আমেরিকা

তীব্র গরমে থমকে গেল উদযাপন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতা দিবসের নানা আয়োজন বাতিল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১৫:১
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতা দিবসের নানা আয়োজন বাতিল I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতা দিবসের নানা আয়োজন বাতিল I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান ভয়ংকর তাপপ্রবাহের কারণে দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উপলক্ষে আয়োজিত বেশ কয়েকটি মেগা অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে ফিলাডেলফিয়া, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া এবং কলোরাডোর মতো একাধিক অঙ্গরাজ্যে জনসমাগমপূর্ণ এসব উৎসব প্রচণ্ড গরমের কারণে বাতিল করা হয়েছে।

 

ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত 'গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার' তীব্র গরমের কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ডিসি ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস বিভাগ জানিয়েছে, রেকর্ড তাপমাত্রায় মেলায় আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই গরমজনিত অসুস্থতায় ভোগেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১১ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে বিকেল ৫টায় মেলাটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। একই কারণে ডিসিতে স্বাধীনতা দিবসের একটি সকালের প্যারেড বাতিল করা হয় এবং ক্যাপিটল ফোর্থ কনসার্টে দর্শকদের প্রবেশের সময় কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ফিলাডেলফিয়ায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বহুল প্রতীক্ষিত 'স্যালুট টু ইন্ডিপেনডেন্স সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল প্যারেড' পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান 'ওয়াওয়া ওয়েলকাম আমেরিকা'র প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেলবেনে জানান, এমন বিপজ্জনক আবহাওয়ায় এত বড় আয়োজন করা অসম্ভব, কারণ তাঁদের কাছে অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের নিরাপত্তাই সবার আগে।

 

আবহাওয়াবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম তাপমাত্রার মধ্যে দিন পার করছেন। ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটন ডিসিতে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা বাতাসে আর্দ্রতার কারণে প্রায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটিতেও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা ২০১২ সালের পর শহরটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

 

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বর্তমান আবহাওয়াকে সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন। তবে এমন চরম বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।

 

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে এই তীব্র গরম অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে উত্তরাঞ্চল, মধ্য-পশ্চিম ও গ্রেট লেকস এলাকায় বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এমনকি টর্নেডোরও আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন, তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

 

শিল্পবিপ্লবের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই প্রায় ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ জরুরি ভিত্তিতে কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের জাঁতাকলে বছরে জনগণের ১২ বিলিয়ন ঘণ্টা অপচয়, নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইম ট্যাক্স’ I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের জাঁতাকলে বছরে জনগণের ১২ বিলিয়ন ঘণ্টা অপচয়, নাম দেওয়া হয়েছে ‘টাইম ট্যাক্স’

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিকদের সরকারি ফর্ম পূরণ আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রতি বছর প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। সাংবাদিক অ্যানি লোওরে তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই “দ্য টাইম ট্যাক্স: হাউ দ্য গভর্নমেন্ট ওয়েস্টস আওয়ার টাইম — অ্যান্ড হাউ টু ফিক্স ইট”-এ এই বিষয়টিকে ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের ওপর কর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত প্রায় ৯১ হাজার ৪৭৬টি সরকারি সংস্থা তাদের নিজস্ব নিয়ম ও ফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের এই বিপুল পরিমাণ সময় কেড়ে নিচ্ছে। আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের মতে, নষ্ট হওয়া এই শ্রমঘণ্টার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৪৩০ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনির জন্য বছরে প্রায় ছয় দিন পূর্ণকালীন কাজের সমান।   আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতার একটি ভয়াবহ উদাহরণ হলেন জেফ মিলার নামের এক ব্যক্তি। ২০০১ সালে ম্যাসাচুসেটসের একটি মোটরযান কার্যালয়ে (ডিএমভি) ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থানান্তর করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, সরকারি খাতায় তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী! আসলে একই দিনে ও একই রাজ্যে জন্ম নেওয়া জেফ মিলার নামের অন্য এক ব্যক্তি হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ করেছিলেন। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মিলারকে তার জন্মসনদ, পাসপোর্ট এবং নতুন করে সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড জোগাড় করতে হয়েছিল।   নিউজার্সি থেকে তাকে একটি চিঠিও সংগ্রহ করতে হয় প্রমাণ করার জন্য যে, তিনি সেই অপরাধী জেফ মিলার নন। কিন্তু তাতেও হয়রানির শেষ হয়নি; পরবর্তী সময়ে কানাডা ভ্রমণ শেষে তাকে সীমান্তে আটক করা হয় এবং অপরাধীদের বাড়ি ভাড়া দেয় না বলে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি-ও তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দেয়।   বইটিতে দেখানো হয়েছে, এই ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের অপচয় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলে দরিদ্র, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষদের। উটাহ রাজ্যের তিন সন্তানের একক মা মার্সেলা প্যাটিনোর সপ্তাহে আয় ছিল মাত্র ৩০০ ডলার এবং তিনি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।   কিন্তু বারবার কাগজপত্রের প্রমাণ দেওয়া এবং সরকারি ওয়েবসাইটের জটিলতার কারণে তাকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এমনকি মিশিগান রাজ্যে একসময় সরকারি সহায়তার আবেদনের ফর্মটি ছিল ৪০ পৃষ্ঠার এবং ১৮ হাজার শব্দ সংবলিত।   সেখানে আবেদনকারীদের ওজন, চুলের রঙের পাশাপাশি কোনো নারী গর্ভবতী হলে তার সন্তান ঠিক কোথায় এবং কবে মাতৃগর্ভে এসেছিল— এমন অযৌক্তিক প্রশ্নও করা হতো। লোওরে এই পরিস্থিতিকে ‘পেপারওয়ার্ক ভোর্টেক্স’ বা কাগজপত্রের ঘূর্ণিপাক বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার চেয়ে ফর্ম পূরণ করাই দরিদ্রদের মূল কাজে পরিণত হয়।   তবে পরিস্থিতি যে অপরিবর্তনযোগ্য, তা কিন্তু নয়। বইটিতে উদাহরণ হিসেবে ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়ার কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রায় সব সরকারি সেবা একটি নিরাপদ ডিজিটাল পোর্টালে পাওয়া যায়। তাদের ‘অনলি ওয়ান্স’ বা ‘কেবল একবার’ নীতির ফলে এক সংস্থাকে তথ্য দিলে অন্য সংস্থাগুলো সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারে।   ফলে এস্তোনিয়ার নাগরিকরা মাইক্রোওভেনে পপকর্ন ভাজতে যে সময় লাগে, তার চেয়েও কম সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন। পরবর্তীতে আমেরিকার মিশিগান রাজ্যও তাদের সেই বিশাল ফর্মটি ছোট করে ৮০ শতাংশ শব্দ কমিয়ে আনে, যার ফলে আবেদন সফল হওয়ার হার ৭২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪ শতাংশে দাঁড়ায়।   অ্যানি লোওরের মতে, নাগরিকদের অপেশাদার আমলা বানানো সরকারের কাজ হতে পারে না; বরং মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাতে সরকারের উচিত নিজেদের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজেরাই পালন করা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৭:০
সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও

সিভি থেকে ইন্টারভিউ, চাকরি পেতে এআইয়ের ওপর বাড়ছে প্রার্থীদের ভরসা; মিলছে সাফল্যও

মেয়ে ইমিগ্রেশন আইনজীবী, তবুও আইসিই-এর হাতে বন্দি ২৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা

মেয়ে ইমিগ্রেশন আইনজীবী, তবুও আইসিই-এর হাতে বন্দি ২৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা

নিউইয়র্কের ১২ এলাকায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান

নিউইয়র্কের ১২ এলাকায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার আতঙ্কে অভিবাসীরা

নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ
নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ, উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা

ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্স নামের একটি ইহুদি শিক্ষকদের সংগঠনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে অন্তত ২৫০টি ইহুদি বিদ্বেষী এবং ইসরায়েলবিরোধী ঘটনা ঘটেছে।   গত জানুয়ারিতে মেয়র জোহরান মামদানী এবং স্কুল চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলসের কাছে পাঠানো এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সিটিতে সামগ্রিক ঘৃণাত্মক অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি ঘটনাই ইহুদি বিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্যগুলো ইহুদি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত শত্রুতার একটি স্থায়ী প্রবণতা প্রকাশ করে।   নথিবদ্ধ ঘটনার বেশিরভাগ জুড়েই রয়েছে সরাসরি হয়রানি, ভাঙচুর ও হুমকি। এর পাশাপাশি পক্ষপাতদুষ্ট পাঠ্যক্রম, নির্দেশনামূলক উপকরণ এবং ওয়াকআউট বা বিক্ষোভের মতো বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে। এসব ঘটনার কারণে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাজড়ে একটি প্রতিকূল শিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। যদিও সিটি স্কুলগুলো নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের ভিত্তিতে ঘৃণাত্মক ঘটনার আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না, তবে ধর্মভিত্তিক বুলিং, হয়রানি এবং বৈষম্যের সামগ্রিক ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   উপাত্ত অনুযায়ী, প্রি-কোভিড সময়কালের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এমন ১৫১টি ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে বেড়ে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ৩৬৭টি, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩৯৮টি এবং ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ৩১৯টিতে দাঁড়ায়।   সংগঠনের সভাপতি মোশে স্পার্ন জানান, নথিভুক্ত ঘটনার প্রায় এক চতুর্থাংশ বা ২৩ শতাংশ ছিল ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত পক্ষপাতদুষ্ট শিক্ষা, ১০ শতাংশ ওয়াকআউট এবং বাকিগুলো অনলাইন পোস্টসহ অন্যান্য স্টাফ অ্যাকশনের সাথে সম্পর্কিত। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, প্রতিবেদনের ৩৭ শতাংশ ঘটনা ব্রুকলিনের স্কুলগুলোতে, ২৭ শতাংশ কুইন্সে, ২৫ শতাংশ ম্যানহাটনে, ৯ শতাংশ ব্রংক্সে এবং ২ শতাংশ স্টেটান দ্বীপে সংঘটিত হয়েছে।   মৌখিক হয়রানির বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইহুদিবিদ্বেষী ট্রপ, হলোকাস্টের প্রসঙ্গ এবং ইসরায়েলি ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙচুরের ঘটনায় স্বস্তিকা চিহ্ন ও অন্যান্য ঘৃণাত্মক প্রতীক অঙ্কনের পাশাপাশি শারীরিক হুমকি এবং হামলার ঘটনাও ঘটেছে।   অভিযোগ রয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ইহুদিদের ধর্মীয় সুবিধা এবং স্কুল জীবনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত বা অস্বীকৃত হয়েছে। ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্স জানিয়েছে, স্কুল বা জেলা নেতৃত্ব এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যার ফলে প্রতিকূল পরিবেশ বহাল রয়েছে।   কুইন্সের টাউনসেন্ড হাই স্কুলে গ্র্যাজুয়েশনের পর ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সে যোগদানের কারণে এক শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা এবং ব্রুকলিন টেক হাই স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডে স্বস্তিকা খোদাই করার মতো ঘটনা এর কিছু উদাহরণ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি শিক্ষা বিভাগের সমস্ত নিয়ম নীতি এবং পেশাদার প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক হলোকাস্ট স্মরণ জোটের (IHRA) ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।   অন্যদিকে, শিক্ষা বিভাগের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে বৈষম্য ও ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে তাদের 'শূন্য সহনশীলতা' (zero tolerance) নীতি রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো রিপোর্ট করা ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা বদ্ধপরিকর। ‘রেসপেক্ট ফর অল’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলে বুলিং ও পক্ষপাত প্রতিরোধে ডেডিকেটেড স্টাফ এবং অভিযোগ জানানোর নানা মাধ্যম চালু রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:৭
নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি

নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি

ট্রাম্প যেখানে, সেখানেই নাটালি হার্প

ট্রাম্প যেখানে, সেখানেই নাটালি হার্প, ‘সিক্রেট ফ্লাইটেও’ তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন কৌতূহল

সংগীতশিল্পী শাকিরা

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় ১০ স্কুল গড়বেন শাকিরা, করবেন মিলিয়ন ডলারের সহায়তা

অপারেশনের পরদিন মাথা ও মুখ ফুলে যাওয়ায় ফিনকেন নিজেই মজা করে বলেছিলেন তাকে দেখতে ডিমের মতো লাগছে। ছবি: সংগৃহীত
১৭ হাজার ৫০০ ডলারে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ডিমের মতো ফুলে গেল টিকটকারের মুখ

মাত্র ২৭ বছর বয়সেই চুল পড়া নিয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারের অ্যালেক্স ফিনকেন। শেষ পর্যন্ত হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। খরচ করেন ১৭ হাজার ৫০০ ডলার। কিন্তু অপারেশনের পরদিন আয়নায় নিজেকে দেখে রীতিমতো চমকে যান। মাথা ও মুখ এতটাই ফুলে গিয়েছিল যে নিজেই মজা করে বলেছিলেন, তাকে দেখতে ডিমের মতো লাগছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশের কোঠার শুরু থেকেই মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস বা বংশগতভাবে চুল পাতলা হওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন ফিনকেন। ২৪ বছর বয়সের মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বাইরে বের হওয়ার সময় প্রায় সবসময় টুপি পরতেন। সামাজিক পরিবেশেও টুপি ছাড়া অস্বস্তি বোধ করতেন।   চুল ফিরে পাওয়ার আশায় তিনি সল্টলেক সিটিতে গিয়ে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করান। প্রক্রিয়াটিতে তার মাথার পেছনের অংশ থেকে ৩ হাজার ৫৩৬টি হেয়ার ফলিকল সংগ্রহ করে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বিভিন্ন অংশে প্রতিস্থাপন করা হয়।   অপারেশনের পর কিছুটা ফোলা স্বাভাবিক হতে পারে, সেটি আগেই জানতেন ফিনকেন। তবে নিজের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াটি এতটা দৃশ্যমান হবে, তা ভাবেননি তিনি।   প্রথম দিন তার কপালের দুই পাশ ফুলতে শুরু করে। দ্বিতীয় দিনে এক চোখের নিচে কালচে দাগ দেখা দেয় এবং ফোলা এতটাই বাড়ে যে দৃষ্টিতেও কিছুটা বাধা তৈরি হচ্ছিল। তৃতীয় দিনে সেই ফোলা মুখের নিচের দিকে নেমে ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।   নিজের এই পরিবর্তনের ভিডিও টিকটকে প্রকাশ করেন ফিনকেন। সেখানে তিনি মজা করে বলেন, অন্যদের ক্ষেত্রে চোখের চারপাশ কিছুটা ফুলে বক্সিং ম্যাচের পরের মতো দেখাতে পারে, কিন্তু তাকে দেখতে সরাসরি ডিমের মতো লাগছিল। ভিডিওটি পরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   ফিনকেনের ভাষ্য অনুযায়ী, অপারেশনের সময় মাথার ত্বকে দেওয়া স্যালাইন ও অ্যানেসথেশিয়ার দ্রবণই এই ফোলার অন্যতম কারণ। শরীরের লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের মাধ্যমে তরল ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে যাওয়ার সময় কারও কারও ক্ষেত্রে মুখ ও চোখের আশপাশে উল্লেখযোগ্য ফোলা দেখা দিতে পারে।   তবে তার নিজের একটি ভুলও পরিস্থিতি খারাপ করে থাকতে পারে বলে স্বীকার করেছেন ফিনকেন। বুধবারের অপারেশনের আগে শুক্রবার ও শনিবার তিনি অ্যালকোহল পান করেছিলেন। পরে তিনি অন্যদের সতর্ক করে বলেন, হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্টের আগে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উচিত।   প্রাথমিকভাবে চেহারার পরিবর্তন দেখে ভয় পেলেও বড় ধরনের কোনো শারীরিক জটিলতা হয়নি বলে জানান তিনি। সবচেয়ে বেশি ফোলা ছিল প্রায় তিন দিন। এরপর প্রতিদিন দ্রুত অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। পঞ্চম দিনের দিকে ব্যথাও প্রায় চলে যায়।   পুরো অভিজ্ঞতার পরও হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই ফিনকেনের। তার মতে, এটি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় ছিল না। দীর্ঘদিনের চুল পড়ার কারণে হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য।   বরং সাময়িকভাবে মুখ ফুলে যাওয়ার ঘটনাটিকে হাস্যরসের সঙ্গেই নিয়েছেন তিনি। ফিনকেনের অভিজ্ঞতা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিচ্ছে, হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কসমেটিক প্রক্রিয়া হলেও এর পরবর্তী রিকভারি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং অপারেশনের আগে ও পরে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১১:৯
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে মার্কিন জ্বালানি বাজারে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল দাম গ্যালন প্রতি ৫.৪৬ ডলার বৃদ্ধি পাওয়ায়, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়ির বারান্দায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ক্যালটেকের খ্যাতিমান জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল গ্রিলমেয়ার। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর বাহিরে দূর গ্রহে পানির সন্ধান পাওয়া বিজ্ঞানী নিজ বাড়ির দরজায় গুলিতে নিহত

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফ্লক ক্যামেরা সিস্টেমে নিজের আলাদা থাকা স্ত্রীর গাড়ির লাইসেন্স প্লেট ৭১৭ বার সার্চ করার অভিযোগ উঠেছে ফ্লোরিডার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লক ক্যামেরায় স্ত্রীর গাড়ি ৭১৭ বার ট্র্যাক, এক মাসেই ২৮০ বার খুঁজেছেন পুলিশ কর্মকর্তা

0 Comments