যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে অবস্থিত 'এমব্যাসি ডাইনার'-এর মালিক গাস সিওর্ভাস ৪ঠা জুলাই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জনপ্রিয় টেলিভিশন শো 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-এর একটি বিশেষ লাইভ সম্প্রচারে অংশ নিতে ভোর ৪টার আগেই যারা রেস্তোরাঁটিতে হাজির হয়েছিলেন, তাদের সবার খাবারের বিল তিনি নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করেছেন। মূলত নিজের দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সম্মান থেকেই হাজারো গ্রাহককে তিনি বিনা মূল্যে এই খাবার পরিবেশন করেন।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিওর্ভাস জানান, তাদের রান্নাঘরে ওইদিন সাত কেস ডিম রান্না করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে ৩০ ডজন করে ডিম ছিল। সব মিলিয়ে কয়েক হাজার মানুষকে খাবার দিয়েছেন তারা। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন, "দেশের জন্মদিনে এত মানুষের একসঙ্গে জড়ো হওয়াটা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।" দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সিওর্ভাস তার রেস্তোরাঁটিকে 'আমেরিকার সবচেয়ে দেশপ্রেমিক ডাইনার' হিসেবে ট্রেডমার্ক করেছেন এবং প্রায়ই অতিথিদের মাঝে টি-শার্ট বিতরণ করেন। কয়েক দশক আগে শূন্য হাতে গ্রিস থেকে পাড়ি জমানো তার বাবা পিটার সিওর্ভাসের সফলতার পেছনে আমেরিকার অবদানকেই সবচেয়ে বড় করে দেখেন তিনি।
সিওর্ভাস তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে রেস্তোরাঁটি পরিচালনা করেন, যাদের অনেকেই জরুরি সেবাকর্মী (ফার্স্ট রেসপন্ডার) হিসেবে কাজ করেন। তিনি তার এই ডাইনারটিকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, ইএমএস ও হাসপাতাল কর্মীদের জন্য একটি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে উৎসর্গ করেছেন।
নাসাউ পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা ক্রেগ ক্যাসিন জানান, ২০২৪ সালে অজানা হৃদরোগে তার ছেলে কনর মারা যাওয়ার পর সিওর্ভাস তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ফাউন্ডেশনের জন্য তহবিল সংগ্রহ ও স্পন্সরের কাজে এগিয়ে আসেন। কেবল দানশীলতা নয়, স্বাধীনতা দিবসসহ প্রতিটি উৎসবে রেস্তোরাঁটির চোখধাঁধানো সাজসজ্জার জন্যও লং আইল্যান্ডে ব্যাপকভাবে সমাদৃত গাস সিওর্ভাস।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মিয়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে মিয়ামি-ডেইড শেরিফ অফিস এবং মিয়ামি পুলিশ। শুক্রবারের এই ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ, জালিয়াতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মিয়ামি-ডেইড শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি ক্রীড়া ইভেন্টে বেআইনিভাবে বাধা সৃষ্টির মতো গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সুইটওয়াটারের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী ডেলফিনা দেগুই স্টেডিয়ামের গেট খোলার আগেই অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশের কথা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, জেফারসন হনোরিও দা সিলভা (৪১) নামের এক ব্যক্তি জাল টিকিট নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে তিনি আবারও ফিরে আসেন এবং একটি গেট জোরপূর্বক খুলে সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়েন। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বিনা টিকিটে নিরাপত্তাবেষ্টনী ফাঁকি দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়েছিলেন মিয়ামি বিচ এলাকার ২১ বছর বয়সী বাসিন্দা হুয়ান ক্যাপোটে গার্সিয়া। একটি বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক থেকে খেলা দেখতে আসা নিকোলাস পিনো এবং হুলিয়ান দাউদ নামের আরও দুই সমর্থককে তিন স্তরের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হওয়ার পর আটকে দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আরেক ব্যক্তি, ৩৫ বছর বয়সী নিকোলাস রিকের বিরুদ্ধে দুটি লঘু অপরাধের (মিসডিমিনার) অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য তাকে প্রথমে স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা দিলে এবং বিরূপ আচরণ করলে শেষ পর্যন্ত তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
টেক্সাসের অস্টিনে প্রথম পাবলিক রোবোট্যাক্সি সেবা চালুর মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে চালকহীন ট্যাক্সি সেবা সম্প্রসারণ করেছে বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং স্বয়ংক্রিয় পরিবহন ব্যবস্থার ওপর টেসলার ক্রমবর্ধমান মনোযোগের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আপাতত মিয়ামির একটি নির্দিষ্ট ও সীমিত এলাকায় এই সেবা চালু করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে আরও বড় পরিসরে বাড়ানো হবে। টেসলার এই রোবোট্যাক্সিগুলো সম্পূর্ণ চালকহীনভাবে এবং মানুষের সাহায্য ছাড়াই রাস্তাঘাটে চলাচল করতে সক্ষম। গাড়িগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে কোম্পানির সর্বশেষ ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ (এফএসডি) সফটওয়্যার। মিয়ামি ও অস্টিনের পর টেক্সাসের ডালাস ও হিউস্টনসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে এই স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি সেবা চালুর জোরালো পরিকল্পনা রয়েছে টেসলার। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে নিজেদের চালকহীন যাতায়াত নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এই সেবার জন্য টেসলার প্রচলিত গাড়িগুলোকে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সাহায্যে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিশেষায়িত চালকহীন যান ‘সাইবারক্যাব’ নিয়েও পুরোদমে কাজ করছে। ২০২৪ সালে উন্মোচিত এই সাইবারক্যাবে কোনো স্টিয়ারিং হুইল বা প্যাডেল রাখা হয়নি। এদিকে চালকহীন ট্যাক্সির বৈশ্বিক বাজারে টেসলাকে ওয়েইমো (Waymo) এবং জুক্স (Zoox)-এর মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যারা ইতিমধ্যেই পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি সেবা দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় ডিউটিরত অবস্থায় এক অবৈধ হাইতিয়ান অভিবাসী ট্রাক চালকের ধাক্কায় মাইকেল ই. পাহিরা জুনিয়র (৪৪) নামে এক স্টেট ট্রুপার (পুলিশ কর্মকর্তা) মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ৭টার দিকে স্কুইলকিল কাউন্টির ইন্টারস্টেট ৮১ মহাসড়কে একটি সেমিট্রাক পরিদর্শনের সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, পাহিরা তার টহল গাড়ির ইমার্জেন্সি লাইট জ্বালিয়ে সড়কের ডান পাশে পার্ক করে একটি ট্রাক পরিদর্শন করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে ছুটে আসা অপর একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথম ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে মারাত্মক চেইন রিঅ্যাকশন সৃষ্টি হয় এবং কর্মকর্তা পাহিরা চাপা পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই উভয় ট্রাকের সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিকরা ধোঁয়া দেখে দ্রুত ছুটে এসে পাহিরাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘাতক ট্রাকটির ৩৩ বছর বয়সি চালক মাইকেল বন মূলত হাইতির নাগরিক। বাইডেন প্রশাসনের আমলে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের প্যারোলভুক্ত হিসেবে ফ্লোরিডা দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তার টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বা অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদার আবেদন বাতিল হয় এবং ২০২৫ সালের জুনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার প্যারোল বাতিল করে দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই আইনি নির্দেশ সম্পূর্ণ অমান্য করে তিনি ম্যাসাচুসেটসের ব্রকটনে বসবাস চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শুধু তাই নয়, সেখানে তিনি একটি 'নন-ডোমিসাইলড কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স (সিডিএল)' সংগ্রহ করে ভারী ট্রাক চালানো শুরু করেন। ম্যাসাচুসেটস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার ঠিক এক মাস আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার এই লাইসেন্সটি নবায়ন করা হয়েছিল। দুর্ঘটনায় আহত ঘাতক চালক বনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে ভেহিকুলার হোমিসাইড, বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে অন্যের জীবন বিপন্ন করা এবং অনিচ্ছাকৃত হত্যার মতো গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৭ লাখ ডলারের জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীর মাধ্যমে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ২০০৭ সালে পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশে যোগ দেওয়া পাহিরাকে তার সহকর্মীরা একজন অত্যন্ত "ভালো মানুষ এবং ভালো পুলিশ" হিসেবে স্মরণ করছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করার জন্য তিনি সম্প্রতি মায়ের কাছেই ফিরে এসেছিলেন। পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পাহিরা তার মায়ের কেমোথেরাপির সময় নিজে হাতে মায়ের চুল কেটে দিয়েছিলেন। একজন দায়িত্বশীল সন্তান এবং নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ কর্মকর্তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাজ্য পুলিশ এবং স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।