন, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী পেশাজীবীদের জন্য রোটারি পিস ফেলোশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। কর্মসূচিটির আওতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা রোটারি পিস সেন্টারে মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা পেশাগত সার্টিফিকেট কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। অর্থায়নের মধ্যে টিউশন, আবাসন, যাতায়াত এবং প্রোগ্রাম-সংশ্লিষ্ট কিছু খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এটি সাধারণ স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তি নয়; সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং সামাজিক প্রভাব তৈরির সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনের সময়: ২০২৭-২৮ চক্রের আবেদন বন্ধ হয়েছে। ২০২৮-২৯ চক্রের আবেদন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা। আগ্রহীদের আবেদনপত্র, সুপারিশপত্র, প্রবন্ধ এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক নথি আগেভাগে প্রস্তুত রাখতে হবে।   জয়েন্ট জাপান-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম : বিশ্বব্যাংক ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচি উন্নয়নশীল দেশের যোগ্য পেশাজীবীদের নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনার জন্য অর্থায়ন দেয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ননীতি, অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পড়ার সুযোগ থাকতে পারে। সাধারণত যোগ্য দেশের নাগরিকত্ব, স্নাতক ডিগ্রি, উন্নয়নসংশ্লিষ্ট কাজে অন্তত তিন বছরের বেতনভুক্ত অভিজ্ঞতা এবং অংশগ্রহণকারী মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার শর্ত রয়েছে। সহায়তার মধ্যে টিউশন, মাসিক জীবনযাপনের ভাতা, যাতায়াত ও স্বাস্থ্যবিমা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যাশাও এই কর্মসূচির অংশ।   আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের প্রথম আবেদনপর্ব ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ২৯ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে দেখতে হবে, পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম ওই বছরের অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য এটি সাধারণ দেশীয় শিক্ষার্থী বৃত্তি নয়; যোগ্য উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।   এমপাওয়ার গ্লোবাল সিটিজেন স্কলারশিপ : যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এমপাওয়ার ফাইন্যান্সিংয়ের গ্লোবাল সিটিজেন স্কলারশিপ একটি বিকল্প। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি বা অধ্যয়নরত যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য। নির্বাচনে প্রার্থীর প্রবন্ধ, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে পেশাগত পরিকল্পনার সম্পর্ক এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। ২০২৬ সালের ঘোষিত কর্মসূচিতে প্রথম পুরস্কার ৮ হাজার ডলার, দ্বিতীয় পুরস্কার ২ হাজার ডলার এবং তৃতীয় পুরস্কার ১ হাজার ডলার। এটি সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় মেটানোর নিশ্চয়তা নয়; বরং নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা।   আবেদনের সময়: বর্তমান চক্রের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রবন্ধ জমা দিতে হবে। এই স্কলারশিপটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নয়; আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ডিএসিএ সুবিধাভোগীরা আবেদন করতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ : এই দশটি সুযোগের মধ্যে সবগুলো একই ধরনের নয়। হার্ভার্ড, এমআইটি ও ইয়েলের আর্থিক সহায়তা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে ফুলব্রাইট, নাইট-হেনেসি, এএইউডব্লিউ, হামফ্রে, রোটারি ও বিশ্বব্যাংকের কর্মসূচিগুলোর নিজস্ব যোগ্যতা, শিক্ষার স্তর এবং পেশাগত শর্ত রয়েছে। এমপাওয়ারের বৃত্তি আবার নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থায়ন দেয়। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে আবেদন না করে নিজের নাগরিকত্ব, অভিবাসন অবস্থা, শিক্ষার স্তর, পছন্দের বিষয় এবং আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে সুযোগ বেছে নেওয়া উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন অ-নাগরিক শিক্ষার্থীরা ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে শুধু এফ-১ বা এম-১ স্টুডেন্ট ভিসা থাকলেই সাধারণত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড পাওয়া যায় না। গ্রিন কার্ডধারীসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন অবস্থার শিক্ষার্থীরা যোগ্য হতে পারেন। অন্যদিকে ডিএসিএ সুবিধাভোগী ও অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সহায়তার জন্য যোগ্য না হলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আর্থিক সহায়তা, রাজ্যভিত্তিক কর্মসূচি বা বেসরকারি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ কারণে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অবস্থার ভিত্তিতে নিয়ম যাচাই করা জরুরি।   স্কলারশিপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, পরীক্ষার ফল, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, পারিবারিক আয়ের নথি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার ফল প্রস্তুত রাখা ভালো। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও আর্থিক সহায়তার আবেদন আলাদাভাবে জমা দিতে হয়। কিছু কর্মসূচিতে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়, আবার কিছু কর্মসূচিতে নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সময়সীমা প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পুরোনো তারিখের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।   সবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার খরচ কমানোর জন্য শুধু বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই সুযোগ খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আর্থিক সহায়তা, বেসরকারি স্কলারশিপ, পেশাগত ফেলোশিপ এবং নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক অনুদান একসঙ্গে বিবেচনা করলে বিকল্পের পরিসর বাড়তে পারে। সঠিক সময়ে প্রস্তুতি নেওয়া এবং যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করাই আবেদন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব খন্দকারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
আপনার সন্তানকে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী আকিব খন্দকারের বিশেষ সাক্ষাৎকার | কলেজে ভর্তি, এসএটি, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড ও বৃত্তি নিয়ে অভিভাবকদের জন্য ধাপে ধাপে দিকনির্দেশনা   ইন্টারভিউর ভিডিও দেখুন আকিবের বিশেষ সাক্ষাৎকার: সন্তানকে আইভি লিগ বা টপ কলেজে ভর্তির বিষয়ে   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক শিক্ষার্থী মেধাবী, পরিশ্রমী এবং সম্ভাবনাময়। কিন্তু শুধু ভালো ফলাফল করলেই যে এমআইটি, হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত হয়, বিষয়টি তেমন নয়। কখন থেকে কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করতে হবে, কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে, কীভাবে এসএটি বা এসিটি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে, কোন ধরনের এক্সট্রা ক্যারিকালম কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া উচিত এবং প্রবন্ধে নিজের অভিজ্ঞতা কীভাবে তুলে ধরতে হবে এসব বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।   অনেক পরিবার সন্তানকে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা, সঠিক তথ্যের অভাব কিংবা ব্যয়বহুল কোচিং সমস্যায় পড়ে। অথচ আগে থেকে পরিকল্পনা করে এগোলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আবেদন প্রস্তুতি এবং স্কলারশিপের সুযোগ খুঁজে দেখার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারে।   এ বিষয়গুলো নিয়ে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন আকিব খন্দকার। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং সম্প্রতি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের কথা জানিয়েছেন। নিজের কলেজে ভর্তির সময় স্ট্যানফোর্ড, প্রিন্সটন, কর্নেল, ভ্যান্ডারবিল্ট, রাইস, কার্নেগি মেলন ও জর্জিয়া টেকের মতো একাধিক শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে হার্ভার্ড, ইয়েল ও ইউসি বার্কলেসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেতে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করেছেন বলে জানান আকিব।   বর্তমানে তিনি রেডি কলেজ প্রেপ অ্যাকাডেমির (Ready College Prep) মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি, আবেদন প্রস্তুতি, এসএটি ও এসিটি পরীক্ষা, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ এবং একাডেমিক পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন, কখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করা উচিত, অভিভাবকেরা কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন এবং কীভাবে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা যায়।   নিচে সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরা হলো।   প্রশ্ন ১: প্রথমেই আপনার পরিচয় এবং রেডি কলেজ প্রেপ অ্যাকাডেমি সম্পর্কে জানতে চাই। আকিব খন্দকার: আসসালামু আলাইকুম। আমি আকিব খন্দকার। আমি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক সম্পন্ন করেছি এবং সম্প্রতি সেখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও শেষ করেছি। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময় স্ট্যানফোর্ড, প্রিন্সটন, কর্নেল, ভ্যান্ডারবিল্ট, রাইস, কার্নেগি মেলন এবং জর্জিয়া টেকের মতো একাধিক শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম।   পরবর্তী সময়ে আমি আরও অনেক শিক্ষার্থীকে তাদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেছি। তাদের মধ্যে হার্ভার্ড, ইয়েল, প্রিন্সটন ও ইউসি বার্কলেসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।   এই অভিজ্ঞতা থেকেই রেডি কলেজ প্রেপ শুরু করেছি। আমার উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশি কমিউনিটির শিক্ষার্থীরা যেন অনুমাননির্ভরভাবে নয়, বরং একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে পারে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দক্ষতা, আগ্রহ ও লক্ষ্য আলাদা। তাই সবার জন্য একই পরিকল্পনা অনুসরণ না করে শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী দিকনির্দেশনা দেওয়াকে আমি গুরুত্ব দিই।   প্রশ্ন ২: রেডি কলেজ প্রেপের মাধ্যমে আপনি কী কী সেবা দিয়ে থাকেন? আকিব খন্দকার: আমাদের প্রধানত চার ধরনের সেবা রয়েছে। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সামগ্রিক প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি, স্কুলের ক্লাস ও এক্সট্রা ক্যারিকুলাম কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, আবেদনের সময়সীমা অনুসরণ এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি এসব বিষয়ে সহযোগিতা করা হয়।   দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ ও আবেদনপত্র তৈরির দিকনির্দেশনা। এর মধ্যে মূল ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক অতিরিক্ত প্রবন্ধ এবং সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের তালিকা কীভাবে উপস্থাপন করতে হবে, তা অন্তর্ভুক্ত।   তৃতীয়ত, এসএটি ও এসিটি পরীক্ষার প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীর অনুশীলনী পরীক্ষার ফলাফল এবং দুর্বলতার জায়গাগুলো বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতির পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।   চতুর্থত, গণিত, বিজ্ঞান, লেখালেখি, ইতিহাস এবং এপি (AP) বিষয়সহ স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত পাঠদানের সুযোগ রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী এই সহায়তা দেওয়া হয়।   পরিবার চাইলে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে পারে, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরামর্শও নিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই শিক্ষার্থীর লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ রয়েছে।   প্রশ্ন ৩: এই সেবা কি শুধু হার্ভার্ড বা স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য? আকিব খন্দকার: না, একেবারেই নয়। আমি ১১ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে হার্ভার্ড, ইয়েল, প্রিন্সটন ও পেনের মতো আইভি লিগের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেতে সহায়তা করেছি। তবে আমার কাজ শুধু এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।   আমি ইউসিএলএ, জর্জিয়া টেক, ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া এবং ওহাইও স্টেটের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিতেও শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছি।   আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থীর জন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়টি উপযুক্ত। শুধু বিখ্যাত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। শিক্ষার্থী যেখানে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারবে, নিজের দক্ষতা বিকশিত করতে পারবে এবং ভবিষ্যতের পেশাগত জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে, সেই বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।   প্রশ্ন ৪: কোনো শিক্ষার্থীর সব বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড না থাকলে কিংবা এসএটি স্কোর প্রত্যাশামতো না হলে কি আপনি তাকে সহায়তা করতে পারবেন? আকিব খন্দকার: অবশ্যই। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শুরুটা এক রকম হয় না। কারও গণিত বা বিজ্ঞানে অতিরিক্ত সহায়তা দরকার হতে পারে, কারও এসএটি স্কোর বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে, আবার কেউ নিজের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা আবেদনপত্রের প্রবন্ধে কীভাবে তুলে ধরবে, তা বুঝতে পারে না।   আমি প্রথমে শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থা বোঝার চেষ্টা করি। এরপর তার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।   একজন শিক্ষার্থীর উদাহরণ দিতে পারি, যার এসএটি স্কোর তিন মাসের মধ্যে ১১৫০ থেকে ১৪২০ তে উন্নীত হয়েছিল। তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ফলাফল আলাদা হতে পারে। কারও কতটা উন্নতি হবে, তা তার প্রাথমিক দক্ষতা, অনুশীলন, সময় এবং ধারাবাহিকতার ওপর নির্ভর করে।   আমার বিশ্বাস, শিক্ষার্থী কোথা থেকে শুরু করছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তার জন্য সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করা এবং নিয়মিত সেই পরিকল্পনা অনুসরণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   প্রশ্ন ৫: কোনো পরিবার আপনার সঙ্গে কাজ শুরু করলে পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে এগোয়? আকিব খন্দকার: সাধারণত পাঁচটি ধাপে আমরা কাজ করি।   প্রথম ধাপে ১৫ মিনিটের একটি বিনা মূল্যের প্রাথমিক আলোচনা হয়। সেখানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীর লক্ষ্য, আগ্রহ এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।   দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষার্থীর প্রকৃত দক্ষতা বোঝার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অনুশীলনী পরীক্ষার ফলাফল, লেখার নমুনা কিংবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য মূল্যায়ন করা হয়।   তৃতীয় ধাপে নির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং সাপ্তাহিক সময়সূচিসহ একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। চতুর্থ ধাপে নিয়মিত সেশন অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম ধাপে প্রতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়।   এভাবে অভিভাবকেরা জানতে পারেন, তাদের সন্তান কোন পর্যায়ে রয়েছে, কী ধরনের উন্নতি হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত।   প্রশ্ন ৬: অভিভাবকদের কখন থেকে সন্তানের কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিয়ে ভাবা উচিত? আকিব খন্দকার: অনেক অভিভাবক যতটা দেরিতে শুরু করেন, বাস্তবে তার চেয়ে আগে প্রস্তুতি শুরু করা ভালো। নবম ও দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা কোন বিষয় পড়বে, কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে এবং নিজেদের আগ্রহ কীভাবে বিকশিত করবে এসব সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   একাদশ শ্রেণি সাধারণত প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ পর্যায়ে এসএটি বা অ্যাক্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি এবং শিক্ষার্থীর সামগ্রিক আবেদনপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেওয়া যায়।   দ্বাদশ শ্রেণির আগের গ্রীষ্মকাল ব্যক্তিগত প্রবন্ধ তৈরির জন্য উপকারী হতে পারে। কারণ স্কুল শুরু হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব বেড়ে যায়।   তবে কেউ যদি ইতিমধ্যে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে, তার জন্যও সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। শিক্ষার্থীর বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব। এমনকি যারা অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থানান্তরের কথা ভাবছে, তাদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করা যায়।   প্রশ্ন ৭: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো অভিভাবকেরা প্রায়ই উপেক্ষা করেন? আকিব খন্দকার: অনেক অভিভাবক মূলত জিপিএ এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর মনোযোগ দেন। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক আবেদনকারীরই ভালো ফলাফল থাকে। ফলে শিক্ষার্থীর আগ্রহ, উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত গল্পও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   একজন শিক্ষার্থী কী নিয়ে আগ্রহী, সে কী ধরনের কাজ করেছে, কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে এবং তার অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখেছে এসব বিষয় তার আবেদনপত্রকে আরও ব্যক্তিগত ও অর্থবহ করে তুলতে পারে।   আমি শিক্ষার্থীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ চিহ্নিত করতে এবং সেগুলো নিজেদের ভাষায় তুলে ধরতে সহায়তা করি। আমি শিক্ষার্থীদের হয়ে প্রবন্ধ লিখে দিই না। বরং বিষয় নির্বাচন, ভাবনা গুছিয়ে নেওয়া, লেখার কাঠামো তৈরি এবং সম্পাদনার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব বক্তব্য স্পষ্ট করতে সাহায্য করি।   শিক্ষার্থীর নিজের কণ্ঠস্বর ও অভিজ্ঞতা অক্ষুণ্ন রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।   প্রশ্ন ৮: আপনি কি যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন অঙ্গরাজ্যের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করেন? আকিব খন্দকার: আমার অধিকাংশ সেশন অনলাইনে জুম বা গুগল মিটের মাধ্যমে হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পরিবারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।   এ ছাড়া বাংলাদেশে থাকা এমন শিক্ষার্থীদেরও সহায়তা করি, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া, পরীক্ষার ধরন, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ এবং আর্থিক সহায়তার নিয়ম সম্পর্কে তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।   আমার সেশনের সময়সূচি সাধারণত সপ্তাহের কর্মদিবসে বিকেল ও সন্ধ্যায় এবং সপ্তাহান্তে সুবিধা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।   প্রশ্ন ৯: পরামর্শ নেওয়ার জন্য অভিভাবক যোগাযোগ করবেন, নাকি শিক্ষার্থী নিজেই যোগাযোগ করতে পারবে? আকিব খন্দকার: দুজনের যেকোনো একজন যোগাযোগ করতে পারেন। অনেক সময় অভিভাবকেরা প্রথমে যোগাযোগ করেন, কারণ সন্তানের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের কিছু প্রশ্ন থাকে। আবার উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী কিংবা কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।   প্রাথমিক আলোচনায় সম্ভব হলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী দুজনেরই অংশগ্রহণ করা ভালো। এতে অভিভাবকেরা পরিকল্পনা সম্পর্কে বুঝতে পারেন, পাশাপাশি শিক্ষার্থীও নিজের লক্ষ্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পায়।   আমি চাই, শিক্ষার্থী যেন নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে। কারণ শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা, প্রস্তুতি এবং আবেদন প্রক্রিয়ার মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীকেই নিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।   প্রশ্ন ১০: আগ্রহী অভিভাবকেরা কীভাবে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন? আকিব খন্দকার: প্রথম ধাপ হলো একটি বিনা মূল্যের ১৫ মিনিটের আলোচনা। অভিভাবক অথবা শিক্ষার্থী যোগাযোগ করে নিজেদের লক্ষ্য, বর্তমান অবস্থা এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নিয়ে কথা বলতে পারেন। এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর প্রয়োজন বোঝা এবং আমাদের সেবা তার জন্য উপযুক্ত কি না, তা নির্ধারণ করা।   আমার ওয়েবসাইট হলো readycollegeprep.com। এ ছাড়া ফোন বা খুদে বার্তার মাধ্যমে (404) 990-9914 নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।   প্রতিবছর সীমিতসংখ্যক পরিবারের সঙ্গে কাজ করি, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ দেওয়া যায়। যেসব অভিভাবক সন্তানের কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিয়ে ভাবছেন, তারা আগ্রহী হলে প্রাথমিক আলোচনার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।   অভিভাবকদের জন্য শেষ কথা - আকিব খন্দকারের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর আগ্রহ, অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কোনো পরামর্শদাতা বা প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা বৃত্তি নিশ্চিত করতে পারে না। প্রতিটি শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সুযোগও ভিন্ন হয়।   বাংলাদেশি কমিউনিটির যেসব অভিভাবক সন্তানের উচ্চশিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা করছেন, তারা অভিজ্ঞ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরামর্শদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তি নীতিমালা, এসএটি বা এসিটি সংক্রান্ত নিয়ম এবং আর্থিক সহায়তার শর্ত যাচাই করা উচিত।   রেডি কলেজ প্রেপ অ্যাকাডেমি সম্পর্কে জানতে: ওয়েবসাইট—readycollegeprep.com; ফোন বা খুদে বার্তা—(404) 990-9914। প্রাথমিক ১৫ মিনিটের আলোচনা বিনা মূল্যে দেওয়া হয় বলে আকিব জানিয়েছেন। অন্যান্য সেবার ফি ও শর্ত সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নেওয়া যাবে।   সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং সময়মতো দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য তাই শুধু স্বপ্ন দেখা নয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাওয়াও জরুরি।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের মেয়ে শান্তা যাদব
সিলেটের চা শ্রমিকের মেয়ে শান্তা এখন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী, পড়ছেন স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের মেয়ে শান্তা যাদব যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেছেন। তিনি ‘মাস্টার অব মেডিকেল সায়েন্সেস ইন গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন গত ২ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের সাবেক এই শিক্ষার্থীর হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরুর তথ্য জানিয়েছে।  শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রিনা যাদব লংলা চা বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। সীমিত আয় ও শিক্ষার সুযোগের মধ্যে বেড়ে ওঠা শান্তা স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে এসএসসি এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন বলে জাগোনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    পরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন শান্তা। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে পড়েছেন। চা বাগানে বেড়ে ওঠার সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও সুযোগ বাড়ানোর কাজে আগ্রহী করেছে।  জাগোনিউজ২৪ গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, শান্তা উচ্চশিক্ষার জন্য ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। নিজের লক্ষ্য ও গবেষণার আগ্রহ বিবেচনায় তিনি হার্ভার্ডকে বেছে নেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর বৃত্তির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকার সমপরিমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। জাগোনিউজ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এ দায়িত্বের মাধ্যমে চা বাগানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।  হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিবরণ অনুযায়ী, গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি প্রোগ্রামে সীমিত সম্পদের পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য গবেষণা, কর্মসূচি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা শেখানো হয়। এর একটি প্রধান অংশ হলো শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে মাঠপর্যায়ে গবেষণা এবং সেই গবেষণার ভিত্তিতে স্নাতকোত্তর অভিসন্দর্ভ তৈরি করা।  শান্তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে নিজের চা বাগানের মানুষের জন্য কাজ করা। জাগোনিউজ২৪-কে তাঁর বাবা ও মা জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি বিশেষ করে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান। হার্ভার্ডে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাজে লাগানোই তাঁর লক্ষ্য।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নতুন ভিসা নির্দেশনা, ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভিসা-সংক্রান্ত নির্দেশনা সামনে এসেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   এই নির্দেশনা মূলত তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ভিসা, ভ্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে না পারলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যোগদান বা একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাননি, তাদের জন্য সময়সীমাটি গুরুত্বপূর্ণ।   হার্ভার্ডের এই নির্দেশনা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ও প্রবেশ-সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা এবং নিজেদের ভিসার শর্ত দুটিই ভালোভাবে অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে।   যেসব শিক্ষার্থীর ইতোমধ্যে বৈধ ভিসা রয়েছে, তাদেরও ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   এদিকে, হার্ভার্ডে পড়াশোনার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তাদের জন্য সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছানো শুধু ভ্রমণের বিষয় নয়—ক্লাস শুরু, আবাসন, ওরিয়েন্টেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গেও এটি সরাসরি যুক্ত।   তাই নতুন শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা ও ভ্রমণ নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   অর্থাৎ, হার্ভার্ডে নতুন শিক্ষাবর্ষে যোগ দিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভিসা ও ভ্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের উদ্যোগে পরিচালিত অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদন চলছে। ছবি: সংগৃহীত
আইইএলটিএস ছাড়াই হার্ভার্ডের লিডারশিপ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় আজ

বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল-এর শিক্ষকদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ আবেদন গ্রহণ চলছে। সম্পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত আট সপ্তাহের এই অনলাইন নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা অংশ নিতে পারবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষার স্কোর বাধ্যতামূলক নয়।   প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকদের উদ্যোগে চালু হয়। এর লক্ষ্য হলো সামাজিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তাদের প্রস্তুত করা।   প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং মোট আট সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত হবে। এতে তিনটি মডিউলের মাধ্যমে নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বাস্তব দক্ষতা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগে এই কর্মসূচির নাম ছিল ‘ক্রসরোডস ইমার্জিং লিডারস প্রোগ্রাম’।   বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী সামাজিক বা আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত কিংবা সম্প্রতি এসব ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, এমন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া আবেদনকারীকে পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী হতে হবে।   প্রোগ্রামে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাসে অংশ নেওয়া, বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ থাকবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।   আগ্রহীদের আগামী ১০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এআই নির্মিত
আইইএলটিএস ছাড়াই হার্ভার্ডের অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদনের দারুণ সুযোগ

বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের শিক্ষকদের উদ্যোগে পরিচালিত সম্পূর্ণ অর্থায়িত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’-এর আবেদন গ্রহণ আবারো শুরু হয়েছে। নেতৃত্ব দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরির এই অনন্য সুযোগটি লুফে নিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কোনো আইইএলটিএস স্কোরের প্রয়োজন হবে না। মূলত ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের জন্য ডিজাইন করা ৮ সপ্তাহের এই অনলাইন প্রোগ্রামে হার্ভার্ডসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরাসরি ক্লাস নিয়ে থাকেন।   ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের শিক্ষকদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি পূর্বে ‘ক্রসরোডস ইমার্জিং লিডারস’ নামে পরিচিত ছিল, যা বর্তমানে ‘দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বা স্নাতক সম্পন্ন হতে হবে এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ইংরেজি জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক।   বিশেষ করে, পরিবারের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন, তারা এই প্রোগ্রামে আবেদনের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন।   নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা-নির্মাণ কর্মশালায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান, নিজস্ব আইডিয়া বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং বিশ্বজুড়ে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মতো আকর্ষণীয় সুবিধাও থাকছে এখানে।   তরুণদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানে প্রস্তুত করতে এই প্রোগ্রামটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০