আমেরিকা

এপস্টেইন নিয়ে কেন প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প, জানালেন তার উপদেষ্টা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২২:২২
এপ্রিল মাসে এপস্টেইন ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
এপ্রিল মাসে এপস্টেইন ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত এপ্রিলে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশ্যে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা সে সময় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে খুব কম দেখা যাওয়া মেলানিয়ার এমন অবস্থান অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। এবার সেই বক্তব্যের নেপথ্যের কারণ প্রকাশ করেছেন তার একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।

 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলানিয়ার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক বেকম্যান বলেন, ওই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি বিষয় স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে।

তার ভাষায়, "মেলানিয়া ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানাতে চেয়েছিলেন যে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং কখনোই ছিল না। একই সঙ্গে তিনি এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের পক্ষে একজন সমর্থক ও নেতৃত্বদানকারী কণ্ঠ হতে চেয়েছিলেন।"

 

বেকম্যান আরও জানান, মেলানিয়া কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্য শুনানিতে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এতে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা সরাসরি আইনপ্রণেতাদের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।

 

কী বলেছিলেন মেলানিয়া?

 

এপ্রিলের সেই বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি কখনো জেফরি এপস্টেইনের বন্ধু ছিলেন না, তার কোনো অপরাধের শিকারও হননি এবং এপস্টেইনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কখনো উপস্থিত ছিলেন না বা অংশ নেননি।

তিনি আরও অস্বীকার করেন যে এপস্টেইনই তার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

একই বক্তব্যে তিনি কংগ্রেসকে উদ্দেশ করে বলেন, এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্যে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

মেলানিয়ার ভাষায়, "এই নারীদের কংগ্রেসের সামনে শপথ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিন। প্রত্যেক নারীরই প্রকাশ্যে নিজের গল্প বলার অধিকার রয়েছে।"

 

বক্তব্য ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

 

মেলানিয়া ট্রাম্পের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। কেউ তার বক্তব্যকে সাহসী উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানান, আবার কেউ সমালোচনা করেন।

এপস্টেইনের কয়েকজন জীবিত ভুক্তভোগীর একটি সংগঠন সে সময় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, মেলানিয়ার বক্তব্যে বিচার নিশ্চিত করার দায়ভার ভুক্তভোগীদের ওপরই বেশি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট অনুযায়ী সব নথি প্রকাশে পুরোপুরি সহযোগিতা করেনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস, যিনি নিজেও অতীতে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন, মেলানিয়ার বক্তব্যের প্রশংসা করেন।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, "এটি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি যখন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন, তখন সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা।"

 

ট্রাম্প কী জানতেন?

 

এপ্রিলের ওই বক্তব্যের পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি জানতেন যে মেলানিয়া একটি বিবৃতি দিতে যাচ্ছেন। তবে বক্তব্যে কী থাকবে, তা আগে থেকে জানতেন না।

তার ভাষায়, "এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি জানতাম তিনি বক্তব্য দেবেন, কিন্তু তিনি কী বলবেন, তা জানতাম না।"

এখনও পুরোপুরি প্রকাশ হয়নি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি

জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে তদন্তের কিছু নথি প্রকাশ নিয়ে এখনও আইনি লড়াই চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে কিছু সম্পাদিত (রেডাক্টেড) নথি প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

যদিও একটি ফেডারেল আদালত বিচার বিভাগকে ওই নথি প্রকাশ অথবা তা গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছে।

এসব নথির মধ্যে তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের নোটও রয়েছে, যেখানে এক নারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ করেছিলেন। তবে সেই অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

 

এ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জেফরি এপস্টেইন-সম্পর্কিত কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোনো ফৌজদারি অভিযোগও আনা হয়নি।

সূত্র: Politico, The New York Times

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের ১২ এলাকায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান
নিউইয়র্কের ১২ এলাকায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার আতঙ্কে অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির অন্তত ১২টি এলাকায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস-এর অভিযান এবং নজরদারি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সতর্ক করেছে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। হঠাৎ করে এই ধরপাকড় অভিযান বেড়ে যাওয়ায় শহরজুড়ে বসবাসরত অনিবন্ধিত অভিবাসী ও প্রবাসীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও অনেকেই যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে ভুগছেন।   নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে শহরের বেশ কয়েকটি সুপরিচিত এলাকায় আইসের তৎপরতা ব্যাপকভাবে চোখে পড়েছে। এর মধ্যে ম্যানহাটনের ইনউড ও ওয়াশিংটন হাইটস এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পোর্ট রিচমন্ড ও স্ট্যাপলটন এলাকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।   পাশাপাশি ব্রুকলিন বোরোর সানসেট পার্ক, ডাইকার হাইটস, বেনসনহার্স্ট এবং সাইপ্রেস হিলসেও আইস সদস্যদের আকস্মিক উপস্থিতি ও অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। মূলত যেসব এলাকায় অভিবাসীদের ঘনবসতি বেশি, কৌশলগতভাবে সেসব জায়গাতেই এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ব্রুকলিন ও ম্যানহাটনের পাশাপাশি কুইন্সের মতো বাংলাদেশি এবং অন্যান্য অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও এই অভিযানের তীব্র আঁচ লেগেছে। স্থানীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, কুইন্সের এলমহার্স্ট, ইস্ট এলমহার্স্ট, কলেজ পয়েন্ট এবং করোনা এলাকায় আইসের দৃশ্যমান উপস্থিতি বেড়েছে।   উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত ২৭ জুলাইয়ের পর থেকে কেবল কুইন্স এলাকাতেই দুই ডজনের বেশি ব্যক্তিকে আটকের সুনির্দিষ্ট তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ভয়াবহ ভীতির সঞ্চার করেছে।   তবে এই ধরপাকড় পরিস্থিতি ঠিক কতটা ব্যাপক, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক অভিযানের কোনো পূর্ণাঙ্গ বা আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে অভিবাসী সংগঠনগুলোর তালিকাভুক্ত প্রতিটি এলাকায় প্রতিদিন নিয়মিত অভিযান চলছে কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।   তা সত্ত্বেও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে অভিবাসীদের নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:২৬
নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ

নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ, উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা

নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি

নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি

ট্রাম্প যেখানে, সেখানেই নাটালি হার্প

ট্রাম্প যেখানে, সেখানেই নাটালি হার্প, ‘সিক্রেট ফ্লাইটেও’ তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন কৌতূহল

সংগীতশিল্পী শাকিরা
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় ১০ স্কুল গড়বেন শাকিরা, করবেন মিলিয়ন ডলারের সহায়তা

ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নিজ দেশ কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী শাকিরা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি চোকো সফর করে সেখানে অন্তত ১০টি স্কুল নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় পুনর্গঠনে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   গত ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে শিশুদের আবার স্কুলে ফেরানো।   মঙ্গলবার চোকোর রাজধানী কুইবদো সফর করেন শাকিরা। তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন ধনকুবের ও সমাজসেবী হাওয়ার্ড জি. বাফেট। তারা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।   শাকিরা জানান, তার পিয়েস দেসকালসোস ফাউন্ডেশন হাওয়ার্ড জি. বাফেট ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় চোকোতে অন্তত ১০টি স্কুল নির্মাণে কাজ করবে। একই সঙ্গে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিভার্সিদাদ তেকনোলজিকা দেল চোকোর পুনর্গঠনেও সহায়তা করা হবে।   এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি এসেছে। গ্লোবাল সিটিজেন ও লাইভ নেশন মিলিয়ে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া সিএএফ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক আরও আড়াই লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   শাকিরা বলেন, চোকোর প্রতি দীর্ঘদিনের একটি 'ঐতিহাসিক ঋণ' রয়েছে। কলম্বিয়ার তুলনামূলক দরিদ্র ও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষ যেন দুর্যোগের জরুরি পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর আবারও ভুলে না যায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   শিক্ষা নিয়ে শাকিরার কাজ নতুন নয়। তার পিয়েস দেসকালসোস ফাউন্ডেশন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চোকোসহ কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের শিক্ষা ও স্কুল অবকাঠামো নিয়ে কাজ করছে। হাওয়ার্ড বাফেটের ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও এর আগে একাধিক শিক্ষা প্রকল্পে কাজ করেছেন তিনি।   ভূমিকম্পের পর শাকিরার এবারের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু ভবন পুনর্নির্মাণ নয়, যত দ্রুত সম্ভব শিশুদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে স্কুলকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন তিনি।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১১:৩১
অপারেশনের পরদিন মাথা ও মুখ ফুলে যাওয়ায় ফিনকেন নিজেই মজা করে বলেছিলেন তাকে দেখতে ডিমের মতো লাগছে। ছবি: সংগৃহীত

১৭ হাজার ৫০০ ডলারে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ডিমের মতো ফুলে গেল টিকটকারের মুখ

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে মার্কিন জ্বালানি বাজারে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল দাম গ্যালন প্রতি ৫.৪৬ ডলার বৃদ্ধি পাওয়ায়, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়ির বারান্দায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ক্যালটেকের খ্যাতিমান জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল গ্রিলমেয়ার। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর বাহিরে দূর গ্রহে পানির সন্ধান পাওয়া বিজ্ঞানী নিজ বাড়ির দরজায় গুলিতে নিহত

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফ্লক ক্যামেরা সিস্টেমে নিজের আলাদা থাকা স্ত্রীর গাড়ির লাইসেন্স প্লেট ৭১৭ বার সার্চ করার অভিযোগ উঠেছে ফ্লোরিডার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লক ক্যামেরায় স্ত্রীর গাড়ি ৭১৭ বার ট্র্যাক, এক মাসেই ২৮০ বার খুঁজেছেন পুলিশ কর্মকর্তা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধ তদন্তে ব্যবহৃত ফ্লক ক্যামেরা সিস্টেমে নিজের সেপারেটেড স্ত্রীর গাড়ির লাইসেন্স প্লেট ৭১৭ বার সার্চ করার অভিযোগ উঠেছে ফ্লোরিডার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব সার্চকে বৈধ পুলিশি অনুসন্ধান হিসেবে দেখাতে তিনি মাদক, ওয়ান্টেড ব্যক্তি ও গাড়িসংক্রান্ত অপরাধের মতো কারণও উল্লেখ করেছিলেন।   অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম ক্রিস্টোফার গুডসন। ৩১ বছর বয়সী গুডসন হেইন্স সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত। আদালতে জমা দেওয়া প্রোবেবল কজ অ্যাফিডেভিট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তিনি ফ্লক ডেটাবেসে স্ত্রীর গাড়ির লাইসেন্স প্লেট ৭১৭ বার সার্চ করেন। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই তিনি ২৮০ বার গাড়িটি খুঁজেছেন।   তদন্তে বলা হয়েছে, ওই সময় গুডসনের সেপারেটেড স্ত্রী কোনো ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের আওতায় ছিলেন না। তার গাড়িও কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল না। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডেটাবেসে এতবার তার অবস্থান খোঁজার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   বিষয়টি সামনে আসার পর গুডসন কর্তৃপক্ষকে জানান, সন্তানরা যখন তাদের মায়ের সঙ্গে থাকত তখন তারা কোথায় আছে, তা জানতেই তিনি এসব সার্চ করেছিলেন।   কিন্তু তদন্তকারীদের নজর পড়ে সার্চ করার সময় দেওয়া কারণগুলোর দিকে। অ্যাফিডেভিট অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় তিনি ‘ক্রিমিনাল মোটর ভেহিকল অফেন্স’, ‘ওয়ান্টেড পারসন’ এবং ‘ড্রাগস/নারকোটিকস’সহ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণ নির্বাচন করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে করা সার্চগুলোকে অফিসিয়াল পুলিশি কাজ হিসেবে দেখাতেই এসব কারণ ব্যবহার করা হয়েছিল।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পেছনেও রয়েছে ভিন্ন ঘটনা। পুলিশি নথি অনুযায়ী, ১০ আগস্ট গুডসনের সেপারেটেড স্ত্রী তাকে জানান, ওয়াশিংটন পোস্টের একজন সাংবাদিক ফ্লক ডেটাবেসের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এরপর গুডসন তার এক সুপারভাইজারকে জানান, তিনি স্ত্রীর গাড়ি নিয়ে ডেটাবেসে একাধিকবার অনুসন্ধান করেছিলেন।   এরপর তার সার্চ হিস্ট্রি পর্যালোচনা শুরু হয় এবং মোট ৭১৭টি অনুসন্ধানের তথ্য পাওয়া যায়।   ঘটনায় গুডসনের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল মিসকন্ডাক্ট এবং কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহারসংক্রান্ত অপরাধের একটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে তাকে বেতনসহ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ লিভে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগের ইচ্ছাও জানিয়েছেন।   হেইন্স সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গুডসন ২০২২ সালের মার্চ থেকে বিভাগটিতে কর্মরত।   পুলিশ প্রধান আইজ্যাক জ্যাকসন জানিয়েছেন, তদন্ত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যভান্ডারে অননুমোদিত প্রবেশ কিংবা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়টি তাদের বিভাগ সহ্য করে না। এসব সিস্টেম কেবল বৈধ অফিসিয়াল কাজে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়।   ঘটনার পর ফ্লকসহ বিভিন্ন তদন্তমূলক ডেটাবেস কর্মকর্তারা যথাযথ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তদারকির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।   ফ্লক ক্যামেরা মূলত অটোমেটেড লাইসেন্স প্লেট রিডার প্রযুক্তি। সড়কে থাকা ক্যামেরাগুলো গাড়ির লাইসেন্স প্লেটসহ বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে এবং অনুমোদিত আইনশৃঙ্খলা সংস্থা অপরাধ তদন্ত বা সন্দেহভাজন গাড়ি শনাক্ত করতে সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অপরাধ তদন্তে এই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক গাড়ির চলাচলের তথ্য সংগ্রহ এবং সেই তথ্য কারা, কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারছেন, তা নিয়ে প্রাইভেসি ও নজরদারি সংক্রান্ত বিতর্কও বাড়ছে।   ফ্লোরিডার এই ঘটনা সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, অপরাধ তদন্তের জন্য তৈরি একটি শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ হিসেবে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৯:৫৩
হরমুজ প্রণালীকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে নিজের ট্রুথ সোশ্যালে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ দাবি করে ট্রাম্পের নতুন মানচিত্র, ইরানের পাল্টা শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ম্যাট্রেসের নিচে লুকিয়ে থাকা ২৪ বছর বয়সী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ম্যাট্রেসের নিচে লুকিয়েও রক্ষা হলো না, পুলিশ দেখে মাকে ডাকায় অফিসারকে মায়ের ঘুষি

শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে স্কুল ছুটির পর ওয়ালমার্টে রাতভর কাজ করতেন সাউথ ক্যারোলিনার এক হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল। ছবি: সংগৃহীত

অসহায় শিক্ষার্থীদের অভাব মেটাতে রাতে ওয়ালমার্টে চাকরি, পুরো বেতন বিলিয়ে দিতেন স্কুলের প্রিন্সিপাল

0 Comments