রোহিঙ্গা শিবিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত, প্রত্যাবাসনে সহায়তা চাইলেন রোহিঙ্গারা
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি শিবিরের বিভিন্ন মানবিক সহায়তা ও সেবামূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।
সফরে সার্জিও গরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদলও অংশ নেয়। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে পরিচালিত মানবিক কার্যক্রমের অন্যতম বড় অর্থদাতা যুক্তরাষ্ট্র। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে প্রতিনিধিদলটি শিবিরে আসে।
পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদল বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখার পাশাপাশি একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে পুরো আশ্রয়শিবিরের সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলাপকালে রোহিঙ্গারা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তারা দ্রুত নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান।
পরিদর্শন শেষে বিকেলে প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করে। বৈঠকে তারা নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি, রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পর্ক সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, রাখাইনে সংঘাত, নির্যাতন ও চিকিৎসার প্রয়োজনে এখনো প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে দশজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন বন্ধ থাকায় এবং কিছু রোহিঙ্গার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষও বেড়েছে।
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে ১৪ লাখের বেশি নিবন্ধিত রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর কয়েক মাসে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। গত নয় বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। বরং গত দেড় বছরে রাখাইন রাজ্য থেকে নতুন করে প্রায় এক লাখ ৫২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদল উখিয়ার ক্যাম্প–৪, ক্যাম্প–৬ ও ক্যাম্প–৮ (ওয়েস্ট) এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য বিতরণ, তথ্য নিবন্ধন এবং এলপিজি বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করে। ক্যাম্প–৬–এর একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তারা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা, ওষুধের প্রাপ্যতা এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি ডেটা রেজিস্ট্রেশন সেন্টার, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন কার্যক্রম, এলপিজি বিতরণ এবং ই-ভাউচারভিত্তিক খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থাও ঘুরে দেখেন। এ সময় ক্যাম্প–৪ এলাকায় কয়েক শ রোহিঙ্গা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View more২০১৬ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারিয়েছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেই দুর্ঘটনার পরও থেমে যায়নি তাঁর পড়াশোনা। প্রথমে মুখ দিয়ে এবং পরে পা দিয়ে লেখার কৌশল আয়ত্ত করে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এবার ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাতেও একই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর স্বপ্ন উচ্চশিক্ষা নিয়ে একজন বিজ্ঞানী হওয়া। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাসিন্দা রাব্বি। তাঁর বাবা বজলুর রহমান। চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্য দিয়ে টানা দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এই শিক্ষার্থী। রাব্বির জীবনে বড় পরিবর্তন আসে ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী এলাকার একটি ফুটওভার ব্রিজে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। দুর্ঘটনায় তাঁর দুই হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন বাঁচাতে দুটি হাতই কেটে ফেলতে বাধ্য হন। তখন পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও তাঁর ভবিষ্যৎ পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার পর নতুনভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন রাব্বি। প্রথমে মুখ দিয়ে কলম ধরে লেখার অনুশীলন করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এভাবেই পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। পরে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে লেখার জন্য পা দিয়ে কলম ধরার কৌশল শেখেন। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে সেই দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে থাকেন। ২০২৪ সালে ভাটিয়ারীর হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন রাব্বি। পা দিয়ে লিখেই জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনা চালিয়ে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পাওয়ায় তাঁর শিক্ষাজীবনে যুক্ত হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। নিজের ফলাফলে সন্তুষ্ট রাব্বি জানিয়েছেন, এই সাফল্যের পেছনে মা-বাবা, শিক্ষক এবং তাঁকে সহযোগিতা করা অন্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে চান। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। ছেলের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন বাবা বজলুর রহমান। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর দুই হাত হারানো ছেলের পক্ষে আবার স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু রাব্বি নিজের চেষ্টা ও পরিবারের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ভবিষ্যতেও ছেলে যেন সফল হতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। এবার রাব্বির সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তাঁর বোন রোকাইয়া আক্তার রাওজা। তিনি ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। রাব্বির অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার তাঁর চেষ্টা ও আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাব্বি উচ্চশিক্ষা শেষ করে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে ধারাবাহিকভাবে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর রাব্বির সামনে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। দুর্ঘটনার পর নতুনভাবে লেখার কৌশল শেখা থেকে শুরু করে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ করা পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করে গবেষণার জগতে এগিয়ে যাওয়া। সূত্র: নিউজ২৪
ডিএমপির নিউজ পোর্টাল হ্যাক, ভাসছে রাজনৈতিক বার্তা ও সহিংসতার চিত্র
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ঢাকায় আসছেন প্রবাসী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা, ১ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন
লংমার্চ থেকে ফেরার পথে জামায়াতের বাসের চা পায় নিহত পথচারী, খাদে পড়ে আ হ ত ৩০
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম চুল্লির ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি মেটানোর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ অতিক্রম করল বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর শুক্রবার এই কার্যক্রমের কথা জানানো হয়। রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. কবির হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসে প্রথম চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে এটি 'ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি' বা স্বয়ংক্রিয় চেইন রিঅ্যাকশন পর্যায়ে পৌঁছায়, যা চুল্লিটির শতভাগ নিরাপদ পরিচালনার প্রমাণ। বর্তমানে আরও কিছু কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানোর পর আগামী ডিসেম্বর মাসেই এই কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। সবকিছু ঠিক থাকলে ১.২ গিগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম চুল্লিটি ২০২৭ সালে এবং সমপরিমাণ ক্ষমতার দ্বিতীয় চুল্লিটি ২০২৮ সালে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে। পদ্মা নদীর তীরে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় নির্মিত ২.৪ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক মেগাপ্রকল্প। এর মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে মোট বিদ্যুতের প্রায় অর্ধেকই আসে গ্যাস থেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশও মারাত্মকভাবে ভুগেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতেই পারমাণবিক শক্তির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দেশের ১১ শতাংশ বিদ্যুৎ আসবে পারমাণবিক শক্তি থেকে, যা দেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
৮ জন শিক্ষক মিলেও পাশ করাতে পারলেন না একমাত্র ছাত্রকে, হতবাক সকলে
এইচএসসিতে পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার শিক্ষার্থী
একটি রেডিও কিনতে ৫ বিঘা জমি বিক্রি করেন! ব্যাটারি কিনতে খরচ হয় দেলোয়ার হোসেনের আরও ১ বিঘা
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃ ত্যুর ঘটনায় এখনো থানায় মামলা করেনি তাঁর পরিবার। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা না হলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানিয়েছেন নৌপুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি জানান, তাহসিফের মৃ ত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। পরিবার মামলা না করলে আইন অনুযায়ী পুলিশ বাদী হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এদিকে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজারবস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেটি তাহসিফ সৌরির কি না, তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদর দপ্তর। এর আগে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। সেটির মালিকানা ও পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির সঙ্গে তাহসিফের মৃ ত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন ২৮ বছর বয়সী তাহসিফ। পরদিন বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌপুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখান এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাঁর ম রদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের তথ্যের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাহসিফের বাবা জানিয়েছেন, ২৭ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের জন্য সারাদিন কেনাকাটা করেছিলেন তাঁর ছেলে। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে তাঁর চলাচলের কিছু দৃশ্য একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, বন্ধুস্থানীয় জুনিয়র আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন তাহসিফ। এরপর দুজন আলাদা মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তাহসিফের মৃ ত্যুর ঘটনায় দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তদন্তের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। অন্যদিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানিয়েছেন, তাহসিফের বাবাকে ফোন করে থানায় এসে মামলা করার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। তবে শুক্রবার পর্যন্ত তাঁর বাবা থানায় যাননি। তিনি থানায় এলে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান ওসি। এ ঘটনায় থানায় মামলা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাহসিফের মৃ ত্যুর প্রকৃত কারণ, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তাঁর কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের না হলে পুলিশ বাদী হয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানিয়েছেন নৌপুলিশ প্রধান।
শেষ কণ্ঠবার্তায় ‘মা, আমি আসছি’, পরদিন তুরাগ নদীতে মিলল সাবেক কর্মকর্তার ম রদেহ
চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য ৪৩ লাখ