আমেরিকা

মিশিগান সিনেট নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীর পাশে বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোটি ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ১৬:৫৯
বার্নি স্যান্ডার্স  ও ড. আবদুল এল-সায়েদক I ছবি: সংগৃহীত
বার্নি স্যান্ডার্স ও ড. আবদুল এল-সায়েদক I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আসন্ন ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবার প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন মুসলিম প্রার্থী ও চিকিৎসক ড. আবদুল এল-সায়েদকে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী লবি-সমর্থিত সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিগুলো (সুপার প্যাক) এল-সায়েদকে পরাজিত করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্যান্ডার্স বলেন, ড. আবদুল এল-সায়েদকে হারাতে AIPAC-সংশ্লিষ্ট এবং অন্যান্য বিলিয়নিয়ার-অর্থায়িত সুপার প্যাক বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। তার দাবি, এসব গোষ্ঠী এমন প্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে, যারা প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে অবস্থান নেন।

 

বার্নি স্যান্ডার্সের মতে, ড. এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে দেখেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির সমর্থক। এছাড়া তিনি শ্রমজীবী মানুষের মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক ইউনিয়নের অধিকার শক্তিশালী করা এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে ভিন্নধর্মী অবস্থান নিয়েছেন।

 

একই পোস্টে স্যান্ডার্স ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তারও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীগুলো নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে চায় এবং জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রার্থীদের পরাজিত করার চেষ্টা করছে।

 

তিনি সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থের প্রভাব নয়, ভোটারদের ঐক্যই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করতে পারে। তাই মিশিগানের ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ড. আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

ড. আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং মিশিগানের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি এর আগে ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত হন।

 

অন্যদিকে, AIPAC (American Israel Public Affairs Committee) যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন। যদিও সংগঠনটি নিজে সুপার প্যাক নয়, তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যয়কারী সংগঠনগুলো বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী সমর্থন বা বিরোধিতায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করে থাকে।

 

আগামী ৪ আগস্ট মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে স্যান্ডার্সের এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং নির্বাচনী অর্থায়ন নিয়ে তার অভিযোগ ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে স্যান্ডার্সের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সুপার প্যাকগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মেক্সিকান ফুড চেইন চিপোটলে
চিপোটলে দিচ্ছে ১০ লাখ ডলারের বেশি ফ্রি খাবার!আগামী তিন দিন যেভাবে পাবেন সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ১৮ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ১০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ফ্রি খাবার ও রিওয়ার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় মেক্সিকান ফুড চেইন চিপোটলে। তবে সরাসরি দোকানে গিয়ে ফ্রি খাবার পাওয়া যাবে না। ‘চিপোটলে আইকিউ’ নামের অনলাইন ট্রিভিয়া গেমে অংশ নিয়ে সঠিক উত্তর দিতে হবে।    চিপোটলে জানিয়েছে, রিওয়ার্ডস মেম্বাররা প্রতিদিন একবার করে এই গেমে অংশ নিতে পারবেন। গেমটি চলবে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত প্যাসিফিক টাইমে। প্রতিটি কুইজে থাকবে পাঁচটি মাল্টিপল চয়েস বা সত্য-মিথ্যা ধরনের প্রশ্ন।    প্রতি ঘণ্টায় প্রথম ৮ হাজার অংশগ্রহণকারী যারা পাঁচটির পাঁচটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেবেন, তারা খাবারের পুরস্কার পাবেন। এর মধ্যে থাকছে ৫ হাজারটি বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি এন্ট্রি অফার, ১ হাজার ৫০০টি ফ্রি সিলান্ট্রো লাইম সস এবং ১ হাজার ৫০০টি ফ্রি কেসো ব্লাঙ্কো অফার।    এবারের আয়োজনে নতুনভাবে যোগ হয়েছে ‘সিলভার টিকিট’। পাঁচটির পাঁচটি প্রশ্ন ঠিক করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে ৫৩ জনকে র‌্যান্ডমভাবে এই টিকিট দেওয়া হবে। তারা একটি অতিরিক্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারলে এক বছরের জন্য ফ্রি বুরিটো জেতার সুযোগ পাবেন।    যারা পাঁচটির মধ্যে চারটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেবেন, তারা ২৫টি চিপোটলে রিওয়ার্ডস পয়েন্ট পাবেন। আর সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েও যদি খাবারের পুরস্কার না মেলে, তাহলে ৫০টি বোনাস পয়েন্ট দেওয়া হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রিওয়ার্ডস পয়েন্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।    টানা দুই বা তিন দিন গেম খেললে অতিরিক্ত বোনাস পয়েন্ট ও বিশেষ রিওয়ার্ডস ব্যাজও পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো চিপোটলে আইকিউ-এর একটি ফিজিক্যাল কার্ড গেমও চালু করা হয়েছে। ১৭ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রিওয়ার্ডস মেম্বাররা ১০ পয়েন্ট ব্যবহার করে ওই কার্ড গেম এবং একটি ফ্যামিলি মিল জেতার সুইপস্টেকে অংশ নিতে পারবেন।    চিপোটলে জানিয়েছে, গত বছর ১৮ লাখের বেশি চিপোটলে আইকিউ কুইজ সম্পন্ন হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ বছর তাই আরও বেশি পুরস্কার ও নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ করা হয়েছে।    এই অফারে অংশ নিতে কোনো কেনাকাটা বাধ্যতামূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি এবং কানাডার ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য চিপোটলে রিওয়ার্ডস সদস্যরা এতে অংশ নিতে পারবেন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৮:৩৬
বাগানের চেয়ারে ৪২ বেলুন বেঁধে আকাশে, ১৬ হাজার ফুটে উঠে তাকে দেখে চমকে যায় পাইলট

বাগানের চেয়ারে ৪২ বেলুন বেঁধে আকাশে, ১৬ হাজার ফুটে উঠে তাকে দেখে চমকে যায় পাইলট

জন্মদিন ৭/১১, জন্মের সময় ৭:১১ এবং ওজন ৭ পাউন্ড ১১ আউন্স। একই সংখ্যার এমন বিরল মিল শেষ পর্যন্ত জে’আইম ব্রাউনের জীবনের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই এনে দিয়েছিল ৭ হাজার ১১১ ডলারের কলেজ ফান্ড।

৭/১১-তারিখে ৭:১১ মিনিটে জন্ম, ভবিষ্যতে কলেজে পড়ার জন্য ৭-ইলেভেন দিল ৭,১১১ ডলারের ফান্ড

ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউন পেমেন্টের কাছাকাছি দামেই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় বাড়ি!

ক্যালিফোর্নিয়ার ডাউন পেমেন্টের কাছাকাছি দামেই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় বাড়ি!

ডেভিড ওয়ার্নার
মদ্য'প অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দোষী সাব্যস্ত ওয়ার্নার, জরিমানা ১.৩ লাখ টাকা

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকে ১ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করেছেন সিডনির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার গাড়িতে ১২ মাসের জন্য অ্যালকোহল ইন্টারলক ডিভাইস ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে ধরা পড়ার সময় গাড়িতে তার সন্তানরাও ছিল, যে বিষয়টিকে আদালত ঘটনাটির গুরুতর দিক হিসেবে বিবেচনা করেছেন।   মঙ্গলবার সিডনির ওয়েভারলি লোকাল কোর্টে ৩৯ বছর বয়সী ওয়ার্নারকে সাজা দেন ম্যাজিস্ট্রেট ক্লেয়ার ফারনান। গত জুলাইয়ে মিড-রেঞ্জ ড্রিঙ্ক-ড্রাইভিংয়ের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই তারকা ব্যাটার।   ঘটনাটি ঘটে গত ৫ এপ্রিল, ইস্টার সানডেতে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিডনির পূর্বাঞ্চলের মারুব্রায় মালাবার রোডে র‍্যান্ডম ব্রেথ টেস্ট পরিচালনা করছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্নারের ভ্যানটি টেস্টিং পয়েন্টে পৌঁছানোর আগেই থেমে যায় এবং পার্ক করা হয়। এরপর পুলিশ সদস্যরা গাড়িটির কাছে গিয়ে তাকে পরীক্ষা করেন।   প্রথম ব্রেথ টেস্টে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর ওয়ার্নারকে মারুব্রা পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় পরীক্ষায় তার রিডিং আসে ০.১০৪। নিউ সাউথ ওয়েলসে সাধারণ ড্রাইভারের বৈধ সীমা ০.০৫। অর্থাৎ ওয়ার্নারের রিডিং ছিল অনুমোদিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বন্ধুর বাসায় তিন গ্লাস ওয়াইন পান করেছিলেন ওয়ার্নার। এরপর উবার বা অন্য কোনো বিকল্প পরিবহন ব্যবহার না করে নিজেই গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার আইনজীবী আগেই এই সিদ্ধান্তকে ‘বেপরোয়া’ ও ‘বোকামি’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছিলেন, ওয়ার্নার নিজের ভুলের দায় স্বীকার করছেন।   রয়টার্স জানিয়েছে, গাড়িতে ওয়ার্নারের সন্তানদের উপস্থিতির বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। ম্যাজিস্ট্রেট ফারনান বলেন, ওয়ার্নারের আবার একই অপরাধ করার আশঙ্কা কম। তবে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো নিউ সাউথ ওয়েলসে এখনো গুরুতর সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে নিরুৎসাহিত করার মতো শাস্তি গুরুত্বপূর্ণ।   ওয়ার্নারের আইনজীবী আওয়াইজ আহমেদ আদালতে তার মক্কেলের পক্ষে তুলনামূলক নমনীয় শাস্তির আবেদন করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হওয়ায় ওয়ার্নার ইতোমধ্যে পেশাগত ও ব্যক্তিগতভাবে নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছেন বলেও আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।   তবে আদালত ওয়ার্নারের তারকাখ্যাতির কারণে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পক্ষে যায়নি। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অ্যালকোহল ইন্টারলক ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে।   ইন্টারলক হলো গাড়িতে বসানো বিশেষ ব্রেথ টেস্টিং ডিভাইস। গাড়ি স্টার্ট করার আগে চালককে এতে শ্বাসের নমুনা দিতে হয়। শরীরে নির্ধারিত মাত্রার বেশি অ্যালকোহল শনাক্ত হলে ডিভাইসটি গাড়ির ইঞ্জিন চালু হতে দেয় না। ওয়ার্নারকে ১২ মাস এই ব্যবস্থার আওতায় গাড়ি চালাতে হবে।   ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ওয়ার্নার বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও ধারাভাষ্যের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বিগ ব্যাশ লিগের সিডনি থান্ডারের অধিনায়কও। ড্রিঙ্ক-ড্রাইভিংয়ের অভিযোগ সামনে আসার পর ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস ঘটনাটিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করে নিরাপদ গাড়ি চালানোর বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিল।   ওয়ার্নার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩৮৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের অন্যতম সফল ওপেনার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই ক্রিকেটারের সাম্প্রতিক ড্রিঙ্ক-ড্রাইভিং মামলাটি এবার দোষী সাব্যস্ত হওয়া, জরিমানা এবং বাধ্যতামূলক ইন্টারলক ব্যবহারের নির্দেশের মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হলো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৬:৪৯
নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলিয়ান

নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে ম্যাকডোনাল্ডসে খাবার খাওয়ার সময় কিশোরকে একাধিক ছুরিকাঘাত

লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় বাতিলে সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

নতুন বাড়িতে উঠেছিলেন মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে, দাবানলে সব হারাল ৭ সদস্যের পরিবার

নতুন বাড়িতে উঠেছিলেন মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে, দাবানলে সব হারাল ৭ সদস্যের পরিবার

বাবা-মাকে ডিপোর্ট করল আইস, ১৩ বছরের বোনের দায়িত্ব এখন ১৯ বছরের মার্কিন তরুণীর
বাবা-মাকে ডিপোর্ট করল আইস, ১৩ বছরের বোনের দায়িত্ব এখন ১৯ বছরের মার্কিন তরুণীর

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া দুই বোনই মার্কিন নাগরিক। কিন্তু তাদের বাবা-মাকে আইস আটক করে হন্ডুরাসে ডিপোর্ট করার পর মুহূর্তেই বদলে গেছে তাদের জীবন। মাত্র ১৯ বছর বয়সী বড় বোনকে এখন নিজের জীবন সামলানোর পাশাপাশি ১৩ বছরের ছোট বোনের অভিভাবকের দায়িত্বও নিতে হচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে বাবা-মাকে ছাড়াই টেক্সাসে বসবাস করছে দুই বোন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরিবারটির এই কঠিন বাস্তবতা।   বাবা-মায়ের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে দুই বোনের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। কিন্তু বাবা-মা ডিপোর্ট হয়ে যাওয়ার পর বড় বোনের ওপর এসে পড়েছে ছোট বোনের দৈনন্দিন দেখাশোনা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব। নিজের পড়াশোনা, কাজ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার বয়সেই তাকে কার্যত একজন অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।   এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জোরদার হওয়া অভিবাসন অভিযানের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের ওপর কতটা পড়ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বাবা-মা অনথিভুক্ত অভিবাসী হলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তান সাধারণত জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। ফলে অভিভাবক ডিপোর্ট হলে অনেক পরিবারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে - সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকবে, নাকি বাবা-মায়ের সঙ্গে অন্য দেশে চলে যাবে।   এই সংকটের ব্যাপ্তি বোঝাতে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সাম্প্রতিক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ একটি চিত্র সামনে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে প্রায় ৪ লাখ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের পর ইমিগ্রেশন হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মডেলভিত্তিক অনুমান অনুযায়ী, এসব আটকের কারণে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু তাদের অন্তত একজন অভিভাবকের আইস হেফাজতে যাওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।   গবেষণাটির হিসাবে, এই শিশুদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজারই মার্কিন নাগরিক। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ২২ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক শিশুর একই বাড়িতে বসবাসকারী সব অভিভাবকই আটক হয়েছেন বলে গবেষকেরা অনুমান করেছেন। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স খুবই কম। ফলে অভিভাবকের আকস্মিক আটক শুধু একটি ইমিগ্রেশন মামলাই নয়, পুরো পরিবারের দৈনন্দিন জীবন ও শিশুদের ভবিষ্যৎকেও বদলে দিচ্ছে।   তবে ১ লাখ ৪৫ হাজারের সংখ্যাটি সরাসরি আইস বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার গণনা নয়। ব্রুকিংস ইমিগ্রেশন হেফাজতের তথ্যের সঙ্গে আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের জনমিতিক তথ্য মিলিয়ে এই অনুমান তৈরি করেছে। গবেষকদের বক্তব্য, সরকারি তথ্যে আটক ব্যক্তিদের সন্তান সম্পর্কিত তথ্য সব ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য মডেলভিত্তিক হিসাব ব্যবহার করতে হয়েছে।   আইসের নিজস্ব নীতিতেও আটক ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনি অভিভাবক হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আটক ব্যক্তির সন্তান আছে কি না এবং তাদের দেখাশোনার ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কথা। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, বাস্তবে সব ক্ষেত্রে এই তথ্য পূর্ণাঙ্গভাবে সংগ্রহ হয় না। আবার সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কিছু অভিবাসীও বিস্তারিত তথ্য দিতে দ্বিধা করেন।   আইনগতভাবে এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কোনো ব্যক্তির সন্তান মার্কিন নাগরিক হলেই সেই সন্তানের অনথিভুক্ত বাবা-মা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপোর্টেশন থেকে সুরক্ষা পান না। একইভাবে বাবা-মায়ের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা তাদের ডিপোর্টেশনের কারণে মার্কিন নাগরিক সন্তানের নাগরিকত্বও বাতিল হয় না। ফলে একই পরিবারের বাবা-মা ও সন্তানদের আইনি অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে।   এই আইনি বাস্তবতাই অনেক পরিবারকে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করাচ্ছে। বাবা-মা আটক বা ডিপোর্ট হলে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দ্রুত আত্মীয়, প্রাপ্তবয়স্ক ভাই-বোন অথবা বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব নিতে হতে পারে। এমন ব্যবস্থা সম্ভব না হলে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হতে পারে। অতীতেও অভিভাবকের আটক বা ডিপোর্টেশনের পর শিশুদের ফস্টার কেয়ারে যাওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   টেক্সাসের দুই বোনের ঘটনাটি তাই শুধু একটি পরিবারের বিচ্ছেদের গল্প নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন অভিযানের এমন একটি দিক এটি, যেখানে আইসের অভিযানের সরাসরি লক্ষ্য না হয়েও মার্কিন নাগরিক শিশুরা তার বড় প্রভাব বহন করছে। একজন অভিভাবককে আটক বা ডিপোর্ট করার পর সেই পরিবারের বাসস্থান, আয়, স্কুল, মানসিক স্থিতি এবং শিশুদের দেখাশোনার পুরো ব্যবস্থাই মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।   মাত্র ১৯ বছর বয়সে যে তরুণীর নিজের পড়াশোনা, চাকরি ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথা, তাকেই এখন ১৩ বছরের ছোট বোনের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে তাদের বাবা-মা রয়েছেন হন্ডুরাসে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় দুই বোন নিজেদের দেশে থাকার অধিকার ধরে রেখেছে, কিন্তু সেই অধিকারের সঙ্গে তাদের সামনে এসেছে বাবা-মাকে ছাড়া জীবন চালিয়ে যাওয়ার কঠিন বাস্তবতা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৩:৫৮
৫০ অঙ্গরাজ্যের মাত্র ৩টিতে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত

৫০ অঙ্গরাজ্যের মাত্র ৩টিতে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত, জনপ্রিয়তায় বড় ধস

যুদ্ধবিচ্ছিন্ন আরও এক শিশুকে মায়ের কাছে ফেরালেন মেলানিয়া ট্রাম্প

যুদ্ধবিচ্ছিন্ন আরও এক শিশুকে মায়ের কাছে ফেরালেন মেলানিয়া ট্রাম্প

স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পাশে বসিয়ে ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালালেন স্বামী

স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পাশে বসিয়ে ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালালেন স্বামী

0 Comments