আমেরিকা

বাসর রাতেই স্ত্রীকে খুন করে মেক্সিকোতে পলায়ন, ১০ বছর পর এফবিআইয়ের হাতে ধরা পলাতক স্বামী

Unknown প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১৮:৩০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে বিয়ের রাতেই নববিবাহিত স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আর্নোল্ডো জিমেনেজ নামের এই মেক্সিকান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআইয়ের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' বা শীর্ষ পলাতক আসামিদের তালিকাভুক্ত ছিলেন।

 

মেক্সিকোর মন্টেরে শহরে মার্কিন ও মেক্সিকান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটকের এক বছরেরও বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে এফবিআই।

 

এই কুখ্যাত পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনাকে এফবিআই শিকাগোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, অপরাধী বিশ্বের যে প্রান্তেই লুকিয়ে থাকুক না কেন কিংবা যত সময়ই পার হোক না কেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এফবিআইয়ের অভিযান কখনোই থামবে না। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারের সময় আর্নোল্ডো জিমেনেজ যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ শীর্ষ পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।

 

তবে এক দশক আগে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। পাশাপাশি, এই হাই-প্রোফাইল আসামিকে কবে নাগাদ প্রথমবার আদালতে হাজির করা হবে, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর এই আসামির প্রত্যাবর্তনের ফলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখন আলোর মুখ দেখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
এইচওএর ফি ও নিয়ম না জানলে বাড়ির মালিকদের জন্য তৈরি হতে পারে আইনি জটিলতা। ছবি: সংগৃহীত
শুধু ব্যাংকের মর্টগেজ নয়, এইচওএর ফি না দিলেও হারাতে পারেন নিজের বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনলে শুধু ব্যাংকের মর্টগেজের কিস্তি পরিশোধ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। অনেক আবাসিক কমিউনিটিতে বসবাসকারীদের জন্য হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এইচওএ) এর নির্ধারিত মাসিক বা বার্ষিক ফি, বিশেষ মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন জরিমানাও সময়মতো পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। এসব অর্থ দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে শুধু অতিরিক্ত আর্থিক চাপই নয়, চরম পরিস্থিতিতে নিজের বাড়িও হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   সম্প্রতি জর্জিয়া, ওহাইও, মেরিল্যান্ড ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এইচওএর বকেয়া ফি, জরিমানা ও আইনি ব্যয়কে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে বিরোধের একাধিক ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব ঘটনার পর এইচওএর ক্ষমতা এবং বাড়ির মালিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আইনপ্রণেতারা এইচওএর ফোরক্লোজারের ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা করছেন।   হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা এইচওএ হলো এমন একটি আবাসিক পরিচালনা সংস্থা, যা কমিউনিটির রাস্তা, পার্ক, সুইমিং পুল, ক্লাবহাউস, নিরাপত্তা, ল্যান্ডস্কেপিংসহ বিভিন্ন সাধারণ সুবিধার রক্ষণাবেক্ষণ করে। এসব সেবার ব্যয় মেটাতে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত ফি আদায় করা হয়। পাশাপাশি কমিউনিটির নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে।   হোম ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বাড়ির মালিক এইচওএর নির্ধারিত ফি বা বৈধ জরিমানা দীর্ঘদিন পরিশোধ না করলে সংস্থাটি প্রথমে ওই সম্পত্তির বিরুদ্ধে ‘লিয়েন’ বা আইনি দাবি নিবন্ধন করতে পারে। এরপরও বকেয়া পরিশোধ না হলে অনেক অঙ্গরাজ্যের আইনে এইচওএ আদালতের মাধ্যমে ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ পায়।   তবে অনেক মর্টগেজ কর্মকর্তারা বলছেন, এইচওএর ফি বকেয়া থাকলেই যে সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ফোরক্লোজার হয়ে যাবে, বিষয়টি সব সময় এমন নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রথমে একাধিক নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর বিলম্ব ফি, সুদ, আদায় ব্যয়, আইনজীবীর ফি এবং আদালতের খরচ যোগ হতে থাকে। দীর্ঘদিন বিষয়টি উপেক্ষা করলে আর্থিক দেনা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে।   অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলারের বকেয়া থাকলেও পরে সুদ, জরিমানা ও আইনি ব্যয় যোগ হয়ে মোট দেনা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার বা তারও বেশি হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও আদালতের ঝামেলাও তৈরি হতে পারে।   রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী ফোরক্লোজার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ফোরক্লোজার সংক্রান্ত নোটিশ ও আইনি কার্যক্রম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেড়েছে। দুই বছর আগের তুলনায় এ হার ২৮ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপের কারণে অনেক বাড়ির মালিক আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সংকটে পড়ছেন।   এ ক্ষেত্রে রিয়েল্টররা পরামর্শ দিচ্ছেন, এইচওএ থেকে কোনো বকেয়া বা লিয়েনের নোটিশ পেলে তা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। নোটিস ঠিক মতো যাচাই করে দ্রুত এইচওএর সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে বা কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করে বড় ধরনের আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব।   যুক্তরাষ্ট্রে যারা এইচওএ নিয়ন্ত্রিত কমিউনিটিতে বাড়ি কিনতে চান, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো শুধু বাড়ির দাম বা ব্যাংকের মর্টগেজের কিস্তি নয়, এইচওএর মাসিক বা বার্ষিক ফি, কমিউনিটির নিয়ম, জরিমানার নীতিমালা এবং বকেয়া থাকলে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সেসব বিষয়ও আগে থেকেই ভালোভাবে জেনে নেওয়া। কারণ, অনেক সময় বাড়ির মালিকেরা মর্টগেজের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করলেও এইচওএর নিয়ম বা ফি সম্পর্কে অসচেতন থাকার কারণে অপ্রত্যাশিত আর্থিক ও আইনি সমস্যার মুখে পড়েন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২২:৫৬
বেবিসিটারের বাড়িতে খেলনা কিচেন সেটে আটকে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় বেবিসিটারের বাড়িতে খেলনা কিচেন সেটে আটকে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু

নিউ জার্সিতে ভোটার নিবন্ধন ত্রুটি নিয়ে চলছে স্বাধীন তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সির ভোটার নিবন্ধন ত্রুটি ভোট জালিয়াতির নয়, অভিবাসীবিরোধী রাজনীতির প্রতিফলন

ঘণ্টাপ্রতি সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে আলামেডা কাউন্টি। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার এক কাউন্টিতে ঘণ্টাপ্রতি ৩০ ডলার সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণের পথে, হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ

উইসকনসিনে বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিচ্ছেদ শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদের শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক বাবা ও তার দুই কিশোরী কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির পর নিহত শিশুদের মা অভিযোগ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এলেও তার কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এদিকে পুলিশ এখনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএলইউকে (WLUK) ও এনবিসি ২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার উইসকনসিনের উইনেকনি (Winneconne) শহরের একটি বাড়িতে কল্যাণ নিশ্চিত করতে (ওয়েলফেয়ার চেক) গিয়ে পুলিশ ৫৭ বছর বয়সী জেফ্রি ম্যানকে (Jeffrey Manke) এবং তার দুই মেয়ে ১৬ বছর বয়সী জেইলি (Jaely) ও ১১ বছর বয়সী লেনোরা (Lenora)-র মরদেহ উদ্ধার করে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জেফ্রি ম্যানকে ও তার স্ত্রী লিন্ডসি লিউয়ান্ডোস্কির (Lindsey Lewandowski) মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে তাদের মধ্যে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া এগোচ্ছিল। তবে সন্তানদের হেফাজতের বিষয়ে আদালত শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকেই যৌথ আইনগত অভিভাবকত্বের উপযুক্ত বলে বিবেচনা করে। যদিও লিন্ডসি একক হেফাজতের আবেদন করেছিলেন, তা মঞ্জুর হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে জেফ্রি ম্যানকের বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ (Restraining Order) জারি হয়েছিল। সেই নথিতে উল্লেখ ছিল, তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবেশাধিকার রয়েছে। এছাড়া সন্তানদের সঙ্গে থাকার সময় তাকে মাদক বা অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকার নির্দেশও ছিল।   ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লিন্ডসি অভিযোগ করেন, তার দুই মেয়ে বাবার কাছে নিজেদের নিরাপদ মনে করত না। তিনি লেখেন, "আমি তাদের নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের এমন জায়গায় পাঠাতে, যেখানে তারা যেতে চাইত না এবং নিজেদের নিরাপদ মনে করত না।"   তিনি আরও দাবি করেন, পরিবারের কাউন্সেলর শিশুদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি। শিশু সুরক্ষা সংস্থা (CPS)-তে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সতর্কবার্তার কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।   লিন্ডসি বলেন, "গত দুই বছর ধরে যদি কেউ তাদের সাহায্যের আবেদন শুনত, তাহলে তারা আজ বেঁচে থাকত। আমার সন্তানদের রক্ষা করতে ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে।" তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উইনেবাগো কাউন্টি সার্কিট কোর্ট কিংবা কাউন্টি মানবসেবা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   এদিকে উইনেবাগো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। এটি হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা কি না, সে বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসা পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের অগ্রগতির অপেক্ষা করা হচ্ছে।   ঘটনাটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু হেফাজত, পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ২০:৫১
১১ বছরের মেয়ের অভিযুক্ত ধর্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে ১১ বছরের মেয়ের অভিযুক্ত ধর্ষককে টিকটকে ফাঁদ পেতে বাড়িতে ডেকে গুলি করেন বাবা

সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ

সান ডিয়েগোতে হিংসার জেরে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও তার গৃহহীন প্রেমিককে হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শিশুধর্ষণের অভিযোগ

নিউইয়র্কে ফ্রি চাইল্ডকেয়ারে বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, তবুও পরিকল্পনায় অটল মামদানি

নিউইয়র্কে ফ্রি চাইল্ডকেয়ারে বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, তবুও পরিকল্পনায় অটল মামদানি

নিউইয়র্কে আইসিই এজেন্টদের মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশ
নিউইয়র্কে আইসিই এজেন্টদের মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় মার্কিন আদালতের স্থগিতাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের মাস্ক বা মুখাবরণ পরার ওপর রাজ্য সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক। তবে স্থানীয় পুলিশ বিভাগের সাথে আইসিই-এর যেকোনো ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রণীত অপর একটি রাজ্য আইন বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টের ডিস্ট্রিক্ট জজ মে ডি’অ্যাগোস্টিনো সম্প্রতি এই রায় প্রদান করেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়া এবং পেনসিলভানিয়াতেও ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করার একই ধরনের আইন বাতিল করেছিল আদালত।   বিচারক ডি’অ্যাগোস্টিনো তার রায়ে উল্লেখ করেন, নিউইয়র্ক প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি পুলিশের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সৎ উদ্দেশ্যে করা হলেও, সাংবিধানিক যুক্তিতে এটি টিকছে না। মার্কিন সংবিধানের 'সুপ্রিমেসি ক্লজ' বা সর্বোচ্চ ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজ্য সরকার সরাসরি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তবে রাজ্যটি আইসিই-এর সাথে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা বৈধ বলে রায় দিয়েছেন বিচারক। তিনি জানান, রাজ্যের জনকল্যাণ রক্ষা এবং স্থানীয় সম্পদ কীভাবে ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার রাজ্য সরকারের রয়েছে। আগস্টের শেষের দিকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের ফলে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা আর আইসিই-এর কোনো অভিযানে সহায়তা করবেন না।   উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত মে মাসের শেষের দিকে এই 'নিউইয়র্ক মাস্ক ল' স্বাক্ষর করেছিলেন রাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হোকুল। আদালতের নতুন রায়ের পর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করে একে আইসিই-এর জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, আইসিই-এর সাথে অসহযোগিতার আইনটি বহাল থাকায় একে স্বাগত জানিয়েছেন গভর্নর হোকুল এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।   এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, স্থানীয় পুলিশকে কেবল স্থানীয় বিষয়েই নজর দেওয়া উচিত এবং আইসিই-এর সাথে কোনো সমন্বয়ের ব্যয়ভার নিউইয়র্কের সাধারণ করদাতাদের বহন করা উচিত নয়। মাস্ক নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়েও তারা পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে এই আইসিই ইস্যুটিই ক্যাথি হোকুলের পুনর্নির্বাচনের পথে একটি বড় প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৮:১৩
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০% ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শেষ, সংকটে পেন্টাগন

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০% ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শেষ, সংকটে পেন্টাগন

শেয়ারবাজারের চেয়ে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন ৬৬% মার্কিনি

শেয়ারবাজারের চেয়ে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন ৬৬% মার্কিনি

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ধরপাকড়ে নতুন রেকর্ড, জুলাইয়ে গ্রেপ্তার ৫১ হাজার

0 Comments