সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ভুয়া বিয়ে থেকে ভিসা জালিয়াতি, অভিবাসন প্রতারণার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৬:২৪
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অবৈধ অভিবাসন ও জালিয়াতি বন্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে মার্কিন প্রশাসন। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা 'ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস' (ইউএসসিআইএস) অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের প্রতারণা ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প এবং ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ বি. এডলোর নেতৃত্বে মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার সততা, স্বচ্ছতা ও সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এরই অংশ হিসেবে পুরো অভিবাসন ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপব্যবহার রুখতে সাধারণ মানুষের তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে ইউএসসিআইএস। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে যে কেউ চাইলে তাদের বিশেষ অনলাইন টিপ ফর্মের (Online Tip Form) মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অভিবাসন জালিয়াতির ঘটনা সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট বা অভিযোগ আকারে জমা দিতে পারবেন। এর ফলে খুব সহজেই জালিয়াতি চক্রকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

 

ইউএসসিআইএস-এর এই নতুন অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় এইচ-১বি (H-1B) ভিসা, এইচ-২বি (H-2B) ভিসা, ইবি-৫ (EB-5) ইনভেস্টর ভিসা, রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum), চুক্তিভিত্তিক ভুয়া বিয়ে এবং অন্যান্য সকল প্রকার ইমিগ্রেশন সুবিধার অপব্যবহার বা জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বৈধ উপায়ে অভিবাসন প্রক্রিয়া সচল রাখা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে এই অনলাইন টিপ ফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
১৩২ বছর পর লাইব্রেরিতে ফিরল ১৮৯৪ সালের পুরোনো ম্যাগাজিন
১৩২ বছর পর লাইব্রেরিতে ম্যাগাজিন ফেরত, বেঁচে গেল ১২ হাজার ডলারের জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরিতে ১৩২ বছর পর একটি ম্যাগাজিন ফেরত দিয়েছেন এক ব্যক্তি। ১৮৯৪ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যার ‘দ্য সেঞ্চুরি ইলাস্ট্রেটেড মান্থলি ম্যাগাজিন’টি তিনি কয়েক দশক ধরে নিজের বাড়িতে রেখেছিলেন।  ব্যক্তিটির নাম জন হ্যানসন। তিনি জানান, ম্যাগাজিনটি কীভাবে তার বাড়িতে এসেছিল, তা তিনি জানেন না। কয়েক দশক ধরে সেটি তার কাছে ছিল। লাইব্রেরিতে বই ফেরত দেওয়ার ওপর এক বছরের জন্য জরিমানা স্থগিতের খবর দেখে তিনি অবশেষে ম্যাগাজিনটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।  লাইব্রেরির হিসাব অনুযায়ী, ম্যাগাজিনটি ৪৮ হাজার ২২০ দিন দেরিতে ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত জরিমানা কার্যকর থাকলে তার বিল দাঁড়াত প্রায় ১২ হাজার ৫৫ ডলার। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরি এক বছরের জন্য পুরোনো জরিমানা স্থগিত করেছে। ফলে হ্যানসনকে কোনো অর্থই দিতে হচ্ছে না।  লাইব্রেরি জানিয়েছে, ম্যাগাজিনটি আর সাধারণ সংগ্রহে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। বরং ঐতিহাসিক নথিপত্র সংরক্ষণের কনকর্ড রুমে এটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।  মজার বিষয় হলো, ম্যাগাজিনটি যখন ধার নেওয়া হয়েছিল, তখন কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরির বয়সও ছিল মাত্র প্রায় ২০ বছর। লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৩ সালে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৬:১৪
ইরফান আল-হুসাইনি—স্মৃতিতে বেঁচে থাকা এক তরুণের করুণ পরিণতি

স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি, ১৪ হাজার স্বাক্ষর- তবু দাফন হয়ে গেল ইরফানের

তাসিয়া ফরচুনের স্মরণে ফুল ও খেলনা দিয়ে সাজানো হয়েছে স্মৃতিচিহ্ন

পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে গাছে ঝুলছিল তাসিয়া, ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ

নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ, প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প
৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প, বললেন, 'নট ইউ'

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে প্রশ্ন করায় এবিসি নিউজের সিনিয়র পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট র‍্যাচেল স্কটের দিকে তেড়ে যাওয়ার মতো করে এগিয়ে যান তিনি। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ডালাস ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ঘটে।   রিপাবলিকানদের মিডটার্ম কনভেনশন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার আগে ট্রাম্পকে ওই ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করেন স্কট। ট্রাম্প তাকে বারবার থামিয়ে দিয়ে বলেন, “নট ইউ, নট ইউ। হেই, নট ইউ।” এ সময় তিনি আঙুল নাড়ানোর পাশাপাশি স্কটের দিকে এক পা এগিয়ে ঝুঁকে পড়েন। তবে প্রতিবেদনে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্কটকে শারীরিকভাবে আঘাত করার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।    স্কটের প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পরও অর্থনীতি ভালো চলছে বলে দাবি করলে ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য ৫ হাজার ডলারের মতো আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রয়োজন কেন হচ্ছে। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা ভোটারদের ভোটে উৎসাহিত করার জন্য নয়। তিনি এটিকে বাইডেন প্রশাসনের সময়কার পরিস্থিতি সহ্য করার পর মার্কিন নাগরিকদের জন্য “পুরস্কার” হিসেবে বর্ণনা করেন।    ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট দুটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। পরিকল্পনাটির সম্ভাব্য ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। তবে অর্থের উৎস, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়েছে।    এদিকে স্কটের দিকে ট্রাম্পের এই আচরণকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন করার কারণে তিনি স্কটকে প্রকাশ্যে অপমান করেছেন। মে মাসে তাকে “স্টুপিড”, “ওয়ান অব দ্য ওয়ার্স্ট রিপোর্টার্স” এবং “আ হরর শো” বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্কটকে “দ্য মোস্ট অবনক্সিয়াস রিপোর্টার” এবং “টেরিবল রিপোর্টার” বলেও আক্রমণ করেছিলেন তিনি।    ঘটনার পর এবিসি নিউজ এক বিবৃতিতে র‍্যাচেল স্কট এবং তাদের পুরো ওয়াশিংটন টিমের প্রতি সমর্থন জানায়। স্কট নিজে অবশ্য এ ঘটনা নিয়ে আলাদা কোনো মন্তব্য না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১:১৭
২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের

২ যুগের মার্কিন যুদ্ধে ৩ হাজার নিহতের বদলায় প্রাণ গেছে ৪৫ লাখ মানুষের

বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরও সোমালিকে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠাল আইসিই

বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরও সোমালিকে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠাল আইসিই

অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

ভাইকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অভিযোগ, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে

৯/১১ হামলায় নিহত স্বামী টম স্ট্রাডার নামের পাশে টেরি স্ট্রাডা। ছবি: সংগৃহীত
৯/১১ হামলায় সৌদি যোগসূত্রের অভিযোগ, ২৫ বছর পরও জবাব চান নিহতদের স্বজনেরা

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও সৌদি আরবের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ উত্তর মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হামলায় নিহতদের স্বজনেরা। হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার নিউইয়র্কে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রশাসনগুলোর ভূমিকা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হামলার কথিত যোগসূত্র নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন টেরি স্ট্রাডা। তাঁর স্বামী টম স্ট্রাডা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় নিহত হন।   টেরি স্ট্রাডা ৯/১১ ফ্যামিলিজ ইউনাইটেডের জাতীয় চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হামলার সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং এ বিষয়ে মার্কিন তদন্তের নথি প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন। শুক্রবারের স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, একাধিক মার্কিন প্রশাসন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে সৌদি আরবকে রক্ষা করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। তাঁর বক্তব্যের সময় উপস্থিত কয়েকজন নিহতের স্বজনও সমর্থন জানান।   ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং একটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করে। আরেকটি বিমান পেনসিলভানিয়ার একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।   হামলায় অংশ নেওয়া ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই সৌদি নাগরিক ছিলেন। এ কারণেই হামলার পর থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ কমিশনের তদন্তে সৌদি সরকার হামলার অর্থায়ন করেছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবও হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   তবে মার্কিন তদন্তে সৌদি নাগরিকদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে। বিশেষ করে নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধার নামের দুই হামলাকারী ২০০০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো এলাকায় অবস্থান করেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে সৌদি নাগরিক ওমর আল-বায়োমির যোগাযোগ হয়।   বায়োমি তাঁদের বাসা খুঁজে পেতে, ব্যাংক হিসাব খুলতে এবং স্থানীয় পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এতদিন এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে বায়োমির সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎকে অনেকটা আকস্মিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত নথি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।   প্রোপাবলিকার সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ২০০১ সালে বায়োমির বাসা থেকে বেশ কিছু নথি ও সামগ্রী জব্দ করেছিল। এর মধ্যে একটি হাতে আঁকা চিত্র ছিল, যা একটি বিমানের গতিপথের হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবন ঘুরে দেখার একটি ভিডিওও উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিবারের আইনজীবীরা মনে করেন, এসব তথ্য হামলার আগে বায়োমির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখায়।   প্রকাশিত এফবিআই নথিতে বায়োমির সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং সেখান থেকে মাসিক অর্থ পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি সরকার ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা বা অর্থায়নে সরাসরি জড়িত ছিল এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।   সৌদি নাগরিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে এফবিআই পরবর্তী সময়ে ‘অপারেশন এনকোর’ নামে একটি তদন্ত চালায়। তদন্তকারীরা নওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহধারের সঙ্গে বায়োমি এবং সৌদি কূটনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকর্তাদের যোগাযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। তদন্তে এমন সাক্ষ্যও পাওয়া যায়, যাতে সৌদি কূটনীতিক ও ধর্মীয় নেতা ফাহাদ আল-থুমাইরির সঙ্গে ওই দুই হামলাকারীর যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে।   তদন্তকারীদের কিছু তথ্য অনুযায়ী, থুমাইরি হামলাকারীদের সঙ্গে বায়োমির পরিচয় ঘটাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অপারেশন এনকোর শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং এফবিআইয়ের হাতে থাকা বিভিন্ন নথি নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত রয়েছে।   ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি মামলা করেছে। ২০১৬ সালে জাস্টিস এগেইনস্ট স্পনসরস অব টেররিজম অ্যাক্ট, সংক্ষেপে জাস্টা, আইনে পরিণত হওয়ার পর এই ধরনের মামলা করার আইনি পথ আরও সহজ হয়।   ২০২৫ সালে মার্কিন জেলা বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মামলাটি এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। আদালত সৌদি সরকারের সঙ্গে হামলাকারীদের সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়ে পরিবারের উপস্থাপিত প্রমাণকে মামলা চালানোর পর্যায়ে যথেষ্ট বলে বিবেচনা করেন। সৌদি আরব ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। মামলাটির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর ম্যানহাটনে হওয়ার কথা রয়েছে।   পরিবারগুলোর আইনজীবীরা মনে করছেন, মামলা এগিয়ে গেলে আরও নথি, যোগাযোগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য আদালতের সামনে আসতে পারে। তবে মামলাটি কোনো পর্যায়ে ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে না আসার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তাঁরা।   ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরও এর প্রভাব শুধু হামলার দিন নিহত ব্যক্তিদের পরিবারেই সীমাবদ্ধ নেই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসাবশেষ থেকে ছড়িয়ে পড়া ধুলা ও বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসা উদ্ধারকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে।   ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি মানুষের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি কর্মসূচির আওতায় প্রত্যয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯/১১-পরবর্তী বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে ভুক্তভোগীদের মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে।   নিহতদের স্বজনেরা বলছেন, ২৫ বছর পরও তাঁদের লড়াই শুধু অতীতের ঘটনা জানার জন্য নয়, বরং মার্কিন সরকারের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পাওয়ার জন্য। তাঁদের দাবি, ৯/১১ হামলার সঙ্গে সৌদি নাগরিকদের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে, সেগুলোর উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।   সূত্র: নিউজউইক

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২৩:২৮
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে অবৈধ অভিবাসীর হাতে নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন শলিনী ঠাকুর। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ অভিবাসীর হাতে নারীর মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতি

৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহের প্রস্তাবের অন্যতম উদ্যোক্তা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বদলে ৩২ ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব, কংগ্রেসে নতুন বিল

দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে বিয়ে করেন কাপ্রি ডিরামাস ও তায়াসিয়া থমাস। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বর, হাসপাতালেই বিয়ে সারলেন নবদম্পতি

0 Comments