আমেরিকা

নিষিদ্ধ ই-বাইকে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নিউইয়র্কের এক কিশোরের

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১১:১৮
নিউইয়র্কে নিষিদ্ধ ই-বাইক চালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নিষিদ্ধ ই-বাইক চালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিষিদ্ধ একটি ই-বাইক চালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ব্রুকলিনের বাসিন্দা গ্যাব্রিয়েল নাকাতো সুরক্ষিত বাইক লেন ছেড়ে মূল সড়কে ওঠার সময় একটি এসইউভির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাটি বুধবার সকাল ৯টার আগমুহূর্তে সিটি হলের কাছে সেন্টার স্ট্রিট ও চেম্বার্স স্ট্রিটের সংযোগস্থলে ঘটে।

 

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাব্রিয়েল নাকাতো একটি ডিপাওয়ার কিউএস৭ মডেলের বৈদ্যুতিক সাইকেল চালাচ্ছিলেন। তিনি সেন্টার স্ট্রিট ধরে উত্তরমুখী যাওয়ার সময় চেম্বার্স স্ট্রিট এলাকায় বাইক লেন ছেড়ে মূল যান চলাচলের সড়কে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় একটি ২০০৮ সালের শেভ্রোলেট তাহো গাড়ির চালকের পাশের দরজায় ধাক্কা লাগে।

 

সংঘর্ষের পর গ্যাব্রিয়েল নাকাতো সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনাস্থলটি তার ব্রুকলিনের বেনসনহার্স্ট এলাকার বাসা থেকে প্রায় নয় মাইল দূরে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এসইউভিটি চালাচ্ছিলেন ৪০ বছর বয়সী এক নারী। দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থলেই অবস্থান করেন। বুধবার সকালে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের মাঝখানে এসইউভিটি দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং কাছেই রাস্তার বিভাজকের পাশে পড়ে আছে গ্যাব্রিয়েল নাকাতোর ই-বাইক।

 

ঘটনার পর বুধবার বিকেলে ট্রান্সপোর্টেশন অলটারনেটিভস এবং নগর কর্তৃপক্ষ অবৈধ উচ্চগতির ই-বাইক বিক্রি বন্ধের দাবি জানায়। একই সঙ্গে তারা এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল ও সিটি কাউন্সিলের প্রতি অনলাইনে এ ধরনের নিষিদ্ধ উচ্চগতির যান বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।

 

ট্রান্সপোর্টেশন অলটারনেটিভসের নির্বাহী পরিচালক বেন ফার্নাস বলেন, কেউ যেন অনলাইনে অবৈধ উচ্চগতির যান কিনে নিউইয়র্কে আনতে না পারে, তা নিশ্চিত করা উচিত। তার ভাষায়, এ ধরনের যান শুধু চালকের জন্য নয়, পথচারী ও অন্য সাইকেল আরোহীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডার ডিল্যান্ড শহরে পোষা কুকুরের ছাই ছড়াতে এসে গুলিতে নিহত দুই শৈশববন্ধু। ছবি: সংগৃহীত
প্রিয় পোষা কুকুরের দাহের ছাই ছড়াতে এসে একাধিক গুলিতে প্রাণ গেল দুই শৈশববন্ধুর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ডিল্যান্ড শহরে পরিবারের প্রিয় পোষা কুকুরের দাহের ছাই ছড়িয়ে দিতে এসে গুলিতে নিহত হয়েছেন দুই শৈশববন্ধু। নিহতরা হলেন ১৯ বছর বয়সী ডাস্টিন রোজ ও ১৮ বছর বয়সী স্যামসন ক্যাম্পবেল।   ডিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে শহরের ওয়েস্ট নিউ ইয়র্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি খালি জায়গা থেকে তাদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনরা খোঁজ শুরু করলে মরদেহ দুটি দেখতে পান।   পুলিশপ্রধান জেসন আমবার্গার জানান, তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দুই তরুণকেই একাধিকবার গুলি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয় এবং এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।   নিহত স্যামসন ক্যাম্পবেলের খালা ক্যারেন চোবিন জানান, পরিবারের আট বছর বয়সী প্রিয় পোষা কুকুর হিনাতা সম্প্রতি মারা যায়। কুকুরটির দাহের ছাই ছড়িয়ে দিতে ডিল্যান্ডে এসেছিলেন ক্যাম্পবেল। তার শৈশবের বন্ধু ডাস্টিন রোজ দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে বিশেষভাবে সেখানে আসেন বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে এবং এ কাজে সহায়তা করতে।   চোবিন বলেন, কুকুরটির মৃত্যু পরিবারকে গভীরভাবে শোকাহত করেছিল। সেই শোকের মধ্যেই দুই তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের পরিবারের জন্য আরও বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষায়, তারা দুজনই অত্যন্ত ভদ্র, সহানুভূতিশীল এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারী ছিলেন।   ডাস্টিন রোজ দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সামরিক কলেজ দ্য সিটাডেল-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সাউথ ক্যারোলাইনা আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মৃত্যুতে ন্যাশনাল গার্ড গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।   অন্যদিকে, স্যামসন ক্যাম্পবেল গত ডিসেম্বর থেকে শিকাগো এলাকায় তার খালার সঙ্গে বসবাস করছিলেন। তিনি বাবার সঙ্গে দেখা করতে এবং পরিবারের প্রিয় কুকুরটির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডিল্যান্ডে এসেছিলেন।   পুলিশ জানিয়েছে, দুই তরুণকে সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জীবিত দেখা গিয়েছিল। ওই সময়ের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১২:৩
কাস্টমস কর্মকর্তাদের পাসকোড দেওয়ার পর ফোনের তথ্য উধাও হওয়ায় আদালতে মার্কিন নাগরিক। ছবি: সংগৃহীত

কাস্টমস কর্মকর্তাদের পাসকোড দিতেই ফোনের সব তথ্য উধাও, আদালতে মার্কিন নাগরিক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভের মুখে হোটেলে আশ্রয় নিলেন নেতানিয়াহু

নিউইয়র্কে নিষিদ্ধ ই-বাইক চালানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

নিষিদ্ধ ই-বাইকে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নিউইয়র্কের এক কিশোরের

ক্যাপিটল হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তা ব্রায়ান সিকনিকের নামে বিশেষ দিবস ঘোষণা। ছবি: সংগৃহীত
ক্যাপিটল হামলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নামে বিশেষ দিবস ঘোষণা

ক্যাপিটল হিলে জানুয়ারি ৬ তারিখের হামলার সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত ক্যাপিটল পুলিশ কর্মকর্তা ব্রায়ান সিকনিকের নামে বিশেষ দিবস ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য। বৃহস্পতিবার গভর্নর মিকি শেরিল দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্রায়ান সিকনিক দিবস’ ঘোষণা করেন। ৩০ জুলাই ছিল এই কর্মকর্তার জন্মদিন।   গভর্নর মিকি শেরিল বলেন, ব্রায়ান সিকনিক ছিলেন নিউ জার্সির অন্যতম সেরা সন্তান। তিনি জানান, জানুয়ারি ৬ তারিখের ঘটনায় প্রতিনিধি পরিষদের কক্ষ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় তিনি গ্যাস মাস্ক প্রস্তুত করেছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। সেই সময় সিকনিক ক্যাপিটল ভবন ও কংগ্রেসের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন।   ব্রায়ান সিকনিক ১৯৭৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ব্রান্সউইকে জন্মগ্রহণ করেন এবং সাউথ রিভারে বেড়ে ওঠেন। ১৯৯৭ সালে তিনি নিউ জার্সি এয়ার ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দেন। সেখানে ১০৮তম সিকিউরিটি ফোর্সেস স্কোয়াড্রনের সদস্য ও দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ চলাকালে তিনি সৌদি আরব ও কিরগিজস্তানে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩ সালে সম্মানজনকভাবে অবসর নেন।   এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল পুলিশে যোগ দেন। সেখানে ফার্স্ট রেসপন্ডার্স ইউনিট এবং মাউন্টেন বাইক ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।   ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার সময় দাঙ্গাকারীদের হামলার শিকার হন ব্রায়ান সিকনিক। পরে তিনি দুটি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং পরদিন রাতে মারা যান। কর্তব্য পালন করতে গিয়েই তিনি প্রাণ হারান।   ব্রায়ান সিকনিকের ভাই ক্রেইগ সিকনিক বলেন, তার ভাই সারাজীবন অন্যদের সেবা এবং নিজের প্রিয় দেশকে রক্ষা করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি গভর্নর মিকি শেরিল এবং নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জন্মদিনে এই সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্রায়ান সিকনিকের সাহস, আত্মত্যাগ এবং আজীবনের সেবাকে স্মরণীয় করে রাখা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১০:৫৫
টেক্সাসের ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার মসজিদের সামনে খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রচার বন্ধের আবেদন খারিজ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মসজিদের সামনে খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রচার বন্ধের আবেদন, আদালতে ব্যর্থ ইসলামিক সেন্টার

সন্তানের ভরণপোষণ না দিলে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা বাতিলের নীতি নিয়ে কথা বলছেন অ্যালেক্স জে অ্যাডামস। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানের ভরণপোষণ না দিলে ফুড স্ট্যাম্প সুবিধা হারাতে পারেন লাখো অভিভাবক, ফিরল ট্রাম্প প্রশাসনের পুরোনো নীতি

আইনজীবী সুরাজ রাজ সিংকে জরিমানার নোটিশ পাঠিয়েছে মার্কিন সংস্থা আইস। ছবি: সংগৃহীত

একই ধরনের নির্যাতনের গল্পে শতাধিক আশ্রয় আবেদন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

গ্রীষ্মকালজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জনপদে খাদ্য সহায়তা, শিশুদের শিক্ষামূলক কার্যক্রম, প্রবীণদের মধ্যাহ্নভোজ, কৃষিপণ্য বাজার ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত
গ্রীষ্মকালজুড়ে সামাজিক সেবায় প্রাণবন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় জনপদ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গ্রীষ্মকালজুড়ে স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়, পাঠাগার ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ব্যাপক সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম চলছে। খাদ্য বিতরণ, প্রবীণদের মধ্যাহ্নভোজ, শিশুদের জন্য বিনামূল্যে খাবার, কৃষিপণ্য বাজার, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে হাজারো মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।   নিম্ন আয়ের পরিবার, একাকী প্রবীণ, যুদ্ধফেরত নাগরিক ও আশ্রয়হীন মানুষের জন্য নিয়মিত খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে চাল, আটা, সবজি, ফল, দুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। সমাজসেবামূলক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালজুড়ে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে কয়েক হাজার পরিবার খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে।   বিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলায় শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে মধ্যাহ্নভোজ ও হালকা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পাঠাগার, উদ্যান এবং সামাজিক কেন্দ্রগুলোতে খাবারের পাশাপাশি বই পড়া, গল্প শোনা, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, চিত্রাঙ্কন, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমেরও আয়োজন করা হয়েছে।   প্রবীণ নাগরিকদের জন্য নিয়মিত মধ্যাহ্নভোজ, স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সামাজিক মিলনমেলা এবং যাতায়াত সহায়তা চালু রয়েছে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় বিনামূল্যে পোশাক, শিশুসামগ্রী, স্বাস্থ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছে।   একই সঙ্গে বিভিন্ন শহরে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত তাজা ফল, শাকসবজি, মধু, দুগ্ধজাত পণ্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্য নিয়ে কৃষিপণ্য বাজার বসছে। এসব আয়োজন স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও টাটকা খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি করছে।   গ্রীষ্মকাল উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উন্মুক্ত সংগীতানুষ্ঠান, নাট্য পরিবেশনা, শিশু-কিশোরদের বিনোদন, বইমেলা এবং পারিবারিক উৎসবের আয়োজনও অব্যাহত রয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ একত্রিত হয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করছেন।   স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম শুধু জরুরি সহায়তা দেওয়ার জন্য নয়, বরং জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি এবং মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই গ্রীষ্মকালজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জনপদে এসব উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ৯:৪৬
আমেরিকা ও ইরান। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচলের চেষ্টায় সমন্বিত সাইবার হামলা, তদন্তে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সূত্র

হাসপাতালের ডাস্টবিনে নবজাতকের মরদেহ ফেলার মামলায় অভিযুক্ত অ্যালেক্সি ট্রেভিজো। ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালের ডাস্টবিনে নবজাতকের মরদেহ, প্রমাণ হিসাবে মায়ের স্বীকারোক্তি শুনবে না আদালত

আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রতীকী দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত

জর্ডানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

0 Comments