মঙ্গলবার, ২ জুন অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আইওয়া, নিউজার্সি থেকে নিউ মেক্সিকো পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই ভোট শুধু প্রার্থীদের মনোনয়ন নির্ধারণ করেনি; বরং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশেষ করে রিপাবলিকান রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব কতটা অটুট রয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটরা কোথায় নতুন ভোটার জোট গড়ে তুলতে পারছে, সে প্রশ্নগুলোর আংশিক উত্তর মিলেছে এই নির্বাচনী রাতে।
সবচেয়ে বেশি নজর ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রাইমারিতে। গভর্নর গেভিন নিউসমের দুই মেয়াদের সমাপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্যে নেতৃত্বের নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে অংশ নেন ৬১ জন প্রার্থী।
ভোট গণনায় সাবেক স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সেক্রেটারি জেভিয়ার বেসেরা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। রিপাবলিকান ভাষ্যকার স্টিভ হিলটন এবং ডেমোক্র্যাটিক বিলিয়নিয়ার ও পরিবেশকর্মী টম স্টেয়ার প্রায় সমান অবস্থানে থাকায় চূড়ান্ত ফল জানতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ‘টপ-টু’ প্রাইমারি পদ্ধতিতে দল নির্বিশেষে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ কারণে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল ভোট বিভক্ত হলে দুই রিপাবলিকান প্রার্থীই নভেম্বরের নির্বাচনে জায়গা করে নিতে পারেন। আপাতত সেই সম্ভাবনা দূর হয়েছে।
অন্যদিকে আইওয়ায় দেখা গেছে নির্বাচনী রাতের অন্যতম বড় চমক। রিপাবলিকান গভর্নর প্রাইমারিতে অধিকাংশ পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে কৃষক ও ব্যবসায়ী জ্যাক লান ট্রাম্প-সমর্থিত কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফিনস্ট্রাকে পরাজিত করেছেন।
নির্বাচনের আগে জ্যাক লানকে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। তবে ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, আইওয়ার রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশ প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা থেকে ভিন্ন বার্তা দিতে চেয়েছেন।
এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান রাজনীতিতে ট্রাম্পের সমর্থনকে বিজয়ের অন্যতম প্রধান নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হলেও আইওয়ার ফলাফল সেই ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
একই সঙ্গে ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ (এমএএইচএ) আন্দোলনের প্রভাবও দৃশ্যমান হয়েছে। স্বাস্থ্য ও খাদ্যনীতি-কেন্দ্রিক এই রাজনৈতিক ধারাটি রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইওয়ার সিনেট নির্বাচনও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্টের আসনে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পেয়েছেন প্যারালিম্পিয়ান ও আইনপ্রণেতা জশ তুরেক। রিপাবলিকানদের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কংগ্রেসওম্যান অ্যাশলি হিনসন।
নভেম্বরে এই লড়াই সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজার্সিতে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি ছিল ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর কংগ্রেসওম্যান বনি ওয়াটসন কোলম্যান অবসরের ঘোষণা দিলে আসনটি উন্মুক্ত হয়ে যায়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে মনোনয়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৩ জন প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন ডা. আদম হামাওয়ি।
মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হামাওয়ি সাত মাস বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কমব্যাট ট্রমা সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইরাক যুদ্ধ এবং হাইতির বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন তিনি।
২০০৪ সালে ইরাকে হেলিকপ্টার হামলায় আহত বর্তমান সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের জীবন রক্ষার ঘটনায় তিনি জাতীয় পরিচিতি লাভ করেন।
বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের সমর্থন তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করে। গাজায় চিকিৎসা মিশনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও তাকে মুসলিম, আরব এবং প্রগতিশীল ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলের মুখোমুখি হবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসনটির অতীত ভোটের ধারা বিবেচনায় হামাওয়ি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনি নিউজার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।
নিউজার্সির সপ্তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টেও গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। সেখানে সাবেক নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলট রেবেকা বেনেট ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। নভেম্বরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বর্তমান রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম কিন জুনিয়র।
তবে এই আসনের আলোচনায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি টম কিনের স্বাস্থ্যগত বিষয়ও উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনসমক্ষে তার সীমিত উপস্থিতি রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে এটিকে এখন নিউজার্সির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং ডিস্ট্রিক্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সিনেটর কোরি বুকার সহজেই নিজের প্রাইমারি জয় করে মূল নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
নিউ মেক্সিকোতে সাবেক হোম সেক্রেটারি ডেব হালান্ড ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর প্রাইমারিতে বিজয়ী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নেটিভ আমেরিকান ক্যাবিনেট সদস্য হিসেবে পরিচিত হালান্ড এখন গভর্নর পদে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
মন্টানায় রিপাবলিকান মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যারন ফ্লিন্ট। অন্যদিকে সাউথ ডাকোটায় বর্তমান গভর্নর ল্যারি রোডেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন। ফলে এই দুই অঙ্গরাজ্যেও নভেম্বরের নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে পুরো নির্বাচনী রাতের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতোই নিরঙ্কুশ রয়েছে কি না।
আইওয়ার ফলাফল অন্তত ইঙ্গিত দিচ্ছে, রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশ নতুন ধরনের নেতৃত্ব এবং নতুন রাজনৈতিক বার্তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরাও নতুন ভোটার জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর রাজনৈতিক ভারসাম্য এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের ওপর।
২ জুনের প্রাইমারি নির্বাচনকে তাই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, অনিশ্চিত এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা মার্সিডিজ-বেঞ্জের গাড়ি বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সিনেটের একটি কমিটিতে অগ্রসর হওয়া নতুন এক বিলে বলা হয়েছে, যেসব গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে চীনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ১৫ শতাংশের বেশি, তারা যুক্তরাষ্ট্রে সংযুক্ত যানবাহন বিক্রি করতে পারবে না। বর্তমান মালিকানা কাঠামোর কারণে মার্সিডিজ-বেঞ্জও এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারে। প্রস্তাবিত আইনটি গত সপ্তাহে সিনেট কমার্স কমিটিতে অনুমোদন পেয়েছে। বিলটির লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা প্রযুক্তি ও চীনা মালিকানার প্রভাব কমানো। আইনপ্রণেতাদের দাবি, আধুনিক কানেক্টেড গাড়িতে থাকা সফটওয়্যার ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য বিদেশে পৌঁছে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। বর্তমানে মার্সিডিজ-বেঞ্জে চীনের দুটি বিনিয়োগকারীর সম্মিলিত মালিকানা প্রায় ২০ শতাংশ, যা প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ সীমার বেশি। এ কারণে বিলটি বর্তমান রূপে আইনে পরিণত হলে কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি বিক্রিতে বাধার মুখে পড়তে পারে। তবে আইনটি এখনও চূড়ান্ত নয়। এটি কার্যকর হওয়ার আগে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে বিলটি নিয়ে সিনেটের ভেতরেও মতভেদ রয়েছে। সিনেট কমার্স কমিটির চেয়ারম্যান টেড ক্রুজ বলেছেন, বর্তমান ভাষায় বিলটি মার্সিডিজ-বেঞ্জের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে বিলটির অন্যতম প্রস্তাবক সিনেটর বার্নি মোরেনো বলেছেন, প্রয়োজনে মার্সিডিজ-বেঞ্জকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হতে পারে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়ার সুযোগও থাকতে পারে। মার্সিডিজ-বেঞ্জ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার উদ্যোগকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি বলেছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিসরের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ রয়েছে এবং নতুন আইন যেন এসব কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ছড়ানো মশার সংখ্যা কমাতে চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ৬ লাখ বিশেষভাবে প্রস্তুত করা পুরুষ মশা অবমুক্ত করা হচ্ছে। মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোল প্রথমবারের মতো এই জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যার লক্ষ্য রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই রোগবাহী মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা। প্রতিষ্ঠানটির ছাড়া পুরুষ মশাগুলো ওলবাকিয়া নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া বহন করে। এসব পুরুষ মশা মানুষের রক্ত খায় না এবং কামড়ায়ও না। তবে তারা যখন বন্য স্ত্রী মশার সঙ্গে প্রজনন করে, তখন স্ত্রী মশার পাড়া ডিম আর ফুটে না। ফলে ধীরে ধীরে রোগবাহী মশার সংখ্যা কমে আসে। বি সেফ মস্কিটো কন্ট্রোলের মালিক টড মন্টগোমারি বলেন, একবার প্রজননের পর আক্রান্ত স্ত্রী মশাটি কার্যত সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যা হয়ে যায়। সে পরে যত ডিমই দিক, সেগুলো থেকে আর নতুন মশা জন্মায় না। এই কারণে পদ্ধতিটি দীর্ঘমেয়াদে মশার সংখ্যা কমাতে কার্যকর বলে আশা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এশিয়ান টাইগার মশা, যা যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বিস্তার লাভ করা একটি আক্রমণাত্মক প্রজাতি এবং ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন ভাইরাস ছড়াতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজাতির সংখ্যা কমাতে পারলে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। এ ধরনের প্রযুক্তি নতুন নয়। ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে *ওলবাকিয়া*ভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ইতোমধ্যে সফল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এই পদ্ধতির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এটি প্রচলিত কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে আরও বড় পরিসরে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দীর্ঘদিন গোপন রাখা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশের পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নিজের স্মৃতিকথা লেখার সময় ঘোস্টরাইটার মার্ক জভোনিটজারের সঙ্গে হওয়া এসব কথোপকথনে বাইডেনকে একাধিকবার সম্ভাব্য শ্রেণিবদ্ধ (ক্লাসিফায়েড) তথ্য ও নথির প্রসঙ্গ তুলতে শোনা যায়। প্রকাশিত প্রায় ৭০ ঘণ্টার অডিওতে এক পর্যায়ে বাইডেনকে বলতে শোনা যায়, "এর কিছু হয়তো শ্রেণিবদ্ধ হতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।" আরেকটি অংশে তিনি বলেন, "পরের বিষয়টি শ্রেণিবদ্ধ।" তবে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় কোনো শ্রেণিবদ্ধ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেনি। এই রেকর্ডিংগুলো ২০২৪ সালে বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট হারের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তদন্তে বাইডেনের বাড়ি ও ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালের কিছু শ্রেণিবদ্ধ নথি পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। প্রতিবেদনে হার উল্লেখ করেছিলেন, বিচারক বা জুরি বাইডেনকে "সদুদ্দেশ্যসম্পন্ন কিন্তু দুর্বল স্মৃতিশক্তির একজন বয়স্ক ব্যক্তি" হিসেবে দেখতে পারেন, যা দণ্ডাদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে। অডিও প্রকাশের পথ তৈরি হয় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর। একটি ফেডারেল আপিল আদালত জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রেকর্ডিং প্রকাশে বাধা দেওয়ার বাইডেনের আবেদন খারিজ করে। পরে বাইডেনও এ বিষয়ে করা নিজের মামলা প্রত্যাহার করে নেন, ফলে রেকর্ডিং প্রকাশের আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেকর্ডিংয়ে বাইডেনকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, সিআইএ এবং হোয়াইট হাউসের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নোট নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। তবে বাইডেন আগেও দাবি করেছিলেন, তিনি তার ঘোস্টরাইটারের কাছে কোনো শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করেননি এবং কীভাবে কিছু নথি তার বাড়িতে চলে এসেছিল, সে বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না। নতুন করে প্রকাশিত এই অডিও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি গোপন নথি সংরক্ষণ, সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা এবং বাইডেনের স্মৃতিশক্তি নিয়ে বহুদিনের রাজনৈতিক বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।