সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

উইল ছাড়াই সম্পত্তির উত্তরাধিকার: নিউইয়র্কের আইন নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৬, ২০২৬ ২২:১৮
উইল ছাড়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক তথ্য তুলে ধরেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার। ছবি: সংগৃহীত
উইল ছাড়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক তথ্য তুলে ধরেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে কোনো ব্যক্তি উইল (Will) ছাড়া মারা গেলে তার সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হয়—এ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে সচেতনতামূলক একটি তথ্যবহুল পোস্ট প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার।

 

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নিউইয়র্কে কেউ উইল না করেই মারা গেলেও তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারহীন হয়ে যায় না। বরং নিউইয়র্কের Estates, Powers and Trusts Law (EPTL)-এর Intestacy আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে আইনই নির্ধারণ করে দেন কারা সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হবেন।

 

পোস্টে বলা হয়, মৃত ব্যক্তির কেবল স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে তিনি পুরো সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। যদি স্বামী বা স্ত্রীর পাশাপাশি সন্তানও থাকে, তাহলে স্বামী বা স্ত্রী প্রথম ৫০ হাজার ডলার এবং অবশিষ্ট সম্পত্তির অর্ধেক পান। বাকি অর্ধেক সন্তানদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়।

 

অন্যদিকে, স্বামী বা স্ত্রী না থাকলেও সন্তান থাকলে সন্তানরাই পুরো সম্পত্তি সমানভাবে উত্তরাধিকার হিসেবে পান। আর স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান কেউ না থাকলে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বাবা-মা, ভাই-বোন এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বণ্টিত হয়।

 

মোহাম্মদ মুজুমদার তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, অবিবাহিত জীবনসঙ্গী, বন্ধু, আইনিভাবে দত্তক না নেওয়া সৎ সন্তান কিংবা শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা সাধারণভাবে নিউইয়র্কের ইনটেস্টেসি আইনের অধীনে স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন না। আর যদি আইন অনুযায়ী কোনো যোগ্য উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি নিউইয়র্ক স্টেটের অধীনে চলে যেতে পারে, যা আইনি পরিভাষায় ‘এসচিট’ (Escheat) নামে পরিচিত।

 

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের মধ্যেই উইল ও উত্তরাধিকার আইন নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে পারিবারিক বিরোধ ও আইনি জটিলতা এড়াতে সম্পদের মালিকদের জীবদ্দশায় একটি বৈধ উইল তৈরি করা এবং প্রয়োজনে এস্টেট পরিকল্পনা বিষয়ক আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

পোস্টের শেষে মোহাম্মদ মুজুমদার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তিভেদে আইনি পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো আইনি বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা পেশাদারের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
শিক্ষার্থী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, এবার ২ কোটি ডলারে কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেন ভারতীয় দম্পতি
শিক্ষার্থী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, এবার ২ কোটি ডলারে কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেন ভারতীয় দম্পতি

একসময় উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বিকাশ ও অনুরাধা সিনহা। সেই শিক্ষাই পরে বদলে দিয়েছে তাদের জীবন। এবার সেই সুযোগ অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসকে ২ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি।   তাদের অনুদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স কলেজের নাম রাখা হয়েছে অনুরাধা অ্যান্ড বিকাশ সিনহা কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স।   ৮ সেপ্টেম্বর অনুদানের ঘোষণা দেয় ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এই অর্থ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স ও অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্সের শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ, শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজের জন্য ছয়টি স্থায়ী তহবিল গঠন করা হবে।   নতুন কলেজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারসিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স, অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স ও হেলথ ইনফরমেটিক্সসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়কে একসঙ্গে আনা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে যৌথ গবেষণা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করাও থাকবে এর অন্যতম লক্ষ্য।   সিনহা দম্পতির সঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দুজনই ভারতের শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ইউনিভার্সিটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তারা ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। বিকাশ সিনহা ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস থেকে ইনফরমেশন সায়েন্সে ডেটা সায়েন্স বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন।   বর্তমানে বিকাশ সিনহা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্রডকমের মেইনফ্রেম সফটওয়্যার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালে সিনহা দম্পতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেটা সায়েন্স বিভাগ প্রতিষ্ঠায় অনুদান দেন। পরের বছর তারা ডেটা সায়েন্স ইনোভেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্যও বড় ধরনের অনুদান দেন।   বিকাশ সিনহা বলেন, শিক্ষা তাদের জীবনে নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে এবং তারা সেই সুযোগ অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও তৈরি করতে চান। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় অন্য একজন তার ওপর বিনিয়োগ করেছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি কী অর্জন করবেন তা না জেনেই। সেই অভিজ্ঞতাই তাদের বর্তমান উদ্যোগের অন্যতম অনুপ্রেরণা।   তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু এআই ব্যবহার শেখানো নয়, বরং এটি তৈরি, বোঝা, মূল্যায়ন এবং দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগের সক্ষমতাও গড়ে তোলা জরুরি।   ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের প্রেসিডেন্ট হ্যারিসন কেলার বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজের ধরন, গবেষণা এবং সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি দ্রুত বদলে দিচ্ছে। সিনহা দম্পতির এই অনুদান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি টেক্সাসে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারের জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সিনহা দম্পতির ২ কোটি ডলারের এই অনুদান তাদের নিজেদের শিক্ষাজীবনে পাওয়া সুযোগকে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস জানিয়েছে, নতুন কলেজের মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দক্ষ শিক্ষার্থী ও গবেষক তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:৬
ইরাকের কুর্দিস্তান থেকেও সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে কি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল?

ইরাকের কুর্দিস্তান থেকেও সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে কি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিদায় ঘণ্টা বেজে গেল?

কানাডার মিল্টনে স্কুল বোর্ডের ট্রাস্টি পদে প্রার্থী হওয়া ড. খাদিজা আর মেটওয়ালি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আইএস হামলার পরিকল্পনাকারীর মা কানাডায় স্কুল বোর্ড নির্বাচনে প্রার্থী

৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক পুরোহিত গ্রেগরি অ্যালেন মাদেয়া। ছবি: সংগৃহীত

চার্চের ৭ লাখ ডলার চুরি করে মাদক, ভ্রমণ ও বিলাসী জীবনযাপন; সাবেক পুরোহিত গ্রেপ্তার

চাকরি পাওয়ার জন্য ডোনাটের বাক্সে রেজুমে দেওয়ার অভিনব কৌশল বেছে নেন ২৫ বছর বয়সী লুকাস ইলা। ছবি: সংগৃহীত
সাধারণ রেজুমে নয়, ডোনাটের বাক্সে রেজুমে পাঠিয়ে ১০টি চাকরির ইন্টারভিউ

সান ফ্রান্সিসকোর প্রতিযোগিতাপূর্ণ টেক ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি খুঁজছিলেন ২৫ বছর বয়সী লুকাস ইলা। সাধারণ নিয়মে রেজুমে পাঠিয়ে সাড়া না পাওয়ার বদলে তিনি বেছে নেন অভিনব এক কৌশল। ডেলিভারি কর্মীর ছদ্মবেশে বিভিন্ন কোম্পানির অফিসে ডোনাটের বাক্স পৌঁছে দিতে শুরু করেন তিনি। তবে বাক্সের ভেতরে ডোনাটের সঙ্গে ছিল তার রেজুমে।   লিথুয়ানিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা লুকাস বুঝতে পেরেছিলেন, সান ফ্রান্সিসকোর চাকরির বাজারে অন্য প্রার্থীদের ভিড়ে শুধু রেজুমে পাঠিয়ে আলাদা করে নজরে পড়া কঠিন। তাই সরাসরি কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেন তিনি।   ডোনাটের প্রতিটি বাক্সের ভেতরে রেজুমের সঙ্গে একটি ছোট বার্তাও রাখা ছিল। সেখানে লেখা ছিল, “বেশির ভাগ রেজুমে শেষ পর্যন্ত ডাস্টবিনে যায়। আমারটা যাবে আপনার পেটে।”   ২০১৬ সালে লুকাস প্রায় ৪০টি কোম্পানিতে এভাবে ডোনাট পৌঁছে দেন। তিনি খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পোস্টমেটসের ডেলিভারি কর্মীর মতো পোশাক পরে এসব বাক্স নিজ হাতে কোম্পানিগুলোর অফিসে নিয়ে যেতেন। তার লক্ষ্য ছিল সান ফ্রান্সিসকোর বিভিন্ন টেক ও মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সরাসরি নজরে আসা।   অভিনব এই কৌশলের ফলও দ্রুত পাওয়া যায়। প্রায় ৪০টি ডেলিভারির পর লুকাস ১০টি চাকরির ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পান। তিনি জানিয়েছিলেন, স্থানীয় কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হতে পারে। তাই নিজের সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাও নিয়োগদাতাদের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।   তবে ইন্টারভিউ পেলেও তখনই চাকরি নিশ্চিত হয়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের ভিসা না পাওয়ায় লুকাসকে দেশ ছাড়তে হয়। এরপর ইউরোপে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন তিনি।   লুকাসের ডোনাট-রেজুমে কৌশলটি কয়েক বছর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় ফিরে এসেছে। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা কীভাবে নিজেদের অন্যদের চেয়ে আলাদা করে উপস্থাপন করতে পারেন, সেই আলোচনায় তার গল্পটি প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১১:৫৫
ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ও সনদপ্রাপ্ত স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে জরুরি অ্যাজমা ইনহেলার সরবরাহ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার ১০ হাজার স্কুলে বিনামূল্যে অ্যাজমার ইনহেলার

চার মাসের ছেলে জুনউকে নিয়ে সিউল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোগামী ফ্লাইটে উঠেছিলেন এক মা। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাইটে বাচ্চা কাঁদলে যাত্রীরা বিরক্ত হবে ভেবে ২০০ যাত্রীকে উপহার দিলেন মা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দিতে লাগতে পারে ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার! অর্থের উৎস অনিশ্চিত

শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শেরিফ ডেপুটি স্টিভেন রোমেরো। ছবি: সংগৃহীত
নাশতা সময়মতো না খাওয়ায় ৫ বছরের ছেলেকে গলায় চাপ, ক্যালিফোর্নিয়ায় শেরিফ ডেপুটি

ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোরে নাশতা নির্ধারিত ১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ না করায় নিজের ৫ বছরের ছেলেকে গলায় ও মুখে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সান মাতেও কাউন্টি শেরিফের ডেপুটি স্টিভেন রোমেরোর বিরুদ্ধে। মার্চে নিজ বাড়িতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় শিশুটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আলামেডা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর তাকে ফিলোনি চাইল্ড অ্যাবিউজ মামলায় অভিযুক্ত করেছে।   আদালতের নথির বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিভিইউ জানিয়েছে, নাশতা ১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে না পারায় শিশুটিকে শাস্তি হিসেবে জাম্প রোপ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সে যথেষ্ট দ্রুত জাম্প রোপ না করায় রোমেরো তার মুখ ও গলায় একাধিকবার চাপ দেন বলে প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন। পরে শিশুটিকে কান ধরে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।   ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তার কানে আঘাতের চিহ্নসহ বিভিন্ন জখম পরীক্ষা করে সেগুলো শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানান।   ঘটনার সময় শিশুটি তার বাবা রোমেরো ও সৎমায়ের তত্ত্বাবধানে ছিল বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   সান মাতেও কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, রোমেরো এপ্রিল ২০২৫ থেকে ছুটিতে রয়েছেন। ওই ছুটির সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটি অবগত হয়। অভিযোগের ঘটনাটি দায়িত্বের বাইরে এবং আলামেডা কাউন্টিতে ঘটেছে বলে জানিয়ে শেরিফের অফিস আলাদা প্রশাসনিক তদন্তও শুরু করেছে।   এদিকে আদালতের নথি অনুযায়ী, রোমেরোর আইনজীবীরা মামলাটি মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসাভিত্তিক ডাইভারশনে নেওয়ার আবেদন করেছেন। তবে আলামেডা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর সেই আবেদনের বিরোধিতা করছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, জুন থেকে রোমেরো ফার্স্ট রেসপন্ডারদের জন্য বিশেষায়িত একটি রিকভারি প্রোগ্রামে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেখানে তার অ্যালকোহল ও ক্যানাবিস ব্যবহারের সমস্যা, পিটিএসডি এবং মেজর ডিপ্রেশনের মতো মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত রোগ নির্ণয়ের তথ্য রয়েছে।   অভিযোগ প্রকাশের পর লিভারমোরের কয়েকজন প্রতিবেশী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, রোমেরোকে তারা প্রায়ই সন্তানদের সঙ্গে দেখেছেন এবং পরিবারটিকে বাইরে থেকে স্বাভাবিক ও ঘনিষ্ঠ বলেই মনে হয়েছে।   মামলাটির পরবর্তী প্রি-ট্রায়াল হিয়ারিং আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত রোমেরোকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৯:২৩
ইলন মাস্কের প্রযুক্তিকে ব্যঙ্গ করে ভিভিয়ান উইলসনের এআইবিরোধী বার্তা

বিশ্ব জয় করলেও ঘর সামলাতে পারছেন না ইলন মাস্ক? মেয়ে ও স্ত্রীর কাছে নাস্তানাবুদ

মেডিকেইডে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জালিয়াতির মামলায় জাকিয়া খানের ৭৬ মাসের কারাদণ্ড

নিউ ইয়র্কে ডে-কেয়ার কর্ণধার জাকিয়া খানকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরতের নির্দেশ

ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজতে পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইনে পোস্ট করে ভাইরাল ভারতীয় মা

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের জন্য লিংকডইনে চাকরির বদলে পাত্রী খুঁজে ভাইরাল ভারতীয় মা

0 Comments