সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

টি-শার্টের লেখা নিয়ে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত যাত্রীর সঙ্গে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিরোধ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৯:১৮
নিউ জার্সির বাসিন্দা এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত স্যাম সাদেহ ছবি:সংগৃহীত
নিউ জার্সির বাসিন্দা এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত স্যাম সাদেহ ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে টি-শার্টে লেখা একটি বার্তাকে কেন্দ্র করে এক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত যাত্রীর সঙ্গে বিমান সংস্থার বিরোধের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যাত্রীদের অধিকার এবং এয়ারলাইন্সের পোশাকবিষয়ক নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 


নিউ জার্সির লিনডেন শহরের বাসিন্দা স্যাম সাদেহ জানান, তিনি আটলান্টা থেকে নিউয়ার্কগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় এমন একটি টি-শার্ট পরেছিলেন, যাতে লেখা ছিল, “শিশুদের ওপর হামলা আত্মরক্ষার অধিকার নয়।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই বার্তাটি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং যুদ্ধ ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে লেখা।

 


সাদেহর অভিযোগ, বোর্ডিংয়ের পর এক সুপারভাইজার তার কাছে এসে টি-শার্টটি পরিবর্তন বা ঢেকে ফেলতে বলেন। অন্যথায় তাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে তিনি শেষ পর্যন্ত পোশাক পরিবর্তনে সম্মত হন।

 


ঘটনার পর সাদেহ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের (U.S. Department of Transportation) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে এবং তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে।

 


এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, যাত্রীদের পোশাকসংক্রান্ত একটি আচরণবিধি তাদের রয়েছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পোশাক বা বার্তা যদি অন্য যাত্রীদের কাছে আপত্তিকর, উসকানিমূলক বা অস্বস্তিকর বলে বিবেচিত হয়, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মীরা ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।

 


ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মানবিক বার্তা বহনকারী একটি টি-শার্টকে আপত্তিকর হিসেবে বিবেচনা করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলেছে। আবার অন্যদের মতে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বিমান সংস্থার নিজস্ব নীতিমালা প্রয়োগের অধিকার রয়েছে।

 


যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো সাধারণত যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসরণ করে। এসব নীতিমালায় এমন পোশাক বা বার্তা পরিহারের কথা বলা হয়, যা অশ্লীল, হুমকিমূলক বা অন্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তবে কোন বার্তাকে ‘আপত্তিকর’ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক দেখা দেয়।

 


পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ফিলিস্তিন–ইসরায়েল ইস্যু ঘিরে জনমত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার সীমা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন বিভাগের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রয়েছে।

 

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
শীতের মৌসুমে তুষার পরিষ্কারের জন্য ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ ডলার পারিশ্রমিকে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে নিউ ইয়র্ক সিটি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৪৫ ডলার আয়ের সুযোগ, নিয়োগ চলছে

শীতের মৌসুমে তুষারপাতের পর রাস্তা ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান পরিষ্কারের জন্য অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে নিউ ইয়র্ক সিটি। এ কাজে ঘণ্টাপ্রতি ৩০ ডলার থেকে পারিশ্রমিক শুরু হবে। সপ্তাহে প্রথম ৪০ ঘণ্টা কাজের পর অতিরিক্ত প্রতি ঘণ্টার জন্য দেওয়া হবে ৪৫ ডলার। বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নিউ ইয়র্কের বাসিন্দাদের মধ্যে কর্মসূচিটি আগ্রহ তৈরি করেছে।   নিউ ইয়র্ক সিটির স্যানিটেশন বিভাগ (ডিএসএনওয়াই) পরিচালিত ‘ইমার্জেন্সি স্নো শভেলার’ কর্মসূচির আওতায় এ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ভারী তুষারপাতের পর কর্মীদের বাসস্টপ, পথচারী পারাপারের স্থান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার পানির সংযোগস্থল এবং অন্যান্য জনসাধারণের চলাচলের জায়গা থেকে বরফ ও তুষার সরাতে হবে। এটি স্থায়ী চাকরি নয়। তুষারপাতের প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধিত কর্মীদের দৈনিক ভিত্তিতে কাজে ডাকা হবে।   নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, গত বছরের তুষারঝড়, বজ্রঝড় ও তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কর্মীদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর পাশাপাশি নিবন্ধনপ্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে, যাতে তুষারপাত শুরু হলে দ্রুত কাজের জন্য লোক পাওয়া যায়। গত শীত মৌসুমে এ কর্মসূচিতে ৭ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছিলেন।   এবারের কর্মসূচিতে ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে নিবন্ধন সম্পন্ন করলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। নিবন্ধিত কর্মীরা ডিসেম্বরে চার ঘণ্টার বেতনসহ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি কাজ শুরু করার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে পারিশ্রমিক পাওয়ার জন্য তাঁদের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। ফলে শীতের জরুরি পরিস্থিতিতে কাজের পাশাপাশি দ্রুত পারিশ্রমিক পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   আবেদনকারীদের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হবে। একই সঙ্গে শীতের প্রতিকূল আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় শারীরিক পরিশ্রম করার সক্ষমতা থাকতে হবে। নিবন্ধনের জন্য বৈধ ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, মূল সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজের যোগ্যতা প্রমাণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিতে হবে।   আগ্রহীরা ম্যানহাটনের ২ লাফায়েট স্ট্রিটে অবস্থিত জবস এনওয়াইসি সেন্টারে সরাসরি গিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেখানে নিবন্ধন নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত কমিউনিটি নিবন্ধন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়া যাবে। আগে থেকে সময় নির্ধারণ করে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সরাসরি উপস্থিত হয়েও নিবন্ধন করা যাবে।   নিউ ইয়র্ক সিটির স্যানিটেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত শীত মৌসুমে নিবন্ধিত কর্মীরা তুষারঝড়ের সময় এবং সন্ধ্যায়ও কাজ করেছেন। তাঁদের সহায়তায় নগরীর প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার পথচারী পারাপারের স্থান, ৩৪ হাজার বাসস্টপ এবং ২৯ হাজার অগ্নিনির্বাপণ পানির সংযোগস্থল থেকে তুষার পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছিল। এবারও শীতকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে নগরীর স্বাভাবিক চলাচল সচল রাখতে এ কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।   আগ্রহী প্রার্থীরা নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিউ ইয়র্ক সিটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট দেখতে পারেন। নিবন্ধনের শেষ সময় ৩০ নভেম্বরের আগে সম্পন্ন করলে বেতনসহ প্রশিক্ষণ ও দ্রুত পারিশ্রমিক পাওয়ার সুবিধা মিলবে।   সূত্র: নিউ ইয়র্ক সিটি স্যানিটেশন বিভাগ, পিক্স ১১ ও এবিসি ৭ নিউ ইয়র্ক।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ২১:১৬
অ্যারিজোনার রিপাবলিকান নেতা এলিয়াহ নর্টন সাবেক কোষাধ্যক্ষ কিম্বার্লি ইয়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় নির্বাচনে হেরে নিজ দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে কোটি ডলারের মানহানির মামলা করছেন নর্টন

যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী পলা ভ্যালেন্তিনা আলবোরনোজ হার্নান্দেজ। সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করেছে আইসিই। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার ইউসি বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অ্যান্থনি ইলি। পুনর্নির্বাচনে জয়ের এক দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নির্বাচনে জয়ের এক দিন পরই গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অ্যান্থনি ইলি

সাংবাদিকতা, তথ্য বিশ্লেষণ, আলোকচিত্র ও ভিডিওসহ বিভিন্ন বিভাগে ফেলো নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্ক টাইমসে ১৬ পদে বেতনসহ ফেলোশিপ, আবেদন ২০ নভেম্বর পর্যন্ত

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য বেতনসহ ফেলোশিপ কর্মসূচিতে আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ের সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে এবার মোট ১৬টি পদে কাজের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ২০ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন সময় বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদন করতে হবে।   নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেলোশিপ কর্মসূচি শুরু হবে ২০২৭ সালের ৭ জুন এবং শেষ হবে ২০২৮ সালের ২৬ মে। প্রায় এক বছর মেয়াদি এ কর্মসূচিতে নির্বাচিত প্রার্থীরা সংবাদমাধ্যমটির নিউজরুম অথবা মতামত বিভাগে পূর্ণকালীন কাজ করবেন। কাজের পাশাপাশি তাঁরা অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও সম্পাদকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং নিয়মিত কাজের মূল্যায়ন পাওয়ার সুযোগ পাবেন।   এবারের নিয়োগে সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি, দ্য আপশট, তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা, নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ, পাঠকসম্পৃক্ততা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক উদ্যোগে কাজের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভিজ্যুয়াল বিভাগে আলোকচিত্র, গ্রাফিকস, সংবাদ ভিডিও, ভিজ্যুয়াল অনুসন্ধান, ডিজিটাল সংবাদ নকশা ও মুদ্রিত সংবাদপত্রের নকশা বিভাগে ফেলো নেওয়া হবে। মতামত বিভাগেও কপি সম্পাদনা, ডিজিটাল নকশা ও ভিডিও নিয়ে কাজের জন্য প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে।   আবেদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, প্রার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অনুমতি থাকতে হবে। শুধু আবেদন করার সময় নয়, পুরো ফেলোশিপের মেয়াদজুড়েও এ অনুমতি কার্যকর থাকতে হবে। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এ কর্মসূচির জন্য তারা কোনো কর্মসংস্থান ভিসার পৃষ্ঠপোষকতা করবে না। তবে বৈধভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি কিংবা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের (ওপিটি) মাধ্যমে কাজের অনুমতি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে এমন বৈধ শিক্ষার্থী ভিসাধারীরা আবেদন করতে পারবেন। প্রতি বছর একজন প্রার্থী কেবল একটি পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   ফেলোশিপের পদগুলো বেতনভিত্তিক। পদের ধরন অনুযায়ী নির্বাচিতরা বার্ষিক বোনাস ও প্রতিষ্ঠানের শেয়ার পাওয়ার মতো অতিরিক্ত সুবিধার জন্যও যোগ্য হতে পারেন। সম্ভাব্য সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা, দাঁতের চিকিৎসা ও দৃষ্টিসংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনায় প্রতিষ্ঠানের অবদান, কর্মীদের শেয়ার কেনার সুযোগ, বেতনসহ ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটি এবং মাতৃত্ব-পিতৃত্বকালীন ছুটি। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সহায়তা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিও রয়েছে।   নিউ ইয়র্ক টাইমসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁদের পাঁচ বছরের বেশি বেতনভিত্তিক পেশাদার সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের এই ফেলোশিপের পরিবর্তে সংবাদমাধ্যমটির অন্যান্য চাকরির সুযোগ খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি মূলত নতুন ও প্রাথমিক পর্যায়ের সাংবাদিকদের জন্য তৈরি। সাংবাদিকতায় আগ্রহ, পেশাগত দক্ষতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি অঙ্গীকারকে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে।   প্রতিযোগিতামূলক এই ফেলোশিপে আবেদনকারীর সংখ্যা সাধারণত অনেক বেশি। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তি নিশ্চিত করে কোনো বার্তা পাঠানো হবে না এবং যাচাই-বাছাই চলাকালে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগতভাবে অগ্রগতির তথ্যও জানানো হবে না। পুরো প্রক্রিয়ায় আট সপ্তাহ বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। ডাকযোগে কিংবা ইমেইলে পাঠানো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। নির্বাচিত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করবে।   উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নিউজরুমের গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপের পরিবর্তে বছরব্যাপী এই ফেলোশিপ চালুর উদ্যোগ নেয় নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২০১৯ সালে প্রথম ব্যাচের কার্যক্রম শুরু হয়। আগ্রহী প্রার্থীরা পদভিত্তিক যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিউ ইয়র্ক টাইমসের অফিশিয়াল আবেদনসংক্রান্ত ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।   সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস কোম্পানি, নিউ ইয়র্ক টাইমসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১৯:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ডেটে গিয়ে খু নের শিকার তরুণী, দুই বছর পরও উদ্ধার হচ্ছে দেহাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ডেটে গিয়ে খু নের শিকার তরুণী, দুই বছর পরও উদ্ধার হচ্ছে দেহাংশ

ক্যালিফোর্নিয়ায় পার্কে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় নারী কাউন্সিলরকে পিটিয়ে জখম

ক্যালিফোর্নিয়ায় পার্কে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় নারী কাউন্সিলরকে পিটিয়ে জখম

মাত্র তিন বছরেই বিদায় সাইবারট্রাক, উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা ইলন মাস্কের

মাত্র তিন বছরেই বিদায় সাইবারট্রাক, উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা ইলন মাস্কের

ইরানি মিসাইল হামলায় নি হত সেনা অ্যাঞ্জেলের নামে নিউইয়র্কে রাস্তা
ইরানি মিসাইল হামলায় নি হত সেনা অ্যাঞ্জেলের নামে নিউইয়র্কে রাস্তা

গত জুলাইয়ে জর্ডানের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ইরানি মিসাইল হামলায় নিহত সেনা সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল রামপারসাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিউইয়র্কের কুইন্সে একটি রাস্তার নতুন নামকরণ করা হচ্ছে। গত ১৭ জুলাই ইরানের চালানো ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় অ্যাঞ্জেলসহ মোট চারজন মার্কিন সেনা প্রাণ হারান।   মূলত ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মার্কিন মিশনকে সহায়তা করার জন্যই তাদের সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর প্রথম ঘটনা ছিল এটি। ২৮ বছর বয়সী এই তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে ওজোন পার্ক এলাকার বাসিন্দারা গভীরভাবে শোকাহত হয়েছিলেন। এবার সেই অসামান্য আত্মত্যাগের স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখতেই স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা তাঁর নামে একটি রাস্তার নামকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন।   সিটি কাউন্সিলের একটি রেজোলিউশনের মাধ্যমে কুইন্সের ৯৬তম স্ট্রিট এবং ১৩৩তম অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলটি এখন থেকে 'সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারাহ রামপারসাদ ওয়ে' (Sgt. Angel Sarah Rampersad Way) নামে পরিচিত হবে। আগামী বসন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিত করেছে সিটি কর্তৃপক্ষ।   এ বিষয়ে ওজোন পার্ক রেসিডেন্টস ব্লক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্যাম এস্পোসিটো বলেন, এটি নিছক একটি রাস্তার সাইনবোর্ড নয়; বরং এটি এমন এক অকুতোভয় তরুণীর গল্প, যিনি দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁর নিজের এলাকায় তিনি চিরকাল এই স্থায়ী সম্মান পাওয়ার যোগ্য। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যখন শিশুরা এই রাস্তা দিয়ে হাঁটবে, তখন তারা তাঁর নাম দেখবে এবং জানবে যে এই এলাকারই একজন মার্কিন সেনা দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।   ত্রিনিদাদে জন্মগ্রহণকারী অ্যাঞ্জেল রামপারসাদকে মৃত্যুর পর সম্মানসূচক 'স্টাফ সার্জেন্ট' পদে মরণোত্তর পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি, গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং কুইন্স বোরো প্রেসিডেন্ট ডোনোভান রিচার্ডসসহ বহু শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।   ডোনোভান রিচার্ডস অ্যাঞ্জেলকে একজন 'প্রকৃত বীর' আখ্যা দিয়ে জানান, তাঁর এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের কথা কুইন্স তথা পুরো দেশ চিরকাল মনে রাখবে। জানা যায়, ১৮ বছর বয়স থেকেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল অ্যাঞ্জেলের। সে সময় মায়ের অনুমতি না পেলেও ২১ বছর বয়সে তিনি নিজের সেই লালিত স্বপ্ন পূরণ করেন।   মেয়ের এমন বীরত্বে শোকের মাঝেও চরম গর্বিত মা ক্যারল আসেভেদো বলেন, “সে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। একজন মা হিসেবে তাকে নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। সে যা করছিল, তা নিয়ে সে দারুণ মনোযোগী ছিল এবং নিজের কাজকে সে খুব ভালোবাসতো।”

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১৭:৩৯
বিচারকের আদেশে মুক্তি, তিন মিনিটের মাথায় ফের আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার অভিবাসী

বিচারকের আদেশে মুক্তি, তিন মিনিটের মাথায় ফের আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে অভিনব কার্গো হাইস্ট, ট্রাকসহ উধাও এনভিডিয়ার ১১.৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য

যুক্তরাষ্ট্রে অভিনব কার্গো হাইস্ট, ট্রাকসহ উধাও এনভিডিয়ার ১১.৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য

নিশ্চিত মৃ ত্যুর মুখেও কাঁপেনি কণ্ঠ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছিলেন ২০ বছরের নাথালিয়া

নিশ্চিত মৃ ত্যুর মুখেও কাঁপেনি কণ্ঠ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছিলেন ২০ বছরের নাথালিয়া

0 Comments