সুদ ছাড়াই বাড়ি কেনা: যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তিন জনপ্রিয় মডেল
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের মধ্যে ইসলামিক বা শরিয়াহসম্মত হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে যারা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে প্রচলিত সুদভিত্তিক মর্টগেজ থেকে দূরে থাকতে চান, তাদের জন্য বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ভিডিও দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রে হালাল মর্টগেজ লোন কীভাবে কাজ করে? মুসলিমদের জন্য বাসা কেনার শরিয়াহসম্মত উপায়
বিশ্বব্যাপী ইসলামিক অর্থনীতির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও গড়ে উঠেছে শরিয়াহসম্মত অর্থায়নের একটি স্বতন্ত্র খাত। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান মুসলিম গ্রাহকদের জন্য এমন কিছু ব্যবস্থা চালু করেছে, যেগুলো সুদের পরিবর্তে সম্পদ, ভাড়া কিংবা অংশীদারিত্বভিত্তিক কাঠামোর ওপর পরিচালিত হয়।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের তিনটি প্রধান মডেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এগুলো হলো মুরাবাহা, ইজারা এবং ডিমিনিশিং মুশারাকা।
ইসলামিক অর্থনীতির মৌলিক নীতির মধ্যে অন্যতম হলো সুদ বা ‘রিবা’ পরিহার করা। একই সঙ্গে লেনদেনকে বাস্তব সম্পদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা, চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকি ও লাভের ন্যায্য বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিংয়ের বিভিন্ন মডেল এসব নীতির আলোকে তৈরি হয়েছে।
ভিডিও দেখুন:যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট ছেড়ে কেন জর্জিয়ামুখী বাংলাদেশিরা? ৫ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন আতাহার হোসেন
মুরাবাহা পদ্ধতিকে তুলনামূলকভাবে সহজ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ব্যবস্থায় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রথমে গ্রাহকের পছন্দের বাড়িটি ক্রয় করে। এরপর সেই বাড়িটি মূল মূল্য এবং পূর্বনির্ধারিত লাভ যোগ করে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয়। গ্রাহক দীর্ঘমেয়াদে কিস্তির মাধ্যমে সেই অর্থ পরিশোধ করেন।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি বাড়ির মূল্য যদি ৪ লাখ ডলার হয়, তাহলে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান সেটি কিনে নির্ধারিত লাভ যোগ করে ৫ লাখ ডলারে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারে। চুক্তির শুরুতেই মোট মূল্য নির্ধারিত থাকায় ভবিষ্যতে অর্থ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে না। তবে কিছু গবেষক ও আলেমের মতে, এই মডেলের সঙ্গে প্রচলিত ঋণ ব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত মিল রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।
ভিডিও দেখুন: নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাড়িভাড়া সংকটের মূল কারণ এবং তা থেকে উত্তরণের কার্যকর উপায়গুলো বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখুন।
অন্যদিকে ইজারা পদ্ধতি মূলত ভাড়াভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা। ‘ইজারা’ শব্দের অর্থ ভাড়া। এই মডেলে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাড়ির মালিক হিসেবে থাকে এবং গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়িটি ব্যবহার করেন। এর বিনিময়ে তিনি মাসিক ভাড়া প্রদান করেন। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়ার পাশাপাশি ধীরে ধীরে মালিকানা অর্জনের সুযোগও থাকে। নির্ধারিত সময় শেষে সম্পূর্ণ মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ইসলামিক স্কলারদের মতে, এই পদ্ধতিতে ঋণের পরিবর্তে সম্পদ ব্যবহারের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করা হয়, যা ইসলামিক অর্থনীতির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তবে চুক্তির শর্ত এবং মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং বহুল ব্যবহৃত ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং মডেল হলো ডিমিনিশিং মুশারাকা বা হ্রাসমান অংশীদারিত্ব ব্যবস্থা। অনেক ইসলামিক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ এই মডেলকে তুলনামূলকভাবে বেশি শরিয়াহসম্মত বলে মনে করেন।
এই ব্যবস্থায় বাড়ির মালিকানা শুরু থেকেই গ্রাহক ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগাভাগি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো বাড়ির মূল্য ৫ লাখ ডলার হলে এবং গ্রাহক যদি ২৫ হাজার ডলার ডাউন পেমেন্ট দেন, তাহলে তিনি শুরুতে বাড়িটির ৫ শতাংশের মালিক হবেন। বাকি ৯৫ শতাংশ মালিকানা থাকবে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে।
পরবর্তী সময়ে গ্রাহক মাসিক ভিত্তিতে দুটি অংশে অর্থ প্রদান করেন। একটি অংশ প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন অংশ ব্যবহারের জন্য ভাড়া হিসেবে এবং অন্য অংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা মালিকানা ধীরে ধীরে কিনে নেওয়ার জন্য। এর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কমতে থাকে এবং গ্রাহকের মালিকানা বাড়তে থাকে। চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ শেষে পুরো বাড়ির মালিকানা গ্রাহকের হাতে চলে আসে।
ইসলামিক ফাইন্যান্স ল্যান্ডারদের মতে, ঝুঁকি ও মালিকানা ভাগাভাগির কারণে এই মডেলটি অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থনীতির একটি বাস্তব প্রতিফলন। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং খাতে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে।
বর্তমানে Guidance Residential, UIF Corporation, Ijara Community Development Corporation (IjaraCDC), Devon Bank Islamic Financing এবং LARIBA-এর মতো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং সেবা প্রদান করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই শরিয়াহ উপদেষ্টা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাদের পণ্য ও সেবার কাঠামো নির্ধারণ করে থাকে।
তবে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং নিয়ে সব আলেম ও গবেষকের মধ্যে অভিন্ন মত নেই। কেউ কেউ এটিকে মুসলিমদের জন্য একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখেন। আবার অন্যদের মতে, কিছু মডেলের বাস্তব প্রয়োগ আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে কোনো চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, ফি, মালিকানা হস্তান্তরের পদ্ধতি এবং শরিয়াহ বোর্ডের মতামত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশ্বব্যাপী ইসলামিক অর্থনীতির সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও শরিয়াহসম্মত আর্থিক সেবার চাহিদা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আর্থিক সচেতনতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে আগামী বছরগুলোতে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং আরও বিস্তৃত হবে এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা যাচাইয়ের দীর্ঘ লাইন ও অপেক্ষার সময় কমাতে সম্প্রসারিত হচ্ছে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি। বেসরকারি পরিচয় যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ক্লিয়ার তাদের ক্লিয়ার প্লাস সেবার আওতায় চালু করেছে স্বয়ংক্রিয় ই-গেট ব্যবস্থা। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রীরা বোর্ডিং পাস স্ক্যান করে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণের সাহায্যে দ্রুত পরিচয় যাচাই করতে পারবেন। এতে প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষার সময় কমতে পারে এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট পার হওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। গত ৪ নভেম্বর ক্লিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ক্লিয়ার প্লাস সেবা চালু রয়েছে এমন অধিকাংশ বিমানবন্দরে ই-গেট প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩টি বিমানবন্দরে ক্লিয়ার প্লাস সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ফ্লোরিডার টাম্পা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তবে সব বিমানবন্দরে এখনো ই-গেট চালু হয়নি। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটির ৫৩টি বিমানবন্দরে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু ছিল। নতুন ই-গেট ব্যবস্থায় যাত্রীকে প্রথমে নিজের বোর্ডিং পাস স্ক্যান করতে হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয় গেটের সামনে দাঁড়ালে ক্যামেরা তাঁর মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পরিচয় যাচাই করবে। যাচাই সম্পন্ন হলে তিনি নিরাপত্তা তল্লাশির পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন। আগে ক্লিয়ার প্লাসের সদস্যদের নির্ধারিত কিয়স্কে পরিচয় যাচাইয়ের পর একজন ক্লিয়ার কর্মীর সহায়তায় টিএসএ কর্মকর্তার কাছে যেতে হতো। নতুন প্রযুক্তিতে এই মধ্যবর্তী প্রক্রিয়া অনেকটাই কমে আসছে। ফলে যাত্রীদের পরিচয় যাচাই আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে এই সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের সব বিমানযাত্রীর জন্য বিনামূল্যে নয়। ক্লিয়ার প্লাস মূলত অর্থের বিনিময়ে নেওয়া একটি ঐচ্ছিক সদস্যপদ। বর্তমানে এর বার্ষিক ফি ২১৯ ডলার। অর্থাৎ, যেসব যাত্রী এই সদস্যপদ নেবেন, তাঁরাই নির্ধারিত ক্লিয়ার প্লাস লেন ও ই-গেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। সদস্য না হলে যাত্রীদের প্রচলিত নিয়মে পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। ক্লিয়ারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ই-গেট ব্যবস্থায় পরিচয় যাচাই পাঁচ সেকেন্ডেরও কম সময়ে সম্পন্ন হতে পারে। তবে এটি নিরাপত্তা তল্লাশির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার সময় নয়। এদিকে ক্লিয়ার প্লাস ও টিএসএ প্রিচেক (TSA PreCheck) দুটি আলাদা সেবা হলেও যাত্রীরা চাইলে একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন। ক্লিয়ার প্লাস মূলত পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নির্ধারিত দ্রুতগতির লেন ব্যবহারের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, টিএসএ প্রিচেকের সদস্যরা তুলনামূলক সহজ নিরাপত্তা তল্লাশির সুবিধা পান। সাধারণত এ সুবিধায় জুতা, বেল্ট ও হালকা জ্যাকেট না খুলে এবং ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ বের না করেই নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়। দুটি সেবা একসঙ্গে ব্যবহার করলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট পার হতে আরও বেশি সময় সাশ্রয় হতে পারে। তবে ক্লিয়ার প্লাসের সদস্য হলেই টিএসএ প্রিচেকের সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। টিএসএ প্রিচেকের পাঁচ বছরের সদস্যপদ ফি সাধারণত ৮৫ ডলার বা তার কম হতে পারে। নিবন্ধন প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে এ ফি পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে, ক্লিয়ার প্লাসের সদস্যপদ প্রতিবছর নবায়ন করতে হয়। কিছু ভ্রমণসংক্রান্ত ক্রেডিট কার্ডে ক্লিয়ার প্লাস, টিএসএ প্রিচেক কিংবা গ্লোবাল এন্ট্রির ফি ফেরতের সুবিধা রয়েছে। তাই নতুন সদস্যপদ নেওয়ার আগে নিজের ক্রেডিট কার্ডের সুবিধাগুলো যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে ক্লিয়ার তাদের ই-গেট প্রযুক্তি চালু করে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরে পরিচয় যাচাইয়ের প্রচলিত পদ্ধতিকে আরও স্বয়ংক্রিয় ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলেও যাত্রীদের টিএসএর নির্ধারিত নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় না। অর্থাৎ, নতুন প্রযুক্তির মূল সুবিধা হলো পরিচয় যাচাইয়ের ধাপ দ্রুত করা, নিরাপত্তা পরীক্ষা বাদ দেওয়া নয়।
১৫ লাখ ডলারের দলিল জালিয়াতিতে দোষ স্বীকার, চার অঙ্গরাজ্যের জমি ছিল নিশানায়
নিউইয়র্ক জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে দ্রুত নামাজ চালুর আশাবাদ কর্তৃপক্ষের, ভোগান্তিতে দুঃখ প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, তাই ডাক্তার দেখাচ্ছেন না? হাতের কাছেই রয়েছে অনেক ফ্রি ক্লিনিক
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্যবিমা না থাকা কিংবা বিমা থাকার পরও অতিরিক্ত খরচের ভয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন না অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনেকের বিমা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ, রক্ত পরীক্ষা কিংবা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার জন্য নিজের পকেট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে হয়। ফলে অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও এড়িয়ে চলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে রয়েছে বিনা মূল্যে কিংবা স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ। বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, মসজিদ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং অলাভজনক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এসব সেবা পরিচালনা করে। কোথাও নিয়মিত চিকিৎসক দেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট দিনে ফ্রি ক্লিনিক পরিচালিত হয়। আটলান্টায় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও রয়েছে এমন উদ্যোগ। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা জর্জিয়া চ্যাপ্টারের BMANA-GA Free Clinic-এর মাধ্যমে বিমাহীন মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবার সুযোগ রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে এখানে পরামর্শ নেওয়া যায়। পাশাপাশি Quest Diagnostics এর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ল্যাব পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। আটলান্টার আল-ফারুক মসজিদেও স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকদের উদ্যোগে বিনা মূল্যে ক্লিনিক পরিচালিত হয়। আটলান্টা জর্জিয়া থেকে শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি একবার সেলফপে করে চিকিৎসক দেখিয়েছেন কিন্তু রক্ত পরীক্ষার জন্য প্রায় এক হাজার ডলারের সম্ভাব্য ব্যয়ের কথা জানতে পারেন তিনি। পরে ফ্রি ক্লিনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগারের ছাড়ের ব্যবস্থায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ডলারে পরীক্ষাগুলো করানো হয়। এ ধরনের সুযোগ থাকলেও পরীক্ষাভেদে খরচ পরিবর্তিত হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিতে রয়েছে Charles B. Wang Community Health Center। এখানে সাধারণ চিকিৎসা, শিশু ও নারীস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। আয় অনুযায়ী চিকিৎসার খরচ কমানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ছাড়া NYC Care কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য বিমাহীন নিউইয়র্কবাসীরা আয়ভিত্তিক খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন। যোগাযোগ: 646-692-2273। বাফেলোতে রয়েছে Lighthouse Free Medical Clinic। 34 Benwood Avenue, Buffalo, NY 14214 ঠিকানায় অবস্থিত এই ক্লিনিকে বিমাহীন ও অপর্যাপ্ত বিমার আওতায় থাকা মানুষ বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিতে পারেন। শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্লিনিকটি পরিচালিত হয়। ফোন: 716-222-0805। এ ছাড়া বাফেলোর Jericho Road Community Health Center-এ বিমাহীন ও স্বল্প আয়ের মানুষ আয়ভিত্তিক ছাড়ে চিকিৎসা নিতে পারেন। 1021 Broadway, Buffalo, NY 14212 ঠিকানায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলা ভাষায় সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফোন: 716-529-3020। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও এসব সুযোগ সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। পাশাপাশি নিজের এলাকার মসজিদ, বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে স্থানীয় ফ্রি ক্লিনিকের তথ্য পাওয়া সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রে কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুঁজতে সরকারি ওয়েবসাইট HRSA Find a Health Center (findahealthcenter.hrsa.gov) ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে নিজের শহরের নামের সঙ্গে Free Clinic অথবা Community Health Center লিখেও অনুসন্ধান করা সম্ভব। স্বাস্থ্যবিমা নেই বলে চিকিৎসা থেকে দূরে থাকার আগে এসব বিকল্প সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা। সঠিক তথ্য জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই বিনা মূল্যে কিংবা স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিন অঙ্গরাজ্যে তিন আসামির মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর
ফ্লোরিডায় জেট দুর্ঘটনায় নিহত তরুণ কো-পাইলট নাথালিয়া, শেষ বেতারবার্তা বারবার শুনছেন বাবা
নিউজার্সিতে মা খু নের ৫ মাস পর সেই বাড়িতে আবারও পুলিশের তল্লাশি, আতঙ্কে প্রতিবেশীরা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মানাটি কাউন্টিতে চার্চের অনুদানের চেক চুরির এক বিশাল প্রতারণাচক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ডাকযোগে পাঠানো অনুদানের চেক চুরি করে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার মানাটি কাউন্টি শেরিফ অফিস এই বিশাল জালিয়াতির তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের (২০২৫) ডিসেম্বরে। লেকউড র্যাঞ্চ এলাকার হার্ভেস্ট ইউনাইটেড মেথডিস্ট চার্চের একজন যাজক প্রথম লক্ষ্য করেন যে, চার্চের ঠিকানায় আসা ডাক বা চিঠিপত্রের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এরপর চার্চের সদস্যরাও তাদের দেওয়া মাসিক অনুদানের চেকগুলো সঠিক জায়গায় পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের পাঠানো চেকগুলো চুরি করে অন্য ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। একটি চার্চের অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া এই তদন্ত কয়েক মাস ধরে চলার পর এক বিশাল প্রতারণাচক্রের রূপ উন্মোচিত হয়, যেখানে ২০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে মানাটি কাউন্টির অন্তত ১৭টি চার্চ এই প্রতারণার শিকার হয়েছে। অপরাধীরা চার্চের সদস্যদের পাঠানো চেকগুলো চুরি করে মূলত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাকাউন্টে জমা করত। ডিজিটাল এই লেনদেন প্রক্রিয়ার কারণেই তাদের জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। চার্চের নিয়মিত অনুদানের বিষয়টিকে পুঁজি করেই তারা এই নিখুঁত প্রতারণার ফাঁদ পাতে। কারণ, সদস্যরা ভাবতেন তাদের টাকা যথারীতি চার্চে পৌঁছেছে, আর চার্চ কর্তৃপক্ষেরও সাধারণত এসব চেক হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক সন্দেহ করার কারণ ছিল না। এখন পর্যন্ত মানাটি কাউন্টিতে ৬৬ জন ভুক্তভোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু এই কাউন্টিতেই ১০৭টি চেক চুরির মাধ্যমে ৭২ হাজার ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাউন্টির বাইরে আরও ২৬৮টি চেক চুরির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ডলার আত্মসাৎ করেছে চক্রটি। মানাটি কাউন্টি শেরিফ অফিস, ইউ.এস. পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস এবং পার্শ্ববর্তী হিলসবরো ও পাস্কো কাউন্টি পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত আটজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতারণা, গ্র্যান্ড থেফট বা বড় ধরনের চুরি, জালিয়াতি এবং ব্যক্তিগত পরিচয় চুরির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও আরও সাতজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, যাদের কয়েকজন মিয়ামি এবং অন্তত একজন কিউবায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিউইয়র্ক বাফেলোতে প্রথমবার বাড়ি কিনলে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ
জেফ বেজোসের চুল প্রতিস্থাপনের ছবি ভাইরাল, অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য