আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১১:৫৪
মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী গালায় মূল বক্তব্য রাখছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন | ছবি: সিএনএন
মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী গালায় মূল বক্তব্য রাখছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন | ছবি: সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রথম ‘ফাইট ব্যাক অ্যান্ড উইন’ শীর্ষ সম্মেলন ও গালা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতা ও কর্মীদের চাঙ্গা এবং প্রস্তুত করতেই মেরিল্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শনিবার আরুন্ডেল মিলসের ‘লাইভ! ক্যাসিনো’তে এই বর্ণাঢ্য সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট নেতারা লবিং ও অ্যাডভোকেসি, বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রচারণার নানা সংস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধারাবাহিক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেন। এছাড়া সান্ধ্যকালীন একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেরও ব্যবস্থা করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং আগামী নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা।

 

ওয়াশিংটন ডিসির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবেই মূলত এই বিশেষ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর বলেন, এটি আমাদের জন্য কেবল প্রতিহত করার সুযোগ নয়, বরং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি অনন্য সুযোগ। একই সুর মিলিয়ে মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, আমরা ইতিহাসকে নতুন করে লিখব না এবং আমরা কখনোই ঘড়ির কাঁটাকে পেছনে ঘুরাব না।

 

এই সম্মেলনটি মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক সরকারের বিগত দিনগুলোর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনারও একটি বড় ক্ষেত্র ছিল। বাল্টিমোরের মেয়র ব্র্যান্ডন স্কট বলেন, আমরা আমাদের বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে আরও শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যকর এলাকা গড়ে তুলছি। গভর্নর ওয়েস মুর তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মেরিল্যান্ডের ইতিহাসে শিশু সুরক্ষায় এবারই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষানবিস ও বাণিজ্য কর্মসূচিতেও ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে রাজ্যে শিক্ষক শূন্যতা ৬০ শতাংশ কমেছে।

 

গভর্নর মুর আরও মনে করিয়ে দেন যে, কি ব্রিজ ধসের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাল্টিমোর বন্দর পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট সরকার দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। দলের এই সাফল্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন মেরিল্যান্ডের শীর্ষ নেতারা। সম্মেলনে বাইডেন সাম্প্রতিক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিভিন্ন আসনে জয়লাভের কথা উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের প্রশংসা করেন।

 

জো বাইডেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি সারাজীবন ডেমোক্র্যাটদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, আমরা অতীতেও অনেক অন্ধকার এবং কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছি। তবে আমেরিকান জনগণের একটি বড় গুণ হলো তারা কখনো হাল ছাড়ে না এবং আমরাও এখন হাল ছাড়তে পারি না। এই দেশে কোনো পরাজয় মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই, আমি আপনাদের পাশে সবসময় আছি।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Advertisement

আমেরিকা

View more
এবিসি নিউজের রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ‘দিস উইক’-এ সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি | ছবি: এবিসি নিউজ।
নিউইয়র্কের সাফল্য এবার জাতীয় রাজনীতিতে? বড় বার্তা দিলেন মেয়র মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মনে করেন, নিউইয়র্কে তার রাজনৈতিক দর্শনের সাম্প্রতিক সাফল্য কেবল একটি শহর বা অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষায়, কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপকে কেন্দ্র করে যে রাজনীতির কথা তিনি বলছেন, সেই বার্তা এখন সারা দেশেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।   রোববার সম্প্রচারিত এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক জোনাথন কার্লকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে এবং যেকোনো নির্বাচিত পদে জয়ী হতে পারেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে রাজনীতি করলে সেটি কেবল নিউইয়র্কেই নয়, পুরো দেশেই গ্রহণযোগ্য হবে।   সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসনাল প্রাইমারিতে মামদানির সমর্থিত তিন প্রার্থী—ক্লেয়ার ভালদেজ, দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার এবং ব্র্যাড ল্যান্ডার—নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হন। এর মধ্যে দুইজন বর্তমান ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যকে পরাজিত করেন। এই ফলাফলকে অনেক বিশ্লেষক নিউইয়র্কের প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।   সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, মানুষের প্রধান উদ্বেগ এখন রাজনীতি নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ব্যয়। কেন বাসাভাড়া বাড়ছে, কেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, কিংবা কঠোর পরিশ্রমের পরও কেন শিশু পরিচর্যার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে—এসব প্রশ্নের উত্তরই মানুষ জানতে চায়। তার মতে, ডেমোক্রেটিক পার্টিরও এসব বাস্তব সমস্যাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা উচিত।   তিনি আরও বলেন, শুধু বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে ভোটারদের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। জনগণের সামনে এমন একটি ইতিবাচক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে, যা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন কিংবা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ছাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেবে।   তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সবাই মামদানির মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, নিউইয়র্কের মতো উদারপন্থী ভোটার অধ্যুষিত এলাকায় প্রগতিশীল প্রার্থীদের সাফল্য মিললেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে একই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।   সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়েও কথা বলেন মামদানি। তিনি বলেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির উচিত এ বিষয়ে নিজেদের ভোটারদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সকল মানুষের সমান অধিকারের ভিত্তিতে অবস্থান গ্রহণ করা। তবে ইসরায়েলকে একটি ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে সমর্থন করেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, তিনি এমন একটি রাষ্ট্রকে সমর্থন করেন যেখানে সব নাগরিক ধর্ম নির্বিশেষে সমান অধিকার ভোগ করেন।   সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনের ফলের পর জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কে তার সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্য ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১৩:১০
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান ডিজাইন / গেটি ইমেজেস

আমেরিকায় ইতিহাস গড়লেন মুসলিম মেয়র মামদানি, হোয়াইট হাউসের দৌড়ে বড় চমক

দুর্ঘটনাকবলিত ডাক বোট, যা উল্টে যাওয়ার সময় অর্ধেক পানির ওপরে ছিল | ছবি: সিবিএস বোস্টন

যুক্তরাষ্ট্রে নদীতে পর্যটকবাহী ‘ডাক বোট’ উল্টে আহত ১১, ঘটনাস্থলে ব্যাপক আতঙ্ক

মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী গালায় মূল বক্তব্য রাখছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন | ছবি: সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

ছবি: ফাইল ফটো
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংকট কোন পথে? নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে ‘রেড কার্ড’ প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। একদিকে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযান ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, অন্যদিকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা লাখো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনে অভিবাসন সংস্কার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজন নীতিনির্ধারক ও গবেষক ‘রেড কার্ড’ নামে একটি বিকল্প কর্মসূচির প্রস্তাব সামনে এনে বলছেন, বর্তমান সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে হলে প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে নতুন পথ খুঁজতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংকট কোনো একক প্রশাসনের সৃষ্টি নয়। কয়েক দশক ধরে আইন প্রয়োগে অসঙ্গতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং কংগ্রেসের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার ফলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসীর একটি অংশ মনে করেন, তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ফেডারেল সরকারের অনুমোদন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশে প্রবেশ করেছেন। বিশেষ করে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থা, মানবিক প্যারোল কর্মসূচি এবং অন্যান্য অস্থায়ী ব্যবস্থার আওতায় অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পান। ফলে এখন তাদের অনেকের দাবি, তাদের অবস্থানকে সরলভাবে ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা আইনি ও নৈতিক দুই দিক থেকেই জটিল।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েক মিলিয়ন মানুষের বিরুদ্ধে একযোগে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, বাস্তবিক অর্থেও অত্যন্ত কঠিন। অভিবাসন আদালতগুলো ইতোমধ্যেই কয়েক মিলিয়ন মামলার জটে আটকে আছে। এর মধ্যে নতুন করে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান শুরু হলে বিচারিক ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে আইসের জনবল ও সম্পদও সীমিত। ফলে কোন অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহিষ্কারের আওতায় আনা হবে এবং কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও নীতিগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   এই আলোচনার মধ্যেই আবার সামনে এসেছে ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) কর্মসূচি। শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা অনথিভুক্ত তরুণদের সাময়িক সুরক্ষা দিতে চালু হওয়া এই কর্মসূচি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকলেও কংগ্রেস এখনো এর স্থায়ী আইনি সমাধান করতে পারেনি। ফলে লাখো ডাকা সুবিধাভোগী এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রেই বড় হয়েছেন, পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি অবস্থান এখনও ঝুলে আছে।   এই প্রেক্ষাপটে কিছু নীতিনির্ধারক আবারও সামনে আনছেন তথাকথিত ‘রেড কার্ড’ মডেল। ২০১২ সালে অভিবাসন সংস্কারবিষয়ক গবেষক হেলেন ক্রিয়েবল প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করেন। পরে সাবেক হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচসহ কয়েকজন রক্ষণশীল নেতা এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।   রেড কার্ড ধারণার মূল ভিত্তি হলো নাগরিকত্বের পথ থেকে আলাদা একটি বৈধ কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থা তৈরি করা। এই মডেলে যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত নন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করতে চান, তারা নিবন্ধনের মাধ্যমে কাজের অনুমতি পেতে পারেন। তবে এই অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা মার্কিন নাগরিকত্বের পথ খুলে দেবে না।   সমর্থকদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে আইস তাদের সীমিত জনবল ও সম্পদ সহিংস অপরাধী, মাদক চক্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে। একই সঙ্গে অনথিভুক্ত হলেও কর্মরত লাখো মানুষ বৈধ কর্মসংস্থানের আওতায় আসবেন এবং কর ব্যবস্থার মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।   রেড কার্ড মডেলের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি বেসরকারি খাতনির্ভর। প্রস্তাব অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কর্মসংস্থান সংস্থাগুলো অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা, নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। এতে সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় কমবে বলে সমর্থকদের দাবি।   প্রস্তাবটির সমর্থকরা আরও বলছেন, অংশগ্রহণকারীদের বায়োমেট্রিক পরিচয় নিবন্ধন, নিরাপত্তা যাচাই এবং বাজারদরের সমপরিমাণ মজুরি নিশ্চিত করা হলে মার্কিন শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও কমবে।   তবে সমালোচকদের আপত্তিও রয়েছে। তাদের মতে, রেড কার্ড পরিকল্পনা কার্যকর হলে একটি নতুন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী শ্রমিক শ্রেণি তৈরি হতে পারে, যারা বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করলেও স্থায়ী নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে হলে বৈধ স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্বের একটি সুস্পষ্ট পথও থাকতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিতর্ক বর্তমানে দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে আটকে আছে। এক পক্ষ অধিকাংশ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দেশে থাকার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে, অন্য পক্ষ দ্রুত ও ব্যাপক বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্ভবত এই দুই অবস্থানের মাঝামাঝি কোনো সমাধানের দিকেই ইঙ্গিত করছে।   অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, কৃষি, নির্মাণ, আতিথেয়তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সেবা খাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে অভিবাসী শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন শ্রমবাজার, ব্যবসা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।   ফলে প্রশ্ন এখন শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা বা আইসের অভিযান নিয়ে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে কী ধরনের অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, সেটিও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস যদি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে না পারে, তাহলে ডাকা কর্মসূচি, আইসের অভিযান এবং লাখো অভিবাসীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আগামী বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও জননীতির অন্যতম প্রধান বিতর্ক হিসেবে থেকে যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১১:৩৩
৩২ বছর বয়সী নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ডেল রিওতে তিন নারী গ্রেপ্তার | ছবি: এসবিজি সান আন্তোনিও

টেক্সাসে প্রকাশ্যে পাঁচ সন্তানের জননীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, দুই বোনসহ তিন নারী গ্রেপ্তার; তদন্ত অব্যাহত

ছবি: ট্রুথ সোশ্যাল/সংগৃহীত

নিজের ছবিযুক্ত নতুন পাসপোর্ট উন্মোচন করলেন ট্রাম্প,হোয়াইট হাউস বলল ‘দেশপ্রেমিক পাসপোর্ট’

গুগল ও অ্যামাজনের সাবেক প্রকৌশলী আকাশ বিশাল হাজারিকা | ছবি: আকাশ বিশাল হাজারিকা

গুগল ও আমাজনের সাবেক ইঞ্জিনিয়ারের টিপস, এআই যুগে চাকরির ইন্টারভিউতে টিকবেন যেভাবে

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টুল ‘ক্লড’ এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক | ছবি: অ্যানথ্রপিক
ভিসা আবেদনের তথ্যে ফাঁস, অ্যানথ্রোপিক এআই প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের বেতন কোটি কোটি টাকা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের কর্মীদের আকাশচুম্বী বেতনের তথ্য ফাঁস হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কিছু কারিগরি কর্মকর্তা বা টেকনিক্যাল স্টাফ বার্ষিক মূল বেতন হিসেবে ১০ লাখ বা ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করছেন। সম্প্রতি মার্কিন ফেডারেল ফাইলিংয়ের এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা স্পন্সরশিপের ডেটা থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।   জনপ্রিয় এআই টুল ‘ক্লড’-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক আগামী শরতে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে। সম্ভাব্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) সামনে রেখে সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি গত এক বছরে কর্মী নিয়োগের গতি নাটকীয়ভাবে বাড়িয়েছে। একই সাথে বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে তারা কর্মীদের অত্যন্ত উচ্চমানের বেতন প্যাকেজ দিচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ফাইলিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অ্যানথ্রোপিকের সাম্প্রতিক এইচ-ওয়ানবি ভিসার আওতায় থাকা দুটি পদের বেতন সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। এআই গবেষণাগার বা ল্যাবগুলোতে সাধারণত ‘মেম্বার অফ টেকনিক্যাল স্টাফ’ পদটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ফাঁস হওয়া তথ্যে এই পদের দুজনের বেতন কাঠামো সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মেম্বার অফ টেকনিক্যাল স্টাফ পদে কর্মরত এই দুই কর্মকর্তার মধ্যে একজন বার্ষিক ১১ লাখ ২০ হাজার (১.১২ মিলিয়ন) ডলার মূল বেতন পাচ্ছেন। অন্যদিকে একই পদে থাকা অপর কর্মকর্তার বার্ষিক মূল বেতন ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৮০ হাজার (১.৩৮ মিলিয়ন) ডলার। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ শুধুমাত্র তাদের মূল বা বেস স্যালারি, যার সাথে অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও যুক্ত রয়েছে।   প্রযুক্তি বিশ্বে এআই বিশেষজ্ঞদের ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার চিত্রই এই বেতন কাঠামোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। বড় বড় টেক জায়ান্টদের সাথে লড়াইয়ে টিকে থাকতে এবং আইপিও চালুর আগের মুহূর্তে যোগ্য কর্মীদের ধরে রাখতে অ্যানথ্রোপিক অর্থের দিক থেকে কোনো কমতি রাখছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৯:২০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ, মঞ্চ ছাড়ার সময় পথ খুঁজতে গিয়ে বিড়ম্বনায় বাইডেন

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

আইসিইর পরিচালক হিসেবে সাবেক মেরিন ও ওকলাহোমা স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন দিলেন ট্রাম্প

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

বিশ্বকাপ সম্প্রচারে বসনিয়া নিয়ে মন্তব্য, সমালোচনার মুখে মার্কিন টিভি সাংবাদিক

0 Comments