যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্বের আবেদন ফি ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বর্তমানে কাগজে আবেদন করার জন্য যে ৭৬০ ডলার ফি দিতে হয়, তা বেড়ে হবে ১ হাজার ৩৩০ ডলার।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) সোমবার ফেডারেল রেজিস্টারে এই প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশ করেছে। নিয়মটি এখন জনমত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে এটি অনুমোদিত হলে প্রকাশের অন্তত ৬০ দিন পর কার্যকর হতে পারে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, নাগরিকত্বসংক্রান্ত কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আপিল বোর্ডে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে বর্তমানে ৮৩০ ডলার ফি দিতে হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই ফি বেড়ে হবে ১ হাজার ৪৭৫ ডলার, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৭৮ শতাংশ বেশি।
এছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদন ফি মওকুফের সুবিধাও বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বর্তমানে এবং সাবেক মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আগের মতোই এই ফি থেকে অব্যাহতি পাবেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বর্তমানে আদায় করা ফি নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই-বাছাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ের পুরোটা বহন করতে পারছে না। তাই আবেদন প্রক্রিয়ার প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) মূলত আবেদনকারীদের কাছ থেকে আদায় করা ফি দিয়েই পরিচালিত হয়। সংস্থাটি করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভরশীল নয়।
এদিকে নিউইয়র্কভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী রোসানা বেরার্দি এবিসি নিউজকে বলেন, আবেদন ফি বৃদ্ধি, ফি মওকুফের সুযোগ কমানো এবং আবেদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসনের পথকে আরও ব্যয়বহুল ও কঠিন করে তুলতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে আবেদনকারীদের সাধারণত প্রথমে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হতে হয় অথবা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। এরপর পটভূমি যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং নাগরিকত্ব পরীক্ষাসহ একাধিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হয়।
সূত্র: এবিসি নিউজ ও মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রস্তাবিত নিয়ম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। জুলাই মাসে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে। এক মাসে আইসিইর গ্রেফতারের হিসাবে এটি নতুন রেকর্ড। জুনে প্রায় ৪৩ হাজার গ্রেফতারের আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে জুলাইয়ের সংখ্যা। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলাইয়ে প্রায় ৫১ হাজার গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একাধিক ফেডারেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইসিই। ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বাড়ানোর মধ্যেই এই রেকর্ড হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইসিইকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গ্রেফতারের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আগে বলেছে, আইসিইর কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার কোটা নেই। জুলাইয়ের অভিযান শুধু বাসাবাড়ি বা কর্মস্থলে সীমাবদ্ধ ছিল না। এয়ারপোর্ট, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন অফিস এবং ট্রাফিক স্টপেও গ্রেফতার চালিয়েছে ফেডারেল এজেন্টরা। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এয়ারপোর্টে নজরদারি বাড়ানোর তথ্য সামনে এসেছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪০ জন অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো, মায়ামি ও মিসৌরির কানসাস সিটির এয়ারপোর্টে গেট ও টিকিট কাউন্টারের কাছেও ফেডারেল এজেন্টদের গ্রেফতার অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে। তবে রেকর্ড গ্রেফতারের পাশাপাশি কাদের আটক করা হচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য অপরাধের রেকর্ড থাকা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে জুলাইয়ের শুরুর দিকের ডিটেনশন তথ্য বিশ্লেষণ করে স্টেটলাইন জানিয়েছিল, আইসিই হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমের ক্রিমিনাল কনভিকশন ছিল। দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, তারা ওই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। জুলাইয়ের অভিযানকে ঘিরে ট্রাফিক স্টপও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো এবং মেইনে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোয়ান সেবাস্তিয়ান গেরেরো এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। দুটি ঘটনাই ট্রাফিক স্টপের সময় ঘটে। গেরেরোর ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, জননিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে একজন আইসিই অফিসার গুলি চালান। সালগাদো আরাউহোর ঘটনায় সংস্থাটির দাবি, আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়েছিল। এসব ঘটনার পর ট্রাফিক স্টপ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন গ্রেফতার নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ বাড়ে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণহানির পর ট্রাফিক স্টপ সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি তিনি ট্রাফিক স্টপকে আইসিইর গুরুত্বপূর্ণ এনফোর্সমেন্ট টুল হিসেবে উল্লেখ করে এটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। চলতি বছরের শুরুতে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে আইসিইর অভিযান কিছুটা ধীর হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলোতে আবার গ্রেফতার বাড়তে শুরু করে। জুনে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে আইসিই ডিটেনশনে নেওয়ার পর জুলাইয়ে সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যায়। রেকর্ড গ্রেফতারের পেছনে আইসিইর জনবল ও অর্থায়ন বৃদ্ধিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফেডারেল সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নতুন হাজারো এজেন্ট নিয়োগ এবং ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ফলে দেশজুড়ে অভিযান আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হয়েছে। জুলাইয়ের ৫১ হাজার গ্রেফতার দেখাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এখন আরও বড় পরিসরে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে এয়ারপোর্ট ও ট্রাফিক স্টপের মতো জায়গায় অভিযান বিস্তৃত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য আইসিইর এনফোর্সমেন্টের পরিধিও আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা সমগ্র মানবজাতির যৌথ দায়িত্ব: প্রেসিডেন্ট এরদোগান
সাগরে দীর্ঘ ২৫০ দিনের বন্দিদশা: তীব্র মানসিক অবসাদে রণতরীতে একের পর এক মার্কিন সেনার আত্মহত্যার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার হলে পুলিশের করণীয় নির্ধারণ করলো ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাসহ অন্তত পাঁচ অঙ্গরাজ্যে সমাধিসৌধে ঢুকে মৃত স্বজনদের সঙ্গে রাখা গয়না ও পারিবারিক স্মারক চুরির অভিযোগে তিনজনকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন তিনজনই ইন্ডিয়ানাপোলিসের বাসিন্দা। তারা ফ্লোরিডা, ওকলাহোমা, নিউইয়র্ক, টেক্সাস ও জর্জিয়ার বিভিন্ন কবরস্থানকে লক্ষ্য করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় সন্দেহভাজন হিসেবে ড্রেক মিলাম, পরশে ব্যাংক্রফট ও অ্যাঞ্জেলা গ্যারেটের নাম প্রকাশ করেছে। তদন্তকারীদের হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে ফ্লোরিডার অরেঞ্জ, সেমিনোল ও হিলসবরো কাউন্টি এবং উইন্টার পার্ক শহরে প্রায় ২০টি চুরির ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ৩৫ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা মূলত সমাধিসৌধের এমন কুঠুরি বা স্থানকে লক্ষ্য করত, যেখানে মৃত ব্যক্তিদের দাহ করা দেহাবশেষ রাখা হয়। এসব কুঠুরির ভেতরে থাকা গয়না ও প্রয়াত স্বজনের স্মৃতি হিসেবে পরিবারের সদস্যদের রাখা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। কিছু ঘটনার সময়ের দৃশ্য নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এসব ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় অবস্থান করতে পারেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা ঘটনাটিকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, মৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চুরি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, আরও অনেক পরিবার এই চুরির শিকার হয়ে থাকতে পারে, যারা এখনো বিষয়টি জানতে পারেনি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে স্বজনের সমাধিস্থল পরিদর্শন না করা পরিবারগুলোকে সেখানে গিয়ে কোনো জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি না, তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও সমাধিস্থল থেকে গয়না বা অন্য কোনো পারিবারিক স্মারক চুরি হয়ে থাকলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাতে হবে। তিন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার কবর বা সমাধি থেকে সামগ্রী অপসারণ এবং বড় ধরনের চুরির অভিযোগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তথ্য দিতে ক্রাইমলাইন নম্বরে ৮০০-৪২৩-টিপস (৮৪৭৭) যোগাযোগ করা যাবে।
ইরাকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে ১ অক্টোবরকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বললেন প্রধানমন্ত্রী
ফ্লোরিডায় সম্পত্তি কর কমানোর প্রস্তাব পাস হলে ক্লিয়ারওয়াটারে বিলুপ্ত হতে পারে প্রায় ১৪০ চাকরি
বাংলাদেশি ও আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক যোগাযোগ জোরদারে নতুন উদ্যোগ
জাপানের দাবি করা বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপে প্রথমবারের মতো সফর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবারের এই সফরের পরপরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টোকিও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলছে। রাশিয়ায় দ্বীপটির নাম ইতুরুপ, আর জাপানে এটি এতোরোফু নামে পরিচিত। জাপানের উত্তরের প্রধান দ্বীপ হোক্কাইডোর কাছে অবস্থিত এই দ্বীপটি কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ অংশে পড়ে। টোকিও যে চারটি দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটোরিজ’ বলে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে, ইতুরুপ তার অন্যতম। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এক বিবৃতিতে বলেন, এতোরোফুসহ নর্দার্ন টেরিটোরিজ ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে জাপানের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড। পুতিনের সফরের বিরুদ্ধে জাপান ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সফরে পুতিন ইতুরুপের ইয়াসনি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ঘুরে দেখেন। সেখানে মাছ ধরার শিল্প ও মাছের চলাচল নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয় মাছের ডিমও স্বাদ নেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তিনি একটি হাসপাতাল ও স্কুলও পরিদর্শন করেন এবং সাখালিন অঞ্চলের গভর্নর ভ্যালেরি লিমারেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠক করেন। রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এই সফরকে পুতিনের কুরিল দ্বীপপুঞ্জে প্রথম সরাসরি সফর হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে ২০১০ সালে তৎকালীন রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ কুনাশির দ্বীপে গিয়েছিলেন। ২০২১ সালে তৎকালীন রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন ইতুরুপ সফর করলেও তখনও জাপান কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের কাছ থেকে কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণের চারটি দ্বীপ দখল করে। জাপান এখনো এতোরোফু, কুনাশিরি, শিকোতান ও হাবোমাই দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে। এই বিরোধের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আট দশকেরও বেশি সময় পরও রাশিয়া ও জাপান আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেনি। পুতিনের সফরটি এমন সময় হলো, যখন পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। ইতুরুপ যাওয়ার আগে তিনি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের সাখালিন অঞ্চলে প্যাসিফিক ফ্লিটের বড় সামরিক মহড়ার চূড়ান্ত পর্ব পর্যবেক্ষণ করেন। এর এক দিন আগে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র উত্তর কোরিয়াও কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব দিকের জলসীমার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কুরিল দ্বীপপুঞ্জে কয়েক দশক ধরেই রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো সেখানে সামরিক অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে পুতিনের এই সফর শুধু প্রতীকী নয়, দীর্ঘদিনের ভূখণ্ড বিরোধে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এদিকে জাপানও তার দাবি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে পুতিনের প্রথম সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ড বিরোধকে নতুন করে সামনে আনল এবং মস্কো-টোকিও সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীর কাছে বন্দুক, ক্যাম্পাস লকডাউন
আগস্ট থেকে অনেক বাংলাদেশীর ইবিটি সুবিধা বন্ধের ঝুঁকি, রয়েছে নতুন ৩ শর্ত