বিশ্ব রাজনীতি

আফ্রিকার ৬ দেশের অবস্থান ভুল দেখাল যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিব্রত পররাষ্ট্র দপ্তর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২:৪৫
মানচিত্র
মানচিত্র

আফ্রিকার ছয়টি দেশের অবস্থান ভুল দেখিয়ে আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি মানচিত্র নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত এইডস ২০২৬ সম্মেলনে প্রদর্শিত মানচিত্রে চিহ্নিত প্রতিটি আফ্রিকান দেশের অবস্থানই ভুল ছিল। পরে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘটনাটিকে “দুর্ভাগ্যজনক ভুল” বলে স্বীকার করে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।



 

সম্মেলনের এক অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক এইচআইভি/এইডস কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সহযোগিতা তুলে ধরতে মানচিত্রটি ব্যবহার করা হয়। সেখানে নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, উগান্ডা, ক্যামেরুন, মালাউই এবং কোট দিভোয়ারের অবস্থান দেখানো হলেও কোনো দেশের অবস্থানই সঠিক ছিল না। উপকূলীয় দেশ নাইজেরিয়াকে স্থলবেষ্টিত অঞ্চলে, মোজাম্বিককে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে এবং কোট দিভোয়ারকে মহাদেশের সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে দেখানো হয়।



 

ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপস্থাপনায় ব্যবহৃত মানচিত্রে এমন একটি ওয়াটারমার্ক ছিল, যা এটি ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল ব্যবহার করে তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। 



 

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, উপস্থাপনার ঠিক আগে একজন কর্মী তড়িঘড়ি করে স্লাইডে পরিবর্তন আনতে গিয়ে এই ভুলটি করেন। তিনি বলেন, “এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ভুল ছিল। এতে অংশগ্রহণকারী, বিশেষ করে আমাদের আফ্রিকান অংশীদারদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও ভুল বার্তা গেছে, তার পূর্ণ দায় আমরা নিচ্ছি।” 



 

পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, মানচিত্রের ভুলটি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক এইডস কর্মসূচি এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ (পিইপিএফএআর) কর্মসূচির মাধ্যমে বৈশ্বিক এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে। 



 

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার দেশগুলোর সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এমন মৌলিক ভৌগোলিক ভুল শুধু বিব্রতকরই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগে তথ্য যাচাই ও মাননিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনেছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব রাজনীতি

View more
মানচিত্র
আফ্রিকার ৬ দেশের অবস্থান ভুল দেখাল যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিব্রত পররাষ্ট্র দপ্তর

আফ্রিকার ছয়টি দেশের অবস্থান ভুল দেখিয়ে আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি মানচিত্র নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত এইডস ২০২৬ সম্মেলনে প্রদর্শিত মানচিত্রে চিহ্নিত প্রতিটি আফ্রিকান দেশের অবস্থানই ভুল ছিল। পরে পররাষ্ট্র দপ্তর ঘটনাটিকে “দুর্ভাগ্যজনক ভুল” বলে স্বীকার করে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।   সম্মেলনের এক অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক এইচআইভি/এইডস কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সহযোগিতা তুলে ধরতে মানচিত্রটি ব্যবহার করা হয়। সেখানে নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, উগান্ডা, ক্যামেরুন, মালাউই এবং কোট দিভোয়ারের অবস্থান দেখানো হলেও কোনো দেশের অবস্থানই সঠিক ছিল না। উপকূলীয় দেশ নাইজেরিয়াকে স্থলবেষ্টিত অঞ্চলে, মোজাম্বিককে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে এবং কোট দিভোয়ারকে মহাদেশের সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে দেখানো হয়।   ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপস্থাপনায় ব্যবহৃত মানচিত্রে এমন একটি ওয়াটারমার্ক ছিল, যা এটি ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল ব্যবহার করে তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।    বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, উপস্থাপনার ঠিক আগে একজন কর্মী তড়িঘড়ি করে স্লাইডে পরিবর্তন আনতে গিয়ে এই ভুলটি করেন। তিনি বলেন, “এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ভুল ছিল। এতে অংশগ্রহণকারী, বিশেষ করে আমাদের আফ্রিকান অংশীদারদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও ভুল বার্তা গেছে, তার পূর্ণ দায় আমরা নিচ্ছি।”    পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, মানচিত্রের ভুলটি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক এইডস কর্মসূচি এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ (পিইপিএফএআর) কর্মসূচির মাধ্যমে বৈশ্বিক এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।    বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার দেশগুলোর সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এমন মৌলিক ভৌগোলিক ভুল শুধু বিব্রতকরই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগে তথ্য যাচাই ও মাননিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনেছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২:৪৫
গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে একটি ‘ঐতিহাসিক সমঝোতা’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গাজায় অস্ত্র ছাড়বে হামাস? ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী

লোহিত সাগরে হুথিদের নতুন হুমকি, চাপে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী

খলিল আল-হাইয়া

ফিলিস্তিনি হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া, হামাস অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয় ইঙ্গিতে কঠোর অবস্থান

US President Donald Trump speaks
বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরেই ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, দুই দিনে তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ইরানকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের স্মরণেই ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে।   রোববার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আজ রাতে আবারও তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালিয়েছি। সম্ভবত তিনজন মহান দেশপ্রেমিকের সম্মানেই এই হামলা।”   এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইরানের একটি হামলায় একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের একটি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার পর সেটির অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হলে ওই সেনাসদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনা আহত হন।   এর মাত্র একদিন আগে জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ হন। পরে সেন্টকম জানায়, হামলার স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ের মানবদেহের কিছু অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।   পরপর দুই দিনে তিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তারা লড়াই করছিলেন, যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।”   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।   অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা একাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সিরিয়ায় শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।   বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক সমাধানের কোনো ইঙ্গিত এখনো না থাকায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ৩:৫০
ইরানের ক্ষে প ণা স্ত্র, ছবি: সংগৃহীত

জর্ডানের আকাবা অভিমুখে ইরানের ক্ষে প ণা স্ত্র, নিজ ভূখণ্ডে প্রবেশের আ শ ঙ্কায় ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে শান্তির মধ্যস্থতাকারী হতে চায় ইরাক, সফলতা নির্ভর করছে এক কঠিন শর্তে

US, Iran escalate strikes across Mideast

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পূর্ণমাত্রার সংঘাত, পাল্টাপাল্টি হামলায় কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও চীনের শীর্ষনেতা ওয়াং হুনিংয়ের
রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মধ্যেও উত্তর কোরিয়াকে পাশে রাখতে তৎপর চীন

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে চীন। এক মাসের ব্যবধানে দুই দেশের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ চীনের চতুর্থ সর্বোচ্চ নেতা ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম নীতিনির্ধারক ওয়াং হুনিং তিন দিনের সফরে পিয়ংইয়ং গিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি তিনি কিমের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ওনসান-কালমা উপকূলীয় পর্যটন প্রকল্পও পরিদর্শন করেন।   এই সফরকে কেবল সৌজন্য সফর হিসেবে দেখছেন না কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বরং এটি বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে দুই দেশ রাজনৈতিক আস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে।   সফরকালে ওয়াং হুনিং ওনসান-কালমা পর্যটন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। প্রায় ২০ হাজার পর্যটকের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই সমুদ্র উপকূলীয় রিসোর্টকে কিম জং উনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চীনা প্রতিনিধি দলকে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এবং ওয়াং এটিকে উত্তর কোরিয়ার ‘জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতির’ একটি উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করেন।   এই সফরের আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন। সেই সফরে দুই দেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াং হুনিংয়ের সফরকে সেই সমঝোতা বাস্তবায়নের ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ইউক্রেন যুদ্ধের পর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পূর্ব এশিয়ায় নিজের ঐতিহ্যগত প্রভাব ধরে রাখতে এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই সক্রিয় হয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে অর্থনীতি ও পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করতে চীনের সহযোগিতাও উত্তর কোরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের সফর, কিম জং উন–ওয়াং হুনিং বৈঠক এবং ওনসান-কালমা প্রকল্পে চীনা প্রতিনিধিদলের আগ্রহ—সব মিলিয়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে এবং বেইজিং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।   তথ্যসূত্র: রয়টার্স (১৫–১৭ জুলাই ২০২৬), কেসিএনএ।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১:৪৮
যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক দেয়ালচিত্র ইরানের রাজধানীর রাস্তায় একটি সাধারণ দৃশ্য

ইরানে ট্রাম্প পরিবারের কফিনের ছবি দিয়ে বিলবোর্ড, লেখা ‘রক্তের বদলে রক্ত’

US President Donald Trump with Chinese President Xi Jinping

মার্কিন নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগে আবারও সরব ট্রাম্প, বেইজিংয়ের কড়া জবাব

Vice President JD Vance in Tel Aviv

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের পথে ঠেলে দিতে চেয়েছেন ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

0 Comments