পেনসিলভানিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে খাবারে কৃমি পাওয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদের পর অভিবাসীকে স্থানান্তর, কঠোর নজরদারি
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি অভিবাসন ডিটেনশন সেন্টারে খাবারে কৃমি ও পোকামাকড়, চিকিৎসাসেবার সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ তুলে গণস্বাক্ষরযুক্ত চিঠি দেওয়ার পর এক অভিবাসীকে একাকী সেলে রাখা, পরে একাধিকবার অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং তার ওপর কঠোর নজরদারি আরোপের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির অভিবাসন আটক কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম স্পটলাইট পিএ ও ডব্লিউআইটিএফ-এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, হন্ডুরাসের নাগরিক এদিন ড্যানিয়েল চিনচিলা-রোকে পেনসিলভানিয়ার ক্লিয়ারফিল্ড কাউন্টিতে অবস্থিত মশ্যানন ভ্যালি প্রসেসিং সেন্টারে আটক রয়েছেন। গত ৩ মার্চ তিনি ৬৮ জন আটক ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ একটি চিঠিতে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রটিতে পরিবেশিত খাবার পচা এবং তাতে কৃমি বা পোকামাকড় পাওয়া যায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা না পাওয়া, এমনকি টয়লেট পেপার ও হাত ধোয়ার সাবানের মতো মৌলিক সামগ্রীর সংকটের কথাও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অভিযোগের কিছুদিন পর খাবার পরিবেশনের সময় এক আটক ব্যক্তি সবুজ রঙের বমি করলে কয়েকজন বন্দি খাবার গ্রহণে বিরত থাকেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, চিনচিলা-রোকে অন্যদের এ কর্মসূচিতে উৎসাহিত করেছিলেন। তবে তার আইনজীবী ক্রেইগ শ্যাগিন বলেন, তিনি প্রতিবাদে অংশ নিলেও এর আয়োজক ছিলেন না।
এরপর চিনচিলা-রোকেকে সাত দিনের জন্য একাকী সেলে রাখা হয়। তার দাবি, এ সময় তাকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ট্যাবলেটও কেড়ে নেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ নথিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবাদ নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে তাকে আলাদা করে রাখার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
পরবর্তীতে তাকে প্রথমে টেক্সাসের পোর্ট ইসাবেল সার্ভিস প্রসেসিং সেন্টার এবং পরে লুইজিয়ানার উইন কারেকশনাল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। গত ৬ জুন তাকে আবার পেনসিলভানিয়ার মশ্যানন ভ্যালি কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হলেও তার নিরাপত্তা শ্রেণি নিম্ন ঝুঁকির ‘ব্লু’ থেকে ‘ইয়েলো’তে উন্নীত করা হয়েছে বলে জানান তার আইনজীবী। এর ফলে তার ওপর নজরদারি এবং চলাফেরার বিধিনিষেধ আরও কঠোর হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া তার বান্ধবীর ফোন নম্বরও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
চিনচিলা-রোকের আইনজীবীর ভাষ্য, ২০২৩ সালে একজন অভিবাসন বিচারক জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের আওতায় তাকে হন্ডুরাসে ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে তৃতীয় কোনো দেশে, বিশেষ করে মেক্সিকোতে পাঠানোর চেষ্টা করছে। চিনচিলা-রোকে জানান, টেক্সাসে অবস্থানকালে তাকে মেক্সিকো সীমান্তগামী একটি বাসে উঠতে বলা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ মেক্সিকোতে তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।
এদিকে ডিটেনশন সেন্টারটি পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপ নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর কাছে পাঠায়। ICE এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিদিন তিন বেলা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এদিন ড্যানিয়েল চিনচিলা-রোকের অভিযোগ বা তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংস্থাটি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ৩৫ বছর বয়সী সহকারী নাটালি হার্পের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্পর্ক নিয়ে চলমান গুঞ্জনে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প অত্যন্ত বিরক্ত ও হতাশ বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট দলীয় মার্কিন সিনেটর জন অসফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হার্পকে জড়িয়ে রসিকতা করার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। অসফ দাবি করেন, ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প তার সহকারীর সঙ্গে এমন এক সম্পর্কে জড়িয়েছেন যা তাকে বিভ্রান্ত করছে। এমনকি ট্রাম্প নিজের দায়িত্ব পালনের চেয়ে নাটালিকে নিয়ে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করতেই বেশি আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন এই সিনেটর। সিনেটর অসফের এমন মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউস তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে সরকারি নানা অনুষ্ঠান ও সফরে ট্রাম্পের পাশে নাটালি হার্পের নিয়মিত উপস্থিতি এবং স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের টানা অনুপস্থিতি এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল জন অসফকে কটাক্ষ করে তাকে ‘বিব্রতকর ও থিয়েটারকর্মী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চেউং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসফকে চরম ভাষায় আক্রমণ করে তাকে একজন ‘উগ্রপন্থী ডেমোক্র্যাট’ ও ‘হতাশাগ্রস্ত মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, নাটালি হার্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী একজন কর্মী। এই বিতর্কের রেশ ওভাল অফিস পর্যন্ত গড়িয়েছে। সম্প্রতি এক নারী সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক হওয়ার পেছনের মূল কারণ হলো ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের অসন্তোষ, যিনি এসব গুঞ্জন একেবারেই পছন্দ করছেন না। ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কের সাবেক উপস্থাপক নাটালি হার্প গত কয়েক বছর ধরেই ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে রয়েছেন এবং ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাকে নির্বাহী সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প নাটালিকে ‘মানব প্রিন্টার’ উপাধি দিয়েছিলেন, কারণ তিনি সবসময় সঙ্গে প্রিন্টার রাখতেন এবং ট্রাম্পের পছন্দের খবরগুলো তাৎক্ষণিক প্রিন্ট করে দিতেন। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের ওপর হার্পের অযাচিত প্রভাব থাকতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, হার্প প্রায়ই ট্রাম্পকে প্রশংসাসূচক খবর এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী বিভিন্ন সংবাদ সরবরাহ করে থাকেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও তার সহকারীর এই ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন নিয়ে এখন পর্যন্ত নাটালি হার্প বা মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছয় বছরের পেশাজীবনে ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ি কিনলেন তরুণ এআই গবেষক টনি উ
“অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের জন্য আজ দারুণ দিন” হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির পোস্টে কড়া বার্তা
কিশোরীদের অনলাইনে ফাঁদে ফেলার দায়ে ৭৬৪ নেটওয়ার্ক সদস্যের ৭৭ বছরের কারাদণ্ড
অবৈধ অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিদের ফেরতযোগ্য ট্যাক্স সুবিধা পাওয়া বন্ধ করতে নতুন বিধির প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। এতে চার ধরনের ব্যক্তিগত আয়কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধির আওতায় রয়েছে দত্তক ট্যাক্স সুবিধা, শিশু ট্যাক্স সুবিধা, আমেরিকান শিক্ষা ট্যাক্স সুবিধা এবং অর্জিত আয় ট্যাক্স সুবিধা। এসব সুবিধা ফেরতযোগ্য হওয়ায় কোনো করদাতার প্রাপ্য ট্যাক্স সুবিধা তার ফেডারেল ট্যাক্সের দায়ের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে ফেরত পাওয়া যায়। নতুন বিধিতে এই ফেরতযোগ্য অংশকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় এবং আইনে নির্ধারিত যোগ্য অ-নাগরিকরা এসব ট্যাক্স সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। যোগ্য অ-নাগরিকদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং ১৯৯৬ সালের আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শ্রেণির মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন বিধি কার্যকর হলে অবৈধ অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিরা মার্কিন ট্যাক্সদাতাদের অর্থে অর্থায়িত এসব ট্যাক্স সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পেতে পারবেন না। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আইনের কারণে যারা এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের জন্য মার্কিন ট্যাক্সদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিধি ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইনের প্রয়োগ আরও জোরদার করবে। ওই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও যোগ্য অ-নাগরিকদের ফেডারেল সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট যোগ্যতার নিয়ম রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত বিধি পুরো ট্যাক্স সুবিধা বাতিল করছে না। যারা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য নন, তারা এসব ট্যাক্স সুবিধা ব্যবহার করে নিজেদের ফেডারেল আয়কর দায় কমাতে পারবেন। অর্থাৎ বিধিটির মূল লক্ষ্য ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা। নতুন বিধি চূড়ান্ত হওয়ার পর যেসব করবর্ষ শেষ হবে, সেই করবর্ষগুলোতে এর প্রয়োগ করা হবে। প্রস্তাবিত বিধি নিয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে এবং ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিধির কারণে প্রায় ২ লাখ থেকে ৭ লাখ ট্যাক্সদাতা ফেরতযোগ্য ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন। তবে সংস্থা দুটি জানিয়েছে, বিধির কারণে ট্যাক্সদাতাদের অর্থ থেকে ঠিক কতটা সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য তাদের কাছে নেই। সরকারের অনুমান, প্রস্তাবিত বিধির আওতায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত ট্যাক্স সুবিধার পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি থেকে ২৬০ কোটি ডলার হতে পারে। এই হিসাব সম্ভাব্য অযোগ্য ট্যাক্স সুবিধার পরিমাণ নিয়ে সরকারের অনুমান, চূড়ান্ত সাশ্রয়ের হিসাব নয়। এই প্রস্তাবের সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশেরও সম্পর্ক রয়েছে। ওই আদেশে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এমন কর্মসূচি শনাক্ত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ফেডারেল সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও দুই মেয়ে নিহত
সান দিয়েগোতে মসজিদে হামলার পর শিশুদের পাশে দাঁড়ানো তরুণীর প্রশংসা কংগ্রেস সদস্যের, পেলেন বিশেষ স্বীকৃতি
ভার্জিনিয়ায় সহকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও সংসার চালানোর খরচ দিন দিন অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্যান্য ব্যয়বহুল রাজ্যে বাড়ির দাম ও রেন্টের কারণে নতুন করে থিতু হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনা, কম রেন্টে থাকা এবং স্থিতিশীল চাকরির সুযোগের কারণে আইওয়া অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মার্কিন মধ্যাঞ্চলের এই রাজ্যটি বড় শহরের কোলাহল থেকে দূরে হলেও অর্থনৈতিক দিক থেকে একেবারে পিছিয়ে নেই। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, আইওয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ২৫৫ ডলার। গত এক বছরে বাড়ির মূল্য ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রাজ্যজুড়ে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার এবং মধ্যম রেন্ট ১ হাজার ১৫০ ডলার। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে আবাসন খরচ। আইওয়ার রাজধানী ডেস মইনসে ২০২৬ সালের জুনে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার এবং মধ্যম রেন্ট ১ হাজার ৮৫ ডলার।ডেভেনপোর্টে বাড়ির মধ্যম তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৪৯৮ ডলার এবং ওয়াটারলুতে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ ডলার। অর্থাৎ বড় শহরের তুলনায় কম বাজেটে বাড়ি কেনার সুযোগ কিছু এলাকায় এখনও পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু বাড়ির দাম কম হলেই হবে না, মাস শেষে হাতে কত টাকা থাকে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের একটি ব্যয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইওয়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। আবাসন ব্যয় জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। খাদ্য, ইউটিলিটি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার খরচও জাতীয় গড়ের তুলনায় তুলনামূলক কম। আরেকটি বিশ্লেষণে আইওয়ার সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম এবং আবাসন ব্যয় ২৬ শতাংশ কম বলে হিসাব করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবার যদি বড় শহরের উচ্চ রেন্ট বা মর্টগেজ থেকে বেরিয়ে তুলনামূলক ছোট শহরে যেতে চায়, তাহলে মাসিক বাজেটে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও আইওয়ার অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের একটি আবাসন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আয়ের তুলনায় বাড়ি কেনার সামর্থ্যের দিক থেকে আইওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসনবাজার। শুধু নতুন মর্টগেজের খরচ বিবেচনা করলে রাজ্যটি অষ্টম এবং মর্টগেজের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স ধরলে নবম সবচেয়ে সাশ্রয়ী রাজ্যের অবস্থানে ছিল। তবে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বাড়ির দাম তুলনামূলক কম হলেও আইওয়ায় প্রপার্টি ট্যাক্সের বোঝা একেবারে কম নয়। ২০২৬ সালের ওই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি বাড়ির মোট মাসিক মালিকানা ব্যয়ের গড়ে ১৯ শতাংশই প্রপার্টি ট্যাক্সের অংশ ছিল। তাই শুধু বাড়ির দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে হিসাব করা দরকার। চাকরির বাজারের দিক থেকেও আইওয়া বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। আইওয়া ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্টের সর্বশেষ জুন ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। জুন মাসে আইওয়ার নিয়োগকর্তারা আরও ৬০০টি চাকরি যোগ করেছেন। অর্থাৎ আইওয়া শুধু কৃষিনির্ভর রাজ্য হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, উৎপাদনশিল্প, আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যারা কম খরচের এলাকায় থেকে স্থিতিশীল আয় করতে চান, তাদের জন্য রাজ্যটি বিবেচনার তালিকায় থাকতে পারে। ছোট শহরগুলোর অর্থনৈতিক সুবিধাও আলাদা। ডেস মইনসের মতো বড় শহরে কাজ ও ব্যবসার সুযোগ বেশি হলেও আশপাশের ছোট শহরগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি ও রেন্ট আরও কম হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ওয়াটারলুতে ২০২৬ সালের মধ্যম রেন্ট ছিল প্রায় ৭০০ ডলার। তবে শহরভেদে রেন্ট, চাকরি এবং জীবনযাত্রার খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তাই আইওয়া বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের আয় কত, চাকরি কোথায়, সন্তানের স্কুল কোথায়, বাড়ি কেনার পরিকল্পনা আছে কি না এবং প্রতিদিন কতটা যাতায়াত করতে হবে, এসব হিসাব করেই শহর নির্বাচন করা উচিত। যারা রিমোট জব করেন, তাদের জন্য আইওয়ার ছোট শহরগুলো আরও আকর্ষণীয় হতে পারে। বড় শহরের তুলনায় কম রেন্ট বা বাড়ির দামে তুলনামূলক বড় জায়গা পাওয়া গেলে একই আয়ে পরিবারের জন্য বেশি অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হতে পারে। তবে ইন্টারনেটের মান, স্থানীয় সেবা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা আগে যাচাই করা জরুরি। আইওয়ার জীবন অবশ্য সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। শীত এখানে কঠিন হতে পারে, ছোট শহরে বড় মেট্রোপলিটন এলাকার মতো বিনোদন ও গণপরিবহনের সুবিধা সব জায়গায় পাওয়া যায় না। বাংলাদেশি কমিউনিটির আকারও নিউইয়র্ক, নিউজার্সি বা ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহরগুলোর মতো নয়। তারপরও যারা উচ্চ রেন্ট, বাড়ির চড়া দাম ও প্রতিদিনের ব্যয়ের চাপ থেকে বের হয়ে তুলনামূলক কম খরচে পরিবার নিয়ে স্থিতিশীল জীবন গড়তে চান, তাদের জন্য আইওয়া এখন গুরুত্ব দিয়ে দেখার মতো একটি রাজ্য। ২০২৬ সালের আবাসন ও শ্রমবাজারের তথ্য বলছে, এখানে কম খরচের সঙ্গে তুলনামূলক শক্তিশালী চাকরির বাজারও রয়েছে। তবে কম খরচ মানেই সবার জন্য বেশি সঞ্চয় নয়। কোন শহরে থাকছেন, কত আয় করছেন, বাড়ি কিনছেন নাকি রেন্টে থাকছেন এবং প্রপার্টি ট্যাক্সসহ অন্যান্য খরচ কত, তার ওপর প্রকৃত আর্থিক সুবিধা নির্ভর করবে। তাই বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আইওয়ায় যাওয়ার আগে স্থানীয় বাড়ির দাম, রেন্ট, চাকরি, স্কুল ও ট্যাক্সের হিসাব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
গর্ভবতী নারী সপ্তাহের পর সপ্তাহ ডিটেনশনে, ইমিগ্রেশন আইনজীবীর প্রতারণায় দিশেহারা পরিবার
ফ্লোরিডায় গাড়ি চালানোর সময় তর্কের জেরে স্বামীর কান কামড়ে ছিঁড়ে ফেলেন স্ত্রী