- প্রচ্ছদ
- Topic
টেসলা
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ব্যস্ত সুপারমার্কেটের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারানো টেসলা গাড়ির ধাক্কায় একজন নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২১ মিনিটে দ্য গ্রোভের বিপরীতে থার্ড স্ট্রিটের ৭৯০০ ব্লকে অবস্থিত ট্রেডার জো’স স্টোরের পার্কিং লটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার সাদা রঙের টেসলা গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি পার্ক করা গাড়ি ও কয়েকজন পথচারীকে ধাক্কা দেন এবং পরে পার্কিং লটের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আছড়ে পড়েন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা নিহতের মরদেহ একটি সাদা শামিয়ানার নিচে ঢেকে রেখেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ৩০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ৩০ ও ৫৭ বছর বয়সী আরও দুই নারী সামান্য আঘাত পেয়েছেন। গাড়িচালক ওই বৃদ্ধাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ড্রেক পিসিওন জানান, গাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই বৃদ্ধা চালক রীতিমতো হতবাক ছিলেন এবং তিনি বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কী ঘটেছে। চালক দাবি করেন, তিনি গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করছিলেন এবং তার পা ব্রেকের ওপরই ছিল, কিন্তু গাড়িটি নিজে থেকেই গতি বাড়িয়ে ছুটতে থাকে। তিনি যে একজনকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছেন, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে সীমিত পরিসরে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ রাইড চালু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা। স্টিয়ারিং হুইল ও প্যাডেলবিহীন দুই আসনের এই গাড়ির মাধ্যমে রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় ওয়েমোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামার পথে আরও এক ধাপ এগোল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সাইবারক্যাব চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সোনালি রঙের সাইবারক্যাব প্রথমবার প্রদর্শন করা হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে। গাড়িটিতে প্রচলিত স্টিয়ারিং হুইল বা ব্রেক ও অ্যাক্সিলারেটর প্যাডেল নেই। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার জন্য গাড়িটি ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সরনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে। প্রথম ধাপে অস্টিনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাইবারক্যাব রাইড দেওয়া হচ্ছে। এর আগে টেসলা অস্টিনসহ কয়েকটি শহরে মডেল ওয়াই গাড়ি ব্যবহার করে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছিল। টেসলার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ টেক্সাসের কয়েকটি শহর এবং ফ্লোরিডার মিয়ামি, অরল্যান্ডো ও টাম্পায় তাদের রোবোট্যাক্সি সেবা চলছে। সাইবারক্যাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে টেসলার স্বয়ংক্রিয় পরিবহন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এই বিশেষভাবে তৈরি গাড়িকে তাদের রোবোট্যাক্সি বহরের মূল যান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। জুলাইয়ে টেসলা জানিয়েছিল, সাইবারক্যাবের উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং পাবলিক রোডে এর ইঞ্জিনিয়ারিং টেস্ট ড্রাইভও শুরু করা হয়েছিল। অন্যদিকে, চালকবিহীন রাইড-হেইলিং বাজারে ওয়েমো ইতিমধ্যেই বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ১ সেপ্টেম্বর ডেনভার, সান ডিয়েগো ও টাম্পায় পাবলিক রাইড চালু করে জানায়, এর মাধ্যমে ১৪টি শহরে তাদের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রাইড সেবা পৌঁছেছে। তবে টেসলার নতুন সেবার বিস্তার নিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএ জানিয়েছে, অস্টিনে সাইবারক্যাব চালুর বিষয়টি তারা মূল্যায়ন করছে। সাইবারক্যাবের যাত্রা শুরু হলেও টেসলা কত দ্রুত এই সেবা বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারবে এবং এটি কতটা লাভজনক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের আস্থাই রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় টেসলার ভবিষ্যৎ সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায় একটি টেসলা গাড়ি। এরপর পেছন থেকে আসা একটি বিশাল আকৃতির ফোর্ড এফ ৩৫০ পিকআপ ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান টেসলার চালক। সম্প্রতি মার্কিন ট্রাফিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নতুন নথিপত্র থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মেসা শহরের ইস্টবাউন্ড লুপ ২০২ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িটি ছিল ২০২০ সালের মডেল ৩ টেসলা। গাড়িটি যখন মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে পুরোপুরি থেমে যায়। সে সময় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি এবং টুয়েলভ নিউজ দুর্ঘটনার খবর প্রচার করলেও, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বা এনএইচটিএসএ কাছে টেসলার জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে চালকের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইলেকট্রিক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মারাত্মক ওই সংঘর্ষের সময় টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেম চালু ছিল। এটি টেসলার সাধারণ অটোপাইলট কিংবা ব্যয়বহুল ফুল সেলফ ড্রাইভিং বা এফএসডি সফটওয়্যার হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় শূন্য মাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লোরিডার একটি মহাসড়কে প্রায় একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও টেসলার ড্রাইভার অ্যাসিস্ট সফটওয়্যারে চলা একটি মডেল ৩ গাড়ি মহাসড়কের মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায় এবং পেছন থেকে অন্য একটি যানের ধাক্কায় টেসলার চালক নিহত হন। টেসলার গাড়িগুলোতে দীর্ঘকাল ধরেই ফ্যান্টম ব্রেকিং নামের এক অদ্ভুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। এই ত্রুটির ফলে সামনে কোনো বাধা ছাড়াই গাড়িগুলো হঠাৎ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। একটি গাড়ির ভিডিও, টেলিমেটিক্স এবং ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডারসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য টেসলার কাছে সংরক্ষিত থাকে। ফলে গাড়িটি কেন হঠাৎ থেমে গিয়েছিল, তা কোম্পানিটির কাছে খুবই স্পষ্ট। তবে ইলেকট্রিক জানিয়েছে, টেসলা এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তথ্য গোপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ এবং গাড়িটি অনুমোদিত এলাকায় চলছিল কি না সেই তথ্য। এই তথ্যগুলোকে গোপন ব্যবসায়িক তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টেসলা। জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রতিবেদনেই এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে। ফ্যান্টম ব্রেকিং ত্রুটি নিয়ে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছিল ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অটোপাইলট বা অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহারের সময় মহাসড়কের দ্রুতগতিতে গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছর ধরে চলা সেই তদন্তটি চলতি বছরের গত জুলাই মাসে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং তারা যান্ত্রিক ব্রেকের কোনো ত্রুটি বা অযৌক্তিক সংঘর্ষের ঝুঁকি খুঁজে পায়নি।
আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বে অন্তত ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবট তৈরি হবে। আর এই রোবটগুলো পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতার চেয়েও বেশি উৎপাদনশীল হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জি-২০ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী এই মন্তব্য করেন। তিনি ধারণা করছেন, একটি হিউম্যানয়েড রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণ একজন মানুষের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি হবে। এরপর রোবটরাই অন্যান্য রোবট তৈরি করা শুরু করবে, যা একটি রিকার্সিভ বা চক্রাকার প্রভাব তৈরি করবে। ইলন মাস্ক বলেন, শুরুতে এটি খুব ধীরগতিতে এগোলেও পরে তা বিস্ফোরক গতিতে বাড়বে। আজ থেকে ১০ বছর পর আমি বলতে পারি যে, পৃথিবীতে ১০০ কোটিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট থাকবে। প্রতিটি রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সম্ভবত একজন মানুষের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি হবে। এর মানে হলো, এই ১০০ কোটি রোবট পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত ক্ষমতার চেয়েও বেশি কাজ করতে পারবে। তিনি এটিকে একটি রক্ষণশীল হিসাব বলে উল্লেখ করে জানান, তিনি এই বিষয়ে বাজি ধরতেও প্রস্তুত। মাস্কের মতে, একটি রোবটের কার্যকারিতা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। সেগুলো হলো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার কতটা উন্নত, রোবটের ভেতরের এআই চিপ কতটা শক্তিশালী এবং রোবটের ইলেকট্রোমেকানিকাল দক্ষতা বা হাত দিয়ে সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা কতটা নিখুঁত। এই তিনটি বিষয়ই দ্রুতগতিতে উন্নত হচ্ছে বলে তিনি জানান। এদিকে স্মার্ট অ্যানালিটিকস গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার ১০০টি হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, চলতি বছর শেষে এই সংখ্যা ৬০ হাজারে পৌঁছাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে চীন। বৈশ্বিক সরবরাহের ৯৭ শতাংশেরও বেশি আসছে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে। এর মধ্যে সাংহাই ভিত্তিক অ্যাজিবট ৮ হাজার ৪০০টি রোবট সরবরাহ করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে হাংঝু ভিত্তিক ইউনিটি রোবোটিক্স। অন্যদিকে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলাও তাদের নিজস্ব হিউম্যানয়েড রোবট অপটিমাস বাজারে আনছে। এটি মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। টেসলার লক্ষ্য বছরে ১০ লাখ এমন রোবট উৎপাদন করা। মাস্ক আগেই জানিয়েছিলেন, এই অপটিমাস রোবট ভবিষ্যতে টেসলার মোট মূল্যের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা দখল করে নিতে পারে। সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে চীনা রোবটগুলো মানুষের গড়া রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটি রোবট কিংবদন্তি অ্যাথলেট উসাইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেয়। বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি তিয়ানগং আল্ট্রা ৯.৩৯ সেকেন্ডে এবং অনারস লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। গত বছর তিয়ানগং আল্ট্রা এই দৌড় শেষ করতে ২১.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, যা প্রমাণ করে মাত্র এক বছরে প্রযুক্তির কতটা বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে। জি-২০ সম্মেলনে মাস্ক আরও বলেন, হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স অবিশ্বাস্য পরিবর্তন আনবে। তার ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবে, যার পরিমাণ বছরে ২০ থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী বছরের শেষের দিকে এআই এমন যেকোনো ডিজিটাল কাজ করতে পারবে, যার জন্য মানুষের হাতের দরকার নেই। এটি দাবার জনপ্রিয় প্রোগ্রাম স্টকফিশ এর মতো শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা বিশ্বের সেরা দাবাড়ুদের অনায়াসে হারাতে পারে।
দুর্ঘটনার পর জরুরি মুহূর্তে গাড়ির দরজা খুলতে সমস্যা হতে পারে এমন আশঙ্কায় চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ঘোষিত এই পদক্ষেপটি চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রত্যাহারের অংশ। টেসলার পাশাপাশি আরও আটটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ৪৩ লাখ গাড়ি এই প্রত্যাহারের আওতায় এসেছে। চীনের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর মার্কেট রেগুলেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টেসলার প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার গাড়ি। এর মধ্যে চীনে তৈরি এবং আমদানি করা মডেল থ্রি, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স রয়েছে। এই প্রত্যাহার ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। সমস্যাটি মূলত গাড়ির বৈদ্যুতিকভাবে পরিচালিত ও ভাঁজ হয়ে থাকা দরজার হাতল নিয়ে। কোনো গাড়ি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর যদি এর নিম্ন-ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়, তখন জরুরি অবস্থায় দরজা খোলার ব্যবস্থা সহজে খুঁজে পাওয়া বা ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা দ্রুত বের হতে না পারার পাশাপাশি বাইরে থাকা উদ্ধারকারীদেরও ভেতরে পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে। সমস্যা সমাধানে টেসলা ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোতে সতর্কতামূলক লেবেল লাগাবে। পাশাপাশি দূরবর্তী সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পর গাড়ির জানালা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছুটা নিচে নামার ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে দরজা খোলার প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। টেসলা আলাদাভাবে চালকের মনোযোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়েও আরেকটি প্রত্যাহার ঘোষণা করেছে। চীনে তৈরি প্রায় ২৭ লাখ ৪০ হাজার মডেল থ্রি ও মডেল ওয়াই গাড়িতে সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে চালক গাড়ি চালানোর সময় পর্যাপ্ত মনোযোগ দিচ্ছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। সহায়ক স্টিয়ারিং ও অন্যান্য চালক সহায়তা ব্যবস্থা ব্যবহারের সময় চালক প্রয়োজনমতো নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোই এর উদ্দেশ্য। যেসব গাড়িতে দূরবর্তীভাবে সফটওয়্যার হালনাগাদ করা সম্ভব হবে না, সেসব গাড়ির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত সেবা কেন্দ্রে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে টেসলা জানিয়েছে। এই বড় প্রত্যাহার শুধু টেসলাকে ঘিরে নয়। চীনের আরও কয়েকটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একই ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে গাড়ি প্রত্যাহার করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শাওমি, লিপমোটর, এক্সপেং ও গিলি হোল্ডিং রয়েছে। সব মিলিয়ে চীনে প্রায় ৪৩ লাখ গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির দরজার নকশা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি বেড়েছে। বিশেষ করে বাইরে থেকে প্রায় সমতল বা ভাঁজ হয়ে থাকা দরজার হাতল নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে এ ধরনের দরজা কীভাবে দ্রুত খোলা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে নতুন গাড়িতে পুরোপুরি লুকানো বা প্রত্যাহারযোগ্য দরজার হাতল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। সাম্প্রতিক বড় পরিসরের গাড়ি প্রত্যাহারকে সেই কঠোর নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বড় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার চীনে নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এই কঠোর অবস্থান গাড়ি নির্মাতাদের নকশা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর দরজার মতো সুবিধাগুলো দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে বিষয়টিই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে মে মাসেও টেসলা একাধিক গাড়ি প্রত্যাহার করেছিল। তখন প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার সাইবারট্রাকের চাকার স্টাড আলাদা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রত্যাহার করা হয়। একই সময়ে পেছনের ক্যামেরার ছবি প্রদর্শনে বিলম্বের কারণে মডেল থ্রি, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স মিলিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজারের বেশি গাড়িও প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে এবারের প্রত্যাহারের পরিসর অনেক বড়। চীনের বাজারে টেসলার প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার গাড়ি এর আওতায় আসায় এটি দেশটিতে কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রত্যাহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের প্রত্যাহার এখনো ঘোষণা করা হয়নি। দেশটির ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ ধরনের একই প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
ইউরোপের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পশ্চিম ইউরোপের বাজারে চীনা ব্র্যান্ডের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ বেড়ে ১৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ওই সময়ে বিক্রি হওয়া প্রতি সাতটি ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির একটি ছিল চীনা ব্র্যান্ডের। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান শ্মিট অটোমোটিভ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে চীনা ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০টি, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বাজার অংশে প্রায় পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি। চীনের বিওয়াইডি, চেরি, এসএআইসি ও এক্সপেংয়ের মতো গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে চীনা শিল্পের সম্প্রসারণের মধ্যেই ইউরোপে এসব গাড়ির বিক্রি বাড়ছে। একই সময়ে কঠোর নির্গমন নীতির কারণে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদেরও ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়াতে হচ্ছে। ফলে চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ইউরোপের প্রচলিত গাড়ি নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়ছে। চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়ার বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে এসব গাড়ির ওপর শুল্ক এবং বাজার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করছে। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি পাওয়া চীনা গাড়ি নির্মাতারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাজারে তুলনামূলক কম দামে গাড়ি বিক্রি করে বাজার দখলের চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় নির্মাতাদের সুরক্ষায় কোটার ব্যবস্থা ও আরও বেশি শুল্ক আরোপের দাবিও জোরালো হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে কিছু চীনা নির্মাতার তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর সঙ্গে নিয়মিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কও রয়েছে। ইউরোপে চীনা গাড়ির সবচেয়ে বড় বাজার এখন যুক্তরাজ্য। দেশটির সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ না করায় যুক্তরাজ্যে চীনা গাড়ির বিক্রি বেশি হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপের ১৮টি বড় বাজারে চীনা ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির মোট বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশই যুক্তরাজ্যে হয়েছে। অন্যদিকে মোট বিক্রির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে ইতালি থেকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য ইতালির এই উচ্চ বিক্রয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেছে। দেশটিতে লিপমোটর বিপুলসংখ্যক কম দামের টি০৩ বৈদ্যুতিক গাড়ি পাঠিয়েছে। সরকারি ক্রয় ভর্তুকির সুবিধায় একপর্যায়ে এসব গাড়ির দাম ৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত নেমে এসেছিল, যা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর কম দামের মডেলের তুলনায়ও অনেক কম। চীনা নির্মাতারা চলতি বছর ইউরোপের বাজারে ১২০টিরও বেশি ভিন্ন মডেলের গাড়ি বিক্রি করেছে। একই সময়ে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর মডেলের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০টি। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিয়াস শ্মিট মনে করছেন, ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের অংশ হয়তো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর একটি কারণ হিসেবে তিনি চীনা নির্মাতাদের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির দিকে কিছুটা বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এসব গাড়িতে পেট্রোলচালিত ইঞ্জিনের সঙ্গে তুলনামূলক ছোট ব্যাটারি থাকে এবং বর্তমানে শুধু ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর যে অতিরিক্ত শুল্ক রয়েছে, তা এসব গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শ্মিটের মতে, চীনা নির্মাতারা আগামী ১২ মাসে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে, কারণ এসব গাড়ি বর্তমানে অতিরিক্ত শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে। তবে আগামী ১২ মাসে এই সুবিধা বন্ধ হওয়ার কথা থাকায় চীনা নির্মাতারা ওই সময়ের মধ্যে সুযোগটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। এদিকে জার্মান গাড়ি নির্মাতা ভক্সওয়াগেনের প্রধান নির্বাহী অলিভার ব্লুম ইউরোপের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও শুল্ক ব্যবস্থার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপরও শুল্ক বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এদিকে ইউরোপের গাড়ির বাজারে টেসলার বিক্রিতেও ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই গাড়ি নির্মাতার বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম দামের মডেল থ্রি ও মডেল ওয়াইয়ের চাহিদা বাড়ায় এই বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া একক গাড়ির মডেল ছিল মডেল ওয়াই। গত বছর টেসলার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে চলতি বছর ইউরোপের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রিতে আবারও বৃদ্ধি দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে টেসলা ও স্পেসএক্স। 'টেরাফ্যাব' নামে এই বিশাল সেমিকন্ডাক্টর কারখানার আয়তন হবে ১০ কোটি বর্গফুটেরও বেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের বর্তমান বৃহত্তম ভবনগুলোকেও আকারে অনেক পেছনে ফেলে দেবে। টেসলা ও স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হিউস্টনের কাছে গ্রাইমস কাউন্টিতে যৌথভাবে নির্মিতব্য এই মেগা কারখানার প্রথম ধাপে বিনিয়োগ করা হবে ১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হলে মোট বিনিয়োগ ১১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দাবি করেছেন, এটি হবে "পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মূল্যবান ভবন।" প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে অবস্থিত নিউ সেঞ্চুরি গ্লোবাল সেন্টারের রেকর্ড ভেঙে দেবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনটিই বিশ্বের বৃহত্তম ভবন হিসেবে পরিচিত। এর ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্রসৈকত, স্কি ঢালসহ নানা সুবিধা। প্রস্তাবিত টেরাফ্যাবের আয়তন হবে এর পাঁচ গুণেরও বেশি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন, অ্যাপল পার্ক এবং মল অব আমেরিকার সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও অনেক বড় হবে। টেসলা ও স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, একই ছাদের নিচে এখানে সেমিকন্ডাক্টর চিপের নকশা, উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরীক্ষার কাজ হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংচালিত যান, রোবট এবং মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য বর্তমান বৈশ্বিক চিপ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। সেই ঘাটতি পূরণেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, টেরাফ্যাবে তৈরি হওয়া চিপ টেসলার অপটিমাস মানবাকৃতি রোবট, স্বয়ংচালিত সাইবারক্যাব এবং স্পেসএক্সের পরিকল্পিত মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারে ব্যবহার করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বছরে ১ টেরাওয়াটের বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ উৎপাদন। প্রকাশিত নকশায় দেখা গেছে, ভবনটির নকশা হবে ডানার মতো বিস্তৃত এবং ছাদ হবে স্বচ্ছ। ইলন মাস্কের ভাষায়, এটি হবে "বিজ্ঞান কল্পকাহিনির শহরের" মতো দেখতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্স। নতুন কর্মীদের বড় অংশ গ্রাইমস কাউন্টি ও পাশের ব্রাজোস কাউন্টি থেকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলও এই প্রকল্পে অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারখানাটি নির্মিত হবে গিবন্স ক্রিক রিজার্ভয়ার এলাকায়, যেখানে আগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার নিয়ে টেক্সাসে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ওই জলাধারের পানি ব্যবহার করবে। এছাড়া প্রকল্পের জন্য দেওয়া কর-সুবিধা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে শত শত বাসিন্দা সম্প্রতি এক কাউন্টি সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় এই প্রকল্পের জন্য টেক্সাস এন্টারপ্রাইজ ফান্ড থেকে ৩ কোটি ডলারের অনুদান অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি রাজ্যের কর্মসংস্থান, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সুবিধাও পাবে। প্রকল্পটি ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে এটি শুধু আয়তনের দিক থেকেই নয়, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের দুই প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও ট্রাভিস কালানিকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন প্রযুক্তি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী আদি প্রসাদ। টেসলায় উৎপাদন প্রকৌশলী হিসেবে কাজ থেকে শুরু করে ক্লাউডকিচেনসে দ্রুত বর্ধনশীল একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এই দুই পর্যায়ের শিক্ষা আজ তার নতুন স্টার্টআপ ‘ম্যাটার’ এর ভিত্তি। বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে ৩৫ বছর বয়সী আদি প্রসাদ জানান, তিনি শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলেন। তবে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ার আগে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি নেতাদের কাছ থেকে শেখাকে তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন। সেই লক্ষ্যেই ২০১৫ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে যোগ দেন টেসলায়। সেই সময় টেসলা বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছিল। আদি প্রসাদকে কাজ করতে হয় মডেল এক্স গাড়ির জটিল ‘ফ্যালকন উইং’ দরজার উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্পে, যা তখন কোম্পানির অন্যতম কঠিন প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে তিনি কাছ থেকে ইলন মাস্কের নেতৃত্বের ধরন, সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সংস্কৃতি দেখার সুযোগ পান। তার ভাষায়, ইলন মাস্কের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা। কোনো কিছু দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে করা হচ্ছে, শুধু সেই কারণেই সেটি ঠিক এমন ধারণায় তিনি বিশ্বাস করতেন না। বরং প্রথম নীতি বা ‘ফার্স্ট প্রিন্সিপলস’ থেকে চিন্তা করে নতুন সমাধান বের করার ওপর জোর দিতেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তীতে আদি প্রসাদের উদ্যোক্তা জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। টেসলার পর তিনি অ্যাপলে প্রোডাক্ট কোয়ালিটি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। এরপর যোগ দেন উবারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী ট্রাভিস কালানিকের নতুন প্রতিষ্ঠান ক্লাউডকিচেনসে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিকের কর্মীদের একজন হিসেবে খুব কাছ থেকে একটি দ্রুত সম্প্রসারণশীল প্রযুক্তি কোম্পানির ভেতরের কার্যক্রম দেখার সুযোগ পান। আদি প্রসাদের মতে, ট্রাভিস কালানিকের কাছ থেকে তিনি শিখেছেন সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে কীভাবে বড় পরিসরে ব্যবসা গড়ে তুলতে হয়। প্রতিটি সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব, ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের সংস্কৃতি তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে আরও বাস্তববাদী হতে সাহায্য করেছে। তিনি মনে করেন, একটি সফল প্রযুক্তি কোম্পানি শুধু ভালো ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; দক্ষ বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতার পর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন আদি প্রসাদ। এরপর ২০২৫ সালে তিনি সহ-প্রতিষ্ঠা করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাটার’। চাকরির নিরাপদ জীবন ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। ম্যাটার মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে আরও দক্ষ, দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয় করার প্রযুক্তি তৈরি করছে। কোম্পানিটির লক্ষ্য এমন একটি ‘স্মার্ট ফ্যাক্টরি’ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যেখানে সফটওয়্যার, রোবট এবং এআই একসঙ্গে কাজ করে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ পরিচালনা করবে। বিশেষ করে ড্রোন, রোবোটিকস, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, শিল্পযন্ত্র এবং জটিল ইলেকট্রোমেকানিক্যাল পণ্য উৎপাদনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু সফটওয়্যার তৈরি করেই থেমে নেই প্রতিষ্ঠানটি। ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভ্যালে তারা নিজস্ব একটি আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রও পরিচালনা করছে। বাস্তব কারখানায় উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে তাদের এআই প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করে তোলা হচ্ছে। কোম্পানিটির লক্ষ্য ভবিষ্যতে এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান সহজেই ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন শিল্পেও বড় পরিবর্তন আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করতে দেশীয় কারখানায় নতুন বিনিয়োগ করছে। এই পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগাতেই ম্যাটারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআইনির্ভর উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। আদি প্রসাদের বিশ্বাস, উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কখনোই শতভাগ প্রস্তুত হওয়া সম্ভব নয়। তবে বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠানে বাস্তব সমস্যার সমাধান করার অভিজ্ঞতা একজন উদ্যোক্তাকে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস দেয়। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, বাস্তব শিল্পের অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে।
মার্কিন গায়ক ডি৪ভিডি (যার আসল নাম ডেভিড বার্ক)-এর বিরুদ্ধে কিশোরী সেলেন্টেস রিভাসকে হত্যা ও তার মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার মামলার প্রাথমিক শুনানিতে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত দাবি উত্থাপন করেছেন। আসামিপক্ষের দাবি, সেলেন্টেস খুন হননি, বরং গায়কের টেসলা গাড়ির ট্রাঙ্কে খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের আগেই তিনি নিজে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। শুক্রবার আদালতে শুনানি চলাকালে আইনজীবীরা আত্মহত্যার এই যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানিতে মেডিকেল এক্সামিনার ডক্টর গ্রান্ট হো-র সাক্ষ্যের সূত্র ধরে ডি৪ভিডি-র আইনজীবীরা দাবি করেন, সেলেন্টেসের বুকে ও পেটে পাওয়া ছুরিকাঘাতের ক্ষতগুলো তিনি নিজেই নিজের শরীরে করেছিলেন কি না তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ওই মেডিকেল এক্সামিনারের সাক্ষ্য অনুযায়ী, সেলেন্টেসের পেটের ডানপাশের একটি ক্ষত তার লিভার ফুটো করে দিয়েছিল এবং এটি অত্যন্ত ধারালো অস্ত্রের আঘাতের ফল। চিকিৎসকের কাছে আসামিপক্ষের আইনজীবী জানতে চান যে ভুক্তভোগী নিজে ওই অস্ত্রটি ধরেছিলেন কি না, জবাবে ডক্টর হো জানান, আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নিজের শরীরে আঘাত করার ক্ষেত্রে সচরাচর ইতস্তত আঘাতের চিহ্ন বা 'হেসিটেশন মার্কস' থাকে, যা এই মরদেহে মেলেনি। পাশাপাশি চিকিৎসক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, একাধিক মারাত্মক আঘাতের কারণে এটি একটি সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক শুনানির সময় গোয়েন্দা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আদালতের কাছে সেলেন্টেসের মরদেহের ওপর চালানো নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। চিকিৎসকের বিবরণ অনুযায়ী, কিশোরীর দুই হাত ও দুই পা পাওয়ার টুল বা ইলেকট্রিক করাত জাতীয় যন্ত্র দিয়ে কেটে একাধিক টুকরো করা হয়েছিল। এছাড়া আদালতে ভুক্তভোগীর কাটা মাথা, বিচ্ছিন্ন হাত-পা ও আঙুলবিহীন অংশগুলোর লোমহর্ষক ছবি প্রদর্শন করা হয়, যা দেখে আদালত কক্ষে উপস্থিত সেলেন্টেসের পরিবার ও স্বজনরা শিহরে ওঠেন। প্রসিকিউশনের আইনি নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে অভিযুক্ত গায়ক একটি উবার ট্যাক্সি ডেকে সেলেন্টেসকে তার লেক এলসিনোরের বাড়ি থেকে নিজের হলিউড হিলসের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করার পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয় এবং ছটফট করে তার মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। অভিযুক্ত গায়ক ডেভিড বার্কের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা মামলা ছাড়াও ১৪ বছরের কম বয়সী কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতন এবং মানব অবশিষ্টাংশ বিকৃত করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তিন থেকে পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রাথমিক শুনানি শেষেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অভিযুক্ত গায়কের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মূল বিচার কাজ শুরু হবে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে টেসলা গাড়ি ২৫০ ফুট গভীর খাদে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ধর্মেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে আনা হত্যা চেষ্টার সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আদালতের নির্দেশে দুই বছরের মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। ৪৫ বছর বয়সী ধর্মেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান মাটেও কাউন্টির ডেভিলস স্লাইড এলাকায় হাইওয়ে-১ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের টেসলা গাড়িটি ২৫০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেন। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় গাড়িটি নিচের পাথুরে সৈকতে আছড়ে পড়লেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি, তার স্ত্রী নেহা প্যাটেল এবং তাদের দুই সন্তান। উদ্ধারকর্মীরা গাড়ি কেটে তাদের বের করেন। তদন্তের শুরুতে প্যাটেলের স্ত্রী তদন্তকারীদের জানান, তার স্বামী ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িটি খাদে ফেলেছিলেন। অন্যদিকে প্যাটেল প্রথমে দাবি করেন, টায়ারের সমস্যার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পরে স্যান মাটেও কাউন্টির প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যাচেষ্টার তিনটি অভিযোগ দায়ের করেন। বিচার চলাকালে প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ঘটনার সময় ধর্মেশ প্যাটেল গুরুতর বিষণ্নতা ও মানসিক বিভ্রমে ভুগছিলেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তিনি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অযৌক্তিক ভয়ের মধ্যে ছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে আদালত তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন। দুই বছর ধরে চিকিৎসা, নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, ওষুধ গ্রহণ এবং আদালতের নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত সফলভাবে পালন করার পর চলতি মাসে স্যান মাটেও কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্ট তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আদালত তার পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেন। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসা স্যান মাটেও কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি স্টিভ ওয়াগস্টাফ বলেন, হত্যা চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচির মাধ্যমে ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ হওয়ার সুযোগ থাকা নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে। তার মতে, এ ধরনের মামলায় আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। ডেভিলস স্লাইডের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। একদিকে একটি পরিবারের অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে মানসিক অসুস্থতা এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর সেই বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিক্রিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই তিন মাসে কোম্পানিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের কাছে প্রায় ৫ লাখ গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। শক্তিশালী এই ফলাফলকে টেসলার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত টেসলা মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার ১২৬টি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৯৬ হাজার বেশি গাড়ি সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে টেসলা উৎপাদন করেছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৮টি গাড়ি। বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে ডেলিভারির সংখ্যাকেই বিক্রয়ের প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এ দিক থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল বাজারের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, টেসলার বিক্রি বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। ইউরোপে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা পুনরুদ্ধার, চীনের বাজারে ধারাবাহিক বিক্রি বৃদ্ধি, নতুন সংস্করণের মডেল ওয়াইয়ের জনপ্রিয়তা এবং বিভিন্ন দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য সরকারি প্রণোদনা কোম্পানিটির বিক্রি বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অঞ্চলে জ্বালানির উচ্চ মূল্যও অনেক ক্রেতাকে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করেছে। চীনের বাজারেও টেসলার ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জুন মাসে সাংহাই কারখানায় তৈরি টেসলার গাড়ির বিক্রি ও রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা কোম্পানির বৈশ্বিক বিক্রিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে শক্তিশালী ডেলিভারি প্রতিবেদন প্রকাশের পরও শেয়ারবাজারে টেসলার শেয়ারদরে কিছুটা চাপ দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা আগেই শেয়ারের দামে প্রতিফলিত হয়েছিল। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর কোম্পানির আসন্ন আর্থিক প্রতিবেদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, স্বয়ংচালিত সফটওয়্যার এবং রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের অগ্রগতির দিকে। আগামী ২২ জুলাই টেসলা তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তখন কোম্পানির আয়, মুনাফা এবং বছরের বাকি সময়ের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় বা ‘সেলফ-ড্রাইভিং’ মোডে থাকা একটি আধুনিক টেসলা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকা একটি আবাসিক ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। এই ভয়াবহ ও নজিরবিহীন সড়ক দুর্ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে থাকা এক নারী গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে টেক্সাসের কেটি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের কেটি এলাকায় মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি নিজের টেসলা মডেল-৩ গাড়িটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি চালানোর সময় চালক সেটিকে স্বয়ংক্রিয় অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেমে দিয়ে রেখেছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি হঠাৎ করেই নিজের সুনির্দিষ্ট লেন ছেড়ে সম্পূর্ণ বাইরে চলে যায় এবং তীব্র গতিতে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে সোজা রাস্তার পাশে থাকা একটি আবাসিক ভবনে সজোরে আঘাত করে। টেসলা গাড়িটির গতি এত বেশি ছিল যে, সেটি মুহূর্তের মধ্যে ওই বাড়ির শক্ত ইটের দেয়াল ভেঙে সরাসরি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। হ্যারিস কাউন্টির শেরিফ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই দুর্ঘটনার রোমাঞ্চকর ও ভয়াবহ বিবরণ দিয়ে জানানো হয়েছে, চালক মাইকেল বাটলার যখন গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, তখন টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেমটি সচল বা অপারেটিং মোডে ছিল। গাড়িটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে একটি ইটের তৈরি আবাসিক বাড়ির দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সে সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করা এম. আভিলা নামের এক সাধারণ নারীকে সরাসরি প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করে। গাড়িটির সরাসরি ধাক্কায় ওই নারী ঘরের ভেতরেই মারাত্মকভাবে পিষ্ট হয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরক এই দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় এম. আভিলাকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পরেই কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘরের ভেতরে থাকা একজন নিরীহ মানুষের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো টেক্সাস অঙ্গরাজ্য জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ এবং গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টেক্সাসের স্থানীয় তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সময় টেসলা গাড়ির চালক মাইকেল বাটলার নিজেও বেশ কিছুটা শারীরিক জখম ও আঘাত পেয়েছেন। তবে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরের ভেতর কোনো ধরণের মাদক বা অ্যালকোহলের উপস্থিতি অর্থাৎ মাতাল হওয়ার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকেই চালক বাটলার স্থানীয় পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সব ধরণের তদন্ত কাজে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। টেসলার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শেরিফ কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়ি নিয়ে ঘটা এই মারাত্মক দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে তাদের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি চলমান রয়েছে। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চালক মাইকেল বাটলার বা টেসলা কোম্পানির বিরুদ্ধে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টেসলা গাড়ির স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং মোডের নিরাপত্তা এবং এর প্রযুক্তিগত নিখুঁত কার্যকারিতা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিভিন্ন ধরণের বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
টেক্সাসের ক্যাটি শহরে একটি টেসলা গাড়ি আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘরের ভেতরে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শনিবার হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি তার টেসলা মডেল-৩ গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় গাড়িটিতে একটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য, গাড়িটি নির্ধারিত লেনে চলতে ব্যর্থ হয় এবং একপর্যায়ে সড়ক ছেড়ে পাশের একটি আবাসিক বাড়ির দিকে চলে যায়। পরে উচ্চগতিতে বাড়িটির দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন এম. আভিলা নামে এক নারী। গাড়ির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে আবাসিক এলাকার সড়ক দিয়ে ছুটে গিয়ে বাড়িটিতে আঘাত হানে। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও দুর্ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করছেন কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ফলে বাড়িটির সামনের অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইটের দেয়াল ভেঙে গাড়িটি ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চালক মাইকেল বাটলারও আহত হয়েছেন। তবে তার মধ্যে মাদক বা অ্যালকোহল সেবনের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় মহাসড়ক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএইচটিএসএ) টেসলার পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় চালনা ব্যবস্থা নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক চালনা সহায়তা প্রযুক্তি সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হলেও এসব ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই প্রযুক্তি সক্রিয় থাকলেও চালকের সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করছিল এবং চালকের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটিপতির মর্যাদার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তাঁর মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) শেয়ারবাজারে আসার পর মাস্কের মোট সম্পদের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আইপিওর জন্য প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি আইপিওর পথ তৈরি হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিওগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্লুমবার্গ ও ফোর্বসের ধনকুবেরদের তালিকা অনুযায়ী, মাস্ক আগেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তবে স্পেসএক্সের আইপিও তাঁর সম্পদের পরিমাণকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। স্পেসএক্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাস্ক কোম্পানিটির প্রায় অর্ধেক শেয়ারের মালিক। এর মধ্যে এমন কিছু শেয়ারও রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। আইপিও মূল্য অনুযায়ী স্পেসএক্সে তাঁর শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৭ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলায় তাঁর মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য যোগ করলে দুই প্রতিষ্ঠানে মাস্কের মোট অংশীদারত্বের মূল্য ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি দাঁড়ায়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা নির্ভর করছে তাঁর সম্পদ কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে তার ওপর। স্পেসএক্সের কিছু শেয়ার ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলার মতো উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এসব শর্তাধীন শেয়ার বাদ দিলে মাস্ক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিলিয়নিয়ার নন বলে ধরা হতে পারে। তবে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম আরও সামান্য বাড়লে তিনি কাগজে-কলমে ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, স্পেসএক্স ও টেসলায় মাস্কের শেয়ারের সম্মিলিত মূল্য মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের চেয়েও ১০ গুণের বেশি। বর্তমানে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের পরবর্তী চার শীর্ষ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের প্রায় সমান। এদের মধ্যে রয়েছেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। আইপিওর আগে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শুরু থেকে স্পেসএক্স প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের কারণে এই লোকসান হয়েছে। মাস্কের পারিশ্রমিক কাঠামোও প্রচলিত করপোরেট ব্যবস্থার তুলনায় ভিন্ন। তিনি সাধারণত বেতন নয়, বরং উচ্চাভিলাষী ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে যুক্ত শেয়ারভিত্তিক পুরস্কার পান। টেসলার ক্ষেত্রেও তাঁর বেশ কিছু পারিশ্রমিক কর্মদক্ষতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। শুক্রবার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা স্পেসএক্সের শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। আর যদি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৪০ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে অতিরিক্ত শর্তাধীন শেয়ারগুলো হিসাবের বাইরে রাখলেও মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
পেছনের ক্যামেরায় ত্রুটিজনিত সমস্যার কারণে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৮টি গাড়ি বাজার থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার (রিকল) ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (NHTSA) বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ত্রুটির ফলে রিভার্স গিয়ারে থাকাকালীন ক্যামেরার ছবি দেরিতে আসতে পারে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। টেসলার এই রিকল তালিকায় রয়েছে ২০১৭ এবং ২০২১-২০২৩ সালের মডেল ৩, ২০২০-২০২৩ সালের মডেল ওয়াই এবং ২০২১-২০২৩ সালের মডেল এস ও মডেল এক্স সিরিজের নির্দিষ্ট কিছু গাড়ি। এসব গাড়িতে ‘২০২৬.৮.৬’ সফটওয়্যার সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এনএইচটিএসএ জানিয়েছে, রিয়ারভিউ ক্যামেরার ছবি সময়মতো না আসা ফেডারেল নিরাপত্তা মানদণ্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে এই ত্রুটি সংশোধনে গাড়ি মালিকদের কোনো ওয়ার্কশপে যেতে হবে না। টেসলা ইতিমধ্যে একটি ‘ওভার-দ্য-এয়ার’ (OTA) সফটওয়্যার আপডেট প্রকাশ করেছে, যা বিনামূল্যে ডাউনলোড ও ইনস্টল করা যাবে। এই আপডেটের মাধ্যমে ক্যামেরার বিলম্বিত ছবি আসার সমস্যাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হয়ে যাবে। আগামী ৩ জুলাই থেকে টেসলা ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিফিকেশন চিঠি পাঠানো শুরু করবে। এর বাইরে কোনো প্রশ্ন থাকলে গ্রাহকদের টেসলার কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, টেসলার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই পদক্ষেপটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে।
ইলেকট্রিক গাড়ির জগতে বিপ্লব ঘটানো ইলন মাস্কের কোম্পানি টেসলা এবার সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন একটি প্রজেক্টে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই নতুন মডেলটি হবে একটি কমপ্যাক্ট এসইউভি (SUV), যা বর্তমানে বাজারে থাকা টেসলার জনপ্রিয় মডেল ‘মডেল ওয়াই’ (Model Y) এর চেয়ে আকারে ছোট হবে। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪.২৮ মিটার। দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ির জন্য টেসলা ভক্তরা অপেক্ষায় থাকলেও মাঝে রোবোট্যাক্সি এবং হিউম্যানয়েড রোবট প্রজেক্টের দিকে বেশি নজর দিয়েছিল কোম্পানিটি। তবে সম্প্রতি আবারও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গাড়ি আনার পরিকল্পনা শুরু করেছে তারা। এই নতুন মডেলটির উৎপাদন মূলত চীনে শুরু হবে, তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কারখানাতেও এটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কম্পোনেন্ট এবং যন্ত্রাংশ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরবরাহকারীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে টেসলা কর্তৃপক্ষ। যদিও এর আগে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি সাশ্রয়ী মডেলের প্রজেক্ট স্থগিত করা হয়েছিল, তবে বর্তমান বাজারের প্রতিযোগিতা এবং ইলেকট্রিক গাড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে টেসলা এই নতুন পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।