আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে দামী বাড়ির বিক্রি বাড়ছে, কম দামের বাড়ি পড়ে আছে ক্রেতার অপেক্ষায়

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২:৯
কম দামের বাড়ি পড়ে আছে ক্রেতার অপেক্ষায়
কম দামের বাড়ি পড়ে আছে ক্রেতার অপেক্ষায়

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে দুই ভিন্ন চিত্র। একদিকে বিলাসবহুল বাড়ির বিক্রি ও চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য তুলনামূলক কম দামের বাড়িগুলো বাজারে জমে থাকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং ক্রয়ক্ষমতার চাপ সাধারণ ক্রেতাদের বাজার থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, আর আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ক্রেতারা বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনা অব্যাহত রেখেছেন। 

 

রিয়েল এস্টেট বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জিলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে বিলাসবহুল বাড়ির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে, স্টার্টার হোম বা প্রথমবারের ক্রেতাদের উপযোগী বাড়ির বিক্রি কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অথচ এই শ্রেণির বাড়ির সরবরাহ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে এবং বিক্রির জন্য মূল্য কমানোর ঘটনাও আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। 

 

বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা এবং উচ্চ আয়ের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বিলাসবহুল বাড়ির বাজারকে শক্তিশালী রেখেছে। অন্যদিকে, উচ্চ মর্টগেজ সুদ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক মধ্যবিত্ত ও নতুন ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। 

 

জিলোর প্রধান অর্থনীতিবিদ কারা এনগ বলেন, আবাসন কেনার সামর্থ্যের সংকট এখন শুধু উপকূলীয় বড় শহরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে তুলনামূলক কম দামের বাড়ির বাজারে ক্রেতার সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। 

 

তথ্য বলছে, ক্লিভল্যান্ড, মেমফিস ও সিনসিনাটির মতো শহরে বিলাসবহুল বাড়ির বিক্রি ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো ও সান হোসের মতো কিছু শহরে স্টার্টার হোমের বিক্রি কিছুটা উন্নতি করেছে, যেখানে নতুন সরবরাহ বাজারকে কিছুটা ভারসাম্য দিয়েছে। 

 

এদিকে রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মর্টগেজ সুদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সামগ্রিক চাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে। নতুন বাড়ির বিক্রি কিছুটা বাড়লেও অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা এখনো বাজারের বাইরে অবস্থান করছেন, কারণ বাড়ির দাম ও ঋণের কিস্তি তাদের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। 

 

রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে আয়ভিত্তিক বৈষম্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে বিলাসবহুল ও সাধারণ আবাসনের এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভিটামিন ইনজেকশন না নেওয়ায় রক্তক্ষরণে মারা যাচ্ছে নবজাতক
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের পর এই ভিটামিন ইনজেকশন না নেওয়ায় রক্তক্ষরণে মারা যাচ্ছে নবজাতক! বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের পর নবজাতকদের দেওয়া জীবনরক্ষাকারী ভিটামিন কে ইনজেকশন নিতে অস্বীকৃতি জানানো অভিভাবকের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, এই প্রবণতার কারণে এমন এক ধরনের মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঘটনা আবারও বাড়ছে, যা একসময় প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে নবজাতকের মৃত্যু বা স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হচ্ছে।   অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রসূতি কেন্দ্রে ভিটামিন কে ইনজেকশন প্রত্যাখ্যানের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য, টিকা-বিরোধী প্রচারণা এবং চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস এই প্রবণতার প্রধান কারণ।   ভিটামিন কে ইনজেকশন কোনো টিকা নয়। এটি জন্মের পরপরই নবজাতককে দেওয়া একটি নিয়মিত চিকিৎসাসেবা, যা শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্ক, অন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ করে। নবজাতকের শরীরে জন্মের সময় স্বাভাবিকভাবেই ভিটামিন কে-এর পরিমাণ খুব কম থাকে, তাই চিকিৎসকেরা কয়েক দশক ধরে এই ইনজেকশন দেওয়ার সুপারিশ করে আসছেন।    প্রোপাবলিকার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের মধ্যে ৫ শতাংশেরও বেশি এই ইনজেকশন পায়নি। সাম্প্রতিক একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৭ সালের তুলনায় ভিটামিন কে ইনজেকশন প্রত্যাখ্যানের হার প্রায় ৭৭ শতাংশ বেড়েছে।    চিকিৎসকদের ভাষ্য, ইনজেকশন না নেওয়া নবজাতকদের মধ্যে ভিটামিন কে ডেফিসিয়েন্সি ব্লিডিং, VKDB নামে পরিচিত মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি অনেক বেশি। এই অবস্থায় মস্তিষ্ক বা শরীরের ভেতরে হঠাৎ রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে, যা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয় বা বেঁচে গেলেও শিশুর স্থায়ী স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র  জানিয়েছে, ভিটামিন কে ইনজেকশন না পাওয়া শিশুরা গুরুতর রক্তক্ষরণের ঝুঁকিতে প্রায় ৮১ গুণ বেশি থাকে।    প্রোপাবলিকার অনুসন্ধানে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের এমন একাধিক পরিবারের তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে অভিভাবকেরা ভ্রান্ত তথ্যের কারণে ইনজেকশন নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে তাদের সন্তান গুরুতর রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়েছে। অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আবার কেউ কেউ স্থায়ী শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছে।    শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভিটামিন কে ইনজেকশন নিয়মিত ব্যবহারের ফলে এই ধরনের রক্তক্ষরণ প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনজেকশন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও বেড়েছে।    এদিকে প্রোপাবলিকার এই অনুসন্ধান প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে নীতিগত আলোচনাও শুরু হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের দুই সদস্য সম্প্রতি সিডিসিকে ভিটামিন কে ইনজেকশন প্রত্যাখ্যানের জাতীয় তথ্য সংগ্রহ এবং এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ৩:৮
কম দামের বাড়ি পড়ে আছে ক্রেতার অপেক্ষায়

যুক্তরাষ্ট্রে দামী বাড়ির বিক্রি বাড়ছে, কম দামের বাড়ি পড়ে আছে ক্রেতার অপেক্ষায়

শিশুর বাবা। ছবি: সংগৃহীত

মৃত’ ঘোষণার পর জীবিত উদ্ধার শিশু! অবহেলার অভিযোগে মামলা থেকে মুক্তি পেলেন বাবা-মা

ভুয়া ফোনকল

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নম্বর ব্যবহার করে ব্যাংক প্রতারণা! টিবিআইর সতর্কবার্তা

লিজিওনেয়ার্স রোগ
নিউইয়র্কে লিজিওনেয়ার্স রোগে এই নিয়ে প্রাণহানীর সংখ্যা বেড়ে ৭!

নিউইয়র্ক সিটির আপার ইস্ট সাইডে ছড়িয়ে পড়া লিজিওনেয়ার্স রোগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলমান এই প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতে দাঁড়িয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত না হওয়ায় সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে তারা মনে করছেন।   নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরু থেকে আপার ইস্ট সাইড এলাকায় অন্তত ৯০ জন এই ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ মৃত্যুর বিষয়ে নিহত ব্যক্তির পরিচয় বা বয়স প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।   লিজিওনেয়ার্স রোগ হলো এক ধরনের গুরুতর নিউমোনিয়া, যা লিজিওনেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। এই ব্যাকটেরিয়া সাধারণত বড় ভবনের কুলিং টাওয়ার, গরম পানির ব্যবস্থা, ফোয়ারা বা স্থির উষ্ণ পানিতে জন্মাতে পারে। দূষিত পানির ক্ষুদ্র কণা বাতাসের মাধ্যমে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তবে এই রোগ একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না।   স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আপার ইস্ট সাইডের বহু ভবনের কুলিং টাওয়ারে লিজিওনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আক্রান্ত কুলিং টাওয়ারগুলোর সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত নতুন উপসর্গ নিয়ে কেউ সামনে আসেননি। এ কারণে সংক্রমণের মূল উৎস দূর হয়েছে বলে তারা আশাবাদী।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে লিজিওনেয়ার্স রোগের ঝুঁকি বেশি। দ্রুত শনাক্ত করে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।   এদিকে, চলমান প্রাদুর্ভাবের পর নিউইয়র্ক সিটিতে কুলিং টাওয়ার পরিদর্শন, নিয়মিত জীবাণুমুক্তকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ০:৫২
ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

বাংলাদেশে ভ্রমণের ঝুঁকি আগের তুলনায় কম বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইয়েলোস্টোন নদীতে ডুবন্ত ব্যক্তিকে ল্যারিয়েটের সাহায্যে উদ্ধার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ১৪ বছরের জোরি থমাস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দড়ির ফাঁস ছুড়ে নদীতে ডুবতে থাকা মানুষকে বাঁচাল ১৪ বছরের কিশোর

দেখতে রহস্যময় হলেও সমুদ্রের পানি পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সি পর্ক। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডার সৈকতে ভেসে এল তিমির মস্তিষ্কের মতো বস্তু: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় মিলল আসল পরিচয়

নতুন জরিপে ট্রাম্পের নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ উত্তরদাতা। ছবি: সংগৃহীত
নিজের দলেই ধস: জনপ্রিয়তায় ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন নতুন করে নিম্নমুখী হয়েছে বলে উঠে এসেছে সিএনএন ও এসএসআরএস পরিচালিত এক জনমত জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার নেমে এসেছে ৩৪ শতাংশে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের সমান। একই সঙ্গে দেখা গেছে, তার প্রতি অসন্তোষ শুধু বিরোধী সমর্থকদের মধ্যেই নয়, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে।   ২৩ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ২২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপ বুধবার প্রকাশ করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, আর ৬৬ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিএনএনের মতে, এই হার ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর তার যে সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তা ছিল, তার সমান।   জরিপে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের প্রতি তীব্র সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা, যা এ পর্যন্ত রেকর্ড সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তার কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে মাত্র ১৯ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময় নিয়ে তারা খুবই আশাবাদী। গত বসন্তে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ।   জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্প দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না। ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার সঠিক নয়। বিপরীতে মাত্র ২৭ শতাংশ মনে করেন, তিনি দেশের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।   অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি নেতিবাচক মূল্যায়ন উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। মাত্র ২২ শতাংশ বলেছেন, তার নীতির ফলে অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে। বাকি ১৩ শতাংশের মতে, এর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।   ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কেও জনমত নেতিবাচক। জরিপে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরান-সংক্রান্ত ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। ২১ শতাংশ মনে করেন, এতে দেশের উপকার হয়েছে এবং ১২ শতাংশ বলেছেন, এতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।   এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও রিপাবলিকানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাত্র ৪৩ শতাংশ রিপাবলিকান এসব প্রকল্পকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, আর ৩৫ শতাংশ বলেছেন, বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের জনমত জরিপ রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। যদিও একটি জরিপই জনমতের চূড়ান্ত চিত্র নয়, তবু সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে, যা তার প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ২২:২১
একই আইন প্রতিষ্ঠানের দুই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কেরভাইরাল দুই আইনজীবীর বসেরও গোপন প্রেম, মিলল ১০ কোটি ডলারের বিশাল চুক্তি

ঝোপের ছদ্মবেশে সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে চালকদের পর্যবেক্ষণ করছেন ডানেলেন পুলিশ বিভাগের এক কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত

ঝোপের ছদ্মবেশে পুলিশ কর্মকর্তা, নিউ জার্সিতে ৬ ঘণ্টায় ৭৪ অসচেতন চালককে জরিমানা

কমলা হ্যারিসের ৮ মিলিয়ন ডলারের নতুন বাড়ি

রেসিজম নিয়ে সোচ্চার, কমলা হ্যারিসের ৮ মিলিয়ন ডলারের নতুন বাড়ির আশপাশে নেই কোনো কৃষ্ণাঙ্গ

0 Comments