আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী ও অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হয়েছে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১৩:৫৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ফেডারেল আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে শরণার্থী ও অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

 

গত শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএসসিআইএস জানায়, রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারকের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সংস্থাটি একমত না হলেও পরবর্তী বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আদালতের নির্দেশনা মেনে চলবে।

 

সংস্থাটি আরও জানায়, গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত আদালতের আদেশ জারি হওয়ার পর থেকেই ইউএসসিআইএস এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

 

গত সপ্তাহে রোড আইল্যান্ডের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এক রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন সুবিধা সীমিত করে আইন লঙ্ঘন করেছে। এসব দেশের মধ্যে আফগানিস্তানও রয়েছে।

 

২০২৫ সালের শেষ দিকে একজন আফগান নাগরিকের সঙ্গে জড়িত একটি বন্দুক হামলার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত কয়েকটি দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন, ওয়ার্ক পারমিট, গ্রিন কার্ড এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত বা বিলম্বিত করেছিল।

 

আদালতের রায়ে বলা হয়, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী। এর ফলে হাজারো আবেদনকারী দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও সহায়তা কর্মসূচিতে কাজ করা বহু আফগান নাগরিক নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করার পরও তাদের অভিবাসন আবেদন স্থগিত অবস্থায় ছিল।

 

আদালতের নির্দেশনার পর ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় শুরু করা হবে। এতে আফগান শরণার্থী, বিশেষ অভিবাসী ভিসা (এসআইভি) সুবিধাভোগী এবং মানবিক সুরক্ষা প্রত্যাশী হাজারো আবেদনকারী কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই, শরণার্থী গ্রহণ সীমিতকরণ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর নাগরিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
২০ বছর বয়সী মালিহা অ্যালেন
নর্থ ক্যারোলিনায় বাবাকে কুপিয়ে হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২০ বছরের তরুণী, সামনে এলো ভয়ংকর ফেসবুক স্ট্যাটাস

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় নিজের বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে তিনি ফেসবুকে একটি লোমহর্ষক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে লেখা ছিল, “এই বাড়িটি একটি হত্যার দৃশ্যপট হতে যাচ্ছে, আমার বাবার কণ্ঠস্বর থামাও।” গত ১৭ এপ্রিল লেক্সিংটন এলাকার নিজ বাড়িতে বাবা মাইকেল অ্যালেনকে হত্যার দায়ে ২০ বছর বয়সী মালিহা অ্যালেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   ঘটনার দিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মালিহা তাদের এক পারিবারিক বন্ধু জেনিফার ল্যানিংয়ের বাড়ির বারান্দায় হাজির হন। মালিহার পেট, ঘাড়, বুক ও পায়ে ছুরিকাঘাতের গভীর ক্ষত ছিল। জেনিফার জরুরি সেবায় কল করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিহাকে তার ক্ষতের কারণ জিজ্ঞেস করে। জবাবে মালিহা জানান, তার বাবাই তাকে প্রথমে আঘাত করেছেন এবং বাধ্য হয়েই তিনি বাবাকে হত্যা করেছেন। জেনিফার পুলিশকে জানান, বাবা-মেয়ের মধ্যে অত্যন্ত অস্বস্তিকর সম্পর্ক ছিল। এমনকি ঘটনার আগের রাতে মালিহা তাকে ফিসফিস করে বলেছিলেন যে তিনি তার বাবার লালসার শিকার হতে চান না। জেনিফারের দাবি, সে রাতে মাইকেল মদ্যপ অবস্থায় তিনটি নতুন ছুরি নিয়ে উল্লাস করছিলেন।   মালিহাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করার পর পুলিশ তাদের জঙ্গলাকীর্ণ নির্জন বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখানে মাইকেলকে ছুরিকাহত ও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। চার দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর মালিহাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও, পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে গ্র্যান্ড জুরি তাকে মুক্তি দেয়। তবে চলতি মাসে ফার্স্ট-ডিগ্রি বা পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি জামিন ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন। মালিহার আইনজীবী কারেন গারবার জানান, তারা মালিহাকে নির্দোষ প্রমাণ করার আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাইকেলের অতীতের অপরাধের রেকর্ডই এই ঘটনার পেছনের সত্যকে স্পষ্ট করে দেয়।   জানা যায়, ২০১৯ সালেও মাইকেলের বিরুদ্ধে নিজের ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের ছয়টি অভিযোগ উঠেছিল। যদিও মালিহা পরবর্তীতে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সেই মামলাগুলো খারিজ হয়ে যায়। সম্প্রতি কারাগার থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালিহা দাবি করেছেন, তিনি আত্মরক্ষার্থেই বাবাকে হত্যা করেছেন, কারণ তার বাবা আবারও তাকে যৌন নির্যাতন করতে শুরু করেছিলেন। মালিহার মা ও সৎ বোনের মতে, বাবা-মেয়ের সম্পর্কটি সবসময়ই অত্যন্ত বিষাক্ত ও সহিংস ছিল, যা তাদের মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তির কারণে আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছিল। তবে এত কিছুর পরও মালিহা কারাগার থেকে জানিয়েছেন যে, তিনি এখনও তার বাবাকে মিস করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২০:৩
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, আদালতে পরিবারের মুখোমুখি হতেও ভয় ঘাতকের

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, আদালতে পরিবারের মুখোমুখি হতেও ভয় ঘাতকের

মার্কিন প্রবীণদের জন্য সুখবর, মাসে ৭৭ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা

মার্কিন প্রবীণদের জন্য সুখবর, মাসে ৭৭ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা

ভাইকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো সেই অভিবাসী আবারও আইসিই-এর হেফাজতে

ভাইকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো অভিবাসী আবারও আইসিইর হেফাজতে

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ১০ ফুটের বিশাল ট্রফি I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ১০ ফুটের বিশাল ট্রফি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ব্যঙ্গ করে নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে স্থাপন করা হয়েছে ১০ ফুট উঁচু একটি বিশাল ট্রফি। ‘ইরান ওয়ার পার্টিসিপেশন ট্রফি’ নামের এই ভাস্কর্যটি চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফোলি স্কোয়ারে উন্মোচন করা হয়। এর আগে গত ১৩ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলেও এটি প্রদর্শন করা হয়েছিল। ট্রফিটির নিচের অংশে ডাব্লিউডাব্লিউই (WWE) চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্টসহ বিভিন্ন অলংকার যুক্ত করা হয়েছে, যা পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।   সোনালি রঙের এই হাস্যরসাত্মক ট্রফিটি তৈরি করেছে ‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’ নামের একটি বেনামি শিল্পগোষ্ঠী। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, ট্রফিটি ম্যানহাটনের সেই আদালতের ঠিক কয়েক ব্লক দূরে স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে ট্রাম্পের আলোচিত ‘হাশ মানি’ বা ঘুষ প্রদান মামলার বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পুরো সপ্তাহ জুড়েই এটি ফোলি স্কয়ারে সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শিত হবে বলে জানা গেছে।   ট্রফিটির নিচের একটি ফলকে ট্রাম্পকে তীব্র কটাক্ষ করে লেখা রয়েছে, “ইরান যুদ্ধে উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণের জন্য আমরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পকে এই ‘অংশগ্রহণ ট্রফি’ প্রদান করছি।” ফলকে আরও বলা হয়, যেখানে অন্যরা সামরিক কৌশল, কূটনীতি বা ফলাফলের দিকে নজর দেন, সেখানে চূড়ান্ত স্কোর যা-ই হোক না কেন, ট্রাম্প কেবল অংশগ্রহণের সাহস দেখিয়েছেন। শিল্পীরা আশা করছেন, নিউইয়র্কবাসীও এই ব্যঙ্গাত্মক প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন এবং নিজেদের তৈরি ছোটখাটো ট্রফি বা ফিতা যুক্ত করে এই সংগ্রহকে আরও বড় করে তুলবেন। তাদের মতে, ট্রাম্পকে দেওয়ার মতো কোনো ‘অর্জন’ই খুব বেশি দূরের বা ছোট নয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৭:৫৩
বৈধ স্ট্যাটাস থাকা সত্ত্বেও মেক্সিকোতে নির্বাসন, পরে ড্যাকা বাতিল; আদালতে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা

বৈধ স্ট্যাটাস থাকা সত্ত্বেও মেক্সিকোতে নির্বাসন, পরে ড্যাকা বাতিল; আদালতে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা

নিউ জার্সির এক এলাকায় ক্যানসারের ভয়াল থাবা, আক্রান্ত প্রায় ৪০০ বাসিন্দা

নিউ জার্সির এক এলাকায় ক্যানসারের ভয়াল থাবা, আক্রান্ত প্রায় ৪০০ বাসিন্দা

নিউইয়র্কে চার শিশুকে হ ত্যার পর আত্মহ ত্যা মা ও নানির, চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের

নিউইয়র্কে চার শিশুকে হ ত্যার পর আত্মহ ত্যা মা ও নানির, চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই চাকরি হারালেন ৫০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মী
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই চাকরি হারালেন ৫০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই ৫০ হাজারেরও বেশি সরকারি কর্মী চাকরি ছেড়েছেন বা তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। করদাতাদের অর্থ তদারকিকারী সংস্থা ‘ওপেনদ্যবুকস’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির ‘সোয়াম্প আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৬ হাজার ৬০৩ জন থেকে কমে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসনে সরকারি কর্মী কমেছে ৫৩ হাজার ৭১২ জন।   এর ফলে ট্রাম্পের মেয়াদের প্রথম বছরে কর্মীদের বেতন বাবদ সরকারের প্রায় ১৮৬ কোটি (১.৮৬ বিলিয়ন) ডলার সাশ্রয় হয়েছে। অথচ বাইডেনের মেয়াদের শেষ বছরে সরকারি কর্মীদের বেতন খাতে ব্যয় বেড়েছিল এক হাজার কোটি ডলারেরও বেশি এবং নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ১৩ হাজারের বেশি। তবে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানে যুদ্ধ দপ্তর (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) বা ইউএস পোস্টাল সার্ভিসের কর্মী ও বেতনের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যেখানে নিয়মিত সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক মিলিয়ে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ কর্মরত রয়েছেন।   সরকারি কর্মী ছাঁটাই এবং ব্যয় সংকোচনের এই উদ্যোগে বড় ভূমিকা রেখেছিল প্রযুক্তি ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ (ডিওজিই)। গত জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শেষ হলেও, বছরের শুরুতেই ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) বন্ধ করে দিয়ে সংস্থাটি ব্যাপক ছাঁটাইয়ের পথ প্রশস্ত করে।   এর ফলে ইউএসএআইডি-এর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী চাকরি হারান এবং সংস্থাটির অবশিষ্ট কার্যক্রম ও কর্মীদের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে একীভূত করা হয়। এছাড়া হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট (ওপিএম)-এর মাধ্যমেও ব্যয় সংকোচন নীতি বাস্তবায়িত হয়েছে। ওপিএম-এর পরিচালক স্কট কুপার গত ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন, সরকার থেকে অন্তত ২ লাখ ৪৯ হাজার মানুষ চাকরি ছেড়েছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন এবং প্রায় ১৭ হাজার কর্মীকে সরাসরি ছাঁটাই করা হয়েছে।   ‘ওপেনদ্যবুকস’-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ৯৪টি সরকারি সংস্থা তাদের কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে। তবে এর বিপরীতে ২১টি সংস্থা নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে এবং ১১টি সংস্থার কর্মী সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কর্মী কমেছে ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স দপ্তরে, যেখান থেকে ২১ হাজার ৪২৮ জন কর্মী বিদায় নিয়েছেন।   এছাড়া স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দপ্তর থেকে ১৩ হাজার ৫৮০ জন এবং শিক্ষা দপ্তর (যা বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প) থেকে ১ হাজার ৫১৮ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন, যা সংস্থাটির মোট কর্মীর প্রায় ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার ও কড়াকড়ি সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর সবচেয়ে বেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। এই দপ্তরে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪৩ জন কর্মী। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও পরিবহন দপ্তরও যথাক্রমে তিন হাজার এবং প্রায় এক হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৬:৯
ইরানি হামলায় প্রাণ হারানো মার্কিন নারী সেনাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিউইয়র্কবাসীর

ইরানি হামলায় প্রাণ হারানো মার্কিন নারী সেনাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিউইয়র্কবাসীর

অন্যায় করলেই শিক্ষার্থীদের পিঠে উঠে দাঁড়িয়ে শাস্তি দিতেন ৩৫০ পাউন্ড ওজনের শিক্ষক

অন্যায় করলেই শিক্ষার্থীদের পিঠে উঠে দাঁড়িয়ে শাস্তি দিতেন ৩৫০ পাউন্ড ওজনের শিক্ষক

নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় চিরতরে বন্ধ ৮৯ বছরের পুরোনো ইতালীয় পেস্ট্রি শপ ‘লা গুলি’

নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় চিরতরে বন্ধ ৮৯ বছরের পুরোনো ইতালীয় পেস্ট্রি শপ ‘লা গুলি’

0 Comments