সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব ভোট দিয়ে প্রত্যাখ্যান করলেন নাগরিকরা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ১২:১৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটির ওপরে যেতে দেওয়া যাবে না—ডানপন্থী দলগুলোর এমন একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির নাগরিকরা। প্রাথমিক ফলাফলের বরাত দিয়ে রোববার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই তথ্য জানিয়েছে। দেশটির শীর্ষ কট্টর ডানপন্থী দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই কঠোর প্রস্তাবটি সামনে এনেছিল।

 

প্রাথমিক ভোট গণনা অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশজুড়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোটার এই ঐতিহাসিক গণভোটে অংশ নেন। সুইজারল্যান্ডের পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশি আসন থাকা পপুলিস্ট এই ডানপন্থী দলটি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসনবিরোধী মনোভাব উসকে আসছিল। বিশেষ করে প্রতিবেশী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা কর্মীদের ঢল ঠেকাতে তারা এই গণভোটের আয়োজন করে।

 

সমালোচকরা এই প্রস্তাবটিকে ‘সুইস ব্রেক্সিট’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কারণ এই আইন পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের গভীর অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং মুক্ত যাতায়াতের চুক্তিগুলো বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ত। যদিও সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের একটি নয়, তবে এটি চারপাশ থেকে অন্যান্য সদস্য দেশগুলো দিয়েই পরিবেষ্টিত।

 

কট্টরপন্থী দলটির দাবি ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে সুইজারল্যান্ডের আবাসন ব্যবস্থা, সামাজিক কর্মসূচি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ঐতিহ্যগত জীবনযাত্রার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার, পার্লামেন্ট এবং প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন ‘ইকোনমিসুইস’ শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। কারণ দেশটির চিকিৎসা, অর্থায়ন, ওষুধ এবং প্রযুক্তি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলো মূলত বিদেশী দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল।

 

সুইজারল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সরকারকে বাধ্যতামুলক ব্যবস্থা নিতে হতো। এমনকি জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালেই রাজনৈতিক আশ্রয়, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং রেসিডেন্সি পারমিট দেওয়া বন্ধ করতে হতো। তবে ভোটাররা সচেতনভাবে এই প্রস্তাবটি নাকচ করে দেওয়ায় সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামো আপাতত সুরক্ষিত রইল।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
শেষ মুহূর্তে দিল্লির বৈঠক বাতিল করল আওয়ামী লীগ, হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে জল্পনা I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
শেষ মুহূর্তে দিল্লির বৈঠক বাতিল করল আওয়ামী লীগ, হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে জল্পনা

নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্ধারিত বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। এতে প্রায় ২৩ জন জ্যেষ্ঠ নেতার অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ১৭ সেপ্টেম্বর বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এর কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি।    বৈঠকে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা, দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল এবং ফেরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।    বৈঠকটি আগে কলকাতায় আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে নিরাপত্তা ও অন্যান্য বাস্তবগত বিষয় বিবেচনায় স্থান পরিবর্তন করে নয়াদিল্লি করা হয়েছিল। এটি হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর তাঁর সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি পরামর্শ বৈঠক।    বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তটি দলটির কয়েকজন নেতার কাছেও আকস্মিক ছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বৈঠকটি পরে অন্য কোনো তারিখে হতে পারে, তবে নতুন তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। বাতিলের কারণ নিয়েও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।    এর আগে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতের কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে তাঁর ফেরার সময় ও পদ্ধতি এখনো নিশ্চিত নয়।    ফলে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকটি বাতিল হওয়ায় শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৩:৪৪
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে প্রায় তিন মাস আটক থাকার পর আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জলিল আখতার। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি সন্দেহে ৩ মাস আটক, বৈধ নথি নিয়ে জামিন পেলেন ৬৬ বছরের ভারতীয়

ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী

ভেনিসে বিয়ের তিন মাসের মাথায় মৃ ত্যু, নৌকাডুবিতে প্রাণ হারালেন অন্তঃসত্ত্বা তরুণী ও তার স্বামী

শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ছবি: সংগৃহীত

১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে
রাশিয়ার তেল কেনায় ভারত-চীনসহ ১০ দেশের ওপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে

রাশিয়া ও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানির জেরে ভারত, চীনসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়াগত ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিলটির ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আলোচিত বিলটি মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪-২১১ ভোটে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়। এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটেও ৮৬-১১ ভোটে বিলটি বিপুল সমর্থন পেয়েছিল।   প্রস্তাবিত এই আইনে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ‘ছায়া বহর’ বা গোপন জাহাজ নেটওয়ার্ক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবেন।   সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতায় থাকা ১০টি দেশ হলো ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অপরিশোধিত তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনা করছে মস্কো।   আর তাই রাশিয়ার আয়ের প্রধান এই উৎসটি বন্ধ করতে জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে বিলটির বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা গ্রেগরি মিকস অভিযোগ করেছেন, এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে তা দ্রুতই প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৫:৫০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী খু ন, ধাওয়া করে মাথায় গু লি স্টকারের

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী খু ন, ধাওয়া করে মাথায় গু লি স্টকারের

তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান

সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান

মহিলার ছদ্মবেশে পালানোর সময় গ্রেপ্তার সিরিয়াল কি লার, ৮০  খু নের স্বীকারোক্তি
মহিলার ছদ্মবেশে পালানোর সময় গ্রেপ্তার সিরিয়াল কি লার, ৮০ খু নের স্বীকারোক্তি

ব্রাজিলের পারাইবা রাজ্যে এক নাটকীয় অভিযানের মধ্য দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে জোরলান আলভেস দা সিলভা (৩৩) নামের এক সন্দেহভাজন সিরিয়াল কিলার। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সে লম্বা কালো পরচুলা, ডোরাকাটা পোশাক, মেয়েদের স্যান্ডেল ও সানগ্লাস পরে নিখুঁতভাবে নারীর ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল।   এমনকি তার নখে নেলপলিশও লাগানো ছিল। তবে পুলিশের চোখে ধুলো দিতে ব্যর্থ হয় সে। পরচুলা টেনে খুলতেই ধরা পড়ে যায় তার আসল রূপ, সে সময় তার মুখে ছিল এক নির্লিপ্ত হাসি। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, গ্রেপ্তারের সময় তার কোলে দুই বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল, যার সাথে এই অপরাধীর সম্পর্ক কী তা এখনো তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।   স্থানীয় গণমাধ্যম 'রেকর্ড আর৭' এবং 'ও গ্লোবো'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে জোরলান তার জীবনে অন্তত ৮০ জনকে খুন করার রোমহর্ষক কথা স্বীকার করেছে। পুলিশের ধারণা, কেবল গত তিন মাসেই সে বিভিন্ন সংগঠিত অপরাধী চক্রের হয়ে অন্তত ১৫টি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে।   সিভিল পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ডগলাস গার্সিয়া জানিয়েছেন, মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রথম খুনটি করেছিল জোরলান। বিভিন্ন অপরাধে ৫ থেকে ৬ বছর জেল খাটার পর গত মে মাসের শেষের দিকেই সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিল। এর আগে তার সহযোগীদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি পুলিশ আটকালে সেবার এক সহযোগী গ্রেপ্তার হলেও জোরলান কোনোভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।   জোরলানের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন মামলাগুলোর মধ্যে গত ১ আগস্ট রিও টিন্টো এলাকায় দুই ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনাটি অন্যতম। গোয়েন্দা গার্সিয়া জানান, জোরলানের দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ নির্দিষ্ট স্থানে মাটি খুঁড়ে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।   তার ৮০টি খুনের দাবির সত্যতা নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। যদি এই দাবি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে জোরলান হবে ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বেশি খুন করা সিরিয়াল কিলার। এর ফলে সে ছাড়িয়ে যাবে পেড্রো রদ্রিগেস ফিলহো বা 'ব্রাজিলিয়ান ডেক্সটার'-কে, যে ৭১টি খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হলেও শতাধিক খুনের দাবি করেছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৩:২৫
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানি এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা অনুমোদন স্থগিত করল লাওস

ব্রাজিলের ৫৩ বছর বয়সী সুয়েলি প্রায় নয় বছর ধরে নিজের সঞ্চয়ের টাকা একটি বইয়ের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

বইয়ের ভেতর ৯ বছর ধরে সঞ্চয়, পোকায় খেয়ে ফেলল ১ হাজার ৭৬০ ডলার

সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী সৌরভ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে মিসাইল আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে প্রাণ গেল বাংলাদেশির

0 Comments