ফুড স্ট্যাম্পে সোডা-ক্যান্ডি কেনার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে আদালতের বাধা
যুক্তরাষ্ট্রে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (এসএনএপি) বা ফুড স্ট্যাম্পের সুবিধা ব্যবহার করে চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় কেনার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালত।
সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক অ্যামি বারম্যান জ্যাকসন রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ফেডারেল আইনের আওতায় অঙ্গরাজ্যগুলোর এমন অনুরোধ অনুমোদনের ক্ষমতা রাখে না। ফলে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এসএনএপি সুবিধাভোগীদের জন্য কার্যকর হতে যাওয়া খাদ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আপাতত বাস্তবায়ন করা যাবে না।
মামলাটি করেছিলেন কলোরাডো, আইওয়া, নেব্রাস্কা, টেনেসি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার পাঁচজন এসএনএপি সুবিধাভোগী। তাদের অভিযোগ ছিল, নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে খাদ্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে এবং অনেক পরিবার তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহে সমস্যার মুখে পড়বে।
আদালতে দাখিল করা নথিতে বাদীরা উল্লেখ করেন, তাদের কেউ কেউ ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থার কারণে নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের ওপর নির্ভরশীল। আবার কারও ক্ষেত্রে দৈনন্দিন কাজের জন্য অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন মেটাতে এসব পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর আগে ইউএসডিএ ২৩টি অঙ্গরাজ্যকে বিশেষ অনুমতি বা ‘ওয়েভার’ দিয়েছিল, যার মাধ্যমে এসএনএপি সুবিধা ব্যবহার করে সফট ড্রিংক, ক্যান্ডি এবং অন্যান্য উচ্চ-চিনিযুক্ত পণ্য কেনার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের সুযোগ তৈরি হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় শুরু হওয়া এবং পরে ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ (মাহা) উদ্যোগের অংশ হিসেবে আলোচিত এই নীতিকে সমর্থন দিয়েছিলেন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র।
রায়ে বিচারক জ্যাকসন বলেন, সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলো জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উৎসাহিত করতে পারে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আইন এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক বিধিমালা লঙ্ঘন করা যাবে না।
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ল অ্যান্ড ইকোনমিক জাস্টিসের আইনজীবী ক্যাথারিন ডিবলার-মিডোস বলেন, আদালতের রায় দেশজুড়ে এসএনএপের ওপর নির্ভরশীল লাখো পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় অগ্রগতি।
অন্যদিকে ইউএসডিএ রায়ের পর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে অস্বাস্থ্যকর খাবার কেনা নিরুৎসাহিত করার প্রচেষ্টা তারা অব্যাহত রাখবে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ এসএনএপি কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন। কর্মসূচিটি ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হলেও এর বাস্তবায়নে অঙ্গরাজ্য সরকারগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আদালতের সর্বশেষ রায়ের ফলে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন থাকা সত্ত্বেও টেনেসির রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হয়েছেন কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস। ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে সাবেক অঙ্গরাজ্য কৃষি কমিশনার চার্লি হ্যাচারের কাছে প্রায় ৬ শতাংশ ব্যবধানে হেরে যান তিনি। মুসলিমদের নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েক মাস ধরে সমালোচনার মুখে ছিলেন ওগলস। ওগলস ২০২২ সালে প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হন এবং পরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান। এবারের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওগলসকে সমর্থন করেন। এমনকি তার পক্ষে প্রচারণামূলক টেলিফোন সমাবেশেও অংশ নেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসনও ওগলসকে সমর্থন করেছিলেন। তবে রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে শেষ পর্যন্ত জয় পাননি ওগলস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী চার্লি হ্যাচার টেনেসির সাবেক কৃষি কমিশনার। রাজ্যের গভর্নর বিল লিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা হ্যাচারকে সমর্থন করেছিলেন। ওগলসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি ছিল মুসলিমদের নিয়ে তার মন্তব্য। চলতি বছরের ৯ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “Muslims don’t belong in American society. Pluralism is a lie.” অর্থাৎ, “মুসলিমরা আমেরিকান সমাজের অংশ নয়। বহুত্ববাদ একটি মিথ্যা।” তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মুসলিম অধিকার সংগঠন, নাগরিক অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্যটির নিন্দা জানান। তার নির্বাচনী এলাকাতেও বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে ওই এলাকার একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের মুখে মুসলিমদের আমেরিকান সমাজে জায়গা নেই বলে মন্তব্য ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ওগলস এর আগেও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে মার্চে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে কংগ্রেসেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য শ্রী থানেদার ওগলসের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কারের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে ওগলসের পরাজয়ের একমাত্র কারণ তার মুসলিমদের নিয়ে মন্তব্য ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। নির্বাচনী এলাকার নতুন সীমানা, প্রার্থীদের স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থন এবং রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন করার পরও তার পছন্দের প্রার্থী নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তবে হ্যাচারও ট্রাম্পের নীতির সমর্থক হওয়ায় ওগলসের পরাজয়কে সরাসরি ট্রাম্পবিরোধী ভোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। অ্যান্ডি ওগলসের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে গেলেন চার্লি হ্যাচার। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী চাজ মোল্ডারের সঙ্গে। ওগলসের মুসলিমদের নিয়ে করা মন্তব্যের পর যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই নির্বাচনে এই পরাজয় যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নিয়ে আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে নির্বাচনের ফলকে কোনো একটি বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার আগে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অন্যান্য নির্বাচনী কারণও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
লাস ভেগাসে ট্রাম্পের চুল নিয়ে নতুন করে তুমুল আলোচনা, সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে মিম
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিএ বিরুদ্ধে রায় দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, টার্গেট করা হয়েছে বিচারকের পরিবারকেও
চীনের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণ করছেন ইলন মাস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাড়ির মালিক তাদের মর্টগেজ ঋণের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ করছেন। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্যাংকরেটের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে একজন ঋণগ্রহীতা বছরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করছেন। দীর্ঘমেয়াদে ৩০ বছরের একটি মর্টগেজ ঋণে এই অতিরিক্ত ব্যয় গড়ে ৭৮ হাজার ১৮৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে। নিউজউইকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নেওয়া ৩২ লাখ মর্টগেজ ঋণের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যাংকরেট এ ফলাফল প্রকাশ করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৮৭ শতাংশ বাড়ি ক্রেতা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বাজারে উপলব্ধ সর্বনিম্ন সুদের হার পাননি। কারণ, অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব তুলনা না করেই একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ঋণদাতারাও সাধারণত গ্রাহককে আরও ভালো বিকল্পের কথা জানান না। গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে নেওয়া সব মর্টগেজ ঋণ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণগ্রহীতারা বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করছেন। ব্যাংকরেট এই অতিরিক্ত ব্যয়কে "গোপন বাড়ির মালিকানা কর" হিসেবে উল্লেখ করেছে। ব্যাংকরেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গবেষণার প্রধান লেখক ম্যাট ফেলোস বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তবে শুধু বাজার পরিস্থিতিই নয়, ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়াও অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য দায়ী। তার ভাষায়, প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার বাজারে রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা সেই সুযোগ সম্পর্কে জানতেই পারেন না। তিনি বলেন, ঋণদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হলে একজন গ্রাহক গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৭৯ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন। এই অর্থ অনেক পরিবারের জন্য বাড়ি কেনার সক্ষমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের হার অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। পেনসিলভানিয়ায় প্রায় ৯০ দশমিক ২ শতাংশ ঋণগ্রহীতা বছরে গড়ে ৩ হাজার ডলার বেশি দিচ্ছেন। ওরেগনে এই হার ৯০ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ডলার। অন্যদিকে আইওয়া, কলোরাডো, অ্যারিজোনা ও সাউথ ডাকোটায় তুলনামূলকভাবে কম মানুষ অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছেন। তবে ঋণের মোট অঙ্কের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত ব্যয়ের হার সবচেয়ে বেশি নিউ হ্যাম্পশায়ার, ইলিনয়, নিউ জার্সি ও ফ্লোরিডায়। ব্যাংকরেটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক শহরে ঋণগ্রহীতারা তাদের প্রকৃত যোগ্যতার তুলনায় বেশি সুদের হারে ঋণ নিচ্ছেন। এর পেছনে স্থানীয় বাজারে সীমিত প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন ঋণদাতার প্রস্তাব তুলনা না করার প্রবণতা বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব। মর্টগেজ গ্রহণের আগে একাধিক ব্যাংক বা ঋণদাতার কাছ থেকে প্রস্তাব সংগ্রহ করে সুদের হার, ফি এবং অন্যান্য শর্ত তুলনা করা উচিত। একাধিক প্রস্তাব থাকলে গ্রাহক নিজের পছন্দের ঋণদাতার সঙ্গে আরও কম সুদের হার নিয়ে আলোচনার সুযোগও পান। মর্টগেজ খাতের গবেষক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ আলেক্সেই আলেকসান্দ্রভ বলেন, অনেকেই মনে করেন সব ঋণদাতা একই সুদের হার দেন। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। সুদের হারে মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পার্থক্যও দীর্ঘমেয়াদে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে। এদিকে ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজের গড় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশে। এটি জুলাই ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকরেট দুটি নীতিগত পরিবর্তনেরও প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, প্রতিটি মর্টগেজ প্রস্তাবের সঙ্গে একই ধরনের যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রাহকদের জন্য প্রচলিত মানদণ্ডের সুদের হার উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বহু ঋণদাতা প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সনদ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। ব্যাংকরেটের দাবি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে নতুন কোনো সরকারি কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না।
পছন্দের নারীকে জড়িয়ে ধরায় সহকর্মীকে গাড়ির ধাক্কায় হত্যা করলেন কস্টকো কর্মী
মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকে যায় গাছের ডাল, অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি
সমুদ্রের পথ হারিয়ে সৈকতে উঠে এসেছিল ৭৫টি কচ্ছপশাবক, উদ্ধার করে সাগরে ফিরিয়ে দিলেন ফ্লোরিডার কর্মকর্তারা
অভিজ্ঞ সামরিক বৈমানিকদের চাকরিতে ধরে রাখতে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী। নতুন কর্মসূচির আওতায় যোগ্য কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সক্রিয় দায়িত্বে থাকার অঙ্গীকার করলে নৌবাহিনীতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং সেনাবাহিনীতে সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ডলার পর্যন্ত বোনাস পেতে পারেন। মার্কিন নৌবাহিনীর ২৬ জুলাই প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা দক্ষ নেভাল এভিয়েটর এবং নেভাল ফ্লাইট অফিসারদের চাকরিতে ধরে রাখাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। যেসব কর্মকর্তা নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন, তারাই এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। নীতিমালায় বলা হয়েছে, অভিজ্ঞ বৈমানিকদের দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই তাদের সক্রিয় দায়িত্বে ধরে রাখাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিলিটারি টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় দুই বা তিন বছরের নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে। দুই বছরের চুক্তিতে বছরে ১৮ হাজার ৫০০ ডলার করে মোট ৩৭ হাজার ডলার দেওয়া হবে। তিন বছরের চুক্তিতে বছরে ৪৩ হাজার ডলার হিসেবে মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার পাওয়া যাবে। এ ছাড়া সমুদ্রে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা অতিরিক্ত সমুদ্র ভাতা হিসেবে আরও অর্থ পাবেন। দুই বছরের চুক্তিতে বছরে অতিরিক্ত ১০ হাজার ডলার এবং তিন বছরের চুক্তিতে বছরে ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হবে। সব ভাতা মিলিয়ে যোগ্য সদস্যদের মোট প্রণোদনা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই কর্মসূচিতে আবেদন করার শেষ সময় ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট। অন্যদিকে টাস্ক অ্যান্ড পারপাস প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীও অভিজ্ঞ বৈমানিকদের চাকরিতে ধরে রাখতে নতুন বোনাস কর্মসূচি চালু করেছে। ২৬ জুলাইয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ পাইলটরা সর্বোচ্চ ছয় বছরের জন্য সক্রিয় দায়িত্বে থাকার অঙ্গীকার করলে অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানের সফলতার জন্য দক্ষ বৈমানিকদের ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বৈমানিকদের সংখ্যা ও প্রয়োজন নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং সেই অনুযায়ী ভবিষ্যতে বোনাস কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব পাইলটের চাকরির মেয়াদ ১২ থেকে ১৪ বছর, তারা আরও তিন বছরের জন্য চুক্তি করলে ৭৫ হাজার ৬০০ ডলার পর্যন্ত বোনাস পাবেন। এ ছাড়া অন্তত ১৮ বছর চাকরি করা ওয়ারেন্ট অফিসাররা চার, পাঁচ অথবা ছয় বছরের নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯ হাজার ৮৮০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ পেতে পারেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিজ্ঞ বৈমানিক ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে দক্ষ পাইলটের চাহিদা বৃদ্ধি এবং উচ্চ বেতনের কারণে অনেক সামরিক পাইলট অবসরের আগেই বেসরকারি খাতে চলে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সেই প্রবণতা কমাতে এবং প্রশিক্ষিত বৈমানিকদের দীর্ঘ সময় বাহিনীতে রাখতে এই ধরনের আর্থিক প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পর কনেকে হত্যা, তিন বছর পর প্রকাশ্যে এলো অভিযুক্তের নতুন ভিডিও
যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেল ৬৫ মিলিয়ন ডলার, আইনি সহায়তা পাবে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুরা