নিউ জার্সিতে ট্রাম্প-সমর্থক কিশোরীকে চড় মেরে বিপাকে কানাডীয় নারী, চলছে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে দেশাত্মবোধক পোশাক পরা এক কিশোরীকে চড় মারার অভিযোগে অভিযুক্ত কানাডীয় নাগরিক কেইটলিন ট্রেসিকে নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর (ডিএইচএস)। গত ৪ জুলাইয়ের ছুটির সপ্তাহে পয়েন্ট প্লিজ্যান্ট বিচে ঘটা ওই ঘটনার পর ৩৩ বছর বয়সী ট্রেসিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে নিউ জার্সির নিওয়ার্ক-এ অবস্থিত ডেলানি হল অভিবাসন আটক কেন্দ্রে বন্দি রাখা হয়েছে।
ডিএইচএস এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে তাকে 'ম্যাপল লিফ মেনেস' হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ পার হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এবং এক মার্কিন কিশোরীর ওপর হামলা চালানো এই নারীর সে দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্ট) প্রস্তুতি চলছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেসি ২০২৪ সালে পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তার ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়। গত ৩ জুলাইয়ের হামলার ঘটনার পর সোমবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে শিশুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, সাধারণ হয়রানি ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
শুরুতে তাকে ওশান কাউন্টি জেলে রাখা হলেও পরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ডিএইচএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করেছে, যেখানে দেখা যায় ট্রেসি 'ইউএসএ ২৫০' লেখা ট্যাংক টপ পরা এক কিশোরীর দিকে এগিয়ে গিয়ে দ্রুত দুটি চড় মারছেন।
এদিকে নিউ জার্সির অ্যাজবুরি পার্কে বসবাসরত ট্রেসির মার্কিন স্বামী ম্যাথিউ গেরোনি তার স্ত্রীর মুক্তির জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। উল্লেখ্য, গেরোনির নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টটিও বেশ বিতর্কিত, যেখানে তিনি এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রাণনাশের কামনা করে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ক্যানসার হওয়ার প্রার্থনা করে ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।
স্ত্রীর আইনি লড়াইয়ের খরচ জোগাতে একটি তহবিল গঠনের চেষ্টাও করেন তিনি। 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মে ৯ হাজার ডলারের লক্ষ্যের বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ডলার সংগ্রহ হওয়ার পর 'সহিংস অপরাধ' নীতির লঙ্ঘনের দায়ে সেই ক্যাম্পেইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে 'গিভসেন্ডগো' (GiveSendGo) প্ল্যাটফর্মে নতুন করে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয় এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৫৬৯ ডলার জমা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন এই তহবিল সংগ্রহ তাদের নিজস্ব নীতিমালা ভঙ্গ করেনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreআয়ারল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ এক হয়ে গেলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার আয়ারল্যান্ড সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা করে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে নিজের সমর্থনের কথা জানান তিনি। উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ, আর আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন দেশ। এই দুই অংশকে এক করার বিষয়টি বহু বছর ধরে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, তিনি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চান না। এরপরই নিজের মত জানিয়ে বলেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চান। ট্রাম্প বলেন, “আমি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চাই।” তার মতে, দুই অংশ এক হয়ে গেলে সেটি সবার জন্যই একটি বড় অর্জন হবে। আয়ারল্যান্ডকে এক করার প্রশ্নে দেশটির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। যারা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে রাখতে চান, তারা মূলত ইউনিয়নিস্ট হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩০ বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডে ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলেছে। এই সময়টি ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত। ১৯৯৭ সালের মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটে। এই চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে গণভোট হলে দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এক হওয়ার পক্ষে ভোট দিলেই উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের পথ খুলে যেতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। বিষয়টি আপাতত আলোচনার বাইরে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গুড ফ্রাইডে চুক্তির নিয়ম পুরোপুরি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ট্রাম্প অবশ্য মনে করেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, “এটা শেষ পর্যন্ত ঘটবেই।” এরপর পাশে থাকা আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এটি এগিয়ে নিতে আপনারা সঠিক মানুষকে পেয়েছেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ হওয়ায় এ বিষয়ে ব্রিটেনেরও অবশ্যই কিছু বলার থাকবে। তবে তার প্রশ্ন, আয়ারল্যান্ড এক হলে সেটি খারাপই বা হবে কেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নতুন করে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তারা বার্নহ্যামের আগস্টের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, এই মুহূর্তে উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ বিষয়ে গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় নেই। শনিবার সকালে আয়ারল্যান্ডে পৌঁছান ট্রাম্প। ডাবলিনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন তিনি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভেরও আয়োজন করা হয়। ডাবলিনের পাশাপাশি ডুনবেগ ও শ্যানন বিমানবন্দরেও প্রতিবাদের পরিকল্পনা ছিল। ডুনবেগে ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন একটি গলফ কোর্স রয়েছে। তবে বিক্ষোভ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে জানতেন না। তিনি বলেন, “আমি কোনো বিক্ষোভ দেখিনি।” আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রোববার ট্রাম্প ডুনবেগে তার গলফ কোর্সে যাবেন এবং সেখানে আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। দিনের শেষ দিকে মার্কিন দূতাবাসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন, আয়ারল্যান্ড এক করার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নটি তাকে বেশ কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। তিনি বলেন, এমন প্রশ্নের উত্তর যেভাবেই দেওয়া হোক, সেটি নিয়ে খবর হবেই। তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া তার কাছে “খুবই চমৎকার” একটি বিষয়। এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাসিরও সৃষ্টি হয়।
ট্রাম্পকে হুতিদের অনুরোধ, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবেন না’
গৃহহীন শিক্ষার্থীকে স্কুলে রাখতে চাকরি হারালেন প্রধান শিক্ষক, পরে হলেন সেই ছাত্রেরই অভিভাবক
১৩২ বছর পর লাইব্রেরিতে ম্যাগাজিন ফেরত, বেঁচে গেল ১২ হাজার ডলারের জরিমানা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশি গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ ইরফান আল হুসেইনীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সান্টা ক্লারার এমসিএ ফিউনারেল হোমে জোহরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রেই তাকে দাফন করা হয়। তবে দাফন সম্পন্ন হলেও ইরফানের মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন এখনো কাটেনি। পরিবারের দাবি, সরকারি ময়নাতদন্তের পাশাপাশি তারা স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষা চেয়েছিল। সেই দাবি পূরণ হওয়ার আগেই দাফন হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়ে গেছে। গত ২২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে নিজের বাসায় গুরুতর আহত অবস্থায় ইরফানকে পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আট দিন পর, ৩০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না ইরফানের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা। পরিবারের দাবি, ঘটনার আগে ইরফান স্বাভাবিক ছিলেন। ঘটনার দিন ২২ জুলাই সকালে তিনি অফিসের একটি প্রেজেন্টেশনেও অংশ নেন। পরে অসুস্থ বোধ করায় দিনের বাকি সময় ছুটি নেওয়ার কথা সহকর্মীদের জানান। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পরিবার স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষা চেয়েছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে একজন স্বাধীন চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। এর মধ্যেই ইরফানের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। পরিবার দাফন বিলম্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তাদের ইচ্ছা ছিল মরদেহ বাংলাদেশে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার। তবে ইরফানের স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন এথেনার আইনজীবীর বরাতে জানা গেছে, ধর্মীয় কারণে দ্রুত দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাধীন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে বিদ্যমান নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনায় তাদের আপত্তি নেই বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিস গত ৩১ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত করে। তবে পরিবারের দাবি ছিল, সরকারি ময়নাতদন্তের বাইরে স্বাধীন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পৃথক পরীক্ষা করা। ইরফানের মৃত্যুর তদন্ত নিয়েও পরিবারের প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, পালো আল্টো পুলিশ ও কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরের মধ্যে তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টাকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছিল পরিবার। ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং স্বাধীন পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এ দাবিতে করা আবেদনে ১৪ হাজারের বেশি মানুষের স্বাক্ষরও পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরে পরিবার। ইরফানের বোন সারা পালো আল্টো সিটি মেয়র ও সিটি কাউন্সিলের সামনে বক্তব্য দেন। সেখানে পরিবারের উদ্বেগ তুলে ধরে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। দাফনের আগে স্বাধীন ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে ইরফানের বাবা-মা ও বোনেরা আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে দেয়। ইরফান আল হুসেইনী ছিলেন বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি নিয়ে তার গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন। জর্জিয়া টেকের তথ্য অনুযায়ী, ইরফান ও তার স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন এথেনা দুজনই সেখানে ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২২ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং ২০২৪ সালে দুজনই পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ইরফানের দাফন সম্পন্ন হলেও তার মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের প্রশ্নের অবসান হয়নি। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘটনাটি আত্মহত্যা হলেও পরিবার বলছে, মৃত্যুর ঘটনাটি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গুরুতর আহত হওয়ার আগে কী ঘটেছিল, জরুরি সেবা ৯১১-এ কলের আগে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, শারীরিক ও টক্সিকোলজি পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে এবং মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করার পেছনে কী কী প্রমাণ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের ভাষ্য, স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষা হলে এসব প্রশ্নের আরও নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যেত। কিন্তু জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় এখন সেই ধরনের স্বাধীন পরীক্ষার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে ইরফান আল হুসেইনীর দাফন সম্পন্ন হলেও তার মৃত্যুকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে।
পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে গাছে ঝুলছিল তাসিয়া, ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ, প্রবাসীদের যা জানা জরুরি
৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিকের দিকে তেড়ে গেলেন ট্রাম্প, বললেন, 'নট ইউ'
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ ২৫ বছরে যুদ্ধ ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে অন্তত ৪৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্প। এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি সহিংসতায় নিহতের পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অর্থনীতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে পরোক্ষ মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার হামলায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ও পেনসিলভানিয়ায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। ওই হামলার পর আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণসহ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক অভিযান বিস্তৃত হয়। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও পাকিস্তানে যুদ্ধের সরাসরি সহিংসতায় ৯ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৩২ হাজারের বেশি ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। তবে যুদ্ধের প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আরও অনেক বেশি বলে গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো ভেঙে পড়া, অর্থনৈতিক সংকট, রোগের বিস্তার এবং খাদ্য ও পানির সংকটের মতো পরোক্ষ প্রভাবে আরও প্রায় ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ হতে পারে। গবেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এর মানবিক ক্ষতি থেমে যায় না। বোমা হামলা ও সামরিক সংঘাতের সরাসরি প্রাণহানির পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে যাওয়া হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং জনসেবার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বহু বছর ধরে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রাখে। এ কারণে যুদ্ধের মোট প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির আগের হিসাবেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোর বিপুল মানবিক ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। ২০২১ সালের ২০ বছর পূর্তির হিসাবে শুধু যুদ্ধগুলোর সরাসরি মৃত্যুই ৯ লাখের বেশি বলে জানানো হয়েছিল এবং এসব সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি পরবর্তী যুদ্ধগুলোর মানবিক মূল্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এসব সামরিক অভিযানের প্রভাব এখনো যুদ্ধকবলিত দেশগুলোর মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর ওপর রয়েছে।
বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরও সোমালিকে গুয়ানতানামো বে-তে পাঠাল আইসিই
ভাইকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অভিযোগ, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে