যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১৩ বছরের শিশুকে শিকলবন্দি করে রোদে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে মা গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১৩ বছর বয়সী নিজ কন্যাকে বাড়ির বাইরের একটি বেড়ার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে এক মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কোনো ধরনের খাবার ও পানি ছাড়া সন্তানকে ফেলে যাওয়ার এই অমানবিক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ৩৪ বছর বয়সী ওই নারীর নাম ইয়াশিরা মারি মালদোনাদো। গত ১১ জুলাই ফ্লোরিডার হিয়ালিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে এবং এর জেরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তিনি বন্ডের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
পুলিশের গ্রেপ্তারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ১০টার কিছুক্ষণ আগে মালদোনাদো তার মেয়েকে নিয়ে ওয়েস্ট ৬৩ নম্বর স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে যান। সেখানে তিনি মেয়েটির কোমরে একটি ধাতব শিকল পেঁচিয়ে তার অন্য প্রান্ত বেড়ার সঙ্গে শক্তভাবে আটকে দেন। এরপর একটি স্বচ্ছ ব্যাকপ্যাক, কিছু পোশাক এবং ওষুধপত্রসহ তাকে তীব্র রোদের মধ্যে বাইরে ফেলে রেখে গাড়ি নিয়ে চলে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির মাথার ওপর কোনো ছায়া বা আশ্রয় ছিল না এবং তাকে এক ফোঁটা পানি বা খাবারও দেওয়া হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়েটির পরদাদি ঘটনার দিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে মালদোনাদোর কাছ থেকে একটি টেক্সট মেসেজ পেয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল, "আমি আমার চাকরিটি হারিয়েছি।"
এদিকে, প্রতিবেশীর বাড়ির রিং ডোরবেল ক্যামেরার ভিডিওতে শিশুটিকে বেড়ার সঙ্গে বাঁধার আগে মালদোনাদোর সেখানে পৌঁছানোর দৃশ্য ধরা পড়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা চরম হতবাক ও ক্ষুব্ধ। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক প্রতিবেশী স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএফওআর-কে (WFOR) ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। আরমান্দো ক্যালজাদিলা নামের আরেক প্রতিবেশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয় এবং এই অপরাধের জন্য তার শাস্তি হওয়া উচিত।"
পুলিশ জানিয়েছে, মালদোনাদো এবং তার মেয়ে ওয়েস্ট ২৮ নম্বর স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে বসবাস করতেন। আরলিন গোমেজ নামের সেখানকার এক প্রতিবেশী মালদোনাদোকে শনাক্ত করে বলেন, "কী ঘটেছে তা শুনে আমি রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে গেছি! আমি ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি যে ওই নারী এমন জঘন্য একটি কাজ করতে পারেন।"
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটির নির্বাচন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র খোলা থাকবে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। যাঁরা নিবন্ধিত ভোটার, তাঁরা নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা জানতে নির্বাচন বোর্ডের ওয়েবসাইটে নিজের ঠিকানা দিয়ে খুঁজে নেওয়া যাবে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলো আগামীকাল বন্ধ থাকবে না; বরং সব শিক্ষার্থীর জন্য দিনটি হবে দূরশিক্ষণের। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা স্কুল ভবনে না গিয়ে বাড়ি থেকে অনলাইনে ক্লাস করবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। যেসব পরিবারের প্রয়োজনীয় যন্ত্র নেই, তারা নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চাইতে পারবে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি দপ্তর এবং সিটি ও স্টেট আদালত নির্বাচনের দিন বন্ধ থাকবে। তবে মোটরযান বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তর খোলা থাকবে। ডাক সরবরাহও স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে নগরীর সরকারি তথ্য জানানো হয়েছে। নির্বাচনের দিন নিউইয়র্কে রাস্তা পরিষ্কারের জন্য নির্ধারিত বিকল্প পার্কিং বিধি স্থগিত থাকবে। তবে পার্কিং মিটারের নিয়ম বহাল থাকবে। একই দিনে নগরীতে ময়লা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ও জৈব বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে না। মঙ্গলবার যাঁদের নিয়মিত ময়লা সংগ্রহের দিন, তাঁদের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বর্জ্য বাইরে রাখতে বলা হয়েছে; সংগ্রহ শুরু হবে বুধবার, ৪ নভেম্বর থেকে। নিউইয়র্কের পাশাপাশি নিউ জার্সিতেও আগামীকাল সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যটির নির্বাচন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র খোলা থাকবে সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। অর্থাৎ নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির ভোটের সময় এক নয়। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো—শিশুদের স্কুলের অনলাইন ক্লাসের প্রস্তুতি, কর্মস্থলে যাওয়ার পরিকল্পনা এবং ভোট দেওয়ার সময় নির্ধারণ। ভোটার হলে নিজের নির্ধারিত কেন্দ্র ও ব্যালটের তথ্য আগেই যাচাই করে নেওয়া ভালো।
কুইন্সে ৭ নম্বর ট্রেনের মেরামত শেষ হতে আরও পাঁচ মাস, ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা
শীতের বিল নিয়ে চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, আজ থেকে নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে আর্থিক সহায়তা
স্কুলে যাওয়ার পথেই গুলিতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের কিশোরের, ছেলেকে শেষবার দেখতে ভিসার অপেক্ষায় মা
নিউজার্সিতে বসবাসকারী বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা আজ সোমবার, ২ নভেম্বর। অঙ্গরাজ্যের সম্পত্তি করের চাপ কমাতে চালু থাকা তিনটি কর্মসূচিতে যোগ্য বাসিন্দাদের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ। কর্মসূচিগুলো হলো—অ্যাঙ্কর, সিনিয়র ফ্রিজ এবং স্টে এনজে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া, প্রবীণ নাগরিক এবং নির্দিষ্ট শারীরিক প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন বাসিন্দারা আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন। নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত সুবিধা পেতে যোগ্য বাসিন্দাদের ২ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।অ্যাঙ্কর কর্মসূচিতে যোগ্য বাড়ির মালিকদের আয় অনুযায়ী ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে যোগ্য ভাড়াটিয়ারা ৪৫০ ডলার পেতে পারেন। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ভাড়াটিয়াদের জন্য অতিরিক্ত ২৫০ ডলারের সুবিধাও রয়েছে।প্রবীণ বাড়ির মালিকদের ক্ষেত্রে অ্যাঙ্করের পাশাপাশি সিনিয়র ফ্রিজ ও স্টে এনজে কর্মসূচির সুবিধাও প্রযোজ্য হতে পারে। স্টে এনজে কর্মসূচিতে যোগ্য প্রবীণ বাড়ির মালিকদের সম্পত্তি করের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট আয়সীমা ও সর্বোচ্চ সুবিধার শর্ত রয়েছে।তিনটি কর্মসূচির সুবিধা একসঙ্গে যোগ করে সম্ভাব্য অর্থ নির্ধারণ করা যাবে না। প্রতিটি কর্মসূচির যোগ্যতা ও হিসাব আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বাড়ির মালিক এবং নির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিবন্ধিতা ভাতা গ্রহণকারী যোগ্য ব্যক্তিদের পিএএস-১ নামের সম্মিলিত আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এই একটি আবেদনেই অ্যাঙ্কর, সিনিয়র ফ্রিজ ও স্টে এনজে কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।অন্যদিকে ৬৫ বছরের কম বয়সী এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিবন্ধিতা ভাতা গ্রহণ করেন না—এমন যোগ্য বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য অ্যাঙ্করের আবেদনপত্র আলাদা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অধিকাংশ যোগ্য ভাড়াটিয়া এবং ৬৫ বছরের কম বয়সী বাড়ির মালিকের আবেদন অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা দিয়েছে। তাঁদের কাছে পাঠানো সুবিধা নিশ্চিতকরণ চিঠি যাচাই করা প্রয়োজন।অ্যাঙ্কর কর্মসূচির অর্থ প্রদান শুরু হয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে অর্থ পৌঁছানোর কথা। সিনিয়র ফ্রিজ কর্মসূচির অর্থ প্রদানও শুরু হয়েছে। অন্যদিকে স্টে এনজের ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মে মাসের কিস্তির অনুমোদন রয়েছে। পরবর্তী আগস্ট ও নভেম্বরের কিস্তি পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
হাম আক্রান্ত প্রায় ৫ হাজার, নিউইয়র্ক-নিউজার্সিসহ ৪৭ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে সংক্রমণ
নিউ ইয়র্কে আজ থেকে স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, ৮ লাখের বেশি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
নিউইয়র্কের কুইন্সে এ ট্রেন চলাচলে ৯ দিনের পরিবর্তন, বিকল্প বাস চালাবে কর্তৃপক্ষ
আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশিত মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের নতুন পরিসংখ্যানে দেশটির অর্থনীতির এক মিশ্র চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের আগাম হিসাবে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বার্ষিক ৩.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের ৩.২ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। তবে সামষ্টিক অর্থনীতির এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটিতে মূল্যস্ফীতিও অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের জন্য বড় একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতকে কেন্দ্র করে বিশাল ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং ভোক্তাদের টেকসই ব্যয়ের কারণেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই প্রবৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাবকে অনেকাংশেই সামাল দিতে পেরেছে। কিন্তু পরিসংখ্যানের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক হতাশার চিত্র একেবারেই সাংঘর্ষিক। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমার পাশাপাশি অর্থনীতি পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন বা রেটিংও এখন রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে গেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের আদর্শ হার ২ শতাংশ নির্ধারণ করলেও, অর্থনীতি বর্তমানে তার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে প্রসারিত হচ্ছে। ফেডের পছন্দের সূচক পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার (পিসিই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৩.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই সেপ্টেম্বরে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফেড তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখলেও আগামী ডিসেম্বরে তা বাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ভোক্তাদের ব্যয় টানা দুই প্রান্তিকে ৩.৮ শতাংশ হারে বাড়লেও মূলত মানুষের জমানো সঞ্চয় ভেঙে খাওয়ার কারণেই এই ব্যয়প্রবাহ সচল রয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশটিতে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম গত বছরের তুলনায় এক ডলার বেড়ে চার ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের জরিপ বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ভোক্তাদের আস্থা ১৫ শতাংশ কমে গেছে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোটারদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির চাপে দিশেহারা ভোটাররা, খাবার নাকি ওষুধ কিনবেন সেই দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ
মিশিগানের সেনেট নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের কোন্দল, প্রচারণায় স্টিভেন্সকে নিষিদ্ধ করলেন এল-সায়েদ