আমেরিকা

কুকুরের কামড়ে গৃহকর্মীর মুখ-হাত ক্ষতবিক্ষত, মার্কিন গায়ক ক্রিস ব্রাউনকে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১০:৩
কুকুর হামলার ঘটনায় মারিয়া আভিলাকে ১৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ ক্রিস ব্রাউনকে | ছবি: গেটি ইমেজেস
কুকুর হামলার ঘটনায় মারিয়া আভিলাকে ১৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ ক্রিস ব্রাউনকে | ছবি: গেটি ইমেজেস

বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ গায়ক ক্রিস ব্রাউনের পোষা কুকুরের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাড়ির এক গৃহকর্মী। এই ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ক্রিস ব্রাউনকে ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের সেই ভয়াবহ ঘটনার দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর আইনি লড়াই শেষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আদালত এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

 

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্রিস ব্রাউনের বিলাসবহুল প্রাসাদে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ব্যাগ পরিষ্কার করতে বাইরে যান গৃহকর্মী মারিয়া অ্যাভিলা। সেখানে ব্রাউনের একটি বিশাল আকৃতির নিরাপত্তা প্রহরী কুকুর (ককেশিয়ান শেফার্ড) আকস্মিকভাবে মারিয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুকুরের কামড়ে তার মুখ ও হাত ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই মামলার শুনানিতে মারিয়া জানান, এই হামলার পর তার মুখে ও হাতে অসংখ্য অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং তিনি এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। শারীরিক অক্ষমতার কারণে তার গৃহকর্মীর পেশাজীবনও চিরতরে শেষ হয়ে গেছে।

 

শুনানিতে আরও জানা যায়, ঘটনার সময় মারিয়ার বোন প্যাট্রিসিয়াও সেখানে কাজ করছিলেন। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় মারিয়া যখন ছটফট করছিলেন, তখন ক্রিস ব্রাউন নিজে জরুরি সেবা বা ৯১১ নম্বরে ফোন করেননি। উল্টো মিডিয়া ও খবরের ঝামেলা এড়াতে এবং নিজের সেলিব্রিটি ইমেজ ধরে রাখতে অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই তিনি গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। মারিয়ার বোন প্যাট্রিসিয়াকে মানসিক ট্রমার জন্য ৮ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং মারিয়ার স্বামীকে আলাদাভাবে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ক্রিস ব্রাউন স্বীকার করেন যে চারপাশ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, তবে নিজের ইমেজের কথা চিন্তা করে ম্যানেজারের পরামর্শে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছিলেন। এর আগে ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রেমিকা ও জনপ্রিয় গায়িকা রিয়হানাকে মারধরের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এই পপ তারকা। কুকুরের কামড়ের এই মামলায় প্রথম থেকেই ব্রাউন নিজের অবহেলার কথা স্বীকার করলেও ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার জুরি বোর্ড মারিয়ার পক্ষে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে একই ফ্লাইট নম্বরে মুখোমুখি দুই বিমান, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকালেন কন্ট্রোলার
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে একই ফ্লাইট নম্বরে মুখোমুখি দুই বিমান, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকালেন কন্ট্রোলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্সে একই ফ্লাইট নম্বর নিয়ে আকাশে ওড়া আমেরিকান এয়ারলাইনসের দুটি বিমানের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ অল্পের জন্য এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতের পর অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশে এই ঘটনা ঘটে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও পেশাদারিত্বের কারণে দুই বিমানের যাত্রীরা নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।   জানা গেছে, ‘আমেরিকান ২৪৮২’ নম্বরের একটি ফ্লাইট শিকাগো থেকে ফিনিক্সে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে শিকাগো থেকে ওই বিমানটির রওনা হতে কিছুটা দেরি হয়।   অন্যদিকে, ফিরতি ফ্লাইটের সময় ঠিক রাখতে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফিনিক্স থেকে শিকাগো যাওয়ার জন্য একই ফ্লাইট নম্বরে অন্য একটি বিমানকে উড্ডয়নের ব্যবস্থা করে। এর ফলে আকাশে একই সময়ে ‘আমেরিকান ২৪৮২’ কল সাইন যুক্ত দুটি যাত্রীবাহী বিমান একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে।   এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি প্রথম টের পান দায়িত্বে থাকা ২৫ বছরের অভিজ্ঞ এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার। তিনি বুঝতে পারেন, কেবল ফ্লাইট নম্বর ধরে নির্দেশ দিলে দুই পাইলটই বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং মাঝ-আকাশে বিমান দুটির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিমান দুটিকে ‘অ্যারাইভাল’ (অবতরণকারী) এবং ‘ডিপারচার’ (উড্ডয়নকারী) হিসেবে আলাদা করে নির্দেশ দিতে শুরু করেন।   তার এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কারণে উড্ডয়নকারী বিমানটি নির্দিষ্ট উচ্চতার নিচে অবস্থান করে এবং অবতরণকারী বিমানটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলে যায়।   বিপদ কেটে যাওয়ার পর এক পাইলট রেডিওবার্তায় ওই কন্ট্রোলারকে দারুণ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। জবাবে ওই কন্ট্রোলার বলেন, "এটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারত, তবে শেষ পর্যন্ত সব ঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমি আনন্দিত।" তিনি আরও জানান, তার দীর্ঘ ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে একই কল সাইন নিয়ে দুটি বিমানকে এভাবে কাছাকাছি হতে তিনি আগে কখনও দেখেননি।   এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ারলাইন্সের ডিসপ্যাচ সেন্টারের ভুলের কারণেই এমনটা ঘটেছে। এই গুরুতর ভুলের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্স।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৭:৪৮
ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন নীতির মাঝেই আইসিইকে বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দিল ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি

ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন নীতির মাঝেই আইসিইকে বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দিল ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি

২০২৮ নির্বাচনে মিশেল ওবামা-এওসিকে পেছনে ফেলে তরুণ ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ পছন্দ কমলা হ্যারিস I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

২০২৮ নির্বাচনে মিশেল ওবামা-এওসিকে পেছনে ফেলে তরুণ ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ পছন্দ কমলা হ্যারিস

ডেটা সেন্টারে লাখ ডলারের চাকরির জোয়ার, শ্রমিক সংকটে হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাত

ডেটা সেন্টারে লাখ ডলারের চাকরির জোয়ার, শ্রমিক সংকটে হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাত

লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে দম্পতি ও কুকুরকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা
লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে দম্পতি ও কুকুরকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য ভুল-বোঝাবুঝির জেরে এক দম্পতি এবং তাদের পোষা কুকুরকে সরাসরি গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ভয়ংকর এক চেষ্টা চালিয়েছে এক ক্ষুব্ধ চালক। গত বুধবার সন্ধ্যায় মিড-উইলশায়ার এলাকার হ্যারল্ড এ. হেনরি পার্কের বাইরের এই লোমহর্ষক ঘটনাটি পাশ দিয়ে যাওয়া একটি উবারের ড্যাশক্যামে ধরা পড়ে।   ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি কমলা রঙের গাড়ি পার্কের ভেতরে ঢুকে ক্ষিপ্রগতিতে ওই দম্পতিকে ধাওয়া করছে। ভুক্তভোগী নারী সেলিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি ঘাসের ওপর দিয়ে যত দূর সম্ভব পেছনের দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং ফিরে তাকিয়ে দেখেন গাড়িটি ঠিক তাদের পেছনেই ধেয়ে আসছে।   ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল একটি স্টপ সাইনের সামনে। রাস্তা পার হওয়ার সুবিধার জন্য ওই দম্পতি চালককে আগে চলে যাওয়ার ইশারা করেছিলেন। সেলিন জানান, তারা ফোনে কথা বলায় কিছুটা অমনোযোগী ছিলেন এবং ভেবেছিলেন চালক হয়তো তার পথেই চলে যাবেন।   কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে চালক চিৎকার করে বলে ওঠেন, "কী, তোমরা কি ইংরেজি বলতে পারো না?" এরপরই চালক তার গাড়িটি সরাসরি তাদের দিকে ঘুরিয়ে দেন। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, স্টপ সাইন থেকে গাড়িটি হঠাৎ বাঁক নিয়ে ঘাসের ওপর দিয়ে দম্পতির দিকে তেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পার্কের ফুটপাত পেরিয়ে দ্রুতবেগে পালিয়ে যায়।   ভুক্তভোগী পুরুষ লোগান জানান, গাড়িটি যখন তাদের দিকে ধেয়ে আসছিল, তখন তিনি তাদের পোষা কুকুর অলিভকে কোনোমতে টেনে সরিয়ে নেন এবং একেবারে অল্পের জন্য তারা প্রাণে রক্ষা পান। তিনি বলেন, "পুরো ঘটনাটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটলেও, এটি আমাদের জীবনের অন্যতম ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা।" পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই ক্ষুব্ধ চালক তাদের উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলে, "এখন নিশ্চয়ই ভয়ে কাঁপছ, তাই না?" পার্কে উপস্থিত অন্যান্য দর্শনার্থীরাও এই ভয়াবহ দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন।   সেকোইয়া হাগি নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ওই দম্পতিকে পার্কের দিকে প্রাণভয়ে ছুটতে দেখেন এবং গাড়িটিকে পাগলের মতো ধেয়ে এসে পরক্ষণেই পালিয়ে যেতে দেখেন। এই ঘটনায় লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগে (এলএপিডি) অভিযোগ দায়ের করেছে আতঙ্কিত ওই দম্পতি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত তদন্তের কোনো আপডেট জানানো হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৬:৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা, ১০০ বছরের রেকর্ড ভেঙে উদ্ধার অভিযানে ন্যাশনাল গার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা, ১০০ বছরের রেকর্ড ভেঙে উদ্ধার অভিযানে ন্যাশনাল গার্ড

নিউ জার্সির স্কুলে অ স্ত্র হিসেবে ব্যবহারের শঙ্কায় কাচ ও ধাতব বোতল নিষিদ্ধ

নিউ জার্সির স্কুলে অ স্ত্র হিসেবে ব্যবহারের শঙ্কায় কাচ ও ধাতব বোতল নিষিদ্ধ, আপত্তি অভিভাবকদের

আটলান্টায় কিশোর অপরাধ কমাতে ৫০ হাজার ডলারে ‘দ্য স্পট’ নামে আড্ডাকেন্দ্র বানাচ্ছে দুই শিক্ষার্থী

আটলান্টায় কিশোর অপরাধ কমাতে ৫০ হাজার ডলারে ‘দ্য স্পট’ নামে আড্ডাকেন্দ্র বানাচ্ছে দুই শিক্ষার্থী

গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে ইসরাইল ও মিশর সফরে যাচ্ছেন জ্যারেড কুশনার। ছবি: সংগৃহীত
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য মেটাতে ইসরাইল সফর করবেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার

হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে জটিলতায় ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ; আগামী সপ্তাহে ইসরাইল ও মিশর সফরে যাচ্ছেন জ্যারেড কুশনার ও নিকোলাই ম্লাদেনভ   গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।   কুশনারের সঙ্গে থাকবেন ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ। সফরটি শুধু ইসরাইলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকার কথা রয়েছে।    এই সফরের পেছনে মূল কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি গাজা পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলের আপত্তি। গত মাসের শেষ দিকে ‘বোর্ড অব পিস’ হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি সমঝোতার কথা জানায়। পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র নতুন একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর এবং এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পথ রাখা হয়েছে।    কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরিকল্পনাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর অবস্থান, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ফলে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং সেনা প্রত্যাহার—কোনটি আগে এবং কোনটি কী শর্তে হবে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।    যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্য পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়নি। ‘বোর্ড অব পিস’-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরাইলের আপত্তি সত্ত্বেও পরিকল্পনাটি কার্যকর রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর অর্থ হলো, ওয়াশিংটন এখনো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা পুনর্বিন্যাস এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে।    গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়েও পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা রয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনের দায়িত্ব একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটির হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ কাঠামোর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গড়ে তোলার কথা রয়েছে।    এই উদ্যোগের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত ২০ দফা গাজা পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই পর্যায়ে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন, নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠনের বিষয়গুলো সামনে আসে।    এরপর গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়। জানুয়ারিতে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হয় এবং জ্যারেড কুশনারসহ একাধিক ব্যক্তিকে এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়। মার্চে বোর্ডের পক্ষ থেকে হামাসের কাছে নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাবও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।    তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু ইসরাইলের আপত্তিই নয়, হামাসের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। হামাস জানিয়েছে, তারা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং ইসরাইলকেও পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।   ফলে কুশনারের আসন্ন সফরকে এখন ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা কার্যকর রাখার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন—সবগুলো বিষয়েই সমঝোতা তৈরি করতে হবে ওয়াশিংটনকে।   ইসরাইল সফরের পর মিশরে আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় আলোচনায় মিশর দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে কুশনার ও ম্লাদেনভের আঞ্চলিক সফরে শুধু ইসরাইলের আপত্তি মেটানো নয়, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পরবর্তী ধাপের বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে। হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হলেও ইসরাইল সেনা প্রত্যাহারের আগে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের নিশ্চয়তা চাইছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করতে পারাই কুশনারের আসন্ন সফরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৩:৮
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার জঙ্গল থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ার জঙ্গলে ব্যাগে ফেলে দেয়া হয় নবজাতকে, চার বছর পর ডিএনএ টেস্টে শনাক্ত মা

মিসিসিপির বেনোয়া মিউনিসিপ্যাল কোর্টের নতুন বিচারক ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আসমা আলী। ছবি: সংগৃহীত

শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে হিজাব পরেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কে এই আসমা আলী?

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল জাম্বোরিতে ক্ষুধার্ত মানুষের সহায়তায় রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করেছেন তরুণ স্কাউটরা। ছবি: সংগৃহীত

২০ হাজারের লক্ষ্য, সংগ্রহ হলো ৯৩ হাজারের বেশি খাবার, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্কাউটরা

0 Comments