আমেরিকা

অভিবাসীদের আইনি মর্যাদা বাতিল: কর্মী সংকটের আশঙ্কায় কর্মী ও মার্কিন নিয়োগকর্তারা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৬:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সামনে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলনকারীদের একটি বিক্ষোভ সমাবেশ।  ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সামনে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলনকারীদের একটি বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও কাজ করে আসা ১০ লাখের বেশি অভিবাসীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) কর্মসূচি বাতিলের উদ্যোগের ফলে এল সালভাদর, হাইতি ও আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকরা কাজের অনুমতি হারানো এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। 

 

ওয়াশিংটন ডিসি ও আশপাশের এলাকায় এল সালভাদরের বংশোদ্ভূত অনেক কর্মী মার্কিন ক্যাপিটল হিল, পেন্টাগন এবং আর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংস্কার ও নির্মাণকাজে অবদান রেখেছেন। একইভাবে ফ্লোরিডা, ম্যাসাচুসেটস ও নিউইয়র্কের বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে হাইতিয়ান সেবাকর্মীরা বহু বছর ধরে প্রবীণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন সহায়তা দিয়ে আসছেন। 

 

টিপিএস কর্মসূচির আওতায় থাকা এসব মানুষ এখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর নতুন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন মানবিক সুরক্ষা হিসেবে চালু থাকা এই কর্মসূচি বন্ধের পথে এগোতে পারছে। 

 

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টিপিএস সুবিধাভোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সক্রিয়। তাদের বড় একটি অংশ নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করছেন। 

 

প্রথম ধাপে হাইতি ও কয়েকটি দেশের প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টিপিএস সুবিধাভোগী তাদের কাজের অনুমতি হারাতে পারেন। এরপর এল সালভাদরের প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষও সেপ্টেম্বরের পর তাদের আইনি সুরক্ষা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। 

 

এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের জীবনেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্প খাতেও পড়তে পারে। পেন ওয়ার্টন বাজেট মডেলের নীতি বিশ্লেষক আলেকজান্ডার আরনন বলেন, নির্দিষ্ট শিল্প ও অঞ্চলে আইনিভাবে কাজ করার অনুমতি হারানো হাজার হাজার কর্মীর অভাব বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। 

 

টিপিএস সুবিধাভোগীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলে যাওয়ার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে ঘটতে পারে। কেউ কেউ অ্যাসাইলাম বা অন্য আইনি সুরক্ষার চেষ্টা করবেন, আবার কেউ কেউ বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। 

 

টিপিএস বহাল রাখার দাবিতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও সক্রিয় হয়েছে। ইউএস চেম্বার অব কমার্সের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসের প্রতি কর্মসূচিটি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। চেম্বার সতর্ক করেছে, টিপিএস বাতিল হলে শ্রমবাজারে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং একটি অপ্রয়োজনীয় মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। 

 

রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাও এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওহাইওর রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইন হাইতিয়ানদের জন্য টিপিএস শেষ করার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মন্তব্য করেছেন এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা জানিয়েছেন। দক্ষিণ ফ্লোরিডায়, যেখানে বড় হাইতিয়ান জনগোষ্ঠী বসবাস করে, মিয়ামি-ডেড কাউন্টির নেতারাও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। 

 

তবে রিপাবলিকানদের একটি অংশ টিপিএসের সমালোচনা করছে। মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর এরিক শ্মিট বলেন, এই কর্মসূচি জরুরি পরিস্থিতির জন্য তৈরি হলেও পরে এটি দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 

 

১৯৯০ সালে কংগ্রেস অনুমোদিত এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ, সংঘাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু কিছু দেশে দীর্ঘস্থায়ী সংকট চলতে থাকায় অনেক অভিবাসী বছরের পর বছর এই সুবিধার আওতায় থেকেছেন। 

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই টিপিএস কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছেন। তার প্রশাসন এটিকে বাতিল করার উদ্যোগ নেয় এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্বাহী শাখা এই পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পায়। 

 

বিভিন্ন কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে টিপিএস কর্মীদের দক্ষতা ও অবদানের প্রশংসা করে এসেছে। তবে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পর অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি মন্তব্য না করে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ জানাচ্ছে। 

 

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, টিপিএস বাতিলের মাধ্যমে অভিবাসন আইনের নিয়মিত কাঠামোয় ফিরে যাওয়া হচ্ছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, সরকার আইনের শাসন বজায় রাখছে। 

 

এখন টিপিএস সুবিধাভোগীদের সামনে বড় সিদ্ধান্ত—তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য অন্য কোনো আইনি পথ খুঁজবেন, নাকি নিজ দেশে ফিরে যাবেন। অনেকেরই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, চাকরি এবং পরিবার রয়েছে। 

 

এল সালভাদর থেকে আসা কনসেপসিয়ন মোরালেস টিপিএসের মাধ্যমে নেভাল একাডেমি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ২২ বছর কাজ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সরকারি ভবনেই কোনো না কোনো টিপিএস কর্মীর অবদান রয়েছে। 

 

কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষক প্যাট্রিসিয়া ক্যাম্পোস-মেদিনা বলেন, অনেক টিপিএস সুবিধাভোগী তাদের জীবনের সবচেয়ে কর্মক্ষম সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়েছেন। তাদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছে, তারা বাড়ি ও ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। 

 

অন্যদিকে, সমালোচকরা বলছেন, টিপিএস একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হলেও এটি দীর্ঘদিন ধরে চলায় অভিবাসন ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। 

 

হাইতির মতো দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ২০২১ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট হত্যার পর থেকে সেখানে ব্যাপক সহিংসতা চলছে। রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সের বড় অংশ সশস্ত্র গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। 

 

ফ্লোরিডায় কর্মরত এক হাইতিয়ান নার্স, যিনি দীর্ঘদিন টিপিএস সুবিধার আওতায় ছিলেন, বলেন দেশে ফিরে যাওয়ার চিন্তা তাকে গভীর উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের মা এই নারী আশঙ্কা করছেন, অভিবাসন কর্মকর্তাদের নজরে পড়তে পারেন তিনি। 

 

টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত এখন শুধু একটি অভিবাসন নীতির পরিবর্তন নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ খাত এবং লাখো অভিবাসী পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বড় রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
পশ্চিম ভার্জিনিয়ার লুইস কাউন্টির হর্নারে,৩০০ মাউন্টেন রিট্রিট ড্রাইভে অবস্থিত একটি বিশেষভাবে নির্মিত পাথরের বিলাসবহুল এস্টেট। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ একরের বিলাসবহুল এস্টেট বিক্রি মাত্র ৩৩ লাখ ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রকৃতিপ্রেমী ও নিরিবিলি জীবন পছন্দকারীদের জন্য বিক্রির তালিকায় উঠেছে একটি দৃষ্টিনন্দন বিলাসবহুল এস্টেট। প্রায় ১৫০ একর বিস্তৃত এই সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার। বিশাল আয়তনের জমি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে সম্পত্তিটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।   এস্টেটটির প্রধান আকর্ষণ হলো প্রায় ১০ হাজার ২৯৬ বর্গফুট আয়তনের একটি পাথরের তৈরি বিলাসবহুল বাড়ি। ২০২২ সালে নির্মিত এই বাড়িতে রয়েছে ৭টি শয়নকক্ষ, ৯টি গোসলখানা, প্রশস্ত বসার ঘর, উন্নতমানের কাঠের নকশা এবং আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর নানা সুবিধা।   বাড়ির বাইরে রয়েছে গরম পানির লবণাক্ত সুইমিং পুল, উষ্ণ পানির স্নানকূপ, খোলা আকাশের নিচে রান্নাঘর ও খাবারের ব্যবস্থা, তিনটি গাড়ি রাখার গ্যারেজ এবং বড় আকারের তাপ নিয়ন্ত্রিত কর্মশালা। দীর্ঘ ব্যক্তিগত পাকা সড়ক ও নিরাপত্তা ফটক সম্পত্তিটিকে আরও নিরাপদ ও একান্ত ব্যক্তিগত পরিবেশ দিয়েছে।   এস্টেটটি থেকে সারা বছরই হ্রদ, পাহাড় ও সবুজ প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। যারা শহরের কোলাহল থেকে দূরে শান্ত পরিবেশে বসবাস করতে চান অথবা অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে একটি সম্পত্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ সুযোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   সম্পত্তিটি বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে হোয়াইটটেইল প্রপার্টিজ রিয়েল এস্টেট এলএলসি। তালিকাভুক্তির দায়িত্ব পালন করছেন রিয়েল এস্টেট প্রতিনিধি ট্রে কার্নস।

সিদ্দিকুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৭:৫১
স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দান করলেন অ্যারিজোনার নারী ও স্বামী। ছবি : সংগৃহীত

'তোমার জীবনই আমার সব', স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দান করলেন অ্যারিজোনার নারী

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সামনে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলনকারীদের একটি বিক্ষোভ সমাবেশ।  ছবি:সংগৃহীত

অভিবাসীদের আইনি মর্যাদা বাতিল: কর্মী সংকটের আশঙ্কায় কর্মী ও মার্কিন নিয়োগকর্তারা

"ইন্দোনেশিয়ার সুপ্রিম কোর্টের সাবেক কর্মকর্তা জারোফ রিকার এবং তার জাকার্তার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় কর্তৃক জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সোনার স্যুটকেস।" ছবি:সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশ-সেনা মুখোমুখি, সাবেক কর্মকর্তার বাড়ি থেকে ৭৪ কেজি সোনা উদ্ধার

এক গর্ভবতী নারী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ির ভেতরে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ছবি:সংগৃহীত
হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানোর পর গাড়িতেই সন্তানের জন্ম দিলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে এক গর্ভবতী নারী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ির ভেতরে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলেও তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার পর ঘটে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যারিজোনার ওই নারী প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের পর তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল ছাড়ার কিছু সময় পরই তার প্রসব ব্যথা দ্রুত বেড়ে যায়।   বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় গাড়ির ভেতরেই শিশুটির জন্ম হয়।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি ছিল একই সঙ্গে ভয়াবহ ও আবেগপূর্ণ। তারা আশা করেননি যে এত দ্রুত প্রসব শুরু হয়ে যাবে এবং হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রসবের সময় নির্ধারণ করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে শেষ পর্যায়ের গর্ভাবস্থায় ব্যথার ধরন, জরায়ুমুখের পরিবর্তন এবং অন্যান্য লক্ষণ দেখে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন একজন রোগীকে হাসপাতালে রাখা প্রয়োজন কি না।   তবে প্রসবের কাছাকাছি সময়ে কোনো নারীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার আগে তার শারীরিক অবস্থা, প্রসবের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।   যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের সময় হাসপাতাল, চিকিৎসক এবং রোগীর মধ্যে যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে। বিশেষ করে প্রসবের সময় নির্ধারণ, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়গুলো নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নানা ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।   অ্যারিজোনার এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে প্রসবকালীন জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব। চিকিৎসকদের মতে, প্রসবের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৫:২৫
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। দাবানলের কারণে আড়াই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত

ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানলে আড়াই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া

নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাস, কোন রাজ্যে বাংলাদেশিরা রাজনীতিতে এগিয়ে?

নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাস, কোন রাজ্যে বাংলাদেশিরা রাজনীতিতে এগিয়ে?

২৪৬ বছর পর খুলল রহস্য!

২৪৬ বছর পর খুলল রহস্য! শনাক্ত হলো আমেরিকার বিপ্লবী যুদ্ধের অজানা সৈনিক

২০২৮ সালের হোয়াইট হাউস দৌড়ে জরিপে শীর্ষে এওসি
২০২৮ সালের হোয়াইট হাউস দৌড়ে জরিপে শীর্ষে এওসি, কে এই সাবেক বারটেন্ডার থেকে উঠে আসা কংগ্রেসওম্যান?

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনও দুই বছরের বেশি দূরে। ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রার্থী ঠিক না করলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় নতুন করে সামনে এসেছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, যিনি ‘এওসি’ নামেই বেশি পরিচিত।   ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের ২২ জুলাই প্রকাশিত সাম্প্রতিক জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে ২২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন এওসি। ২১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তার ঠিক পেছনে সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজেজ। তবে এটি নিউ হ্যাম্পশায়ারভিত্তিক একটি জরিপ, জাতীয় জরিপ নয়। এওসি এখনো ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দেননি।   কে এই এওসি? আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের জন্ম ১৯৮৯ সালের ১৩ অক্টোবর নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে। তার পারিবারিক শিকড় পুয়ের্তো রিকোয়। বাবা ছিলেন ছোট ব্যবসায়ী ও স্থপতি। মা পরিবার চালাতে গৃহপরিচারিকার কাজও করেছেন।   এওসি বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা করেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ডেমোক্রেটিক সিনেটর টেড কেনেডির কার্যালয়ে শিক্ষানবিশ হিসেবেও কাজ করেন।   কলেজে পড়ার সময় ক্যানসারে তার বাবার মৃত্যু পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বদলে দেয়। বাড়ি ঋণের কারণে হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়লে পরিবারকে সহায়তা করতে এওসি রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন ও বারটেন্ডারের কাজ করেন।   বারটেন্ডার থেকে কংগ্রেসে: ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠক হিসেবে কাজ করেন এওসি। এরপর ২০১৭ সালে নিউইয়র্কের ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচনে লড়ার প্রচার শুরু করেন। সে সময়ও তিনি ম্যানহাটনের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করছিলেন। অর্থাৎ নির্বাচনী প্রচার এবং রেস্তোরাঁর চাকরি কিছু সময় পাশাপাশি চালিয়েছেন।   ২০১৮ সালের জুনে ডেমোক্রেটিক প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি প্রায় দুই দশক ধরে কংগ্রেসে থাকা এবং দলের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা জো ক্রাউলিকে পরাজিত করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। একই বছরের সাধারণ নির্বাচনেও জয় পান। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ২৯ বছর বয়সে কংগ্রেসে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কংগ্রেসে দায়িত্ব নেওয়া সর্বকনিষ্ঠ নারী।   কেন এত আলোচিত? এওসি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অন্যতম পরিচিত মুখ। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, শ্রমিকের মজুরি ও অধিকার, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পক্ষে তিনি সোচ্চার।   অভিবাসন প্রশ্নেও তার অবস্থান তুলনামূলক উদার। নথিবিহীন অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি পথ তৈরি, শিশু বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা নথিবিহীন অভিবাসীদের সুরক্ষা এবং অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে তিনি কথা বলেছেন। গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সোচ্চার এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করেছেন।   বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? এওসির নির্বাচনী এলাকা নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস ও কুইন্সের অংশ নিয়ে গঠিত, যেখানে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, বাড়িভাড়া, শ্রমিকের মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো যেসব বিষয় তিনি সামনে আনেন, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।   এওসি শেষ পর্যন্ত ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একটি অঙ্গরাজ্যের জরিপ দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ প্রার্থীও নির্ধারণ করা যায় না। তবে রেস্তোরাঁয় কাজ করতে করতে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা সেই তরুণী আট বছরের মধ্যে সম্ভাব্য হোয়াইট হাউস প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে আসায় তার রাজনৈতিক উত্থান নতুন করে নজর কাড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১:১৬
ফ্লোরিডায় ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ায়’ প্রথম মৃত্যু

সমুদ্রের পানিতে লুকিয়ে থাকা ঘন্টায় ভয়ংকর রুপ নেয়া জীবাণু! ফ্লোরিডায় ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ায়’ প্রথম মৃত্যু

হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক! উৎসবস্থলে ছুটোছুটি

হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক! উৎসবস্থলে ছুটোছুটি, সিয়াটেলে বন্দুক হামলায় হতাহত একাধিক

বেঁচে থেকেও ‘মৃত’! সরকারি রেকর্ডের এক ভুল কীভাবে বদলে দিল জীবন

বেঁচে থেকেও ‘মৃত’! সরকারি রেকর্ডের এক ভুল কীভাবে বদলে দিল জীবন, বিপাকে নিউ জার্সির বাসিন্দা

0 Comments