আন্তর্জাতিক

‘আমরা ভালো মানুষ, তাই সময় দিয়েছি’—খামেনির জানাজার মাঝেই ট্রাম্পের কটাক্ষ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:২৮
খামেনির জানাজার মাঝেই ট্রাম্পের কটাক্ষ I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
খামেনির জানাজার মাঝেই ট্রাম্পের কটাক্ষ I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্য কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তবে এই শোকাবহ ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানকে নিয়ে চরম কটাক্ষ ও উপহাস করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘ভয়াবহভাবে আঘাত করেছে’ এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মার্কিন প্রশাসন দেশটিকে ‘এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে’।

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মাউন্ট রাশমোরের কাছে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চে নিজের আগ্রাসী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা একদিনেই ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে ভয়াবহভাবে আঘাত করেছি। তারা এখন সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

 

তবে আমরা ভালো মানুষ বলেই তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য এই এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন, যার পরশ্রুতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দাফন সম্পন্ন করার বিধান থাকলেও, তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হয়।

 

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বারবার নাজুক অবস্থায় পৌঁছালেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। এর সূত্র ধরেই ইরান গত ৪ জুলাই থেকে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা কর্মসূচি শুরু করে।

 

ছয় দিনের এই বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৭ জুলাই কোম শহরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান পবিত্র মাশহাদ শহরে দাফনের মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। জানাজা উপলক্ষে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খামেনির ছবি সংবলিত পোস্টার ও বিলবোর্ড টানানো হয়েছে এবং তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শোকগ্রস্ত জনতাকে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান সংবলিত ব্যানার বহন করতে দেখা গেছে।

 

এদিকে তীব্র নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে আলি খামেনির ছেলে ও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার শেষকৃত্যে প্রকাশ্যে অংশ নেবেন না বলে জানা গেছে। ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি জানিয়েছেন, ইসরাইলের সম্ভাব্য ড্রোন হামলা ও গোয়েন্দা নজরদারির উচ্চ ঝুঁকির কারণে মোজতবার প্রকাশ্যে উপস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

 

বিদায়ের এই করুণ মুহূর্তে আলি খামেনির কফিনের পাশেই রাখা হয়েছে তাঁর ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট একটি কফিন, যে ওই মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছিল। একই সঙ্গে ওই হামলায় প্রাণ হারানো খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের মরদেহও শেষ শ্রদ্ধার জন্য তাঁর কফিনের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সাইবার হা মলা, আইআরজিসির হয়ে ৩১ টেরাবাইট তথ্য চুরি; অভিযুক্ত ১৭ ইরানি হ্যা কার
যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার হামলা, ৩১ টেরাবাইট গবেষণা তথ্য চুরিতে অভিযুক্ত ১৭ ইরানি হ্যাকার

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে শত শত বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সাইবার হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরির দায়ে ১৭ জন ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন প্রশাসন। 'মাবনা ইনস্টিটিউট' নামের একটি ইরানি হ্যাকিং গ্রুপের সদস্য এই অভিযুক্তরা অন্তত ২০১৩ সাল থেকে এই সুসংগঠিত সাইবার অপরাধের সাথে যুক্ত।   যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের মার্কিন অ্যাটর্নি, বিচার বিভাগ এবং ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কর্মকর্তারা সম্প্রতি ১৪-দফার এই সংশোধিত অভিযোগপত্র বা ইনডিক্টমেন্ট প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অভিযুক্তরা মূলত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার হয়ে এই বৈশ্বিক গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য চুরির মিশন পরিচালনা করেছিল।   হ্যাকারদের এই সংঘবদ্ধ চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি এবং অন্যান্য দেশের ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম হ্যাক করে বিশ্বজুড়ে এক লাখেরও বেশি অধ্যাপকের অ্যাকাউন্ট টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা সক্ষম হয়। এর পাশাপাশি অন্তত ৪২টি মার্কিন বেসরকারি কোম্পানি, ইউরোপের বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক এনজিও এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বেশ কয়েকটি সংস্থাও তাদের হামলার শিকার হয়।   হ্যাকাররা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন গবেষণার অন্তত ৩১.৫ টেরাবাইট অ্যাকাডেমিক ডেটা ও মহামূল্যবান ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (মেধাস্বত্ব) চুরি করে। এই চুরি করা তথ্যগুলো তারা কেবল আইআরজিসি-র হাতেই তুলে দেয়নি, বরং 'মেগাপেপার' ও 'গিগাপেপার' নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তা ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।   এই সাইবার অপরাধের ভয়াবহতা কেবল তথ্য চুরিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; অভিযুক্তরা বিখ্যাত মার্কিন মিডিয়া ও এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি এইচবিও (HBO)-এর সার্ভারেও বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল। বেহজাদ মেসরি এবং তার সহযোগীরা এইচবিও-র গোপন ও সংবেদনশীল ডেটা চুরি করে তা ফাঁসের হুমকি দিয়ে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে।   সামগ্রিকভাবে এই হ্যাকিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্পোরেট ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিস্টেম পুনরুদ্ধারে দুই কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের 'রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস' (RFJ) প্রোগ্রাম ইতোমধ্যেই পাঁচজন শীর্ষ হ্যাকারের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য ১ কোটি ডলার (১০ মিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৬:৩১
এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় ভারতীয় মেজর সিং, ‘‘জাগ্গু ভগবানপুরিয়া’ অপরাধী চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ

এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় ভারতীয় মেজর সিং, ‘‘জাগ্গু ভগবানপুরিয়া’ অপরাধী চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ

পরিবর্তনের দাবিতে ভয়কে জয় করে ভারতের রাজপথে নারীদের নতুন লড়াই

‘আমরা অধৈর্য’, পরিবর্তনের দাবিতে ভয়কে জয় করে ভারতের রাজপথে নারীদের নতুন লড়াই

ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র, শীর্ষ কমান্ডারের স্বীকারোক্তি

ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র, শীর্ষ কমান্ডারের স্বীকারোক্তি

শরীর নুয়ে পড়েছে, কণ্ঠে এখনো নামাজের আহ্বান; ৭০ বছর ধরে আজান দিচ্ছেন আফ্রিকার শতবর্ষী মুয়াজ্জিন
শরীর নুয়ে পড়েছে, কণ্ঠে এখনো নামাজের আহ্বান; ৭০ বছর ধরে আজান দিচ্ছেন আফ্রিকার শতবর্ষী মুয়াজ্জিন

আফ্রিকার দেশ চাদের এক প্রবীণ মুয়াজ্জিনের আজান দেওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বয়সের ভারে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হলেও তাঁর অটল ভক্তি এবং দায়িত্ববোধ গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে নেটিজেনদের। স্থানীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধ মুয়াজ্জিনের বাড়ি চাদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর আম তিমানে।   তাঁকে ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বয়স্ক এবং দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা সক্রিয় মুয়াজ্জিনদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই মুয়াজ্জিন গত ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই মসজিদে নিয়মিত আজান দিয়ে আসছেন। শারীরিক নানা সীমাবদ্ধতা ও বার্ধক্যের ক্লান্তি সত্ত্বেও প্রতিদিন নিয়ম করে মসজিদে দাঁড়িয়ে তাঁর আজান দেওয়ার এই দৃশ্য এক বিরল আত্মনিবেদন ও আধ্যাত্মিক শক্তির প্রমাণ।   প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর এই অবিচল ধর্মীয় সেবা স্থানীয়দের কাছে যেমন পরম শ্রদ্ধার, তেমনি বহির্বিশ্বের মানুষের কাছেও এক বিশাল বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁর এই অসামান্য নিষ্ঠার দৃশ্যটিই বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।   তবে, সাংবাদিকতার স্বচ্ছতা ও নীতি অনুযায়ী এই তথ্যের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। ওই মুয়াজ্জিনের বয়স ১০০ বছর এবং তিনি ৭ দশকের বেশি সময় ধরে একই মসজিদে আজান দিচ্ছেন—এমন দাবিগুলো মূলত স্থানীয় সূত্র ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রচারিত।   আন্তর্জাতিক মূলধারার শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে এই তথ্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাই করেনি। সংবাদটি মূলত সচেতনতা এবং তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হয়েছে। তবে যারা এই ভাইরাল দাবির সত্যতা নিয়ে আরও গভীরে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা প্রাসঙ্গিক স্ক্রিনশট ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো যাচাই করে দেখার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৩:৩৭
গ্রিসে হানিমুনে গিয়েই ম র্মান্তিক মৃত্যু, হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল ব্রিটিশ নবদম্পতির

গ্রিসে হানিমুনে গিয়েই ম র্মান্তিক মৃত্যু, হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল ব্রিটিশ নবদম্পতির

ইরানে পরমাণু হা মলা করবে ট্রাম্প প্রশাসন! মার্জোরি টেইলরের বিস্ফোরক দাবি I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানে পরমাণু হা মলা করবে ট্রাম্প প্রশাসন! মার্জোরি টেইলরের বিস্ফোরক দাবি

জাপানে একই পরিবারের চারজনকে হ ত্যা, অসংখ্য আলামত থাকলেও ২৫ বছরেও অধরা খু নি

জাপানে একই পরিবারের চারজনকে হ ত্যা, অসংখ্য আলামত থাকলেও ২৫ বছরেও অধরা খু নি

কিশোর ড্যানিয়েল মুসার অঙ্গদানের মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছেন তিনজন গুরুতর অসুস্থ রোগী। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে চোখের সামনে নীল হয়ে যাচ্ছিল দুই দিনের ভাই, কিশোরের বুদ্ধিমত্তায় বাঁচল প্রাণ

মাত্র ১৬ বছর বয়সে জীবন থেমে গেলেও অন্যদের জীবনে বেঁচে থাকবেন লন্ডনের কিশোর ড্যানিয়েল মুসা। তার অঙ্গদানের মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছেন তিনজন রোগী, যাদের একজন মাত্র দুই দিনের নবজাতক। কিশোরটির পরিবারের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন অঙ্গদানের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্যানিয়েল হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এরপর তার পরিবার অঙ্গদানে সম্মতি দেয়।   ড্যানিয়েলের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয় মাত্র দুই দিনের এক শিশুর শরীরে। এত কম বয়সী শিশুর শরীরে উপযুক্ত দাতার অঙ্গ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় এই প্রতিস্থাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।   তার আরও অঙ্গ দুইজন রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। ফলে নিজের জীবন শেষ হয়ে গেলেও তিনজন মানুষের জীবন বাঁচানোর সুযোগ তৈরি করে দিয়ে গেছেন এই কিশোর।   পরিবারের জন্য সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেই তারা অন্য পরিবারগুলোকে একই বেদনা থেকে রক্ষা করার সুযোগ হিসেবে অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন।   যুক্তরাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা রোগীদের জন্য উপযুক্ত দাতা পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরের আকার এবং চিকিৎসাগত সামঞ্জস্যের কারণে উপযুক্ত অঙ্গ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।   ড্যানিয়েলের ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। মাত্র ১৬ বছরের একটি জীবন শেষ হয়ে গেলেও তার অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত অন্য তিনটি পরিবারকে দিয়েছে নতুন করে প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার সুযোগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১০:৪৭
ভালোবাসার টানে ১৯৭৭ সালে ভারতের দিল্লি থেকে সাইকেল চালিয়ে সুইডেনে থাকা শার্লটের কাছে পাড়ি জমিয়েছিলেন শিল্পী পি কে মহানন্দিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিমানের টিকিটের টাকা ছিল না, ভালোবাসার মানুষটির জন্য সাইকেলেই গেলেন ভারত থেকে সুইডেন

মেয়েদের শিক্ষিত করার স্বপ্নে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া ও বাইরে অপেক্ষা করা আফগান বাবা মিয়া খান। ছবি: সংগৃহীত

মেয়েদের পড়াতে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ, স্কুলের বাইরে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা আফগান বাবার

জিয়াদ মোহাম্মদ। ছবি:সংগৃহীত

ছয়জনকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে শেষবার আর ফিরতে পারলেন না ১৮ বছরের জিয়াদ মোহাম্মদ

0 Comments