যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংকট কোন পথে? নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে ‘রেড কার্ড’ প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। একদিকে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযান ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, অন্যদিকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা লাখো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনে অভিবাসন সংস্কার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজন নীতিনির্ধারক ও গবেষক ‘রেড কার্ড’ নামে একটি বিকল্প কর্মসূচির প্রস্তাব সামনে এনে বলছেন, বর্তমান সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে হলে প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে নতুন পথ খুঁজতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংকট কোনো একক প্রশাসনের সৃষ্টি নয়। কয়েক দশক ধরে আইন প্রয়োগে অসঙ্গতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং কংগ্রেসের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার ফলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসীর একটি অংশ মনে করেন, তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ফেডারেল সরকারের অনুমোদন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশে প্রবেশ করেছেন। বিশেষ করে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থা, মানবিক প্যারোল কর্মসূচি এবং অন্যান্য অস্থায়ী ব্যবস্থার আওতায় অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পান। ফলে এখন তাদের অনেকের দাবি, তাদের অবস্থানকে সরলভাবে ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা আইনি ও নৈতিক দুই দিক থেকেই জটিল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েক মিলিয়ন মানুষের বিরুদ্ধে একযোগে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, বাস্তবিক অর্থেও অত্যন্ত কঠিন। অভিবাসন আদালতগুলো ইতোমধ্যেই কয়েক মিলিয়ন মামলার জটে আটকে আছে। এর মধ্যে নতুন করে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান শুরু হলে বিচারিক ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে।
অন্যদিকে আইসের জনবল ও সম্পদও সীমিত। ফলে কোন অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহিষ্কারের আওতায় আনা হবে এবং কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও নীতিগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই আলোচনার মধ্যেই আবার সামনে এসেছে ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) কর্মসূচি। শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা অনথিভুক্ত তরুণদের সাময়িক সুরক্ষা দিতে চালু হওয়া এই কর্মসূচি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকলেও কংগ্রেস এখনো এর স্থায়ী আইনি সমাধান করতে পারেনি। ফলে লাখো ডাকা সুবিধাভোগী এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রেই বড় হয়েছেন, পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি অবস্থান এখনও ঝুলে আছে।
এই প্রেক্ষাপটে কিছু নীতিনির্ধারক আবারও সামনে আনছেন তথাকথিত ‘রেড কার্ড’ মডেল। ২০১২ সালে অভিবাসন সংস্কারবিষয়ক গবেষক হেলেন ক্রিয়েবল প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করেন। পরে সাবেক হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচসহ কয়েকজন রক্ষণশীল নেতা এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।
রেড কার্ড ধারণার মূল ভিত্তি হলো নাগরিকত্বের পথ থেকে আলাদা একটি বৈধ কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থা তৈরি করা। এই মডেলে যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত নন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করতে চান, তারা নিবন্ধনের মাধ্যমে কাজের অনুমতি পেতে পারেন। তবে এই অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা মার্কিন নাগরিকত্বের পথ খুলে দেবে না।
সমর্থকদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে আইস তাদের সীমিত জনবল ও সম্পদ সহিংস অপরাধী, মাদক চক্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে। একই সঙ্গে অনথিভুক্ত হলেও কর্মরত লাখো মানুষ বৈধ কর্মসংস্থানের আওতায় আসবেন এবং কর ব্যবস্থার মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।
রেড কার্ড মডেলের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি বেসরকারি খাতনির্ভর। প্রস্তাব অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কর্মসংস্থান সংস্থাগুলো অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা, নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। এতে সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় কমবে বলে সমর্থকদের দাবি।
প্রস্তাবটির সমর্থকরা আরও বলছেন, অংশগ্রহণকারীদের বায়োমেট্রিক পরিচয় নিবন্ধন, নিরাপত্তা যাচাই এবং বাজারদরের সমপরিমাণ মজুরি নিশ্চিত করা হলে মার্কিন শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও কমবে।
তবে সমালোচকদের আপত্তিও রয়েছে। তাদের মতে, রেড কার্ড পরিকল্পনা কার্যকর হলে একটি নতুন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী শ্রমিক শ্রেণি তৈরি হতে পারে, যারা বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করলেও স্থায়ী নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে হলে বৈধ স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্বের একটি সুস্পষ্ট পথও থাকতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিতর্ক বর্তমানে দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে আটকে আছে। এক পক্ষ অধিকাংশ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দেশে থাকার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে, অন্য পক্ষ দ্রুত ও ব্যাপক বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্ভবত এই দুই অবস্থানের মাঝামাঝি কোনো সমাধানের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, কৃষি, নির্মাণ, আতিথেয়তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সেবা খাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে অভিবাসী শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন শ্রমবাজার, ব্যবসা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলে প্রশ্ন এখন শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা বা আইসের অভিযান নিয়ে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে কী ধরনের অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, সেটিও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস যদি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে না পারে, তাহলে ডাকা কর্মসূচি, আইসের অভিযান এবং লাখো অভিবাসীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আগামী বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও জননীতির অন্যতম প্রধান বিতর্ক হিসেবে থেকে যাবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সংঘাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র পথ। তাঁর এই বক্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর। ইরান সম্প্রতি প্রস্তাব দিয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং সংঘাত বন্ধে আলোচনা আবার শুরু করা যাবে। প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়। তবে শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান খুব কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বলেই দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলতে চুক্তি করতে চাইছে। এর জবাবে আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে তেহরান অবগত হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো পায়নি। তাই আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার শর্তগুলো আগের মতোই রয়েছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো ছিল, সেগুলোকেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস দূর না হলে সফল আলোচনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জুনের সমঝোতা স্মারক ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন—তেহরান চায় ওয়াশিংটন নিশ্চিত করুক যে ইরানের সরকার পরিবর্তনের কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করায় জুনের সমঝোতার ওপর আস্থা নষ্ট হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে যায়। সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে ওমান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব পক্ষকে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার ইরানের প্রস্তাবকে ‘অর্ধেক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্পের তা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও দাবি করেছেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে। কারণ ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর এর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে।
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান নেতাদের শরিয়াবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে মুসলিম আমেরিকানরা
ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করল প্রতিবেশীসহ ৩ মুসলিম দেশ, যুক্তরাষ্ট্রের ধন্যবাদ
টেসলায় আগুন-বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা, মালিকদের নিরাপত্তা ও ক্রেতাদের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে স্থানীয়ভাবে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, রোববার রাত পর্যন্ত এ ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে ‘আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা’ জারি হয়েছে বলে উল্লেখ করেনি দপ্তরটি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে রোববার রাত পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে আরও ২ থেকে ৪ ইঞ্চি এবং আশপাশের অনেক এলাকায় দেড় থেকে ৩ ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা জানানো হয়েছে। বৃষ্টির কোনো কোনো অংশে অল্প সময়ে বেশি পানি জমতে পারে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি ও নিউ জার্সির উপকূলীয় কিছু এলাকায় উপকূলীয় বন্যার পৃথক সতর্কবার্তা কার্যকর রয়েছে। জোয়ারের পানিতে উপকূল প্লাবিত হওয়ার এই সতর্কবার্তা ভারী বৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থেকে আলাদা। বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য দেখতে এবং পানিতে ডুবে থাকা সড়ক এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও পানি জমার প্রবণতা থাকা পথে চলাচলের আগে পরিস্থিতি দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
তুর্কি বিলিয়নিয়ারকে বিয়ে করলেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী আলিনা
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশিদের জন্য বড় অগ্রগতি, এগিয়েছে এফ-১ থেকে এফ-৪
ফ্লোরিডায় জোড়া খুনে দোষী কিশোরী, মা ও প্রেমিককে হ ত্যার দায়ে ৫০ বছরের সাজা
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূলে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় ‘নর-ইস্টার’-এর প্রভাবে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গাছ ভেঙে পড়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার আঘাত হানা এই শক্তিশালী ঝড়ে এটিই প্রথম কোনো প্রাণহানির ঘটনা। আবহাওয়া পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার ৭০০ ইউক্লিড অ্যাভিনিউয়ের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তীব্র বাতাসের তোড়ে একটি বিশাল গাছ ভেঙে সরাসরি ৫৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির ওপর পড়ে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তাঁকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ ব্রুকডেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে বিকেল ৫টার পরপরই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার ওই এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল পর্যন্ত। রোববার এই ঝড়ের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাবে কোনো কোনো অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ১০০ কোটি ডলারের তহবিল বাতিল করলেন ট্রাম্প
মাত্র ৮ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি, আজ আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠিত সিলেটের ড. কালী প্রদীপ