৫৩ বছর পর চ্যাম্পিয়ন ‘নিক্স’, নিউইয়র্কের রাস্তায় লাখো ভক্তের উন্মাতাল উৎসব
দীর্ঘ ৫৩ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট এনবিএ (NBA) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিউইয়র্ক নিক্স। ঐতিহাসিক এই ট্রফি জয় উদযাপনে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। ট্রফি জয়ী খেলোয়াড়দের এক নজর দেখতে এবং ঐতিহ্যবাহী 'টিকার-টেপ প্যারেড' উৎসবে যোগ দিতে সকাল থেকেই ব্রডওয়ে ও ব্যাটারি পার্ক এলাকায় জড়ো হন হাজার হাজার ভক্ত।
নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্যারেড শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই (সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের মধ্যে) দর্শকদের জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ভক্তদের পরনে ছিল দলের নীল ও কমলা রঙের জার্সি, ক্যাপ এবং চেইন। বাঁধভাঙা এই আনন্দের জোয়ারে অনেক ভক্তকে পুলিশের গাড়ি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ট্রাকের ওপর উঠেও উল্লাস করতে দেখা যায়।
প্যারেডে একটি সুসজ্জিত গাড়িতে (ফ্লোট) চড়ে ট্রফি হাতে ভক্তদের অভিবাদনের জবাব দেন দলের তারকা খেলোয়াড় কার্ল-অ্যান্টনি টাউনস এবং ওজি আনুনোবি। তাদের সঙ্গে যোগ দেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও সাবেক নিক্স তারকা কারমেলো অ্যান্থনি। এছাড়া দলের দীর্ঘদিনের অন্ধ ভক্ত ও বিখ্যাত হলিউড পরিচালক স্পাইক লি, অভিনেতা বেন স্টিলার, ক্রিস রক এবং টিমোথি শালামের মতো তারকারাও এই রাজকীয় প্যারেডে অংশ নেন।
প্যারেডে অংশ নেওয়া ৬৯ বছর বয়সী জন রিভেরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "১৯৭৩ সালে নিক্স যখন শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দলের প্রতি বিশ্বাস হারাইনি। আজকের এই উৎসব আমাকে আবারও এই শহরের আপন করে তুলেছে।" আরেক ভক্ত বারবারা ইথারেজ বলেন, "এখানে আমরা কেউ কাউকে চিনি না, সবাই সবার কাছে অপরিচিত। কিন্তু আজ এই এক জায়গায় এসে মনে হচ্ছে—আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য।"
উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিতে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বিখ্যাত 'বাকলাভা গাই' খ্যাত রয় ডঙ্ক পুরো প্যারেডে ভক্তদের মাঝে বিনামূল্যে মিষ্টি ও বাকলাভা বিতরণ করেন। সব মিলিয়ে নিক্সের এই শিরোপা জয় যেন পুরো নিউইয়র্ক সিটিকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটির পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং নিরস্ত্রীকরণই হচ্ছে ওয়াশিংটনের কাঙ্ক্ষিত সেই চূড়ান্ত চুক্তি বা লক্ষ্য। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে এবং এর ভেতর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াত স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত আছে। তবে এই জলপথটি ব্যবহার করে কীভাবে আরও বেশি সংখ্যক জাহাজ সম্পূর্ণ নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে অতিক্রম করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন একটি নতুন ও কার্যকর চুক্তি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মার্কো রুবিও আরও জানান, স্বল্প মেয়াদে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরান ও ওমানের সাথে আলোচনা এবং দরকষাকষিতে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা বিষয়ক এই স্বল্পমেয়াদী আলোচনাগুলোই পরবর্তীতে একটি বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পথ প্রশস্ত করবে। আর সেই দীর্ঘমেয়াদী আলোচনারই মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যু, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস।
নিউ জার্সির অভিবাসন কেন্দ্রে আটক অভিবাসীর মৃত্যু, তদন্ত চায় পরিবার
কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ১০ সমুদ্র শহর
নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার এক নেতা
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের এক নারী প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ডলার হারিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ৩০ হাজার ডলারের ঋণের বোঝাও কাঁধে নিয়েছেন। পরিচয় চোরদের হাত থেকে নিজের অর্থ সুরক্ষিত করছেন, এমন বিশ্বাসেই তিনি প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করেছিলেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, সবকিছুর শুরু হয় একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মাধ্যমে, যা তার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বলে মনে হয়েছিল। এরপর তার কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক ব্যক্তি নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন। পরবর্তী তিন মাস ধরে প্রতারকরা নিজেদের কখনো সরকারি কর্মকর্তা, কখনো বেটার বিজনেস ব্যুরোর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা ভুয়া নথিপত্র দেখায়, একটি ভুয়া ব্যাংক হিসাব তৈরি করে এবং তার অর্থ নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বলেন। প্রতারকদের কথামতো তিনি ১ লাখ ৩১ হাজার ডলার মূল্যের স্বর্ণের মুদ্রা কিনে একটি খামে ভরে এক কুরিয়ারের হাতে তুলে দেন। পরে তাকে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ উত্তোলন, শত শত উপহার কার্ড কেনা এবং ডিজিটাল মুদ্রা কেনার জন্যও প্ররোচিত করা হয়। এসব অর্থ শেষ পর্যন্ত প্রতারকদের কাছেই চলে যায়। ভুক্তভোগী জানান, প্রতারকরা তাকে একটি গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করিয়েছিল। ফলে তিনি সন্তান, বন্ধু কিংবা পুলিশ—কারও কাছে বিষয়টি জানাতে পারেননি। প্রতারকরা তাকে আরও জানায়, তার ফোন ও কম্পিউটার নজরদারিতে রয়েছে। পাশাপাশি তাকে অস্ত্র পাচার ও অর্থপাচারের একটি মামলার সন্দেহভাজন বলেও দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী জানান, প্রতারকরা শেষবার যোগাযোগ করবে—এমন অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। কিন্তু নির্ধারিত সেই ফোন আর আসেনি। পরে তিনি নিজেই ফোন করলে নম্বরটি বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। উইসকনসিনে বেটার বিজনেস ব্যুরো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণ কেনার নামে প্রতারণার শিকার হওয়া তিনজনের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ ডলার। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কেউ যদি স্বর্ণ কিনতে, অর্থ স্থানান্তর করতে বা কোনো কুরিয়ারের হাতে মূল্যবান জিনিস তুলে দিতে বলে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী তার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একটি অনলাইন সহায়তা তহবিলও খুলেছেন। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণায় হারানো অর্থ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
ই-বাইকের বেপরোয়া চলাচল ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের নতুন ঠিকানা কোথায়? টপ ১০ রাজ্যের তালিকা
ডিপোর্টেশনের তথ্য গোপন, ২৪ জনের সঙ্গে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন কী কী আইনি ও রাজনৈতিক পথ খোলা রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায়ে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল হলেও প্রশাসনের হাতে এখনও কিছু সীমিত বিকল্প রয়েছে। গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে, যেখানে অবৈধভাবে বা অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিভাবকদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। রায়ের পর ট্রাম্প শুরুতে সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার ঘোষণা দিলেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তার প্রশাসন কোনো আবেদন জমা দেয়নি। ফলে আদালতের রায় কার্যকরভাবে বহাল থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণের নজির অত্যন্ত বিরল। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখনও কয়েকটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়নের চেষ্টা, ভবিষ্যতে ভিন্ন আইনি যুক্তিতে নতুন মামলা করা অথবা সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া। তবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী পরিবর্তন করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর তিন-চতুর্থাংশের অনুমোদন প্রয়োজন, যা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন একটি প্রক্রিয়া। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৮৬৮ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। ১৮৯৮ সালে ঐতিহাসিক মামলায় সুপ্রিম কোর্টও এই নীতিকে সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। সাম্প্রতিক রায়ে আদালত সেই দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ব্যাখ্যাই পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অবশেষে ‘২৫ বছরের নিচে’ প্রেমিকার ধারা ভাঙলেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, বর্তমান প্রেমিকার বয়স ২৭
১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা চললেও বিবিসির প্রশংসায় ট্রাম্প, বললেন— ‘এবিসির চেয়ে ভালো’