সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পেনসিলভেনিয়ায় অবৈধ অভিবাসী ট্রাক চালকের ধাক্কায় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:৪১
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় ডিউটিরত অবস্থায় এক অবৈধ হাইতিয়ান অভিবাসী ট্রাক চালকের ধাক্কায় মাইকেল ই. পাহিরা জুনিয়র (৪৪) নামে এক স্টেট ট্রুপার (পুলিশ কর্মকর্তা) মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ৭টার দিকে স্কুইলকিল কাউন্টির ইন্টারস্টেট ৮১ মহাসড়কে একটি সেমিট্রাক পরিদর্শনের সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, পাহিরা তার টহল গাড়ির ইমার্জেন্সি লাইট জ্বালিয়ে সড়কের ডান পাশে পার্ক করে একটি ট্রাক পরিদর্শন করছিলেন।

 

এ সময় পেছন থেকে ছুটে আসা অপর একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথম ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে মারাত্মক চেইন রিঅ্যাকশন সৃষ্টি হয় এবং কর্মকর্তা পাহিরা চাপা পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই উভয় ট্রাকের সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিকরা ধোঁয়া দেখে দ্রুত ছুটে এসে পাহিরাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘাতক ট্রাকটির ৩৩ বছর বয়সি চালক মাইকেল বন মূলত হাইতির নাগরিক। বাইডেন প্রশাসনের আমলে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের প্যারোলভুক্ত হিসেবে ফ্লোরিডা দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তার টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বা অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদার আবেদন বাতিল হয় এবং ২০২৫ সালের জুনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার প্যারোল বাতিল করে দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়।

 

কিন্তু সেই আইনি নির্দেশ সম্পূর্ণ অমান্য করে তিনি ম্যাসাচুসেটসের ব্রকটনে বসবাস চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শুধু তাই নয়, সেখানে তিনি একটি 'নন-ডোমিসাইলড কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স (সিডিএল)' সংগ্রহ করে ভারী ট্রাক চালানো শুরু করেন। ম্যাসাচুসেটস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার ঠিক এক মাস আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার এই লাইসেন্সটি নবায়ন করা হয়েছিল।

 

দুর্ঘটনায় আহত ঘাতক চালক বনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে ভেহিকুলার হোমিসাইড, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে অন্যের জীবন বিপন্ন করা এবং অনিচ্ছাকৃত হত্যার মতো গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৭ লাখ ডলারের জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীর মাধ্যমে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 

২০০৭ সালে পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশে যোগ দেওয়া পাহিরাকে তার সহকর্মীরা একজন অত্যন্ত "ভালো মানুষ এবং ভালো পুলিশ" হিসেবে স্মরণ করছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করার জন্য তিনি সম্প্রতি মায়ের কাছেই ফিরে এসেছিলেন। পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পাহিরা তার মায়ের কেমোথেরাপির সময় নিজে হাতে মায়ের চুল কেটে দিয়েছিলেন। একজন দায়িত্বশীল সন্তান এবং নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ কর্মকর্তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাজ্য পুলিশ এবং স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে আবার সামনে আনা দ্য কর্নেল ডেইলি সানের প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাস। ছবি: সংগৃহীত
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাং রেইপের অভিযোগ সামনে আনতে ভূমিকা রাখলেন মুসলিম শিক্ষার্থী সোফিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন শিক্ষার্থী পত্রিকা দ্য কর্নেল ডেইলি সানের সাংবাদিক সেরিস কুসবা ও প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাসের। গত সেপ্টেম্বরে অভিযোগকারী সাবেক শিক্ষার্থী দেওয়ানি মামলা করার পর পত্রিকাটির প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।    মামলায় নিজের পরিচয় গোপন রাখতে ‘জেন ডো’ নাম ব্যবহার করেছেন ওই নারী। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কর্নেলের চি ফাই ফ্র্যাটারনিটি হাউসে তাঁকে মাদক গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্র্যাটারনিটির সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং সাতজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি পক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি।   কর্নেল ডেইলি সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। সে সময় চি ফাইয়ের কর্নেল শাখাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।    ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তির পরও অনুসন্ধান চালিয়ে যান কুসবা। সিএনএনকে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত, অভিযুক্তদের অবস্থান এবং ফৌজদারি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন তিনি। অভিযোগকারী নারী ও তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করেন।   এই প্রস্তুতির কারণে দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর দ্রুত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে পত্রিকাটি। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কুসবার প্রতিবেদন জাতীয় পর্যায়ে ঘটনাটির প্রতি মনোযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।    পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাসেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে সরব হন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সম্পাদকীয় পর্ষদ কর্নেলের ভূমিকার সমালোচনা করে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। পরে কর্নেল কমিউনিটির সদস্যদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।   সোফিয়া কর্নেলে কম্পিউটার সায়েন্স ও দর্শন নিয়ে পড়ছেন। নিজের একটি কলামে তিনি মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ছিল সম্পাদক হিসেবে সংবাদ প্রকাশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জবাব চাওয়ার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া।    কর্নেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা কয়েক মাস ধরে টাইটেল নাইন তদন্ত চালিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সাসপেনশন ও বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্যক্তিগত শাস্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত ফেডারেল আইনের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু প্রবন্ধ লিখিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।    এদিকে ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় চালুর পর নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। ১ অক্টোবর গভর্নর ক্যাথি হোকুল অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তরকে বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে তদন্তের দায়িত্ব দেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরও নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।    অভিযুক্তদের কয়েকজন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দেওয়ানি মামলার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এবং ফৌজদারি আদালতে অপরাধ প্রমাণ পৃথক বিষয়। সাতজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি; মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১১:৫
ক্যানসার আক্রান্ত চার সন্তানের বাবা কাইলার হেস ও তাঁর পরিবার এবং ইনসেটে নিঃস্বার্থ লিভার দাতা অ্যাবি কনলি। ছবি: সংগৃহীত

চার সন্তানের ক্যানসার আক্রান্ত বাবাকে নিজের লিভার দান করলেন এক অপরিচিত নারী, হতবাক পরিবার

নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটে বাড়িতে গুলিবর্ষণে নিহত চার বছরের শিশু কেলেব ফ্ল্যাক্স ও গ্রেপ্তারকৃত প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্ত টেরেন্স জ্যাকসন। ছবি: সংগৃহীত

নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় গুলির আঘাতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, কিশোর সহ ৫ গ্রেফতার

বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে যাওয়ার পথে ছয় আরোহীসহ একটি বিমান নিখোঁজ হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বস্টনগামী বিমান ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ, সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের তল্লাশি

নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএর তিনটি সংস্থায় বাস অপারেটর পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে এমটিএর বাস অপারেটর পদে আবেদন চলছে, জেনে নিন আবেদনের যোগ্যতা

নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএর তিনটি সংস্থায় বাস অপারেটর পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ হালনাগাদ করা সরকারি তালিকা অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিট, ম্যানহাটন অ্যান্ড ব্রঙ্কস সারফেস ট্রানজিট অপারেটিং অথরিটি বা ম্যাবস্টোয়া এবং এমটিএ বাস কোম্পানির পদগুলো শূন্যপদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে। আবেদনকারীদের কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল, অথবা সংশ্লিষ্ট লার্নার পারমিট থাকতে হবে।    বর্তমান তালিকায় ম্যাবস্টোয়ার বাস অপারেটর পদের নম্বর ৬১২১ এবং এমটিএ বাস কোম্পানির নম্বর ৬৩২১। নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের অস্থায়ী বা প্রভিশনাল বাস অপারেটর পদের নম্বর ৬০১২। ফলে আগের বিজ্ঞপ্তির ৫১০১ বা ৫৩০১ নম্বর দিয়ে বর্তমান নিয়োগের তথ্য খোঁজার পরিবর্তে হালনাগাদ পদের নম্বর অনুসরণ করতে হবে।    বেতনের ক্ষেত্রেও সংস্থা ও বিজ্ঞপ্তিভেদে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। এমটিএর নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের ৬৬০৯ নম্বর পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের জন্য প্রারম্ভিক বেতন ঘণ্টায় ২৮ দশমিক ৭৬ ডলার এবং চাকরির ষষ্ঠ বছরে ৪১ দশমিক ০৯ ডলার উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই পরীক্ষার আবেদনপর্ব ২০২৫ সালের নভেম্বরেই শেষ হয়েছে। তাই সেই বেতনহারকে বর্তমানে খোলা সব পদের নিশ্চিত বেতন হিসেবে ধরা যাবে না।    একই বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুবিধার মধ্যে রয়েছে রাত ও সপ্তাহান্তে কাজের বাড়তি ভাতা, পেইড হলিডে, ভ্যাকেশন, সিক লিভ, মেডিকেল ও পেনশন প্ল্যান। বর্তমানে খোলা পদের জন্য এসব শর্ত সংশ্লিষ্ট চাকরির বিবরণ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।    নিয়োগের আগে পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অধিকার প্রমাণ করতে হয়। এই শর্তকে শুধু নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলা ঠিক নয়। এমটিএর বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজিতে বুঝতে ও যোগাযোগ করতে পারা এবং বাস অপারেটর ট্রেনিং সফলভাবে শেষ করার শর্তও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।    চাকরির ধরনেও পার্থক্য রয়েছে। ম্যাবস্টোয়া ও এমটিএ বাস কোম্পানির বাস অপারেটররা সুবিধা ও ইউনিয়ন প্রতিনিধিত্ব পেলেও পদ দুটি সিভিল সার্ভিস পদ নয়। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের প্রভিশনাল পদে স্থায়ী হতে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাস করে নির্বাচিত তালিকা থেকে নিয়োগ পেতে হবে।    আগ্রহীরা এমটিএর ক্যারিয়ার বিভাগের বর্তমান পরীক্ষার তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট বাস অপারেটর পদ বেছে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে পদের বেতন, লাইসেন্সের শর্ত, পরীক্ষার ধরন ও প্রযোজ্য ফি পড়তে বলেছে কর্তৃপক্ষ। আবেদন করলেই নিয়োগ নিশ্চিত হবে না; সংশ্লিষ্ট বাছাই ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৯:৫৭
ক্যালিফোর্নিয়ার নার্স মরিন ওয়ানজিরুকে দুই দশক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কেনিয়ায় ফেরত পাঠিয়েছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনার মধ্যেই নার্সকে ডিপোর্ট করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের গাড়ি দিয়ে বাড়তি আয়ের অন্যতম একটি বিকল্প মাধ্যম অ্যামাজন ফ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় উবারের বিকল্প ডেলিভারি জব, আয় হয় দ্বিগুণ! জানুন বিস্তারিত

বাংলাদেশি নাগরিক আবু সালেহ

টেনেসিতে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণায় বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার

গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী আনতে করতে হবে ৪বছর  অপেক্ষা
গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী আনতে করতে হবে ৪বছর অপেক্ষা, জেনে নিন বুলেটিন

গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ২এ ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এটি পারিবারিক অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্যাটাগরি, যেখানে বার্ষিক ভিসাসংখ্যার সীমা রয়েছে। তাই আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদন পেলেই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হয় না; ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং পরবর্তী প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হয়।    অক্টোবরের বুলেটিনে এফ২এ ক্যাটাগরির ডেটস ফর ফাইলিং তালিকা কারেন্ট রয়েছে। তবে নথি জমা দেওয়ার সুযোগ এবং চূড়ান্ত ভিসা দেওয়ার যোগ্যতা আলাদা বিষয়। ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসির নির্দেশনা অনুযায়ী নথি জমা দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কোন তালিকা ব্যবহার করা যাবে, তা ইউএসসিআইএস নির্ধারণ করে।    অপেক্ষার সময় বোঝার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। ইউএসসিআইএসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রসেসিং টাইম সাধারণত আগের ছয় মাসে নিষ্পত্তি হওয়া ৮০ শতাংশ কেস সম্পন্ন করতে কত সময় লেগেছে, তা দেখায়। এটি প্রতিটি নতুন আবেদনের নির্ধারিত সময় বা গড় সময় নয়। আবেদন কোন দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কেসের পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় বদলাতে পারে।    মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে পড়েন। তাঁদের জন্য এফ২এ-এর মতো বার্ষিক ভিসা কোটার অপেক্ষা নেই। তবে পিটিশন যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি, ইন্টারভিউ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। ফলে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলেই ১৬ থেকে ২৪ মাসে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আবেদন করলেই ৯ থেকে ১২ মাসে প্রক্রিয়া শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।    গ্রিন কার্ডধারী আবেদনকারী পরে মার্কিন নাগরিক হলে স্বামী বা স্ত্রীর পিটিশন ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য কেসের অবস্থান অনুযায়ী ইউএসসিআইএস বা এনভিসিকে নাগরিকত্ব পাওয়ার তথ্য ও প্রমাণ জানাতে হয়। এতে কোটাভিত্তিক অপেক্ষা দূর হতে পারে, তবে নির্দিষ্টসংখ্যক বছর সময় বাঁচবে বলা যায় না।    নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। সাধারণ নিয়মে অন্তত পাঁচ বছর গ্রিন কার্ডধারী থাকা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসসহ অন্যান্য শর্ত রয়েছে। তাই পরিবারের পুনর্মিলনের পরিকল্পনায় নিজের নাগরিকত্বের যোগ্যতা, পিটিশনের অবস্থা এবং সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৭:৩৯
মেক্সিকোর খামারে সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ হাজার সং ক্র মণের তদন্তে নতুন তথ্য

প্রায় ১৩ হাজার সং ক্র মণের পর লেটুসের উৎস নিয়ে নতুন তথ্য, মেক্সিকোর খামারে শনাক্ত পর জী বি

অবসরজীবনে কম খরচে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকা প্রকাশ

অবসরের পর কম খরচে নিরিবিলি জীবন কাটাতে সাশ্রয়ী যুক্তরাষ্ট্রের ১০ অঙ্গরাজ্য

টেক্সাসের বিগ বেন্ডে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে আদালতের সাময়িক স্থগিতাদেশ

টেক্সাসে ট্রাম্পের ৪৬ বিলিয়ন ডলারের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণে বিচারকের স্থগিতাদেশ

0 Comments