সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

৪০তম বিবাহবার্ষিকীর পরদিনই নর্থ ক্যারোলাইনায় দম্পতির লাশ উদ্ধার, খুনের পর আত্মহত্যার সন্দেহ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২৩:২৭
মৃত্যুর কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এক ফ্রেমে নিহত স্টিফেন ও ট্রেসি উইলেটস। ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যুর কিছুদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এক ফ্রেমে নিহত স্টিফেন ও ট্রেসি উইলেটস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে ৪০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের মাত্র একদিন পর নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

 

নিউ হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে উইলমিংটনে অবস্থিত নিজ বাড়ি থেকে স্টিফেন লার্নেল উইলেটস এবং তার স্ত্রী ট্রেসি পার্কার উইলেটসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের ধারণা, ট্রেসি প্রথমে তার স্বামী স্টিফেনকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজের ওপরও গুলি চালান। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তদন্ত এখনো চলছে।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডব্লিউএওয়াই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দম্পতির একটি স্মার্টওয়াচ হঠাৎ পড়ে যাওয়ার ঘটনা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল পাঠায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সতর্কবার্তা বাতিল না হওয়ায় জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। এরপরই বাড়ির ভেতরে দুইজনের মরদেহ পাওয়া যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিবারের শেয়ার করা তথ্য থেকে জানা যায়, বুধবারই স্টিফেন ও ট্রেসি তাদের ৪০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দম্পতি প্যাডেলবোর্ডিং খেলায় আগ্রহী ছিলেন এবং রাইটসভিল বিচ এলাকার প্যাডেলবোর্ডিং সম্প্রদায়ে সুপরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রতিবেশীদের একজন স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউইসিটি-কে জানান, স্টিফেন উইলেটস মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন।

 

অন্যদিকে, ট্রেসির আত্মীয় পরিচয় দেওয়া ফুলার রয়্যাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, স্টিফেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবাকর্মী (ইএমটি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

রয়্যাল আরও জানান, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মধ্যে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দম্পতি তাদের দুই ছেলেকে হারিয়েছিলেন। তিনি লেখেন, “এত বড় শোক তারা কীভাবে সহ্য করেছেন, তা কল্পনা করাও কঠিন। আমি প্রার্থনা করি, তারা যেন আবার তাদের সন্তানদের সঙ্গে শান্তিতে মিলিত হন।”

 

নিউ হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা হচ্ছে না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রজন্মের ঋণের বোঝা আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মিলেনিয়ালদের তুলনায় একই বয়সে বেশি ঋণের বোঝা জেন জির, তরুণদের জন্য সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রজন্মের ঋণের বোঝা আগের প্রজন্মের তুলনায় বেড়েছে। ক্রেডিট রিপোর্টিং সংস্থা ট্রান্সইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, জেনারেশন জি বা জেন জেডের সদস্যরা একই বয়সে মিলেনিয়াল প্রজন্মের তুলনায় বেশি ঋণ বহন করছেন। মূল্যস্ফীতির প্রভাব সমন্বয় করেও এই পার্থক্য দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও ঋণ পরিশোধের চাপ তরুণদের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত ইনভেস্টিগেটটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদক র‍্যাচেল ডিপম্পা জানান, ট্রান্সইউনিয়নের তথ্য তরুণদের ঋণের পরিস্থিতিতে প্রজন্মগত পার্থক্য তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে একজন ক্রেডিট কাউন্সেলর তরুণদের আর্থিক চাপ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন।   সাধারণভাবে ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জেন জি এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের মিলেনিয়াল বলা হয়। বর্তমানে জেন জির একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে চাকরি শুরু করছেন, আবার কেউ উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নিজেদের দৈনন্দিন খরচ সামলাচ্ছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের ঋণের অন্যতম উৎস স্টুডেন্ট লোন, ক্রেডিট কার্ড এবং গাড়ি কেনার জন্য নেওয়া অটো লোন। এসব ঋণের মাসিক কিস্তির পাশাপাশি বাসাভাড়া, খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হয়। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়তে পারে।   তরুণদের ঋণের পরিস্থিতি এমন এক সময়ে আলোচনায় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিকভাবে পরিবারের ঋণও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ইনভেস্টিগেটটিভির আরেক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য উল্লেখ করে জানানো হয়, বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির মোট পারিবারিক ঋণ রেকর্ড ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করছে।   ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি তা নিয়মিত পরিশোধ করতে পারাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ডের উচ্চ সুদ দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রাখলে মোট ঋণের পরিমাণ বাড়তে পারে। নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধ না করলে ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভবিষ্যতে গাড়ি কেনা, মর্টগেজ নেওয়া কিংবা অন্য ঋণের জন্য আবেদন করার সময় এর প্রভাব পড়তে পারে।   আর্থিক পরামর্শদাতারা সাধারণত আয় অনুযায়ী মাসিক বাজেট তৈরি, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং বেশি সুদের ঋণ আগে পরিশোধের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ এবং ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধের অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবন শুরু করছেন অথবা প্রথম গাড়ি ও বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ, সুদের হার এবং মাসিক পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। ট্রান্সইউনিয়নের তথ্য তরুণ প্রজন্মের আর্থিক চাপ বোঝার পাশাপাশি ভবিষ্যতের ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।   সূত্র: ইনভেস্টিগেটটিভি

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৯:৩৯
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সাফল্যের দাবি জেডি ভ্যান্সের, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে জবাব দিলেন  মেয়র মামদানি

নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সাফল্যের দাবি জেডি ভ্যান্সের, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে জবাব দিলেন মেয়র মামদানি

নিউইয়র্কে হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা ও কম খরচে সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ইন্স্যুরেন্স ছাড়াও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন যেসব হাসপাতালে

করোনাকালীন সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা

করোনা মহামারির সময়ে সরকারি সহায়তার ২১ লাখ ডলার আত্মসাৎ , ব্যবসায়ীর সাড়ে ছয় বছর কারাদণ্ড

নিউইয়র্কে উচ্চ খরচ ও ভাষাগত সমস্যার কারণে ডেন্টাল চিকিৎসায় অসুবিধায় পড়েন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত
জ্যাকসন হাইটস ও ব্রঙ্কসে বাংলা ভাষায় কম খরচে ডেন্টাল সেবার দিচ্ছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ওয়ালী খান

নিউইয়র্কে দাঁতের চিকিৎসার উচ্চ খরচ ও ভাষাগত সমস্যার কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসাসেবা নিতে অসুবিধায় পড়েন। বিশেষ করে যাঁদের ডেন্টাল ইন্স্যুরেন্স নেই, তাঁদের জন্য চিকিৎসার খরচ বড় উদ্বেগের বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস ও ব্রঙ্কসে বাংলা ভাষায় ডেন্টাল সেবার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ড. ওয়ালী খানের প্রতিষ্ঠানে। তাঁর চেম্বারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইন্স্যুরেন্সবিহীন রোগীদের জন্যও কম খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।   ড. ওয়ালী খান একজন ডক্টর অব ডেন্টাল সার্জারি (ডিডিএস)। তিনি নিউইয়র্কে এএল ডেন্টাল কেয়ার পিসির সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কুইন্স ও ব্রঙ্কসের রোগীদের বিভিন্ন ধরনের দাঁত ও মুখের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। বাংলা ভাষায় যোগাযোগের সুযোগ থাকায় ইংরেজিতে নিজের শারীরিক সমস্যা বিস্তারিত বোঝাতে অসুবিধা হয়, এমন রোগীদের জন্য এই সেবা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।   প্রকাশিত পেশাগত পরিচিতিতে ড. ওয়ালী খানের সঙ্গে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে। তাঁর ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর ডিগ্রি অর্জনের সাল এবং বোর্ড সার্টিফিকেশনের নির্দিষ্ট তথ্য আনুষ্ঠানিক নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।   ড. ওয়ালী খানের চেম্বারের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দি, উর্দু, নেপালি এবং স্প্যানিশ ভাষায় যোগাযোগের সুবিধা রয়েছে। ফলে বিভিন্ন ভাষাভাষী রোগীরা দাঁতের সমস্যা, চিকিৎসার ধরন এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নিজেদের পরিচিত ভাষায় আলোচনা করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় কোন ভাষায় সেবা পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।   এএল ডেন্টাল কেয়ারের প্রকাশিত সেবার তালিকায় রয়েছে নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ, টিথ ক্লিনিং, টিথ হোয়াইটেনিং, ক্যাভিটি ফিলিং, রুট ক্যানেল, ক্রাউন, ব্রিজ, ভিনিয়ার, ডেনচার এবং দাঁত তোলার চিকিৎসা। পাশাপাশি মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মুখে দুর্গন্ধ, ভাঙা দাঁত ও মুখের অন্যান্য সমস্যার চিকিৎসার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী কোন চিকিৎসা প্রয়োজন এবং তার খরচ কত হবে, তা ডেন্টিস্টের পরীক্ষার পর নির্ধারিত হয়।   প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ডেন্টাল ইন্স্যুরেন্স গ্রহণ করা হয়। ইন্স্যুরেন্স নেই এমন রোগীদের জন্য কম খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান গ্রহণ করা হবে কি না, চিকিৎসার কত অংশ ইন্স্যুরেন্স বহন করবে এবং রোগীকে নিজের পকেট থেকে কত টাকা দিতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্ল্যান ও চিকিৎসার ধরনের ওপর নির্ভর করে।   ব্রঙ্কসের হোয়াইট প্লেইনস রোড এলাকায় ড. ওয়ালী খানের চেম্বারের ঠিকানা হিসেবে ১২৬৮ হোয়াইট প্লেইনস রোড এবং ১২২১ হোয়াইট প্লেইনস রোডের তথ্য পাওয়া যায়। তবে এই দুটি ঠিকানার মধ্যে কোনটি বর্তমানে কার্যকর, তা নিশ্চিত নয়। জ্যাকসন হাইটসের চেম্বারের বর্তমান ঠিকানা, অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় এবং ওয়াক-ইন রোগী গ্রহণের বিষয়টিও সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নেওয়া উচিত।   নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য নিজের ভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে ডেন্টাল চিকিৎসা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের বর্তমান লাইসেন্স, চেম্বারের অবস্থান, ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ এবং সম্ভাব্য খরচ যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে বড় ধরনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আগেই লিখিত খরচের হিসাব সংগ্রহ করলে রোগীরা আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারবেন।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৮:১৭
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে অজ্ঞান করে জোরপূর্বক গর্ভপাত, দোষ স্বীকার সাবেক সেনা ক্যাডেটের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে অজ্ঞান করে জোরপূর্বক গর্ভপাত, দোষ স্বীকার সাবেক সেনা ক্যাডেটের

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্ট্যাটাস পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিবাসীদের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্ট্যাটাস পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কোটি ডলারের প্রতারণা, ১৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের আশঙ্কা

নিউইয়র্কের রাস্তায় গাড়ির পাশে নামাজ আদায়ের ছবি
নিউইয়র্কের রাস্তায় গাড়ির পাশে নামাজ আদায়ের ছবি নিয়ে আলোচনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তার মাঝামাঝি একটি হলুদ ট্যাক্সির পাশে এক ব্যক্তিকে নামাজ আদায়রত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, ব্যস্ত সড়কে এভাবে নামাজ আদায় করা কতটা প্রয়োজনীয় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় গাড়ির ভেতরে নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে কি না।   ছবিতে দেখা যায়, আবাসিক ভবনঘেরা একটি সড়কে হলুদ ট্যাক্সির পেছনের দিকে নীল পোশাক পরা এক ব্যক্তি নামাজ আদায়ের ভঙ্গিতে রয়েছেন। তাঁর আশপাশে আরও কয়েকটি গাড়ি রয়েছে। তবে ছবিটি ঠিক কবে এবং কোথায় তোলা হয়েছে কিংবা ওই ব্যক্তি কেন সড়কে নামাজ আদায় করছিলেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। কেউ ব্যক্তিটির ধর্মীয় অনুশাসন পালনের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, যানবাহন চলাচলের সড়কে নামাজ আদায়ের পরিবর্তে নিরাপদ কোনো স্থান বেছে নেওয়া যেত কি না। বিশেষ করে গাড়ির ভেতরে বসেও নামাজ আদায়ের সুযোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।   ইসলামি শরিয়তে ফরজ ও নফল নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু বিধানগত পার্থক্য রয়েছে। সহিহ বুখারির ৪০০ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সফরের সময় বাহনে বসে নফল নামাজ আদায় করতেন। তবে ফরজ নামাজের সময় বাহন থেকে নেমে কিবলামুখী হয়ে নামাজ আদায় করতেন।   ইসলামি ফিকহবিষয়ক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সক্ষম ব্যক্তির জন্য ফরজ নামাজে দাঁড়ানো এবং কিবলামুখী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে গাড়ি থামিয়ে নিরাপদ স্থানে নেমে ফরজ নামাজ আদায় করাই নিয়ম। তবে অসুস্থতা, নিরাপত্তাঝুঁকি কিংবা গাড়ি থেকে নামার সুযোগ না থাকার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায়ের বিশেষ বিধান রয়েছে।   মালয়েশিয়ার ফেডারেল টেরিটরি মুফতি দপ্তরের ব্যাখ্যাতেও গাড়িতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ফরজ ও নফল নামাজের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে সফরকালে বাহনে নফল নামাজ আদায়ের সুযোগ থাকলেও ফরজ নামাজের জন্য সম্ভব হলে যথাযথভাবে দাঁড়িয়ে এবং কিবলামুখী হয়ে নামাজ পড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির ব্যক্তিটি ফরজ নাকি নফল নামাজ আদায় করছিলেন, তাঁর সামনে বিকল্প নিরাপদ স্থান ছিল কি না কিংবা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি সেখানে নামাজ পড়েছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়াই ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা সমীচীন হবে না।   ঘটনাটি ধর্মীয় অনুশাসন পালনের পাশাপাশি জননিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কে অবস্থান করলে নিজের এবং অন্য পথচারী ও যানবাহন ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। নামাজ আদায়ের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের গুরুত্বও রয়েছে।   সূত্র: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবি; সহিহ বুখারি, হাদিস ৪০০; মালয়েশিয়ার ফেডারেল টেরিটরি মুফতি দপ্তরের গাড়িতে নামাজ আদায়সংক্রান্ত ফতোয়া।  

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৪:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কর্মীদের গর্ভপাত ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা কমানোর পরিকল্প

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কর্মীদের গর্ভপাত ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা কমানোর পরিকল্পন ট্রাম্প প্রশাসনের

গর্ভবতী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও আইনি সুরক্ষার বিধান শিথিল করার উদ্যোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক

গর্ভবতী কর্মীদের সুরক্ষা কমানোর ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ, বাড়ছে উদ্বেগ

বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন বাবা-মা, হামাগুড়ি দিয়ে সড়কে উঠে ১ বছরের শিশুর মৃত্যু

বাড়ির আঙিনায় কাজ করছিলেন বাবা-মা, হামাগুড়ি দিয়ে সড়কে উঠে ১ বছরের শিশুর মৃত্যু

0 Comments