খেলাধুলা

আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের হুঁশিয়ারি হ্যারি কেইনকে ‘কালো জাদু’ করা ঘানার সেই তান্ত্রিকের

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১১:১
ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা মঞ্চে ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের ওপর ‘কালো জাদু’ করে আলোচনায় আসা ঘানার সেই তান্ত্রিক নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম এবার আলবিসেলেস্তে শিবিরে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তথা শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিদায় করে দেবে পুচকে দল কেপ ভার্দে। তার এই রহস্যময় মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

এর আগে ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে বসে সাদা পাউডার ছিটিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন এই ঘানার তান্ত্রিক। সেই ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগেই ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর কাছে এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত দাবি করেছিলেন বোন্সাম। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের ওপর তিনি এমন এক বিশেষ ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদুর অভিশাপ দিয়েছেন, যার কারণে তিনি ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে কোনোভাবেই গোল করতে পারবেন না।

 

কাকতালীয় কিংবা অলৌকিক মনে হলেও সত্যি যে, ঘানার বিপক্ষে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হ্যারি কেইন কোনো গোল পাননি। শুধু তাই নয়, শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে কোনো শট পর্যন্ত নিতে পারেনি ইংল্যান্ড দল এবং ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়। কেইনের ওপর করা জাদুর কার্যকারিতা প্রমাণের পর এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভবিষ্যৎবাণী করে নতুন করে লাইমলাইটে এলেন বিতর্কিত এই তান্ত্রিক।

 

একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে বোন্সাম আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করবে।’ তবে লিওনেল মেসির দলের বিপক্ষে তিনি নিজে কোনো কালো জাদু প্রয়োগ করবেন কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় নবাগত ও চমক জাগানো দল কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

 

ইতোমধ্যে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও অসাধারণ গোলকিপিং নৈপুণ্য দিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি স্পেন ও সৌদি আরবকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে এবং ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে রূপকথার জন্ম দিয়েছে এই নবাগত দলটি।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের হুঁশিয়ারি হ্যারি কেইনকে ‘কালো জাদু’ করা ঘানার সেই তান্ত্রিকের

বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা মঞ্চে ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের ওপর ‘কালো জাদু’ করে আলোচনায় আসা ঘানার সেই তান্ত্রিক নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম এবার আলবিসেলেস্তে শিবিরে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তথা শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিদায় করে দেবে পুচকে দল কেপ ভার্দে। তার এই রহস্যময় মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   এর আগে ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে বসে সাদা পাউডার ছিটিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন এই ঘানার তান্ত্রিক। সেই ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগেই ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর কাছে এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত দাবি করেছিলেন বোন্সাম। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের ওপর তিনি এমন এক বিশেষ ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদুর অভিশাপ দিয়েছেন, যার কারণে তিনি ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে কোনোভাবেই গোল করতে পারবেন না।   কাকতালীয় কিংবা অলৌকিক মনে হলেও সত্যি যে, ঘানার বিপক্ষে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হ্যারি কেইন কোনো গোল পাননি। শুধু তাই নয়, শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে কোনো শট পর্যন্ত নিতে পারেনি ইংল্যান্ড দল এবং ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়। কেইনের ওপর করা জাদুর কার্যকারিতা প্রমাণের পর এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভবিষ্যৎবাণী করে নতুন করে লাইমলাইটে এলেন বিতর্কিত এই তান্ত্রিক।   একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে বোন্সাম আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করবে।’ তবে লিওনেল মেসির দলের বিপক্ষে তিনি নিজে কোনো কালো জাদু প্রয়োগ করবেন কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় নবাগত ও চমক জাগানো দল কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।   ইতোমধ্যে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও অসাধারণ গোলকিপিং নৈপুণ্য দিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি স্পেন ও সৌদি আরবকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে এবং ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে রূপকথার জন্ম দিয়েছে এই নবাগত দলটি।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১১:১
ছবি: সংগৃহীত

‘বাংলাদেশকে সত্যিই ভালোবাসি, তাদের সমর্থন অসাধারণ’—মার্টিনেজ

মায়ামির গরম নিয়ে আলাদাভাবে ভাবতে হচ্ছে স্কালোনিকে। বছরের এই সময়টাতে মায়ামিতে গরম ও আর্দ্রতা বেশি থাকে। ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের আগে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ স্কালোনির

দেম্বেলের রেকর্ডগড়া হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ফ্রান্স l ছবি: সংগৃহীত

দেম্বেলের ৩২ মিনিটের হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল তুরস্ক

আগের দুই ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তুরস্কের। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছিল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি ছিল তুরস্কের জন্য সম্মান রক্ষার লড়াই, আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রুপপর্ব অপরাজিত থেকে শেষ করার সুযোগ।   তবে নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে তুরস্ক। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে স্বাগতিকদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে তারা।   লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট, এডওয়ার্ড নর্টন ও ওয়েন উইলসন। উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।   ম্যাচের মাত্র ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে কর্নার থেকে পাওয়া বল নিচু শটে জালে পাঠিয়ে গোল করেন সেল্টিকের ডিফেন্ডার অস্টন ট্রাস্টি। এটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ৩০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন ক্লিন্ট ডেম্পসি।   তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে তুরস্ক। বারিস আলপার ইলমাজের চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে চলতি বিশ্বকাপে দলের প্রথম গোল করেন আরদা গুলের।   এরপর বাঁ দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে অরকুন ককচুর শট বারিস আলপার ইলমাজের গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তুরস্ক। এই গোলের আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আরদা গুলের।   বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলও পায় তারা। ২০ গজ দূর থেকে সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।   এরপর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেন তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকির।   অন্যদিকে তুরস্কও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ সৃষ্টি করতে থাকে। কেনান ইলদিজের বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বারিস আলপার ইলমাজও একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। তবে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে কান উজুনের ছোঁয়া থেকে আসা বল জালে পাঠিয়ে তুরস্ককে ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয় এনে দেন কান আয়হান।   এই জয়েও অবশ্য টুর্নামেন্টে তুরস্কের ভাগ্য বদলায়নি। দুই হার ও এক জয় নিয়ে তারা গ্রুপের তলানিতে থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করেছে। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।  

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ৫:৪০
ইকুয়েডর জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় গঞ্জালো প্লাতা (বামে) এবং জেরেমি সারমিয়েন্তো (ডানে) | ছবি: এএফপি

জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস ইকুয়েডরের, খুশিতে দেশে ছুটি ঘোষণা

টেক্সাসের আর্লিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়াম | ছবি: কেরা নিউজ

বিশ্বকাপ ভেন্যুতে অবৈধ ড্রোন ওড়ানো বন্ধে কড়া অবস্থানে এফবিআই

জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নিল ইকুয়েডর l ছবি: সংগৃহীত

চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ইকুয়েডর

বিশ্বকাপে নিজেদের দল না থাকায় চীনের অনেক মানুষ জাপান দলের সমর্থক হয়ে উঠেছে। ছবিটি জাপানের ম্যাচ চলাকালে সাংহাইয়ের এক বারে তোলা। ছবি : এএফপি
চীনাদের হৃদয়ে জাপান: ফুটবল যেখানে হার মানায় রাজনীতিকে

সাংহাইয়ের একটি স্পোর্টস বারে তখন উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ। বিশাল পর্দায় জাপানের আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যেই আয়াসে উয়েদার হেডে বল জড়িয়ে গেল জালে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের চতুর্থ গোল। সঙ্গে সঙ্গে নীল জার্সি পরা সমর্থকদের চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো বার।   দৃশ্যটি হয়তো খুব স্বাভাবিক। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসরে এমন উন্মাদনা প্রায় সব দেশেই দেখা যায়। তবে এখানে একটি ব্যতিক্রম ছিল। যারা জাপানের গোল উদযাপন করছিলেন, তারা জাপানি নন; তারা চীনা।   ইতিহাস, রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে চীন ও জাপানের সম্পর্ক কখনোই খুব সহজ ছিল না। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের স্মৃতি, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সাম্প্রতিক নানা উত্তেজনা প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়। কিন্তু ফুটবল কখনো কখনো এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করে, যেখানে সীমান্ত, জাতীয়তা কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে।   সাংহাইয়ের সেই সমর্থকগোষ্ঠীর অন্যতম সংগঠক ফ্যান বলেন, তাদের জাপান-প্রেমের উৎস রাজনীতি নয়, শৈশবের স্মৃতি। তার ভাষায়, “আমাদের প্রজন্মের অনেকেই জাপানি অ্যানিমে দেখে বড় হয়েছি। বিশেষ করে ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার শুরুটা সেখান থেকেই।”   তবে শুধু অ্যানিমেই নয়, জাপানকে সমর্থনের পেছনে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ফ্যানের মতে, জাপান এখন এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে সফল প্রতীক। বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন কোনো এশীয় দল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে, তখন অনেক চীনা সমর্থকও নিজেদের স্বপ্ন ও প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পান সেই দলে।   এই অনুভূতির পেছনে বাস্তবতারও ভূমিকা রয়েছে। চীনের ফুটবল এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পায়নি। দেশটি মাত্র একবার, ২০০২ সালে, বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছিল। সেই আসরে তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল এবং একটি গোলও করতে পারেনি। অন্যদিকে জাপান নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলছে, ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলোয়াড় পাঠাচ্ছে এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।   জাপান নিয়ে বই লেখা চীনা লেখক ফু জিনইউর মতে, দেশটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী যুব উন্নয়ন কাঠামো এবং সুসংগঠিত ফুটবল সংস্কৃতি। তার ভাষায়, জাপান এখন এমন একটি দল, যারা ইউরোপীয় মানের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলতে সক্ষম।   তবে চীনে জাপানকে সমর্থন করা সব সময় সহজ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করার কারণে অনেক ভক্তকে সমালোচনা, বিদ্রূপ এবং অপমানের মুখোমুখি হতে হয়। কেউ কেউ তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আখ্যা দেন।   পূর্ব চীনের ৩০ বছর বয়সী আকি ইয়াং জাপান জাতীয় দলকে ঘিরে একটি জনপ্রিয় ফ্যান পেজ পরিচালনা করেন। অনুসারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কটূক্তিও বেড়েছে। তবু তিনি থামেননি। কারণ তার বিশ্বাস, ফুটবল মানুষের মধ্যে বিভাজনের দেয়াল ভাঙতে পারে।   একই বিশ্বাস পোষণ করেন ফ্যানও। তিনি বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি সেতু তৈরি করা।” কথাগুলো হয়তো আদর্শবাদী মনে হতে পারে। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এই খেলা এমন অনেক কিছু করতে পারে, যা রাজনীতি পারে না।   এটি অপরিচিত মানুষকে বন্ধু বানায়, প্রতিপক্ষ দেশের পতাকাকেও সম্মান করতে শেখায় এবং কখনো কখনো পুরোনো বৈরিতার মধ্যেও একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি করে।   সাংহাইয়ের সেই উচ্ছ্বসিত বিকেল তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের গল্প নয়। এটি এমন এক মানবিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ কখনো কখনো জাতীয়তার চেয়ে আনন্দ, প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে ভালোবাসা এবং রাজনীতির চেয়ে খেলাকে বড় করে দেখে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৬:৫৩
অস্টিন ফ্রাঙ্কলিন (বাঁয়ে) ও কেভিন আকোতো। ছবি: ফক্স

বিশ্বকাপের সব ম্যাচ দেখেই ৫০ হাজার ডলার পাচ্ছেন দুই ফুটবল ভক্ত

ভিনিসিউস জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, রানার্সআপ মরক্কো

ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে চাপে ফেলল ব্রাজিল l ছবি: সংগৃহীত

ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে চাপে ফেলল ব্রাজিল

0 Comments