আমেরিকা

বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ, তবুও অর্ধেকের বেশি আমেরিকানের ৫০০ ডলারের জরুরি খরচ মেটানোর সামর্থ্য নেই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৮:৩৭
বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ, তবুও অর্ধেকের বেশি আমেরিকানের ৫০০ ডলারের জরুরি খরচ মেটানোর সামর্থ্য নেই
বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ, তবুও অর্ধেকের বেশি আমেরিকানের ৫০০ ডলারের জরুরি খরচ মেটানোর সামর্থ্য নেই

যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি কর্মী হঠাৎ করে আসা ৫০০ ডলারের জরুরি খরচ নিজেদের সঞ্চয় থেকে মেটাতে অক্ষম। সম্প্রতি কর্মস্থলের জরুরি সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিকিউরসেভ (SecureSave)-এর ২০২৬ সালের 'ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্রেস সার্ভে'-তে আমেরিকান ভোক্তাদের স্বল্পমেয়াদী সঞ্চয় অভ্যাসের এই চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের তথ্যমতে, ২৬ শতাংশ উত্তরদাতার কোনো জরুরি সঞ্চয় নেই এবং ৬৭ শতাংশের কাছে তিন মাসেরও কম সময়ের খরচ জমানো রয়েছে। এক্ষেত্রে নারীদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক বেশি নাজুক; যেখানে ৩৭ শতাংশ পুরুষের এক মাসেরও কম জরুরি সঞ্চয় রয়েছে, সেখানে নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৫৩ শতাংশ।

 

সঞ্চয়ের এই চরম ঘাটতির কারণে আমেরিকানরা মারাত্মক আর্থিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে তারা চিকিৎসা, খাবার বা গাড়ি মেরামতের মতো অতিপ্রয়োজনীয় খরচগুলো বাধ্য হয়ে বাদ দিয়েছেন। এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ৫৬ শতাংশ মানুষ মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার মানসিক ও আর্থিক চাপে ভুগছেন। সিকিউরসেভ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুজ ওরমান এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গাড়ি মেরামতের মতো কারণে কারও খাবার বা চিকিৎসায় ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, জরুরি সঞ্চয় কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি জীবনের অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করার অন্যতম হাতিয়ার।

 

এই আর্থিক টানাপোড়েন কর্মীদের পেশাগত জীবনেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রায় ৩৮ শতাংশ কর্মী গত ছয় মাসে আর্থিক সমস্যার কারণে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিলেন এবং ২৮ শতাংশ স্বীকার করেছেন যে আর্থিক জরুরি অবস্থা তাদের কাজের মান কমিয়ে দিয়েছে। সিকিউরসেভ-এর আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভিন মিলার জানান, আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা লাখো কর্মীর জন্য হঠাৎ গাড়ি নষ্ট হওয়া বা অপ্রত্যাশিত চিকিৎসা ব্যয় এমন এক ধাক্কা, যা তাদের ঋণ নিতে বা অবসরের সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য করে। জরিপে দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ মানুষ ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় থেকে অর্থ তুলে নিয়েছেন বা জমানো কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি ১৪ শতাংশ কর্মী মনে করছেন তারা হয়তো কখনোই অবসরে যেতে পারবেন না।

 

এই চরম পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কর্মীরা এখন নিয়োগকর্তাদের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। ৬৭ শতাংশ কর্মী মনে করেন, জরুরি সঞ্চয় তহবিলে নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে বার্ষিক ২০০ ডলারের অনুদান তাদের আর্থিক চাপ কমিয়ে কাজের মান বাড়াতে সাহায্য করবে। ৫৯ শতাংশ কর্মী জানান, এমন সুবিধা পেলে বর্তমান কর্মস্থলে তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। সিকিউরসেভ-এর গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়োগকর্তা-স্পনসরড জরুরি সঞ্চয় কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে; যার ফলে গত এক বছরে কর্মীদের গড় জরুরি সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের জুনের ৮২৯ ডলার থেকে ২০২৬ সালের জুনে ৯২৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
(ডান থেকে): এমডি এন. ইসলাম ও মোহাম্মদ জেড. ইসলাম(ছবি: রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ বিভাগ)
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সেজে ২৫ হাজার ডলার প্রতারণা, নিউ জার্সিতে গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের রিভারসাইড টাউনশিপে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী পরিচয়ে এক নারীর কাছ থেকে ২৫ হাজার ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগে (থার্ড ডিগ্রি থেফট বাই ডিসেপশন) মামলা দায়ের করা হয়েছে।   রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর কম্পিউটারে একটি ভুয়া সতর্কবার্তা বা পপ-আপ আসে। সেখানে দাবি করা হয়, তার কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং সহায়তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।   প্রতারক ভুক্তভোগীকে জানায়, তার কম্পিউটারের সমস্যার কারণে ব্যাংকের নেটওয়ার্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং বিষয়টি এফবিআই পর্যন্ত গড়াতে পারে। কথিত সেই ঝুঁকি এড়াতে তাকে ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার ডলার নগদ তুলে বাড়ির বাইরে একটি বাক্সে রেখে দিতে বলা হয়, যাতে ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীরা এসে অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন।   পুলিশ জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী ভুক্তভোগী ২৫ হাজার ডলার নগদ তুলে নির্ধারিত স্থানে রেখে দেন। কিছুক্ষণ পর একজন এসে সেই অর্থ নিয়ে চলে যায়। পরে প্রতারক চক্র আবার যোগাযোগ করে আরও ৩০ হাজার ডলার দাবি করলে ভুক্তভোগীর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি বিষয়টি রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশকে জানান।   অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের গোয়েন্দারা ভুক্তভোগীর সহযোগিতায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং আরও অর্থ দেওয়ার নামে একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করেন। নির্ধারিত সময়ে অর্থ নিতে এলে ঘটনাস্থল থেকেই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম এমডি এন. ইসলাম (৪৮) এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম (৫৮)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এমডি এন. ইসলাম নিউ জার্সির এগ হারবার টাউনশিপ এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম ওয়েস্টভিল এলাকার বাসিন্দা। আদালতে হাজিরার সমনের শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ জেড. ইসলামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এবং এমডি এন. ইসলামের বাড়ি নড়াইল জেলায়। তবে এই তথ্য রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ বা মার্কিন মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেনি এবং স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রযুক্তি সহায়তা কর্মী কিংবা সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, কোনো ব্যাংক বা সরকারি সংস্থা কখনো গ্রাহককে ফোন করে নগদ অর্থ তুলে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলে না। এ ধরনের নির্দেশনা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ এবং স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ একই ধরনের প্রতারণার শিকার ব্যক্তি বা এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানা থাকলে তাদের গোয়েন্দা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে অভিযোগে নতুন তথ্য যুক্ত হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৯:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদ কমেছে, কিন্তু রিফাইন্যান্সিংয়ের আগে জেনে নিন ৫ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদ কমেছে, কিন্তু রিফাইন্যান্সিংয়ের আগে জেনে নিন ৫ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ, তবুও অর্ধেকের বেশি আমেরিকানের ৫০০ ডলারের জরুরি খরচ মেটানোর সামর্থ্য নেই

বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ, তবুও অর্ধেকের বেশি আমেরিকানের ৫০০ ডলারের জরুরি খরচ মেটানোর সামর্থ্য নেই

যুক্তরাষ্ট্রে আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে দিশেহারা মানুষ, বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে একাধিক কাজ

যুক্তরাষ্ট্রে আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে দিশেহারা মানুষ, বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে একাধিক কাজ

মোক্র্যাট আইনপ্রণেতা মার্সি কাপ্তুর
যুক্তরাষ্ট্রের হাইওতে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত ৮০ বছরের মার্কিন আইনপ্রণেতা মার্সি কাপ্তুর

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রবীণ ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা মার্সি কাপ্তুর। ৮০ বছর বয়সী এই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রবিবার সকালে চার্চে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে তার আঘাত জীবনসংহারী বা গুরুতর নয়। দুর্ঘটনার পর তিনি পুরোপুরি সজাগ ও সক্রিয় রয়েছেন বলেও বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও টলেডো পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, রবিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার ঠিক আগে দুটি গাড়ির মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এটিকে একটি ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ বা ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ঘটনার সময় কংগ্রেসওম্যান মার্সি কাপ্তুর গাড়ির যাত্রী আসনে বসা ছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়া অপর গাড়িটির চালককে ধরতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।   মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের রেকর্ড অনুযায়ী, মার্সি কাপ্তুর দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী নারী আইনপ্রণেতা। দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে তিনি প্রতিনিধি পরিষদে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আসন্ন শরৎকালীন নির্বাচনে ওহাইও আইনসভার সাবেক রিপাবলিকান সদস্য ডেরেক মেরিনের বিপরীতে পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা রয়েছে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৭:৪৩
ছবি: সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব ফখরুল ইসলাম (সংগৃহীত)

যুক্তরাষ্ট্র সফরে নোয়াখালী-৫ আসনের এমপি আলহাজ্জ্ব ফখরুল ইসলামকে মেরিল্যান্ডে গণসংবর্ধনা

অ্যারিজোনায় বাবাই অপহরণ করলেন ১১ দিনের সন্তান, ২০০ মাইল দূরে উদ্ধার করল পুলিশ

অ্যারিজোনায় বাবাই অপহরণ করলেন ১১ দিনের সন্তান, ২০০ মাইল দূরে উদ্ধার করল পুলিশ

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাড়িতে ঢুকে নারীকে বেঁধে ভয়াবহ ডাকাতি, লুট ৩ লাখ ৪৩ হাজার ডলারের সম্পদ

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাড়িতে ঢুকে নারীকে বেঁধে ভয়াবহ ডাকাতি, লুট ৩ লাখ ৪৩ হাজার ডলারের সম্পদ

পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েও হার মানেননি, ৭ ফুট ৩ ইঞ্চির সাবেক বাস্কেটবল তারকা হলেন টেক্সাসের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তা
পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েও হার মানেননি, ৭ ফুট ৩ ইঞ্চির সাবেক বাস্কেটবল তারকা হলেন টেক্সাসের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তা

সাবেক পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড় ৭ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার জর্ডান 'টিনি' উইলমোর টেক্সাসের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তা হতে যাচ্ছেন। টেক্সাস কমিশন অন ল এনফোর্সমেন্ট (টিসিওএলই)-এর লাইসেন্সিং পরীক্ষায় প্রথমবার মাত্র এক নম্বরের জন্য ব্যর্থ হলেও, অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। টেক্সাসের কেমাহ পুলিশ বিভাগে যোগ দেওয়ার দীর্ঘ যাত্রায় শেষ বাধাটি পেরিয়ে তিনি এখন চূড়ান্তভাবে সফল। আগামী ৭ জুলাই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ পড়ানো হবে। পরীক্ষায় পাসের খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত জর্ডান বলেন, "আমি বুঝতে পারছি না আমার কেমন লাগছে। আমি আনন্দে কাঁদতে চাই, চিৎকার করতে চাই। আমি সত্যিই ভীষণ খুশি।"   জর্ডানের পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার এই যাত্রাটি ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। নর্থওয়েস্টার্ন স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম-কমার্স-এর হয়ে কলেজ বাস্কেটবল খেলার পর তিনি পেশাদার লিগেও অংশ নিয়েছিলেন। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে একসময় তিনি বাস্কেটবলকে চিরতরে বিদায় জানান। ২০২৫ সালের আগস্টে কেমাহ পুলিশ বিভাগ তাদের এই নতুন রিক্রুটকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়। উইকস মেরিন-এর স্পন্সরে পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষণ শেষ করলেও দুর্ভাগ্যবশত সে বছর রাজ্যের লাইসেন্সিং পরীক্ষায় মাত্র এক পয়েন্টের জন্য ফেল করেন তিনি। তবে হাল না ছেড়ে আরও সিরিয়াস হয়ে মাসের পর মাস পড়াশোনা চালিয়ে যান এই তরুণ।   তার এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে পাশে এসে দাঁড়ান এনবিএ কিংবদন্তি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দীর্ঘদিনের সমর্থক শাকিল ওনিল। গত ডিসেম্বরে কেমাহ পুলিশ বিভাগে এসে জর্ডানকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয়বারের জন্য পুলিশ অ্যাকাডেমির পুরো খরচ বহনের দায়িত্ব নেন এই কিংবদন্তি তারকা। তার এই অসামান্য অধ্যবসায় কেমাহ পুলিশ বিভাগেরও আস্থা অর্জন করেছে। চিফ রেমন্ড গারিভে এক ফেসবুক পোস্টে জর্ডানকে অভিনন্দন জানিয়ে ৭ জুলাইয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে লম্বা পুলিশ কর্মকর্তাদের এলিট ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছেন, যেখানে আগে থেকেই রয়েছেন ৭ ফুট ৮ ইঞ্চির জর্জ বেল এবং ৭ ফুট ১ ইঞ্চির শাকিল ওনিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৬:৪০
নিউজার্সিতে অসচেতন চালকদের ধরতে গাছ সেজে পুলিশের অভিনব অভিযান, ফাঁদে পড়লেন ৭৪ চালক

নিউজার্সিতে অসচেতন চালকদের ধরতে গাছ সেজে পুলিশের অভিনব অভিযান, ফাঁদে পড়লেন ৭৪ চালক

কান্নাকাটি করায় ৬ মাসের শিশুকে ছুড়ে ফেলে টিকটক ও পর্নোগ্রাফিতে মগ্ন মা, প্রাণ গেল শিশুপুত্রের

কান্নাকাটি করায় ৬ মাসের শিশুকে ছুড়ে ফেলে টিকটক ও পর্নোগ্রাফিতে মগ্ন মা, প্রাণ গেল শিশুপুত্রের

৫০০ আবেদনেও মিলছে না চাকরি: যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে দীর্ঘ বেকারত্বে বাড়ছে বাংলাদেশিদের উদ্বেগ

৫০০ আবেদনেও মিলছে না চাকরি: যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে দীর্ঘ বেকারত্বে বাড়ছে বাংলাদেশিদের উদ্বেগ

0 Comments