যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে উচ্চগতির গাড়ি ধাওয়া শেষে সংঘর্ষে এক গর্ভবতী কিশোরী ও তার অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ৩৩ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক তরসেম সিংকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডাব্লিউডিটিএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে পুলিশের সঙ্গে উচ্চগতির ধাওয়ার এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সিং। ওই দুর্ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী গর্ভবতী কিশোরী অ্যাশলি হোমস এবং তার অনাগত সন্তান নিহত হন। প্রসিকিউটরদের মতে, দুর্ঘটনার সময় সিং ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
২৩ মার্চ ডার্ক কাউন্টির একটি গ্র্যান্ড জুরি তরসেম সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্যে রয়েছে অবহেলা ও বেপরোয়া আচরণের ফলে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড। মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে, সিংয়ের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করা হয়েছে। তার জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার।
তার বিরুদ্ধে দুটি করে ফৌজদারি অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড এবং গুরুতর যানবাহনজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে যানবাহন দিয়ে হামলা এবং পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ রয়েছে।
ডার্ক কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানায়, ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এক ডেপুটি সিংকে রেঞ্জ রোভার ভেলার গাড়িতে ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে চালাতে দেখেন। তাকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও তিনি থামেননি, বরং গতি বাড়ান। এতে প্রায় পাঁচ মাইলব্যাপী পুলিশ ধাওয়া শুরু হয়, যা শেষে ওহাইও স্টেট রুট ৪৭-এ একটি জিপ চেরোকি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে শেষ হয়।
সংঘর্ষে সিডনি শহরের বাসিন্দা অ্যাশলি হোমস ঘটনাস্থলেই গাড়ি থেকে ছিটকে পড়েন এবং পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার সঙ্গে থাকা গাড়ির চালক আহত হলেও সচেতন ছিলেন।
পরে সিংকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কেয়ারফ্লাইটের মাধ্যমে তাকে মিয়ামি ভ্যালি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডার্ক কাউন্টি আদালতে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন সিং, যেখানে একজন দোভাষীর সহায়তা নেওয়া হয়। বিচারক ট্রাভিস ফ্লিহম্যান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। বিচারক যখন জানতে চান তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কিনা, তখন সিং “না” বলে জবাব দেন।
অভিযোগ গঠনের পর আইসিই জানায়, সিংয়ের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে একটি আশ্রয় সংক্রান্ত মামলার সঙ্গেও যুক্ত, ফলে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
নিজেদের জন্মভূমির হাজারো হৃদরোগীর জীবন বাঁচাতে ২৬ লাখ ডলার মূল্যের আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দুই চিকিৎসক। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে কর্মরত এই চিকিৎসক দম্পতি তাদের অলাভজনক সংস্থা Heart Attack Ethiopia-এর মাধ্যমে ইথিওপিয়ায় জীবনরক্ষাকারী হৃদরোগ চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাচ্ছেন। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পিডমন্ট হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. টেসফায়ে টেলিলা এবং মোরহাউস স্কুল অব মেডিসিনের শিক্ষক ডা. অবসিনেট মেরিড। দুজনই ইথিওপিয়ায় জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য, নিজ দেশের মানুষকে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়া। তাদের এই মিশনে প্রায় ২৬ লাখ ডলার মূল্যের কার্ডিয়াক ক্যাথেটার, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ইথিওপিয়ায় নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক দম্পতির প্রতিষ্ঠিত সংস্থা Heart Attack Ethiopia জানিয়েছে, এটি তাদের পঞ্চম মানবিক চিকিৎসা মিশন। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এতে অংশ নিচ্ছেন। তারা ইথিওপিয়ায় গিয়ে প্রায় ২০০ জন রোগীর হৃদরোগের জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা দেবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশটি নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। ডা. টেসফায়ে টেলিলা জানান, ইথিওপিয়ায় পর্যাপ্ত হৃদরোগ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার এক নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাকে এই উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে চিকিৎসা সহজলভ্য, ইথিওপিয়ায় এখনো তা অনেক মানুষের নাগালের বাইরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিওপিয়ায় এটি কোনো যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত সংকট নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, কার্ডিয়াক সার্জন এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। ফলে হাজারো রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকেন এবং অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ হারান। চিকিৎসক দম্পতি আশা প্রকাশ করেছেন, এই মানবিক উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিকভাবে শত শত রোগীর জীবন বাঁচাতেই নয়, বরং ভবিষ্যতে ইথিওপিয়ার হৃদরোগ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি-স্যান্টিস অঙ্গরাজ্যের নতুন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR), মুসলিম ব্রাদারহুড এবং অ্যান্টিফাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে ৯০টিরও বেশি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ও বিভিন্ন মাদক কার্টেলকে ফ্লোরিডার আইনের আওতায় তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি মাসে কার্যকর হওয়া ফ্লোরিডার নতুন আইন এইচবি-১৪৭১ রাজ্য সরকারকে প্রথমবারের মতো দেশীয় ও বিদেশি সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার ক্ষমতা দিয়েছে। এ আইনের আওতায় ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল’ এনফোর্সমেন্টের সুপারিশের ভিত্তিতে গভর্নর ও রাজ্যের ক্যাবিনেট যৌথভাবে কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। ডি-স্যান্টিস বলেন, নতুন আইনটি ফ্লোরিডাকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আরও কার্যকর আইনি ভিত্তি দিয়েছে। তার ভাষায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবিধানিক অধিকারও সংরক্ষণ করা হবে। গভর্নরের প্রস্তাবিত তালিকায় থাকা CAIR যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্যবিরোধী আইনি সহায়তা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। অন্যদিকে মুসলিম ব্রাদারহুড মিসরে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ইসলামপন্থী আন্দোলন, যার বিভিন্ন দেশে অনুসারী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠন রয়েছে। এছাড়া বামপন্থী বিকেন্দ্রীভূত আন্দোলন অ্যান্টিফাকেও তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ফ্লোরিডার গভর্নরের এই ঘোষণা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। নাগরিক অধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, CAIR বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় নেই। তাদের মতে, কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকা জরুরি। অন্যদিকে ডি-স্যান্টিস প্রশাসন বলছে, নতুন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার আগে ফ্লোরিডা ক্যাবিনেটের অনুমোদনসহ আইনে নির্ধারিত অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোরিডার এই উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম অধিকার সংগঠন CAIR-কে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রসহ উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চলে যে তীব্র গরম ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা অনুভূত হয়েছে, তা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া প্রায় অসম্ভব ছিল বলে নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাপপ্রবাহ আগের তুলনায় আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের তাপপ্রবাহে শুধু তাপমাত্রাই নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। এই দুইয়ের সমন্বয়ে মানুষের শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। গবেষণাটি আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণ তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং অতীতের জলবায়ু উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব না থাকলে এ ধরনের তাপ ও আর্দ্রতার সমন্বয়ে এত তীব্র পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম ছিল। এদিকে বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাফেরা এড়িয়ে চলা এবং তীব্র গরমের সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে। এতে জনস্বাস্থ্য, কৃষি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।