আমেরিকায় তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী, এসি চালানোর খরচে দিশেহারা সাধারণ মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমেরিকাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ হু হু করে বাড়ছে। এর মধ্যেই চলতি গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার তথা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর খরচ আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা। মে মাসে দেশটিতে বাৎসরিক মূল্যস্ফীতির হার গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আমেরিকায় বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়ায় এবার এসি ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বাড়বে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের দামও, যা মধ্য ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে আমেরিকায় গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দিন দিন বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই এখন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করছেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শীতকালে তীব্র ঠাণ্ডায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়ে মার্কিন রাজ্যগুলোতে আইনি সুরক্ষা থাকলেও, গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অভাব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৯টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াতে গ্রীষ্মকালে লাইন কাটার বিরুদ্ধে আংশিক আইনি সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই দুর্বল নিয়মের কারণে তীব্র গরমে এসি ছাড়া বাস করা অনেকের জন্য জীবন-মৃত্যুর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই নিয়ম অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত।
চলমান এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মার্কিন তরুণ তাদের স্বাধীনভাবে থাকার স্বপ্ন বাদ দিয়ে খরচ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আবার বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে নাগরিকদের বেতন বা মজুরি এখন আর খরচের সাথে কুলাতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষ এখন দুপুরের খাবার কেনার টাকা বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন, নাকি তীব্র গরমে এসি ছাড়াই দিন কাটাবেন—এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জানালার পর্দা ব্যবহার করা, ঘরে না থাকলে থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা, এসির এয়ার ভেন্টগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দরজা-জানালার ফাঁকফোকর ভালোভাবে বন্ধ রাখা। তবে এই সাধারণ উপায়েও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সাধারণ নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি যাচাইহীন গল্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, এক ব্যক্তি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে জানতে পারেন, তিনি যাদের বিয়ে করেছেন তারা সবাই ট্রান্সজেন্ডার। তবে এ ঘটনার পক্ষে নির্ভরযোগ্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। যাচাইহীন এই দাবিকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কে উভয় পক্ষের ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আগেই খোলামেলা আলোচনা করা উচিত। অন্যদিকে, অনেকে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অবমাননাকর ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অনেক গল্পই অতিরঞ্জিত, বিভ্রান্তিকর বা যাচাই ছাড়াই ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এমন দাবিকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া অনেকেই বলছেন, এই ঘটনার মূল প্রশ্ন ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় নয়; বরং বিয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে প্রবেশের আগে উভয় পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে খোলামেলা ও সৎ যোগাযোগ হওয়া। এখন পর্যন্ত কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আদালত বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম এই ভাইরাল ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি। ফলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি অযাচাইকৃত দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
ভুয়া প্রতিবন্ধিতা সনদে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ডলারের গৃহঋণ, ডিএইচএস কর্মীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
চুরি করা গাড়ি থামানোয়, পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা! অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
নিউইয়র্কে কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকের বছরে ৯৮ হাজার ডলার আয়, কিন্তু বাসাভাড়াতেই যাবে ৩৮%
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ৩০টিরও বেশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সাইবার হামলার জন্য ইরানকে নয়, স্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই মন্তব্য দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর চলমান তদন্ত ও প্রাথমিক মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, মিনেসোটার পানি ব্যবস্থায় হামলার জন্য ইরানকে দোষারোপ করা হলেও তিনি তা বিশ্বাস করেন না। তার দাবি, অঙ্গরাজ্যটির প্রশাসনিক অদক্ষতাই এ ঘটনার জন্য দায়ী। এ সময় তিনি মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজেরও সমালোচনা করেন। তবে নিজের দাবির পক্ষে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এবং ফেডারেল তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার উৎস নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। এর আগে প্রকাশিত একাধিক গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতায় বলা হয়েছিল, হামলার ধরন ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিল রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেনি। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, মিনেসোটাসহ অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যে পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একই ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য পানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটলেও পানির নিরাপত্তা বা মানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, প্রেসিডেন্ট হামলার সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং এটি শুধু মিনেসোটায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ), ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) এবং জ্বালানি বিভাগ যৌথভাবে সতর্ক করে জানিয়েছিল যে, ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের পানি ও জ্বালানি অবকাঠামোর শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। তবে মিনেসোটার ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়ীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
‘মেড ইন ইউএসএ’ মিথ্যা দাবিতে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করছে অ্যামাজন-ওয়ালমার্ট! :গবেষণা
শিক্ষার্থী ভিসায় স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নেবেন, নাকি পরে আনবেন? কী বলছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম
জনস হপকিন্সের গবেষককে বিমানবন্দরে আটক করল আইস, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ
নিউইয়র্ক সিটিতে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের চাহিদা বাড়লেও সরকারি আবাসন লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্ক হাউজিং কনফারেন্সের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে একটি নতুন আবাসন প্রকল্পে ভাড়াটিয়া নির্বাচন ও বসবাস শুরু করতে প্রায় দুই বছর বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এই জটিলতা কমাতে আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। গবেষণায় ব্রঙ্কসের একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ১৮০টি অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়াটিয়া নির্বাচন ও স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২৭ মাস সময় লাগে। ফলে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বহু ইউনিট দীর্ঘ সময় খালি ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রকল্পে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে ৫ হাজারের বেশি আবেদন যাচাইয়ের জন্য বাছাই করা হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩৫টি পরিবার অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে সক্ষম হয়। অনেক আবেদনকারী নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি, কেউ আবার আয়ের সীমা বা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন। একই সঙ্গে একাধিক ধাপে নথি যাচাই, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়াও বিলম্বের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই দীর্ঘ অপেক্ষার অভিজ্ঞতা শুধু গবেষণার পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি আবাসন লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে। আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রুকলিনের গ্রিনপয়েন্ট এলাকায় সরকারি আবাসন লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া জশ আয়ালা বলেন, আবেদন করার পর ভবন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রথমবার যোগাযোগ পেতে তার প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস সময় লেগেছিল। তার ভাষায়, “এই পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক দীর্ঘ হতে পারে।” একই প্রতিবেদনে আরেক সফল আবেদনকারী অ্যালেক্স কার্পিও জানান, তিনি ২০২২ সালে আবেদন করেছিলেন এবং ২০২৩ সালে অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে সক্ষম হন। তার মতে, “এটি অনেকটাই ভাগ্যের বিষয়। কখন কর্তৃপক্ষ আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে, তা আগে থেকে জানার কোনো উপায় নেই।” তিনি বলেন, যোগাযোগ পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়, যা অনেক আবেদনকারীর জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি আবাসন লটারির বর্তমান ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে আবেদন যাচাইয়ের ধাপ কমানো, একই নথি বারবার জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস, অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা, আবেদনকারীদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং খালি থাকা অ্যাপার্টমেন্ট দ্রুত যোগ্য আবেদনকারীদের কাছে বরাদ্দ দেওয়া। এদিকে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। শহর কর্তৃপক্ষের ‘স্পিড’ উদ্যোগের আওতায় আবেদন, যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং নতুন আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় কমিয়ে দ্রুত খালি ইউনিটে বাসিন্দা স্থানান্তর নিশ্চিত করা। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি আবাসন লটারি এমন একটি অনলাইন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বাসিন্দারা সাশ্রয়ী মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট এবং সীমিত সংখ্যক বাড়ির মালিকানা কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারেন। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিলেও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সুযোগ পান তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক আবেদনকারী। নিউইয়র্কে আবাসন নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকে বলছেন, আবেদনকারীদের উচিত অনলাইন হিসাবের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, আয় ও পরিবারের তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা। এতে আবেদন যাচাইয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমতে পারে। তাদের মতে, নিউইয়র্কে নতুন সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের পাশাপাশি আবেদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত লিজ স্বাক্ষর পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করা গেলে হাজারো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য আবাসন পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেবিদেশি ক্রেতার আগ্রহে বড় ধাক্কা, বিনিয়োগ কমল ৩৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়া স্বত্তেও মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোয়, ট্রাম্প প্রশাসন এর বিরুদ্ধে মামলা