ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য শেয়ারিং নীতিতে বিপাকে অভিবাসী পরিবার, গ্রেপ্তার ১২ হাজারের বেশি শিশু ও অভিভাবক
যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ফেডারেল সংস্থা অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট (ওআরআর) থেকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) কাছে তথ্য সরবরাহের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ১২ হাজারের বেশি শিশু, তাদের অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ওআরআর অভিভাবকহীন শিশু, তাদের অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি তথ্য ও তদন্তসূত্র আইসের কাছে পাঠিয়েছে। অতীতে শিশু কল্যাণ কার্যক্রমকে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম থেকে আলাদা রাখা হলেও বর্তমান নীতিতে সেই অবস্থান বদলে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে ২৪ বছর বয়সী এক অভিবাসী মা, ছদ্মনাম অরোরার ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় নিজের ছয় বছরের মেয়েকে ফিরে পেতে তিনি ছয় মাস চেষ্টা করেন। মা ও মেয়ের পুনর্মিলনের কয়েক দিনের মধ্যেই দুজনকে আইস আটক করে টেক্সাসের একটি পারিবারিক আটক কেন্দ্রে পাঠায়। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হলেও অরোরাকে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে নিয়মিত কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওআরআর ১৯৮০ সালে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো সীমান্তে একা আসা শিশুদের আশ্রয় ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সংস্থাটিকে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের আইনের উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের দ্রুত নিরাপদ অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিভাবকদের অভিবাসনগত অবস্থান নির্বিশেষে পারিবারিক পুনর্মিলন নিশ্চিত করা।
বাইডেন প্রশাসনের সময় ওআরআরের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেন স্মায়ার্স রয়টার্সকে বলেন, শিশু সুরক্ষার জন্য আগে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল তা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে এবং শিশু কল্যাণ কর্মসূচিকে আরও বেশি মানুষকে দেশ থেকে বহিষ্কারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে ওআরআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশুদের গ্রেপ্তারে তাদের কোনো ভূমিকা নেই এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন। অন্যদিকে ডিএইচএস বলেছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপর্যাপ্তভাবে যাচাই করা বা অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যেই ওআরআর থেকে আইসের তদন্ত শাখায় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছেন জ্যাক ভলকানি নামের এক যুবক। দোকান থেকে আংটি না কিনে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন নদীতে সোনা খুঁজেছেন তিনি। সেই সোনা দিয়েই তৈরি করেছেন প্রেমিকার জন্য বিশেষ একটি আংটি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তৈরি আংটি দিয়ে প্রেমিকা জোয়ানকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২৬ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাঁদের এই ব্যতিক্রমী প্রেমের গল্প। কলোরাডোর হুইট রিজ শহরের বাসিন্দা জ্যাক ভলকানি দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জোয়ানকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিতে দোকান থেকে আংটি কেনার পরিবর্তে তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন, যার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে থাকবে। অনেক চিন্তাভাবনার পর তাঁর মাথায় আসে নিজের সংগ্রহ করা সোনা দিয়ে আংটি তৈরির ধারণা। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না, তা শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। তবু সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল নাইন নিউজকে জ্যাক জানান, আংটি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সোনা সংগ্রহ করতে তিনি কলোরাডোর একাধিক নদীতে যান। সেখানে পানির সঙ্গে মিশে থাকা বালু ও পাথর থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে ছোট ছোট সোনার কণা আলাদা করতে থাকেন। এভাবে দিনের পর দিন চলে তাঁর অনুসন্ধান। শুরুতে কাজটি কত দীর্ঘ সময় নিতে পারে, তা ভেবে তিনি কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই কঠিন চ্যালেঞ্জই তাঁকে আরও বেশি উৎসাহিত করে। জ্যাক বলেন, প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, এভাবে সোনা সংগ্রহ করতে হয়তো অনেক বছর লেগে যাবে। তবে প্রেমিকার জন্য নিজের হাতে বিশেষ কিছু তৈরির ইচ্ছা তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন নদীতে সোনা খোঁজার পর অবশেষে আংটি তৈরির মতো পর্যাপ্ত সোনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন তিনি। এরপর সংগৃহীত সোনার কণাগুলো নিয়ে যান হুইট রিজের স্থানীয় স্বর্ণকার জ্যাক অ্যালেনের কাছে। তাঁকে অনুরোধ করেন, সেগুলো গলিয়ে একটি আংটি তৈরি করে দিতে। স্বর্ণকার জ্যাক অ্যালেন জানান, এ ধরনের অনুরোধ তাঁর কাছে একেবারেই নতুন ছিল। সাধারণত প্রস্তুত করা সোনা কিংবা অন্যান্য মূল্যবান ধাতু দিয়ে গয়না তৈরির কাজ করলেও নদী থেকে সংগ্রহ করা সোনার কণা দিয়ে আংটি তৈরির অভিজ্ঞতা আগে তাঁর ছিল না। তবে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের কথা শুনে তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পরে সংগৃহীত সোনা গলিয়ে বিশেষ ছাঁচের সাহায্যে একটি আংটি তৈরি করেন। দীর্ঘ পরিশ্রমে সংগ্রহ করা সোনা যখন সুন্দর একটি আংটিতে রূপ নেয়, তখন জ্যাকের আনন্দের সীমা ছিল না। আংটি তৈরির পুরো বিষয়টি প্রেমিকা জোয়ানের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন জ্যাক। পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিন তাঁকে নিয়ে পাহাড়ি পথে হাঁটতে বের হন। সেখানে হঠাৎ নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও দেখাতে শুরু করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, জ্যাক নদীতে নেমে সোনা সংগ্রহ করছেন। প্রথমে জোয়ান বুঝতে পারছিলেন না, এমন একটি ভিডিও তাঁকে কেন দেখানো হচ্ছে। কিন্তু ভিডিওটি কিছুটা এগোনোর পর তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর জন্য একটি বিশেষ আংটি তৈরির পুরো প্রক্রিয়াই সেখানে ধারণ করা হয়েছে। জোয়ান জানান, ভিডিও দেখার শুরুতে বিষয়টি তাঁর কাছে সাধারণ একটি ঘটনা মনে হয়েছিল। কিন্তু মাঝামাঝি সময়ে তিনি যখন বুঝতে পারেন, জ্যাক আসলে তাঁর জন্য নিজের হাতে সোনা সংগ্রহ করেছেন, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। আনন্দে তাঁর চোখে পানি চলে আসে। এরপর সেই আংটি দিয়ে জ্যাক তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পুরো মুহূর্তটি তাঁর জীবনের অন্যতম বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানান জোয়ান। প্রেমিকের এমন আন্তরিক প্রচেষ্টা তাঁকে আরও নিশ্চিত করেছে যে তিনি সঠিক মানুষটিকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই গল্পের আরও একটি বিশেষ দিক রয়েছে। জ্যাক নদী থেকে এতটাই সোনা সংগ্রহ করেছিলেন যে প্রেমিকার আংটি তৈরির পরও কিছু সোনা অবশিষ্ট ছিল। সেই সোনা দিয়ে স্বর্ণকার জ্যাক অ্যালেন তাঁর জন্যও একটি বিয়ের আংটি তৈরি করেছেন। ফলে ভবিষ্যতে এই দম্পতির দুজনের আংটিই তৈরি হবে একইভাবে সংগ্রহ করা সোনা দিয়ে। জ্যাকের কাছে বিষয়টি শুধু অলংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, দুজন আলাদা জায়গায় থাকলেও আংটি তাঁদের সম্পর্কের বন্ধনের কথা মনে করিয়ে দেবে। জ্যাক জানান, এত মাসের পরিশ্রমের পেছনে তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল প্রেমিকার বিশেষ দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলা। অন্য কাউকে চমকে দেওয়া কিংবা নিজের উদ্যোগের প্রচার করা তাঁর লক্ষ্য ছিল না। জোয়ানের মুখে আনন্দের হাসি দেখাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অন্যদিকে জোয়ানও জানিয়েছেন, আংটির আর্থিক মূল্যের চেয়ে সেটি তৈরির পেছনে জ্যাকের সময়, পরিশ্রম ও ভালোবাসা তাঁর কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।
নিউইয়র্কে ৩৫.৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প, বন্যার ঝুঁকি কমাতে বড় উদ্যোগ নগর কর্তৃপক্ষের
৫০ হাজারের বেশি করদাতাকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার ফেরত দিচ্ছে আইআরএস, জেনে নিন বিস্তারিত
পেনসিলভানিয়ায় বন্ধুর ৬ সপ্তাহের শিশুকে বেবিসিট করতে গিয়ে হত্যা করেন পিএইচডি গবেষক
নিউইয়র্কে বসবাসের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভাড়াটিয়া ও বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখা পরিবারগুলো। শহরটিতে বাসাভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, একটি মধ্যম দামের বাড়ি কিনতে মাসে যে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরটিতে মধ্যম দামের একটি বাড়ি কেনার আনুমানিক মাসিক ব্যয় ১০ হাজার ৭৩৭ ডলার। ভাড়া থাকার মধ্যম ব্যয়ের তুলনায় এটি মাসে ৬ হাজার ৯৫২ ডলার বেশি। বাড়ি কেনার এই হিসাবের মধ্যে বন্ধকী ঋণের কিস্তি, সম্পত্তির কর, বিমা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হিসাবটি করা হয়েছে বাড়ির দামের ১০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ এবং ৩০ বছরের ঋণের অনুমান ধরে। প্রকৃত ব্যয় বাড়ির ধরন, ঋণের সুদের হার ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ার পরিমাণেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ম্যানহাটনে মাসিক মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার, ব্রুকলিনে ৪ হাজার ১৯৭ ডলার, কুইন্সে ৩ হাজার ৭৪৪ ডলার এবং ব্রঙ্কসে ৩ হাজার ২৩৩ ডলার। ম্যানহাটনে আগের বছরের তুলনায় ভাড়া বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যান দেখায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসের ব্যয় নির্ধারণে অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভাড়ার এই চাপের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশি প্রবাসী পরিবারগুলোর ওপরও। অনেক পরিবারকে বাসাভাড়ার পাশাপাশি খাবার, যাতায়াত, শিশুদের দেখাশোনা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলাতে হয়। মাসিক আয়ের বড় অংশ বাসাভাড়ায় চলে গেলে সঞ্চয় করা, দেশে স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠানো কিংবা ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য অর্থ জমা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও একক আয়ের পরিবারগুলোকে বাসা নির্বাচনের সময় আয়, কর্মস্থলের দূরত্ব এবং যাতায়াত ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। তুলনামূলক কম ভাড়ার এলাকায় বাসা পাওয়া গেলেও কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ ও সময় বেড়ে যেতে পারে। আবার কর্মস্থল বা সন্তানের বিদ্যালয়ের কাছাকাছি থাকতে চাইলে বেশি ভাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনে নিউইয়র্কে বাড়ির বিজ্ঞাপিত মধ্যম দাম প্রায় ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭৯২ ডলার বলা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কম। তবে বাড়ির দাম কিছুটা কমলেও ঋণের সুদ, কর ও বিমার ব্যয়ের কারণে বাড়ির মালিক হওয়া সহজ হয়ে যায়নি। ঋণের সুদের হার ৭ শতাংশের ওপরে গেলে একই বাড়ির আনুমানিক মাসিক ব্যয় প্রায় ১১ হাজার ৮ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবাসন ব্যয় সামলাতে সম্ভাব্য ভাড়াটিয়াদের জন্য চুক্তির আগে মাসিক ভাড়া, জামানত, বিদ্যুৎ-গ্যাসের খরচ এবং যাতায়াত ব্যয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে অগ্রিম অর্থের পাশাপাশি ঋণের কিস্তি, সম্পত্তির কর, বিমা এবং জরুরি মেরামতের খরচও হিসাব করা প্রয়োজন।
নিউ জার্সিতে স্মরণসভায় গুলিবর্ষণ, নিহত ১, আহত ৩, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা
জর্জিয়ায় প্রবাসীদের মিলনমেলা, বার্ষিক বনভোজনে থাকছে খাবার ও শিশুদের নানা আয়োজন, প্রবেশমূল্য নেই
নিউইয়র্কে ট্রাফিক ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতার হাতাহাতির অভিযোগ, একজন আটক
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ। তবে শিক্ষার্থীর একাডেমিক যোগ্যতা, পরিবারের আর্থিক অবস্থা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হার্ভার্ড, এমআইটি ও ইয়েলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফুলব্রাইট, নাইট-হেনেসি এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি স্নাতকোত্তর ও পেশাগত পর্যায়ে পড়াশোনার খরচ বহনে সহায়তা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব স্কলারশিপের নিয়ম এক নয়। কিছু সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বাসিন্দাদের জন্য, কিছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য, আবার কিছু কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব, পড়াশোনার বিষয় বা কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো স্কলারশিপ সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারে, আবার কোনোটি কেবল আংশিক অর্থায়ন দেয়। তাই আবেদন করার আগে যোগ্যতা, সহায়তার পরিমাণ এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করা জরুরি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা : যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এখানে সাধারণ বৃত্তির মতো শুধু পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়া হয় না; পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য ও শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা বিবেচনা করে সহায়তা নির্ধারণ করা হয়। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তার মধ্যে টিউশনসহ অন্যান্য শিক্ষাব্যয়ের বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, আর সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতির ওপর। আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের শরৎকালীন ভর্তি প্রক্রিয়ায় আগাম আবেদনের সময়সীমা সাধারণত ১ নভেম্বর এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা ১ জানুয়ারি। আর্থিক সহায়তার কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ভর্তির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট বছরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এমআইটি (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) আর্থিক সহায়তা : বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে এমআইটি অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্নাতক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে সহায়তা দেয়। ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্যকে বাধা হিসেবে বিবেচনা না করার নীতি অনুসরণ করে এমআইটি। যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী টিউশন, আবাসন, খাবার ও অন্যান্য শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের সহায়তা পেতে হলে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে এবং নির্ধারিত আর্থিক নথি জমা দিতে হবে। আবেদনের সময়: আগাম ও নিয়মিত ভর্তি প্রক্রিয়ার সময়সীমা আলাদা। সাধারণত আগাম আবেদনের সময় নভেম্বরের শুরু এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা জানুয়ারির শুরুতে থাকে। আর্থিক সহায়তার আবেদনও সংশ্লিষ্ট ভর্তি সময়সূচি অনুসারে সম্পন্ন করতে হয়। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা : ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রাখে। স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি ও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যকে বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্য রাখা হয়। সহায়তা সাধারণত ঋণের পরিবর্তে বৃত্তির মাধ্যমে দেওয়া হয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। আবেদনের সময়: সাধারণত আগাম আবেদনের সময়সীমা ১ নভেম্বর এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা ২ জানুয়ারির কাছাকাছি থাকে। প্রতিবছর তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি যাচাই করতে হবে। ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম : যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ কর্মসূচির আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য অনুদান পেতে পারেন। সাধারণত ভালো একাডেমিক ফল, ইংরেজিতে দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং নিজ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। অনুদানের মধ্যে অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসুবিধা ও অন্যান্য সহায়তা থাকতে পারে। তবে প্রতিটি দেশের জন্য যোগ্যতা, নির্বাচনপদ্ধতি এবং অর্থায়নের পরিমাণ এক নয়; সব নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করা হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। আবেদনের সময়: সময়সীমা আবেদনকারীর নাগরিকত্বের দেশের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের নিজ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট ফুলব্রাইট কর্তৃপক্ষের ঘোষিত সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে এই কর্মসূচিতে যোগ্য হয়ে যাবেন না; নাগরিকত্ব, বসবাস ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নাইট-হেনেসি স্কলারস, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় : স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট-হেনেসি স্কলারস কর্মসূচি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী মেধাবী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের স্ট্যানফোর্ডের অনুমোদিত পূর্ণকালীন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হয়। কর্মসূচিটি সাধারণত টিউশন, জীবনযাপনের ব্যয় এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কিছু অন্যান্য খরচের জন্য অর্থায়ন দেয়। তবে স্কলারশিপে নির্বাচিত হওয়া এবং স্ট্যানফোর্ডের নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া দুটি পৃথক প্রক্রিয়া। তাই উভয় আবেদনের শর্ত পূরণ করা জরুরি। আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর জন্য আবেদন ৬ অক্টোবর ২০২৬-এ বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী ২০২৮ সালের গোষ্ঠীর আবেদন ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে শুরু হওয়ার কথা। আগ্রহীদের স্কলারশিপের পাশাপাশি পছন্দের ডিগ্রি প্রোগ্রামের সময়সীমাও যাচাই করতে হবে। এএইউডব্লিউ আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ : যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহায়তার জন্য আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি উইমেনের আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ কর্মসূচি রয়েছে। যোগ্য আন্তর্জাতিক নারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স, ডক্টরাল বা নির্দিষ্ট পোস্টডক্টরাল পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য অর্থায়নের আবেদন করতে পারেন। একাডেমিক যোগ্যতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশ বা সমাজে অবদানের সম্ভাবনা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি সব নারী শিক্ষার্থী বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত সাধারণ বৃত্তি নয়; নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত শর্ত রয়েছে। আবেদনের সময়: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী চক্রের নতুন সময়সূচি প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনকারীদের আগে থেকেই একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সুপারিশপত্র ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি প্রস্তুত রাখা উচিত। হুবার্ট এইচ. হামফ্রে ফেলোশিপ : হুবার্ট এইচ. হামফ্রে ফেলোশিপ অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের পেশাগত ও একাডেমিক উন্নয়নের সুযোগ। এটি সাধারণ ডিগ্রি প্রদানকারী স্কলারশিপ নয়; বরং নেতৃত্ব, জনসেবা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়। যোগ্য হতে হলে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি, অন্তত পাঁচ বছরের পূর্ণকালীন পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের প্রমাণ, জনসেবায় অবদান এবং ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হয়। নির্বাচিত ফেলোদের জন্য টিউশন ও ফি, জীবনযাপনের ভাতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা দেওয়া হতে পারে। আবেদনের সময়: সময়সীমা দেশভেদে আলাদা। আবেদনকারীদের নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা দ্বিপক্ষীয় ফুলব্রাইট কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। সাধারণত পরবর্তী বছরের কর্মসূচির জন্য আগের বছরই আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই আগ্রহী পেশাজীবীদের আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। রোটারি পিস ফেলোশিপ : শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত নিরসন, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী পেশাজীবীদের জন্য রোটারি পিস ফেলোশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। কর্মসূচিটির আওতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা রোটারি পিস সেন্টারে মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা পেশাগত সার্টিফিকেট কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। অর্থায়নের মধ্যে টিউশন, আবাসন, যাতায়াত এবং প্রোগ্রাম-সংশ্লিষ্ট কিছু খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এটি সাধারণ স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তি নয়; সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং সামাজিক প্রভাব তৈরির সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনের সময়: ২০২৭-২৮ চক্রের আবেদন বন্ধ হয়েছে। ২০২৮-২৯ চক্রের আবেদন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা। আগ্রহীদের আবেদনপত্র, সুপারিশপত্র, প্রবন্ধ এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক নথি আগেভাগে প্রস্তুত রাখতে হবে। জয়েন্ট জাপান-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম : বিশ্বব্যাংক ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচি উন্নয়নশীল দেশের যোগ্য পেশাজীবীদের নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনার জন্য অর্থায়ন দেয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ননীতি, অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পড়ার সুযোগ থাকতে পারে। সাধারণত যোগ্য দেশের নাগরিকত্ব, স্নাতক ডিগ্রি, উন্নয়নসংশ্লিষ্ট কাজে অন্তত তিন বছরের বেতনভুক্ত অভিজ্ঞতা এবং অংশগ্রহণকারী মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার শর্ত রয়েছে। সহায়তার মধ্যে টিউশন, মাসিক জীবনযাপনের ভাতা, যাতায়াত ও স্বাস্থ্যবিমা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যাশাও এই কর্মসূচির অংশ। আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের প্রথম আবেদনপর্ব ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ২৯ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে দেখতে হবে, পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম ওই বছরের অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য এটি সাধারণ দেশীয় শিক্ষার্থী বৃত্তি নয়; যোগ্য উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। এমপাওয়ার গ্লোবাল সিটিজেন স্কলারশিপ : যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এমপাওয়ার ফাইন্যান্সিংয়ের গ্লোবাল সিটিজেন স্কলারশিপ একটি বিকল্প। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি বা অধ্যয়নরত যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য। নির্বাচনে প্রার্থীর প্রবন্ধ, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে পেশাগত পরিকল্পনার সম্পর্ক এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। ২০২৬ সালের ঘোষিত কর্মসূচিতে প্রথম পুরস্কার ৮ হাজার ডলার, দ্বিতীয় পুরস্কার ২ হাজার ডলার এবং তৃতীয় পুরস্কার ১ হাজার ডলার। এটি সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় মেটানোর নিশ্চয়তা নয়; বরং নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা। আবেদনের সময়: বর্তমান চক্রের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রবন্ধ জমা দিতে হবে। এই স্কলারশিপটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নয়; আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ডিএসিএ সুবিধাভোগীরা আবেদন করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ : এই দশটি সুযোগের মধ্যে সবগুলো একই ধরনের নয়। হার্ভার্ড, এমআইটি ও ইয়েলের আর্থিক সহায়তা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে ফুলব্রাইট, নাইট-হেনেসি, এএইউডব্লিউ, হামফ্রে, রোটারি ও বিশ্বব্যাংকের কর্মসূচিগুলোর নিজস্ব যোগ্যতা, শিক্ষার স্তর এবং পেশাগত শর্ত রয়েছে। এমপাওয়ারের বৃত্তি আবার নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থায়ন দেয়। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে আবেদন না করে নিজের নাগরিকত্ব, অভিবাসন অবস্থা, শিক্ষার স্তর, পছন্দের বিষয় এবং আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে সুযোগ বেছে নেওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন অ-নাগরিক শিক্ষার্থীরা ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে শুধু এফ-১ বা এম-১ স্টুডেন্ট ভিসা থাকলেই সাধারণত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড পাওয়া যায় না। গ্রিন কার্ডধারীসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন অবস্থার শিক্ষার্থীরা যোগ্য হতে পারেন। অন্যদিকে ডিএসিএ সুবিধাভোগী ও অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সহায়তার জন্য যোগ্য না হলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আর্থিক সহায়তা, রাজ্যভিত্তিক কর্মসূচি বা বেসরকারি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ কারণে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অবস্থার ভিত্তিতে নিয়ম যাচাই করা জরুরি। স্কলারশিপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, পরীক্ষার ফল, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, পারিবারিক আয়ের নথি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার ফল প্রস্তুত রাখা ভালো। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও আর্থিক সহায়তার আবেদন আলাদাভাবে জমা দিতে হয়। কিছু কর্মসূচিতে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়, আবার কিছু কর্মসূচিতে নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সময়সীমা প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পুরোনো তারিখের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। সবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার খরচ কমানোর জন্য শুধু বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই সুযোগ খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আর্থিক সহায়তা, বেসরকারি স্কলারশিপ, পেশাগত ফেলোশিপ এবং নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক অনুদান একসঙ্গে বিবেচনা করলে বিকল্পের পরিসর বাড়তে পারে। সঠিক সময়ে প্রস্তুতি নেওয়া এবং যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করাই আবেদন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইরান-সমর্থিত হুথিদের হা মলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৩ দেশে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি
বড় হয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করো, কেন মিনাবের শিশুদের মৃ ত্যুতে শোক জানাননি, ভ্যান্সের ছেলেকে ইরান