নিউ জার্সিতে প্রবাসী বাঙালিদের রঙিন উৎসব, বর্ষবরণ ও ঈদ মেলা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা ‘প্রবাসী বর্ষবরণ ও ঈদ মেলা’। গত শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাটগার্স ইউনিভার্সিটির লিভিংস্টন স্টুডেন্ট সেন্টারে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ জার্সির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাঙালিরা একসঙ্গে উদযাপন করেন বাংলা নববর্ষ ও ঈদুল আজহার আনন্দ।
আয়োজকরা জানান, পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল আজহার আনন্দকে একসূত্রে গেঁথে প্রবাসী প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা ও সংযোগ বজায় রাখাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। দিনব্যাপী এই উৎসবে ছিল শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, দেশি খাবারের স্টল, ফ্যাশন শো এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল স্থানীয় শিশু-কিশোর ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পর্ব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে নির্মিত বিশেষ শিশু গীতিনাট্য ‘জুতা আবিষ্কার’ দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। ফারহানা আক্তার তুলির পরিচালনায় মঞ্চস্থ এই পর্বে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশুরা অভিনয় ও সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেয়। এতে অভিনয় করে ফারশীদ, জাহি, তাহান, তিহান, সাখাওয়াত, মালিহা, তাসবীর, ফাহিম, রামিন ও ওয়াফিক। সংগীত পরিবেশন করেন প্রিয়তা, জোয়া, নোভা, সারা, ইশহান ও রায়ান।
এরপর মঞ্চে পরিবেশিত হয় বিশেষ পর্ব ‘মহা জাদু জানে’। উর্মিন রহমান ও ফাহমিনা জব্বার উর্মির পরিচালনায় এতে অংশ নেন ঊর্মি, উর্মিন, সারিনা, আনুশে, নাশিতা, নাফিসা, ফাইজা ও ফারীন।
ফারহানা আক্তার তুলির পরিচালনায় কিশোর সংগীত ‘অচেনা বৈশাখ’ পরিবেশনায় বৈশাখী আবহ ফুটিয়ে তোলে প্রিয়তা, প্রিয়ম, শায়রা ও ফারশীদ।
ফাহমিনা জব্বারের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশনা ‘নৃত্যের তালে তালে’ পুরো প্রেক্ষাগৃহে উৎসবের আবহ তৈরি করে। মেয়েদের দলে অংশ নেয় আইজা, আয়েশা, জিবা, অনিমা, সুমেহরা, আসনা ও ফাইজা এবং ছেলেদের দলে অংশ নেয় রামিন, আযান, জুহায়ের ও তাজবীর।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল তারকা শিল্পী বিন্দুকণার মঞ্চে আগমনের আগে পরিবেশিত ‘ছায়াছন্দ: নায়িকা সংবাদ’ পর্ব। ফারহানা আক্তার তুলি ও ফাহমিনা জব্বারের যৌথ পরিচালনায় এই পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবাসের ১৪ জন নারী শিল্পী, যাদের মধ্যে ছিলেন হিমিকা, ঊর্মি, মানিজা, সাইকা, সোমা, রূপা, রুচি, রাখী, তুলি, সাজিয়া, নীরা, এনা, শাম্মী ও ফারাহ।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোক ও আধুনিক সংগীতশিল্পী বিন্দুকণা। তার পরিবেশনায় দর্শকরা দীর্ঘসময় ধরে উৎসবের আমেজ উপভোগ করেন। পরে উইনিং ব্যান্ডের চন্দন ও তার দল জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। গভীর রাত পর্যন্ত দর্শকরা এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সামিয়া চৌধুরী (তিথি) ও জাভেদ মাহমুদ (শিপলু)।
আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ জার্সির সভাপতি সৈয়দ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আশফাক জামান ও কালচারাল সেক্রেটারি আফরোজা শিরিন জানান, প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতেই প্রতি বছর এই আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের অর্থ জোগাড় করতে সমস্যায় পড়া ক্রেতাদের জন্য নতুন কর্মসূচি চালু করেছে জিলো হোম লোনস। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ক্রেতারা বাড়ির ক্রয়মূল্য অথবা মূল্যায়িত দামের মধ্যে যেটি কম, তার সর্বোচ্চ ৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত ডাউন পেমেন্ট সহায়তা পাবেন। বিশেষ বিষয় হলো, এই অর্থের জন্য কোনো সুদ দিতে হবে না, এমনকি দ্বিতীয় ঋণের জন্য মাসিক কিস্তিও পরিশোধ করতে হবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে টানা পাঁচ বছর বাড়িতে বসবাস এবং মূল মর্টগেজের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করলে সহায়তার পুরো অর্থ মওকুফ হয়ে যাবে। গত ২৮ অক্টোবর বুধবার জিলো হোম লোনস এ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসকারী যোগ্য ক্রেতারা এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। কর্মসূচিটির আওতায় প্রথমবার বাড়ি কিনতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে আবেদনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট আয়ের সর্বোচ্চ সীমাও রাখা হয়নি। ফলে আগে বাড়ির মালিক ছিলেন এমন ক্রেতারাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে এ সুবিধা নিতে পারবেন। জিলোর এ কর্মসূচি মূলত এফএইচএ মর্টগেজ ব্যবহার করে বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য। সাধারণত এফএইচএ লোনের ক্ষেত্রে বাড়ির ক্রয়মূল্যের ন্যূনতম ৩.৫ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হয়। নতুন কর্মসূচিতে জিলো এই অর্থ দ্বিতীয় ঋণ হিসেবে দেবে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো বাড়ির দাম ৩ লাখ ডলার হলে যোগ্য ক্রেতা সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত ডাউন পেমেন্ট সহায়তা পেতে পারেন। ক্রেতা চাইলে নিজের অর্থ দিয়ে অতিরিক্ত ৬.৫ শতাংশ যোগ করে মোট ডাউন পেমেন্ট ১০ শতাংশ পর্যন্ত করতে পারবেন। তবে এই সুবিধা সম্পূর্ণ শর্তহীন অনুদান নয়। দ্বিতীয় ঋণটি মওকুফ পেতে হলে ক্রেতাকে টানা পাঁচ বছর বাড়িটিতে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে বসবাস করতে হবে এবং মূল মর্টগেজের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে হবে। পাঁচ বছর পর নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে দ্বিতীয় ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ হবে। অন্যদিকে, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বাড়ি বিক্রি করলে, বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে অথবা মর্টগেজ রিফাইন্যান্স করলে দ্বিতীয় ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে হবে। তাই যারা অল্প সময়ের মধ্যে বাড়ি বিক্রি বা রিফাইন্যান্স করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এ শর্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর ৬৪০ থাকতে হবে। পাশাপাশি জিলো হোম লোনসের মাধ্যমেই মূল এফএইচএ মর্টগেজ নিতে হবে এবং প্রচলিত ঋণ যাচাইয়ের নিয়ম অনুযায়ী বাড়ির সম্পূর্ণ মাসিক কিস্তি পরিশোধের আর্থিক সক্ষমতা থাকতে হবে। বাড়িটি অবশ্যই আবেদনকারীর নিজের বসবাসের জন্য কিনতে হবে। কর্মসূচির আওতায় দ্বিতীয় ঋণে সুদ ও মাসিক কিস্তি না থাকলেও মূল মর্টগেজের ক্ষেত্রে প্রচলিত সুদের হার এবং মাসিক কিস্তি বহাল থাকবে। এ ছাড়া এফএইচএ মর্টগেজের জন্য প্রযোজ্য মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স, সম্পত্তির কর এবং বাড়ির ইন্স্যুরেন্সের খরচও ক্রেতাকে বহন করতে হবে। ডাউন পেমেন্ট সহায়তার অর্থ ক্লোজিং কস্ট বা বাড়ি কেনার অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যারিজোনা, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, ম্যাসাচুসেটস, নিউইয়র্ক, রোড আইল্যান্ড এবং ভার্জিনিয়ায় এ কর্মসূচি পাওয়া যাবে না। তবে জর্জিয়াসহ বাকি ৪৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে যোগ্য ক্রেতারা এ সুবিধা নিতে পারবেন। জিলোর মর্টগেজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মহাব্যবস্থাপক এরিক উইলসন বলেন, বাড়ি কিনতে আগ্রহী অনেক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে তারা বুঝতে পেরেছেন, মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের চেয়ে ডাউন পেমেন্টের অর্থ সংগ্রহ করাই অনেকের জন্য বড় বাধা। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে মর্টগেজ এবং ডাউন পেমেন্ট সহায়তা একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জিলোর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্টের অর্থ সংগ্রহ করতে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্রেতা নিজেদের সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করেন। প্রায় ৩০ শতাংশ পরিবার বা বন্ধুদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নেন। ২৫ শতাংশের বেশি ক্রেতা শেয়ার বা অন্যান্য বিনিয়োগ বিক্রি করেন এবং ২০ শতাংশের বেশি অবসরকালীন সঞ্চয় ব্যবহার করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও মর্টগেজের খরচের কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। জিলোর নতুন কর্মসূচি তাদের প্রাথমিক অর্থের চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে আবেদন করার আগে ক্রেডিট স্কোর, মূল মর্টগেজের সুদের হার, মাসিক কিস্তি, মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স এবং পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় প্রবীণদের কাছ থেকে ১০ লাখ ডলার প্রতারণা, জর্জিয়ায় নারী দোষী সাব্যস্ত
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাকের ধাক্কায় শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত, চালকের সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড
ক্যালিফোর্নিয়ায় হ্যালোইন সামগ্রীর দোকানে গু লি, পুলিশের তৎপরতায় ৬ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও নি হত ১
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যে নতুন করে বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজ নিয়ে ওবামার একটি রসিকতার জবাবে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা পাল্টা মন্তব্য করেছেন। একই সময়ে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা, এআইনির্ভর কনটেন্ট এবং ওবামার সঙ্গে চলমান বাক্বিতণ্ডার বিষয়টি তুলে ধরেছেন লেখক হলি ব্যাক্সটার। প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাছে নিয়মিত তাঁর পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ এবং এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও পৌঁছে দেওয়া হয়। এসব কনটেন্ট তৈরিতে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির পরিচালক বিল পুল্টের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। তবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এসব কনটেন্টের সরাসরি প্রভাব কতটা, তা স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। ট্রাম্প ও ওবামার সাম্প্রতিক বিরোধের সূত্রপাত ওহাইওর একটি নির্বাচনি সমাবেশে। সেখানে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস সংস্কার নিয়ে ব্যঙ্গ করেন ওবামা। অতিরিক্ত সোনালি সাজসজ্জার সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, হোয়াইট হাউসকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন সাদ্দাম হোসেন একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন। চিজকেক ফ্যাক্টরি যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত রেস্টুরেন্ট চেইন। ওবামার মন্তব্যটি মূলত হোয়াইট হাউসের নতুন সাজসজ্জার ধরনকে ব্যঙ্গ করে করা হয়েছিল। তবে ওবামার এই রসিকতার সমালোচনা করেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, চিজকেক ফ্যাক্টরির প্রসঙ্গ টেনে ওবামা সাধারণ মানুষের পছন্দের রেস্টুরেন্টকে ছোট করেছেন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, চিজকেক ফ্যাক্টরিতে গেলে তাঁর পছন্দের খাবারের একটি হলো ফ্রেঞ্চ ডিপ চিজবার্গার। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সমর্থকও ওবামার বক্তব্যকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে তাঁর নেতিবাচক মনোভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এরপর মিসিসিপির একটি নির্বাচনি সমাবেশে ওবামার বক্তব্যের জবাব দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসের ভবন, স্তম্ভ ও পাথরের কাঠামো সুন্দর এবং পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। নিজের সংস্কারকাজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ওবামা পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বোঝেন না। তবে হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা নিয়ে দুই নেতার এই মতবিরোধের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার আলোচনা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের বিশ্লেষণে মন্তব্য করা হয়েছে। পরে আরেক নির্বাচনি সমাবেশে চিজকেক ফ্যাক্টরি নিয়ে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ওবামা। তিনি জানান, দুই মেয়েকে বড় করার সময় প্রায়ই চিজকেক ফ্যাক্টরি এবং চাক ই চিজের মতো রেস্টুরেন্টে যেতেন। প্রায় এক দশক ধরে এসব রেস্টুরেন্ট তাঁর পারিবারিক জীবনের অংশ ছিল বলে মন্তব্য করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের রসিকতাটি রেস্টুরেন্টের খাবার কিংবা সেখানে যাওয়া সাধারণ মানুষকে নিয়ে ছিল না; বরং হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা নিয়ে ছিল। এদিকে ট্রাম্পের এআই কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় এমন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে বাস্তবে ঘটেনি এমন পরিস্থিতিতে দেখানো হয়েছে। এসবের মধ্যে বাঘের সঙ্গে নাচের মতো কল্পিত দৃশ্যও রয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিও রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বাস্তব ঘটনা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি দৃশ্যের মধ্যে পার্থক্য অনেক সময় সাধারণ দর্শকের কাছে স্পষ্ট নাও হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ ও ইপসোসের একটি জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৭ শতাংশ এআইকে সমাজের জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। একই জরিপে ৬৭ শতাংশ ট্রাম্পের এআই প্রযুক্তি পরিচালনাসংক্রান্ত নীতির প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। অন্যদিকে এপি-এনওআরসির জরিপে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেছেন, এআই প্রযুক্তি খুব দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। তবে এসব জরিপের ফল নির্দিষ্ট সময়ের জনমতের প্রতিফলন; তা দিয়ে সব মার্কিন নাগরিকের অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। প্রযুক্তিবিষয়ক এই উদ্বেগের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণায় ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। এআই ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠ, চেহারা কিংবা বক্তব্য বাস্তবের মতো করে তৈরি করা সম্ভব। ফলে রাজনীতিবিদদের নামে এমন ভিডিও ছড়ানো হতে পারে, যেখানে তাঁরা বাস্তবে বলেননি এমন কথাও শোনা যায়। এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার রাজনৈতিক প্রচারণায় স্বচ্ছতা এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। তবে সব এআইনির্ভর রাজনৈতিক কনটেন্টই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি হয়, এমন নয়। কিছু কনটেন্ট ব্যঙ্গ বা বিনোদনের উদ্দেশ্যেও প্রকাশ করা হয়। এদিকে নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের কারণে তেল খাতের আয় নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে সাধারণ মানুষের জ্বালানির খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে চাপ রয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনায় এই বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের বাণিজ্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ভোট হবে। প্রেসিডেন্ট নিজে এ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ওবামা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। উভয় পক্ষই অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনের জবাবদিহি ও অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের শেষ সময়ে ট্রাম্প ও ওবামার মধ্যে হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা এবং রেস্টুরেন্ট নিয়ে শুরু হওয়া বাক্বিতণ্ডা এখন বড় রাজনৈতিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের এআইনির্ভর রাজনৈতিক কনটেন্ট এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে জনমতের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব বিতর্ক আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলেই কংগ্রেসে দুই দলের প্রতিনিধিত্বের নতুন চিত্র স্পষ্ট হবে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, হলি ব্যাক্সটারের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, রয়টার্স,দ্য গার্ডিয়ান
নিউইয়র্কের বদলে টেক্সাসে বসবাস কতটা সুবিধাজনক? বাংলাদেশিদের জন্য বিস্তারিত তথ্য
হোয়াইট হাউসে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর পোশাকে শিশু, ট্রাম্পের হ্যালোইন অনুষ্ঠানে আলোচনা
নিউইয়র্কে রবিবার মিটার পার্কিং ফ্রি, জরিমানা এড়াতে জানুন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা লেবেল পাওয়ার খবর সামনে আসার পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পুলিশ বাহিনীর পোশাক তৈরির সঙ্গে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়ার বিষয়টি দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। সিএসবিনিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক পুলিশের পোশাকে বাংলাদেশের নাম থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তবে এনওয়াইপিডির ঠিক কোন ধরনের পোশাকে বাংলাদেশের তৈরি লেবেল পাওয়া গেছে এবং কতসংখ্যক পোশাক বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক সিটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে এনওয়াইপিডি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ তদন্ত এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়োজিত থাকেন এই বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের ব্যবহৃত পোশাক ও সরঞ্জাম নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সংগ্রহ করা হয়। ফলে পুলিশ বাহিনীর পোশাকে কোনো দেশের উৎপাদন লেবেল পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট দেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিতির একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। দেশটির বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক সংগ্রহ করে থাকে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, জ্যাকেট, টি-শার্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক। তবে সাধারণ বাণিজ্যিক পোশাক রপ্তানি এবং কোনো সরকারি সংস্থার ইউনিফর্ম সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি সংস্থার পোশাক সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চুক্তি, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং পণ্যের মানসংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে। নিউইয়র্ক পুলিশের পোশাকে বাংলাদেশে তৈরি লেবেল থাকার অর্থ এই নয় যে বাহিনীটির সব ইউনিফর্ম বাংলাদেশে তৈরি হয় কিংবা এনওয়াইপিডি সরাসরি বাংলাদেশের কোনো কারখানার সঙ্গে চুক্তি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নিউইয়র্ক সিটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস করেন। তাঁদের অনেকে ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহনসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত। একই সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্যরাও নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কাজ করছেন। এমন একটি শহরের পুলিশ সদস্যদের পোশাকে বাংলাদেশের নাম দেখা প্রবাসীদের জন্য আবেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি মূলত রপ্তানিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর গড়ে উঠেছে। দেশের পোশাক কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করে। পণ্যের গায়ে থাকা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল সাধারণত পোশাকটির উৎপাদনস্থল নির্দেশ করে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা জানতে পারেন, পণ্যটি কোন দেশে তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তির পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এসব তথ্য পাওয়া গেলে বাংলাদেশি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে এনওয়াইপিডির সরবরাহ ব্যবস্থার সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাজারে সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি বিশেষায়িত কর্মক্ষেত্রের পোশাকের উপস্থিতি দেশের উৎপাদন সক্ষমতার আরেকটি দিক তুলে ধরে। নিউইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল পাওয়ার খবর তাই শুধু প্রবাসীদের আবেগের বিষয় নয়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক পরিচিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
মিশিগানের হ্যামট্রামেকে মেয়র নির্বাচিত বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ, আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে সঞ্চয়ের হার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে