নিউইয়র্ক ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি নির্বাচনে উত্তাপ, শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মুখোমুখি মামদানি ও প্রথাগত নেতৃত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা চলছে। সোমবার প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে শেষবারের মতো নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেন। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দলটির ভেতরে প্রগতিশীল বামপন্থী ধারা এবং প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনটি নিউইয়র্ক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র যোরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তরুণ ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা মামদানি গত বছর যে জনসমর্থন তৈরি করেছিলেন, তা এবার কংগ্রেস নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে নজর রয়েছে। তিনি তার সমর্থিত তিনজন হাউস প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়েছেন এবং একাধিক প্রচারণামূলক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে এক সমাবেশেও অংশ নেন।
প্রচারণায় মামদানি বলেন, “অতীতের দল ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দিতে পারবে না। আমাদের এমন একটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি দরকার, যার মেরুদণ্ড আছে।” অন্যদিকে ম্যানহাটনের একটি আসনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নাতি জ্যাক শ্লসবার্গ প্রার্থী হয়েছেন। পারিবারিক পরিচিতি এবং সামাজিকমাধ্যমে জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য অ্যালেক্স বোরিস, মাইকা ল্যাশার এবং আইনজীবী জর্জ কর্নওয়ে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় শ্লসবার্গ সাবেক টক শো উপস্থাপক ডেভিড লেটারম্যানের সঙ্গে সমাবেশ করেন এবং তার মা ক্যারোলিন কেনেডি তার পক্ষে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। অন্যদিকে মামদানি এখনো এই আসনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেননি। তিনি আরও তিনটি কংগ্রেস আসনের প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন, যার মধ্যে দুটি বর্তমান ডেমোক্র্যাট সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
এর মধ্যে ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারের সঙ্গে আদ্রিয়ানো এসপায়াতের এবং সাবেক নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড লেন্ডারের সঙ্গে ড্যান গোল্ডম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আরেকটি আসনে ক্লেয়ার ভালদেজ ব্রুকলিন বরো প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও রেইনোসোর বিরুদ্ধে লড়ছেন।
ভালদেজ নিজেকে মামদানির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যদিও রেইনোসোও প্রগতিশীল অবস্থান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রাইমারি নির্বাচন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে প্রতিবেশীর করা শব্দের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক মা ও তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় ৭৩ বছর বয়সী প্রতিবেশী রবার্ট উইঙ্কেলম্যানের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তিনি নিজেকেও গুলি করেন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউওডব্লিউটি (WOWT), কেএসডিকে (KSDK) এবং জেফারসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই রাতে মিসৌরির জেফারসন কাউন্টির হাউস স্প্রিংস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ৩৮ বছর বয়সী জেসিকা ল্যাশলি এবং তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে জার্সি গ্রিয়ার। দুজনকেই মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে দুই দিন পর তাদের মৃত্যু হয়। তদন্তে জানা গেছে, রবার্ট উইঙ্কেলম্যান নিজের বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে গিয়ে সেখানে চলা কর্মকাণ্ড ও শব্দ নিয়ে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে জেসিকা ল্যাশলিকে গুলি করেন। মাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন জার্সি গ্রিয়ার। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকেও মাথায় গুলি করা হয়। এরপর ঘটনাস্থলে থাকা আরেক ব্যক্তিকে ধাওয়া করা হলেও তিনি গুলিবিদ্ধ হননি। শেরিফের দপ্তর জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি নিজের মাথায় গুলি করেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ২ আগস্ট তিনি মারা যান। জীবিত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং সশস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। নিহত জার্সির যমজ বোন জাস্টিস গ্রিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসডিকেকে বলেন, তার বোন ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সবার প্রিয় একজন মানুষ। তিনি বলেন, "ওর শেষ মুহূর্তেও সে মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। এটাই প্রমাণ করে সে কতটা সাহসী ছিল।" দুই বোনেরই ভবিষ্যতে কলেজ পর্যায়ে ল্যাক্রোস খেলার স্বপ্ন ছিল বলেও জানান তিনি। পরিবারের প্রকাশিত শোকবার্তায় বলা হয়েছে, জার্সি গ্রিয়ার হাউস স্প্রিংসের নর্থওয়েস্ট হাই স্কুলে শেষ বর্ষে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পরিবারের সঙ্গে থাকা ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। অন্যদিকে জেসিকা ল্যাশলি ছিলেন একজন পরিশ্রমী একক মা। তিনি একটি ট্রি সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে অফিস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন এবং দুই মেয়েকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতেন। এ ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের ব্যয় নির্বাহে সহায়তার জন্য একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ঘটনাটি গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টেক্সাসে ১১২ মাইল গতির বিএমডব্লিউর ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত প্রবীণ দম্পতি
নিউইয়র্কে কম খরচে থাকার সুযোগ, আবাসন লটারিতে ভাড়া মাত্র ৫০০ ডলার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ারবলে ৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জ্যাকপট, প্রকাশিত হলো লাকি নম্বর
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক হাইস্কুল ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক কিশোর যুগলের আদান-প্রদান করা গোপন বার্তা গত বুধবার আদালতে পড়ে শোনানো হয়েছে। কৌঁসুলিরা দাবি করেছেন, এটি মূলত একটি প্রতিশোধমূলক হত্যার পরিকল্পনা ছিল। ক্যাসান্দ্রা মাইকেল এবং তার তৎকালীন প্রেমিক বায়রন রেঞ্জেল নামের ওই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা গত ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল ক্লোভিসের নিস ও উইলো অ্যাভিনিউয়ের কাছে একটি ম্যাকডোনাল্ডসের বাইরে কেলেব কুইক নামের ওই কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। বর্তমানে ক্যাসান্দ্রার বিরুদ্ধে কিশোর আদালতে চলা হত্যা মামলার তৃতীয় দিনে এসব বার্তা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। কৌঁসুলিদের অভিযোগ, অপর এক কিশোরীকে যৌন হেনস্থা করার জের ধরেই ১৬ বছর বয়সী ওই যুগল কেলেব কুইককে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। মামলায় নিজেদের ১৭তম সাক্ষীকে তলব করার সময় কৌঁসুলিরা এসব বার্তা উপস্থাপন করেন। ক্লোভিসের প্রধান গোয়েন্দা লাভদীপ মালহি সাক্ষ্য দেন যে, তল্লাশি পরোয়ানায় ফোন জব্দের পর মাইকেল ও রেঞ্জেলের মধ্যে হওয়া এসব কথোপকথন উদ্ধার করা হয়। জুরিরা গোলাগুলির আগের ও পরের দিনের বার্তাগুলো শোনেন। সাক্ষ্য অনুযায়ী, রেঞ্জেল মাইকেলের কাছে জানতে চেয়েছিল যে কে তাকে এই কথিত হেনস্থার কথা বলেছে। মাইকেল ‘জেন ডো’ ছদ্মনামের ওই কিশোরীর কথা উল্লেখ করে জানান, মেয়েটি অতিরিক্ত মদ্যপানে অচেতন থাকার সুযোগে কুইক তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। এর জবাবে রেঞ্জেল লিখেছিলেন, "হ্যাঁ, এটি খুবই ভয়ানক ব্যাপার।" হত্যাকাণ্ডের পর মাইকেল রেঞ্জেলকে মেসেজ করে লিখেছিলেন, "বুঝতে পারছি না কেমন অনুভব করা উচিত... সত্যি বলতে আমি এখনও ঘোরের মধ্যে আছি।" তবে উদ্বোধনী বক্তব্যে মাইকেলের আইনজীবীরা দাবি করেন, কথিত ওই হেনস্থার জেরে মাইকেল যে কুইকের কোনো ক্ষতি করতে চেয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ তদন্তকারীরা পাননি। অন্যদিকে, কৌঁসুলিদের অভিযোগ, মাইকেল এই হত্যার পরিকল্পনায় সাহায্য করেছিলেন এবং রেঞ্জেলকে পালিয়ে যেতে গাড়ি চালিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কালো হুডি ও কালো সার্জিক্যাল মাস্ক পরা রেঞ্জেল কুইকের পিছু নিয়ে ম্যাকডোনাল্ডসের বাইরে তার মাথার পেছনে গুলি করেন। যদিও মুখ ঢাকা থাকায় বন্দুকধারীকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। আদালতে ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের অপরাধবিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার জনসন সাক্ষ্য দেন যে, রেঞ্জেলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সিলভার রঙের স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন রিভলবারে মাইকেল ও রেঞ্জেল দুজনেরই ডিএনএ পাওয়া গেছে। তবে মাইকেলের আইনজীবীদের যুক্তি, গাড়ির যে সিটে মাইকেল বসেছিলেন, সেখানে বন্দুকটি রাখার কারণেই তার ডিএনএ সেখানে লেগে থাকতে পারে। এছাড়া রেঞ্জেলের বাড়ির আলমারি থেকে একটি ব্যবহৃত গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়, যার দাগ উদ্ধারকৃত রিভলবারের সাথে হুবহু মিলে যায়। বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী মাইকেলের বিচার কিশোর আদালতেই চলবে, কারণ তাকে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে স্থানান্তরের আবেদন গত মে মাসে খারিজ করে দেন বিচারক। এদিকে গত জুন মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের একটি চিঠি এই মামলায় নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করে। কুইক পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ওই চিঠিতে ট্রাম্প প্রশাসন সহিংস অপরাধ দমনে এবং দেশের রাস্তাঘাট নিরাপদ রাখতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বাতিলে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ
কসকোর সামনে নারী সহকর্মীকে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে ধরতে দেখে ক্ষেপে যান তরুণ, গাড়িচাপায় হত্যা সহকর্মীকে
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করলেন মেয়র মামদানি, কার্যকর ১ অক্টোবর থেকে
নিউইয়র্কের স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত মেডিকেইড কর্মসূচিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক অডিট প্রতিবেদনে জানা গেছে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে এই কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ভুলভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে একজন রোগী তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ কতবার সেই পরীক্ষা করাতে পারবেন, তার একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তবে এই সীমা উপেক্ষা করে হাজার হাজার দাবির বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে এমন অনেক জেনেটিক পরীক্ষাও রয়েছে, যেগুলো সাধারণত মানুষের জীবনে একাধিকবার করার কোনো প্রয়োজন হয় না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এমন ৯১ হাজার ৭১৮টি দাবি শনাক্ত করা হয়েছে, যার বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ ডলারই পরিশোধ করেছে মেডিকেইড পরিচালনাকারী ম্যানেজড কেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। অডিটরদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই পরীক্ষার নির্ধারিত সীমা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি এবং তাদের দাবি যাচাই করার নিজস্ব ব্যবস্থায়ও মারাত্মক দুর্বলতা ছিল। এছাড়াও, ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য ল্যাব ও অ্যাম্বুলেটরি সেবার আরও ১১ হাজার ৪৯টি দাবির বিপরীতে প্রায় ১৮ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের এসব সেবার খরচ সাধারণত নির্ধারিত ইনপেশেন্ট প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। ফলে আলাদা করে এসব বিল পরিশোধ করায় একই সেবার জন্য অনর্থক অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। স্টেট কম্পট্রোলারের কার্যালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ ২৭৫ ধরনের ল্যাব পরীক্ষার ক্ষেত্রে আজীবন সীমা নির্ধারণ করলেও প্রকাশ্য নির্দেশিকায় মাত্র সাতটির তথ্য উল্লেখ করেছে। ফলে বাকি পরীক্ষাগুলোর সীমা সম্পর্কে ম্যানেজড কেয়ার প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের কাছে কোনো সঠিক তথ্য ছিল না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে অডিট প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে অতিরিক্ত পেমেন্টগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত আনার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে, সীমা নির্ধারিত থাকা সব ল্যাব পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ভুল পেমেন্ট ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের মেডিকেইড কর্মসূচিতে বছরে প্রায় ৯০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়। এই সুবিশাল কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের ৮০ লাখের বেশি নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন থাকা বাসিন্দা চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, অপচয় ও অপব্যবহার ঠেকাতে ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট ল্যাব পরীক্ষার সীমা কার্যকর করার জন্য সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফেডারেল সরকার যখন নিউইয়র্কের মেডিকেইড ব্যয় ও ব্যবহারের ওপর তাদের নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঠিক তখনই নতুন এই অডিট প্রতিবেদনটি প্রকাশ পেল।
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানলে ছাই ৭ শতাধিক বাড়ি, ঘরছাড়া ৬৫ হাজার বাসিন্দা
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় সবচেয়ে সস্তায় বাড়ি মিলছে? দেখে নিন ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা