হলিউডের তারকাপাড়ায় বড় রিয়েল এস্টেট চুক্তি, অপরার সম্পত্তি কিনলেন অ্যাডাম লেভিন
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা অপরা উইনফ্রে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে অবস্থিত তার বিখ্যাত ‘প্রমিসড ল্যান্ড’ (Promised Land) এস্টেটের আরও একটি অংশ বিক্রি করেছেন। নতুন মালিক হয়েছেন মার্কিন ব্যান্ড ম্যারুন ফাইভ–এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী অ্যাডাম লেভিন এবং তার স্ত্রী, নামিবিয়ান সুপারমডেল বেহাতি প্রিন্সলু।
রিয়েল এস্টেটবিষয়ক একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চার একর আয়তনের এই সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য ১৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জানা গেছে, সম্পত্তিটি মূলত ১৯১৯ সালে স্প্যানিশ রিভাইভাল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়। ২০১৯ সালে অপরা এটি অস্কারজয়ী অভিনেতা জেফ ব্রিজেসের কাছ থেকে ৬ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিলেন। এরপর তার ৬৬ একর আয়তনের বিশাল এস্টেটের কিছু অংশ ধীরে ধীরে বিক্রির পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এবার এই জমি বিক্রি করলেন তিনি।
অন্যদিকে, অ্যাডাম লেভিন ও বেহাতি প্রিন্সলুও সম্প্রতি মন্টেসিটোতেই তাদের আগের বাড়িটি প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছেন। ফলে একই এলাকায় এই নতুন সম্পত্তি কেনাকে তারকাদের আবাসন বিনিয়োগে নতুন রদবদল হিসেবে দেখছেন রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকরা।
নতুন কেনা বাড়িটির আয়তন প্রায় ৩ হাজার ৫১৭ বর্গফুট। এতে রয়েছে দুটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং একতলা নকশার বিস্তৃত বসবাসের ব্যবস্থা। বাড়িটির অন্যতম আকর্ষণ পাঁচটি অগ্নিকুণ্ড, মূল নকশার জানালা ও দরজা, বিশাল বাগান, আধুনিকভাবে সংস্কার করা রান্নাঘর ও বাথরুম এবং নিরিবিলি পরিবেশ।
বাড়ির ভেতরে কাঠের উন্মুক্ত বিম, প্রশস্ত বসার ঘর, বড় বড় জানালা এবং প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংস্কার করা রান্নাঘরে রয়েছে কোয়ার্টজ পাথরের কাউন্টার, বড় আইল্যান্ড, পেশাদার মানের রান্নার চুলা এবং কাঠের তৈরি ক্যাবিনেট।
প্রধান শয়নকক্ষে অগ্নিকুণ্ড, বড় জানালা এবং ফরাসি ধাঁচের দরজা রয়েছে, যেখান থেকে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখা যায়। সংযুক্ত বাথরুমে রয়েছে উষ্ণ মেঝে, মার্বেলের শাওয়ার, আলাদা বাথটাব এবং ডাবল ভ্যানিটি। এছাড়া দুটি ওয়াক-ইন ক্লোজেটও রয়েছে।
অতিথিদের জন্য আলাদা স্যুট, সুইমিং পুল, পুল হাউস, খোলা আকাশের নিচে ফায়ার পিট, পাথরের ঝরনাসহ প্রাঙ্গণ, বিশাল সবুজ লন এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী একটি বড় বার্ন-স্টাইল কাঠামোও সম্পত্তিটির অংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাডাম লেভিন ও বেহাতি প্রিন্সলু বাড়িটি কেনার পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের পরিকল্পনা করেছেন। নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বাড়ি ও এর আশপাশের পরিবেশ নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে চান তারা।
মন্টেসিটো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলঘেঁষা এই এলাকায় অপরা উইনফ্রে, প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলসহ হলিউড ও ব্যবসা জগতের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের বাসস্থান রয়েছে। ফলে এখানকার যেকোনো বড় সম্পত্তি কেনাবেচা সাধারণত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ইউটিউব তারকা আইশোস্পিডকে খুঁজে বের করার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জিতেছেন এক তরুণ। ২৮ অক্টোবর ম্যানহাটনে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের সূত্র ও স্থানাঙ্ক মিলিয়ে তাঁর গোপন অবস্থান খুঁজে বের করতে হয়। বিজয়ী হিসেবে ‘বেন’ নামের এক তরুণের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। আয়োজনটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, ফলে অনলাইনেও বহু দর্শক পুরো অভিযান অনুসরণ করতে পেরেছেন। আইশোস্পিডের আসল নাম ড্যারেন ওয়াটকিন্স জুনিয়র। ২১ বছর বয়সী এই মার্কিন অনলাইন তারকা ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার, ভিডিও গেম, ফুটবল নিয়ে উচ্ছ্বাস এবং নানা ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভিডিওর জন্য পরিচিত। তাঁর বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভক্তদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে এমন আয়োজনও তাঁর অনলাইন কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। প্রতিযোগিতাটি ছিল ড. স্কোয়াচ নামের ব্যক্তিগত পরিচর্যাসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইশোস্পিডের নয় সপ্তাহব্যাপী ‘স্পিডরান: মিলিয়ন ডলার মিশন’ প্রচারণার সমাপনী পর্ব। আগস্টের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় মোট ২৫টি চ্যালেঞ্জ রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের সূত্র অনুসরণ, নির্দিষ্ট বস্তু খোঁজা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করার মাধ্যমে পুরস্কার জেতার সুযোগ ছিল। পুরো প্রচারণায় মোট ১০ লাখ ডলারের পুরস্কার তহবিল রাখা হয়েছিল। নিউ ইয়র্কের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় আইশোস্পিডের অবস্থান শনাক্ত করতে আয়োজকেরা ধাপে ধাপে গোপন জিপিএস স্থানাঙ্কের সংখ্যা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে ড. স্কোয়াচের চরিত্রের পোশাক পরা কয়েকজন কর্মীকে রাখা হয়েছিল, যাঁদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত সূত্র পাওয়া যেত। অংশগ্রহণকারীদের এসব তথ্য একত্র করে তাঁর অবস্থান নির্ণয় করতে হয়। যে ব্যক্তি বা দল সবার আগে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে পারবে, তার জন্যই বরাদ্দ ছিল আড়াই লাখ ডলারের মূল পুরস্কার। প্রতিযোগিতার পর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেন নামের বিজয়ী একজন নার্সিং শিক্ষার্থী। তিনি আইশোস্পিডের অবস্থান খুঁজে বের করে পুরস্কার জেতেন। তবে তাঁর পূর্ণ নাম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিজয়ীকে পুরস্কার দেওয়ার মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আইশোস্পিড ও ড. স্কোয়াচ প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে ভক্তদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্বে লুকানো পুরস্কার খোঁজা, সূত্র সমাধান এবং অনলাইন চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। নিউ ইয়র্কের অভিযানটি সেই প্রচারণার শেষ বড় আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। তথ্যসূত্র: সিক্রেট এনওয়াইসি, কমপ্লেক্স ও হাইপফ্রেশ।
নিউ ইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কিনতে সরকারি সহায়তা, যা বললেন রিয়েলটর মোহাম্মদ হাসেম
চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে তরুণীর মৃত্যু, ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
অর্থনৈতিক মন্দাকেও ছাড়াল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন সংকট, তলানিতে বাড়ি কেনাবেচা
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার (বিএজি) নির্ধারিত বার্ষিক বনভোজন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নতুন তারিখ ও অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহান্তে জর্জিয়ায় ঠান্ডা আবহাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টির সম্ভাবনা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে বনভোজন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের সভাপতি আরেফিন বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আহসান (শান্ত) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আকস্মিক এই পরিবর্তনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আবহাওয়া মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই সবার নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এ জন্য কমিউনিটির সদস্যদের কাছে বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বার্ষিক বনভোজনের নতুন তারিখ এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমে কমিউনিটির সদস্যদের সহযোগিতা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে এ ধরনের বার্ষিক আয়োজন পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আবহাওয়ার কারণে এবার নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত না হলেও নতুন তারিখ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকবেন অংশগ্রহণে আগ্রহীরা।
ফ্লোরিডায় ৩৫ মাইল দূরে বসে রোবটের সাহায্যে প্রস্টেট ক্যানসারের সফল অস্ত্রোপচার করলেন চিকিৎসক
ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে আলোচনায় ওবামা, মঞ্চ ছাড়ার সময় মাইক ছোড়ার ভিডিওতে ৫০ লাখ ভিউ
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে আসছে পরিবর্তন, অগ্রাধিকার পাবেন মার্কিন কর্মীরা
যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ১৪ জন অনথিভুক্ত অভিবাসীকে শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দেশ থেকে বহিষ্কারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক সহিংসতা, ডাকাতি, মাদক পাচার এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মেক্সিকো, হন্ডুরাস, ভেনেজুয়েলা ও ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অপরাধে দণ্ডিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের খুঁজে বের করা, গ্রেপ্তার করা এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কোনো বাধার কাছে নতি স্বীকার করবে না বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় থাকা মেক্সিকোর নাগরিক হেক্টর সান্তোস-রাউদা শিশু যৌন নিপীড়নের অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন। একই দেশের নাগরিক অস্কার গনজালেস-হার্নান্দেজ পারিবারিক সহিংসতা, তৃতীয় মাত্রার শিশু নির্যাতন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তার কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে দণ্ডিত। মেক্সিকোর আরও কয়েকজন নাগরিকের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সান জুয়ানা মন্টেনেগ্রো ওচোয়া কোকেন ও মেথামফেটামিন বিতরণের ষড়যন্ত্রে, কার্লোস উরিয়েল ক্যাম্পোস-পেরেজ ফেন্টানিলযুক্ত মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রে এবং পোরফিরিও তোরেস রিভাস ১০০ কেজির বেশি গাঁজা আমদানির ষড়যন্ত্রে দণ্ডিত হয়েছেন। তালিকায় থাকা গুস্তাভো কার্দেনাস আরেওলা অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণসংক্রান্ত ১০টি অভিযোগে দ্বিতীয় মাত্রার অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন। আগুস্তিন গামিনো সানচেজ বিক্রির উদ্দেশ্যে মেথামফেটামিন রাখার অপরাধে দণ্ডিত। অন্যদিকে, হন্ডুরাসের নাগরিক গুইলারমো আন্তোনিও সোসা-হার্নান্দেজ আহত ব্যক্তিসহ দুর্ঘটনাস্থল ত্যাগ এবং মেথামফেটামিন রাখার অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন। একই দেশের জোসুয়ে আন্তোনিও ভাসকেস মার্তিনেজ চুরি, আগ্নেয়াস্ত্র-সংশ্লিষ্ট ডাকাতি এবং গুরুতর হামলার অপরাধে দণ্ডিত। ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের মধ্যে গ্যাব্রিয়েল পাজ নৌযানে পাঁচ কেজি বা তার বেশি কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন। অ্যাঙ্গেলি জার্মানিয়া শাভেজ রেদোন্দো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রে এবং এডউইন হোসে ওর্দাস নৌযানে নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রে দণ্ডিত হয়েছেন। এ ছাড়া ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক দোমিঙ্গো আলফ্রেদো নুনিয়েজ-পেরদোমো নৌযানে বিতরণের উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রিত মাদক রাখার অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন। একই দেশের হেক্টর ফেরনেলি পিচার্দো রেস্তিতুয়ো নৌযানে কোকেন বিতরণের ষড়যন্ত্রে দণ্ডিত হয়েছেন বলে প্রকাশিত তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধে দণ্ডিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের শনাক্ত ও অপসারণের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বর্তমান আটকাবস্থা, বহিষ্কারের সময়সূচি কিংবা সংশ্লিষ্ট মামলার সর্বশেষ আইনি অবস্থার বিষয়ে পৃথকভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
মিনেসোটায় শিশুদের খাবারের অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতির মূল হোতার ৩০ বছরের কারাদণ্ড
নিউইয়র্কে সাড়ে ৩৪ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি, রাজা-আলমের কারাদণ্ড