নিউইয়র্কে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর অভিনয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, অভিভাবক ও পুলিশের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আপার ওয়েস্ট সাইডের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার অভিনয় করানো হয়েছে। গত ১১ জুন স্কুলটিতে আয়োজিত 'মাল্টিকালচারাল ডে' বা বহুমুখী সংস্কৃতি দিবসের অনুষ্ঠানে এই বিতর্কিত পরিবেশনার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। স্কুলের এমন কর্মকাণ্ডে হতবাক হয়েছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষাবিদ এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে ১০ ও ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা শিল্পী জন লিজেন্ড এবং র্যাপার কমনের গাওয়া জনপ্রিয় গান 'গ্লোরি'-র সঙ্গে নাচ পরিবেশন করে। গানটির কথায় ফার্গুসনে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউনের মৃত্যুর ঘটনা এবং এর জেরে শুরু হওয়া 'ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার' আন্দোলনের উল্লেখ ছিল। পরিবেশনার একপর্যায়ে গানের নির্দিষ্ট কথায় শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে মঞ্চে লুটিয়ে পড়ে এবং পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার মতো ছাদ পানে তাকিয়ে থাকে।
এরপর গানের কোরাসে তারা সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন কায়পারনিকের অনুকরণে এক হাঁটু গেড়ে বসে প্রতিবাদ জানায়। পারফরম্যান্সের শেষে এই খুদে শিক্ষার্থীরা 'আইস আউট', 'এলজিবিটিকিউআইএ+ এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো', 'সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই' এবং 'অ্যান্টিসেমিটিজমের কোনো স্থান নেই' লেখা বিভিন্ন চরমপন্থি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে।
এই ঘটনাকে শিশুদের প্রতি চরম অন্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক কর্মকর্তা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পঞ্চম শ্রেণির শিশুদের দিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর অভিনয় করানো কোনো শিক্ষা হতে পারে না; এটি শিশুদের রাজনৈতিক মগজধোলাই এবং নির্লজ্জ ব্যবহার। স্কুলের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, শাহরিন করিম নামের একজন শিক্ষিকা এই পরিবেশনার নেপথ্যে ছিলেন।
তিনি স্কুলের মাল্টিকালচারাল কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০২৪ সালের সংস্কৃতি দিবসেও তিনি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ফিলিস্তিনি লোকনৃত্য 'দাবকে' পরিবেশন করিয়েছিলেন, যা নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
সূত্রটির দাবি, স্কুলের অধ্যক্ষ জর্জ জর্জিলাকিস নিজেও এই ধরনের অতি-প্রগতিশীল বা 'ওক' (woke) নীতিগুলোকে সমর্থন করেন। শুধু তাই নয়, স্কুলটিতে এলজিবিটিকিউ+ বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ একটি 'রেইনবো রুম' রয়েছে, যেখানে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করতে পারে।
এছাড়া গত ৫ মে অভিভাবকদের কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ না দিয়েই দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সামনে ট্রান্সজেন্ডার লেখক কাইল লুকফের একটি বই পড়ার আয়োজন করা হয়েছিল। এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নিউইয়র্কের শিক্ষা বিভাগ (ডিওই) জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ইভেন্টের আগে যেন পরিবারগুলোকে আগে থেকে নোটিশ দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর টিকটক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ফাঁদ পেতে তার অভিযুক্ত ধর্ষককে বাড়িতে ডেকে এনে গুলি করেছেন বাবা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দিয়েগো মন্তোয়া গঞ্জালেস (২০) নামের ওই তরুণকে শিশু ধর্ষণ এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত করে আদালতে বিচার শুরু হয়েছে। গত ১৫ জুলাই চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ওই কিশোরীর মা তার মেয়ের ফোনে একটি আপত্তিকর ভিডিও দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন, যা থেকে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এর ঠিক পরের দিন, ক্ষুব্ধ বাবা টিকটকে নিজের মেয়ের পরিচয় দিয়ে ফাঁদ পাতেন এবং অভিযুক্ত গঞ্জালেসকে কৌশলে তাদের বাড়িতে ডেকে আনেন। ফৌজদারি অভিযোগের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মেয়ের বাবা প্রথমে গঞ্জালেসকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু গঞ্জালেস অস্ত্র বের করার চেষ্টা করছে—এমনটি ভেবে তিনি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে অভিযুক্ত গঞ্জালেস দুবার গুলিবিদ্ধ হয়। ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টি কমন প্লিস কোর্টে গঞ্জালেসের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নমূলক সামগ্রী ছড়ানো এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে আদালতে সে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছে। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে তার ৭০ হাজার ডলারের জামিন বন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ
নিউইয়র্কে ফ্রি চাইল্ডকেয়ারে বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, তবুও পরিকল্পনায় অটল মামদানি
নিউইয়র্কে আইসিই এজেন্টদের মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশ
ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। মার্কিন পেন্টাগনের মজুত থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ থাড (THAAD) এবং প্রায় অর্ধেক প্যাট্রিয়ট (Patriot) ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিঃশেষ হয়ে গেছে। জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক অধিনায়করা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পেন্টাগনের দূরপাল্লার ও আকাশ প্রতিরক্ষা মারণাস্ত্রের সরবরাহ এখন 'বিপজ্জনকভাবে সর্বনিম্ন' পর্যায়ে নেমে এসেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নথির ওপর ভিত্তি করে উঠে আসা এই সংকটময় তথ্য ইতিপূর্বে কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ পায়নি। অস্ত্রের এই তীব্র ঘাটতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের উদ্বেগের কারণে ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এক নজিরবিহীন হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের সাথে আলোচনা করে আশঙ্কার কথা জানায় যে, ওয়াশিংটনের কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাবে ইরান যদি তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালায়, তবে পর্যাপ্ত মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অভাবে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না। মিত্রদের এই কূটনৈতিক চাপ ও সামরিক বাহিনীর সতর্কবার্তার পরই ট্রাম্প সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রায় ২,২০০টি আধুনিক প্যাট্রিয়ট এবং ৪৫২টি থাড মিসাইল ছিল। তবে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'সহ সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে মার্কিন বাহিনী তাদের এটাকমস (ATACMS) এবং তোমাহক (Tomahawk) ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করছেন যে, প্রেসিডেন্টের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সক্ষমতা রয়েছে। তবে একই সাথে তারা অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, থাড কিংবা প্যাট্রিয়টের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত তৈরি করা সম্ভব নয়। বর্তমানে পেন্টাগন মাসে মাত্র ১৫টি তোমাহক এবং ২০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল নতুন করে হাতে পাচ্ছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিএসআইএস সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় থাড ক্ষেপণাস্ত্রের পূর্ণ মজুত ফিরিয়ে নিতে আমেরিকার অন্তত ৩ বছর বা তারও বেশি সময় লাগবে। পেন্টাগনের এই বিশাল অস্ত্রঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখার সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চীন, রাশিয়া কিংবা উত্তর কোরিয়ার মতো বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের সামরিক ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।
শেয়ারবাজারের চেয়ে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন ৬৬% মার্কিনি
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার
ফ্লোরিডায় খেলনা কিচেন সেটে মাথা আটকে মর্মান্তিক মৃত্যু ৩ বছরের শিশুর
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতারণামূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া আরও প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর মোট ১১ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিক্ষাঋণ চূড়ান্তভাবে মওকুফ করা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালত ঋণগ্রহীতাদের পক্ষে একটি যুগান্তকারী রায় দেওয়ার পর এই বিপুল অঙ্কের ঋণ বাতিলের পথ পুরোপুরি সুগম হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রতারিত শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হলো। মামলাটির সূত্রপাত ঘটেছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে। তখন অভিযোগ উঠেছিল, বেশ কয়েকটি লাভজনক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করায় এবং তাদের বিপুল পরিমাণ ফেডারেল ঋণ নিতে একপ্রকার বাধ্য করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় সরকার এই মামলাটির নিষ্পত্তিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সেই প্রাথমিক চুক্তির আওতায় প্রায় ৩ লাখ ঋণগ্রহীতার শিক্ষাঋণ আগেই মওকুফ করা হয়েছিল। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর যেসব শিক্ষার্থী প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন, তাদের আবেদনগুলো ইউএস এডুকেশন ডিপার্টমেন্টকে পর্যালোচনা করার জন্য ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। শর্ত ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন এসব ঝুলে থাকা আবেদন পর্যালোচনার জন্য আদালতের কাছে আরও ১৮ মাস বাড়তি সময় চেয়েছিল। একটি ফেডারেল জেলা আদালত তাদের সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে সেই খারিজের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। আপিল আদালতের এই রায়ের ফলেই মূলত সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি না হওয়া ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয়ে যায়। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরো শ্রেণিভিত্তিক (ক্লাস-অ্যাকশন) মামলাটির আওতায় উপকৃত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫ লাখে গিয়ে দাঁড়াল, যাদের মোট ২৩ বিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ চিরতরে বাতিল হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী অলাভজনক আইনি সংস্থা 'প্রজেক্ট অন প্রিডেটরি স্টুডেন্ট লেন্ডিং' জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শ্রেণিভিত্তিক আইনি সমঝোতা। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক নিষ্পত্তির নজিরবিহীন ঘটনা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক প্রেমিকার গাড়িতে ট্র্যাকার লাগিয়ে নজরদারির অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা
নিউইয়র্কে বিলাসবহুল ইয়টে ফ্যাশন ডিজাইনারের মৃত্যু, মালিকের বিরুদ্ধে ৫০ মিলিয়ন ডলারের মামলা