ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধে যাওয়ার পদক্ষেপ সঠিক ছিল: মাইক পেন্স
ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত থাকলেও তেহরান এখনো আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না।
সিএনএনের ‘দ্য সিচুয়েশন রুম’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক উলফ ব্লিটজারের সঙ্গে আলাপকালে পেন্স বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্প সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা পেন্স বলেন, যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় বর্তমান প্রেসিডেন্টের আগ্রহ তিনি বুঝতে পারেন। তবে তাঁর মতে, শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো কিংবা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে ইরানের সদিচ্ছা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
পেন্সের বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে ইরানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বুধবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি বলেন, মতপার্থক্য কমানো এবং সংঘাতের সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত।
রুবিও বলেন, ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনায় এগিয়ে এলে যুক্তরাষ্ট্রও একই মনোভাব দেখাবে। তবে তেহরান কূটনৈতিক উদ্যোগে সাড়া না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, ইরান এখনো আলোচনাকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। তবে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত আছে কি না কিংবা নতুন কোনো যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ চলছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান এমন সময় সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে টানা সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং দামের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
ম্যানিলায় আঞ্চলিক বৈঠকেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত তাদের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহব্যবস্থায় চাপ বাড়াতে পারে।
ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকলেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক তৎপরতা থেকে নিজেদের এবং মিত্রদের রক্ষার জন্য অভিযান প্রয়োজন।
তবে তেহরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, মার্কিন সামরিক হামলা ও চাপের মধ্যে অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়। ফলে উভয় পক্ষ প্রকাশ্যে কূটনীতির কথা বললেও সংঘাত বন্ধের কার্যকর পথ এখনো স্পষ্ট হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপ্রায় ৩০ বছর আগে তিন বছরের মেয়ে ক্রিস্টাল রেইসকে হত্যার অভিযোগে মেক্সিকোয় আটক হয়েছেন তাঁর মা আনা মার্লিন সোমোজা। ৬০ বছর বয়সী সোমোজা ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে পলাতক ছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর মেক্সিকোর জোচিটেপেক শহরে তাঁকে আটক করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের মার্শালস সার্ভিস জানিয়েছে, মেয়েকে হত্যার অভিযোগে প্রথম ডিগ্রির হত্যার মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। মার্শালস সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ৩০ জানুয়ারি ক্রিস্টালের মৃত্যু হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, মৃত্যুর আগে শিশুটিকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছিল। তাকে একটি ছোট কুকুর রাখার খাঁচায় আটকে রাখা হতো, হাত-পা বেঁধে মুখ বন্ধ করে দেওয়া হতো এবং দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়াই রাখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। মৃত্যুর দিন শিশুটিকে বেঁধে মুখে তোয়ালে আটকে শ্বাসরোধ করা হয় এবং একটি বন্ধ কার্ডবোর্ডের বাক্সে রেখে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর, ১৯৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর অ্যারিজোনার মোবাইল এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে মানুষের হাড়ের টুকরা উদ্ধার করেন এক শিকারি। তবে দীর্ঘদিন সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের আগস্টে ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে হাড়গুলো ক্রিস্টাল রেইসের বলে নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা। পরে শিশুটির জৈবিক বাবা ড্যারেন স্টকওয়েলের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে সোমোজা ও তাঁর তৎকালীন প্রেমিক অ্যাভেলিনো তামালার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তামালাকে ২০১৬ সালে ক্রিস্টাল হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধে ১৯৯৯ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সোমোজা আট বছর ফেডারেল কারাগারে ছিলেন। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর তাঁকে মেক্সিকোয় ফেরত পাঠানো হয়। ২০১৪ সালে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর থেকেই তাঁকে খুঁজছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা। মার্শালস সার্ভিসের ভাষ্য, মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাঁকে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে সহায়তা করে থাকতে পারে। ২০২২ সালের অক্টোবরে সোমোজাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংগ্রহ করা হয়। তবে তাঁকে খুঁজে পেতে আরও কয়েক বছর লেগে যায়। ২০২৬ সালে তাঁকে খুঁজে বের করার অভিযানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ নিয়োগ করা হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সোমোজা মেক্সিকোর কুয়েরনাভাকা এলাকায় অবস্থান করছেন এবং গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করছেন। পরে ১৮ অক্টোবর তাঁকে জোচিটেপেকে আটক করা হয়। এখন তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে কাজ করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি রাসেল লরফিং বলেন, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনি চ্যালেঞ্জ জানালে তা আরও দীর্ঘ হতে পারে, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। ফলে সোমোজার বিরুদ্ধে মামলার বিচার কবে শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের মার্শালস সার্ভিস ও ফক্স নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় থাকতে নিট সম্পদ হতে হবে ১৮ লাখ ডলার
নিউ ইয়র্কের কুইন্স পার্কে গর্ত থেকে নারীর পচনশীল মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় অজানা
প্রশাসনের সাড়া না পেয়ে শিশুদের নিরাপত্তায় নিজেই রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসালেন নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে নির্বাচনী সমাবেশে নরওয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় আবারও অসন্তোষ জানিয়ে দেশটিকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। রোববার (২৫ অক্টোবর) পোর্ট হুরনে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, নোবেল না পাওয়ার কারণে নরওয়ের প্রতি তাঁর আগের মতো ভালো লাগা নেই। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, নরওয়ে একেবারেই বাজে।’ দেশটি সম্পর্কে আরও অবমাননাকর মন্তব্য করে তিনি বলেন, নরওয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না এবং দেশটির কাছ থেকে কিছুই চান না। সমাবেশে নিজের কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং আরও দুটি সংঘাতের সমাধান তাঁর সামনে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি ইরান এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে তিনি আশা করেছিলেন, এবার সম্মানজনক এই পুরস্কারটি পাবেন। এমনকি স্ত্রীকে বলেছিলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে নোবেল পুরস্কার পেলে তা তাঁর জন্য সম্মানের হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি অন্য একজনের হাতে যাওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন বলে জানান। ট্রাম্পের মন্তব্যে উঠে আসে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইয়ের প্রসঙ্গও। গত ৯ অক্টোবর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাঁর নাম ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং সংঘাতের ঘটনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প সমাবেশে পিল্লাইকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন, যাঁর নাম তিনি আগে শোনেননি। এর আগে নিউইয়র্কের সিরাকিউজে এক সমাবেশেও তিনি পুরস্কারজয়ীকে নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। নোবেল পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ অবশ্য নতুন নয়। নিজের প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দাবি করে আসছেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তাঁর ভূমিকার জন্য তিনি এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি বলেছিলেন, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তিনি সাতটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। পরে বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে নিজের প্রশাসনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, একাধিকবার তাঁর এই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। তবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নরওয়ে সরকার নেয় না। পাঁচ সদস্যের স্বাধীন নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এই পুরস্কারপ্রাপক নির্বাচন করে। কমিটির সদস্যদের নিয়োগ দেয় নরওয়ের পার্লামেন্ট। ফলে দেশটির সরকার ও নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আলাদা। এই বিষয়টি নিয়ে এর আগেও ট্রাম্পের সঙ্গে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পকে পাঠানো এক বার্তায় স্টোরে স্পষ্ট করেছিলেন, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে স্বাধীন কমিটি, নরওয়ে সরকার নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নোবেল না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেছিলেন, আটটির বেশি যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখার পরও পুরস্কার না পাওয়ায় শান্তির প্রতি তাঁর একমাত্র অগ্রাধিকার বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা আর অনুভব করছেন না। ওই সময় গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা এবং ইউরোপের কয়েকটি মিত্র দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি নিয়েও ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ট্রাম্পের হাতে অন্য কয়েকটি স্বীকৃতি এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফার প্রবর্তিত প্রথম শান্তি পুরস্কার পান তিনি। তবে পুরস্কারটি চালু করা এবং ট্রাম্পকে প্রথমবারের মতো তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একইভাবে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁকে নিজের পদকটি দেন। তবে নোবেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, পদক হস্তান্তর করা গেলেও পুরস্কারজয়ীর স্বীকৃতি অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটনে নরওয়ের দূতাবাস এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির বক্তব্য জানতে চেয়েছিল নিউজউইক। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: নিউজউইক, রয়টার্স।
বাবা-মাকে হারানোর ভয়ে স্কুল ছাড়ল শিক্ষার্থীরা, অভিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাস্তায় কিশোররা
ফ্লোরিডায় ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেও স্কুলছাত্রীর জন্য বেঞ্চ বানালেন দম্পতি, ভিডিও ভাইরাল
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে জনঅসন্তোষ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবেশ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় বসবাসরত এক লাখের বেশি ইউক্রেনীয় এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ সুদানি নাগরিকের জন্য সাময়িক স্বস্তির খবর এসেছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাঁদের সুরক্ষার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে সুরক্ষা কত দিন চলবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাজের অনুমতির বৈধতা কী হবে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ স্পষ্টতা দেওয়া হয়নি। এই সুবিধাটি টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) নামে পরিচিত। নিজ দেশে যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নিরাপদে ফিরে যাওয়া সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট দেশের যোগ্য নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে থাকার সুরক্ষা দেওয়া হয়। এটি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড নয়; বরং নির্ধারিত শর্তে সাময়িক সুরক্ষা। ইউক্রেনের ক্ষেত্রে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর দেশটির নাগরিকদের জন্য টিপিএসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সুদানের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার অনিশ্চয়তা কিছুটা কমেছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয় এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। টিপিএসের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য কাজের অনুমতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করেন, বাড়িভাড়া দেন, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা করেন। তাঁদের অভিবাসন-অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে চাকরি, আয়, বাসস্থান ও পারিবারিক পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই শুধু থাকার সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে শুনেই কাজের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ আছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও এই খবর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ করিয়ে দেয়: অভিবাসন-সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তে অনেক সময় নির্দিষ্ট দেশ, নির্দিষ্ট শ্রেণি এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার শর্ত থাকে। অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য ঘোষিত সুবিধা বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে—এমন নয়। কারও টিপিএস, কাজের অনুমতি, আশ্রয়ের আবেদন বা অন্য অভিবাসন-অবস্থা থাকলে নিজের নথির মেয়াদ ও সরকারি নির্দেশনা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। টিপিএস নিজে থেকে গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি করে না। তবে কোনো ব্যক্তির অন্য কোনো অভিবাসন-সুবিধার যোগ্যতা থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে। তাই নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্য অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনি সহায়তা সংস্থার পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। সাময়িক সুরক্ষার এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনীয় ও সুদানি পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি আনলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁদের সরকারি ঘোষণা, নথির মেয়াদ এবং কাজের অনুমতির শর্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
নাগরিকত্বের অপেক্ষায় লাখো অভিবাসী, যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন নিষ্পত্তিতে বাড়ছে দীর্ঘসূত্রতা
বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও কয়েক দিন চলবে আবাসন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বড় উদ্যোগ