নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সাফল্যের দাবি জেডি ভ্যান্সের, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে জবাব দিলেন মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দেওয়া একটি পোস্টের জবাবে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। কোনো কথা না লিখে মাত্র ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দিয়ে ভ্যান্সের দাবিকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে দুই নেতার এই অনলাইন পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক মহলেও নজর কেড়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হোয়াইট হাউসের তৈরি একটি গ্রাফিক পোস্ট করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নিউইয়র্কে অপরাধ কমানো, কর্মজীবী পরিবারের কর ছাড় এবং বড় ধরনের বিনিয়োগের সাফল্য তুলে ধরা হয়। পোস্টের সঙ্গে ভ্যান্স লেখেন, নিউইয়র্কের মানুষের পাশে রয়েছে তাঁর প্রশাসন। গ্রাফিকে অপরাধের হার কমা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করা হয়।
ভ্যান্সের ওই পোস্টের জবাবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা অলি বি। এতে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মীদের মতো উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা এক ব্যক্তি সাবওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার সময় তিনি এমনভাবে হাত নাড়ছেন, যেন তাঁর নির্দেশেই ট্রেনটি থামছে। এরপর যাত্রীদের ওঠার জন্য স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলার সময়ও তিনি সেটি নিজের কৃতিত্ব হিসেবে দেখানোর ভঙ্গি করেন।
ভিডিওর শেষ অংশে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ভান করেন। পুরো দৃশ্যটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচলের কৃতিত্ব তিনি নিজেই নিতে চাইছেন। মামদানি ভিডিওটির সঙ্গে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা দেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনেকে এটিকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সাফল্যের কৃতিত্ব ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়ার দাবির প্রতি ব্যঙ্গাত্মক জবাব হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশ করেছিলেন অলি বি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিশ্রমী কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। মামদানি সেই পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে ভ্যান্সের পোস্টের জবাব দেওয়ার পর সেটি নতুন করে ভাইরাল হয়। বিষয়টি জানতে পেরে অলি বিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং মেয়রের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানান।
এদিকে ভ্যান্সের প্রকাশিত গ্রাফিকের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক্সের ব্যবহারকারীদের দেওয়া কমিউনিটি নোটে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি করা ৪৭২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির সবটাই নিউইয়র্কের জন্য নির্ধারিত নয়। এর মধ্যে মাইক্রন ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পের বিনিয়োগও রয়েছে। একইভাবে হত্যাকাণ্ড কমার একটি পরিসংখ্যান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্কে অপরাধ কমানো ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের কৃতিত্ব নিয়ে এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সাফল্য ভোটারদের সামনে তুলে ধরছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট মেয়র মামদানির এই ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে তাঁর ভিডিওতে ভ্যান্সের দাবি করা প্রতিটি তথ্যের সরাসরি খণ্ডন করা হয়নি।
সংবাদসূত্র: ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এক্স পোস্ট , নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির এক্স পোস্ট ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreরাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আগামী বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর হোয়াইট হাউসে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সরাসরি আলোচনায় যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহর ও আশপাশের এলাকায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে বিবৃতিতে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় হোয়াইট হাউসে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। মার্কিন প্রশাসন এই উদ্যোগকে দেশটির ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিরা সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিলেও সরাসরি যুদ্ধরত দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনায় আনার উদ্যোগ তুলনামূলক বিরল। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কারা অংশ নেবেন এবং কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এদিকে আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বার্লিনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফেব্রুয়ারির পর এটি হবে তিন দেশের প্রতিনিধিদের প্রথম সরাসরি ত্রিপক্ষীয় আলোচনা। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আবুধাবির আলোচনায় ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি নিরাপদ রাখতে কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এর আগে ক্রেমলিন জেলেনস্কিকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানায়। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সেই প্রস্তাবকে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন। কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিউশুভাখা গ্রামে একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র ও আশ্রয়স্থলে রুশ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে পৌঁছেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্তত ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ। চলতি মাসে পোল্যান্ডে বড় ধরনের সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে ব্রিটিশ সেনা ও রয়্যাল এয়ার ফোর্সের যুদ্ধবিমান। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে ১১টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৮০০ সামরিক সদস্যের অংশগ্রহণে এই মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য শান্তিরক্ষী মিশনে হামলা হলে আত্মরক্ষার ব্যবস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত অব্যাহত থাকলেও ওয়াশিংটন, কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে বৃহস্পতিবারের বৈঠক এবং পরবর্তী সপ্তাহে আবুধাবির ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দিকে। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে মিলেনিয়ালদের তুলনায় একই বয়সে বেশি ঋণের বোঝা জেন জির, তরুণদের জন্য সতর্কতা
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সাফল্যের দাবি জেডি ভ্যান্সের, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে জবাব দিলেন মেয়র মামদানি
নিউইয়র্কে ইন্স্যুরেন্স ছাড়াও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন যেসব হাসপাতালে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে করোনা মহামারির সময় সরকারি সহায়তা কর্মসূচি থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ২১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার দায়ে এক ব্যক্তিকে সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২১ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৭ ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম নিকেনসন জিন মাথুরিন। ৪৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিউ জার্সির সাসেক্স কাউন্টির স্পার্টা এলাকার বাসিন্দা। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ট্রেনটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক মাইকেল এ শিপ মাথুরিনকে ৭৮ মাসের কারাদণ্ড দেন। কারাভোগ শেষে তাঁকে আরও তিন বছর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। এর আগে চলতি বছরের ২১ মে চার দিনের বিচার শেষে জুরি বোর্ড তাঁকে তিনটি ওয়্যার ফ্রড বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা এবং একটি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে প্রতারণামূলক কার্যক্রম শুরু করেন মাথুরিন। সে সময় করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ে। ব্যবসা সচল রাখা এবং কর্মীদের বেতন পরিশোধে সহায়তা দিতে ফেডারেল সরকার পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) এবং ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন (ইআইডিএল) কর্মসূচির মাধ্যমে জরুরি আর্থিক সহায়তা চালু করেছিল। তদন্তকারীরা জানান, সরকারি এসব কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে মাথুরিন নিজের মালিকানাধীন বলে দাবি করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ১৫টি ভুয়া ঋণ আবেদন জমা দেন। আবেদনগুলোতে প্রতিষ্ঠানের মাসিক বেতন ব্যয়, মোট আয় এবং কর্মীর সংখ্যা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল। ঋণ অনুমোদন করানোর জন্য জাল ট্যাক্স ডকুমেন্ট ও কর্মীদের বেতনসংক্রান্ত নথিও তৈরি করা হয়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাবি, ভুয়া তথ্য ও নথির ভিত্তিতে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে বিভ্রান্ত করেন মাথুরিন। এর মাধ্যমে তিনি সরকারি জরুরি সহায়তা তহবিল থেকে ২১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যে অর্থ প্রকৃতপক্ষে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ ছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে মাথুরিনকে দোষী সাব্যস্ত করার পর নিউ জার্সির ফেডারেল প্রসিকিউটর রবার্ট ফ্রেজার জানিয়েছিলেন, মহামারিকালীন সহায়তা কর্মসূচিগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা এবং কর্মীদের চাকরি রক্ষার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য এসব কর্মসূচি তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে জাল বেতন রেকর্ড, মিথ্যা ট্যাক্স ডকুমেন্ট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভুয়া তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এসেছে। এই প্রতারণার তদন্ত পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন)। সংস্থাটির তদন্তের ভিত্তিতে ফেডারেল প্রসিকিউটররা আদালতে মামলা পরিচালনা করেন। নিউ জার্সিতে কোভিড সহায়তার অর্থ নিয়ে বড় ধরনের প্রতারণার ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত বিশেষ ফেডারেল টাস্কফোর্সও এ ধরনের অপরাধ শনাক্তে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, করোনাকালীন সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে তথ্য থাকলে বিচার বিভাগের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজাস্টার ফ্রডের ৮৬৬-৭২০-৫৭২১ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে। সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নিউ জার্সি ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয় ।
জ্যাকসন হাইটস ও ব্রঙ্কসে বাংলা ভাষায় কম খরচে ডেন্টাল সেবার দিচ্ছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ওয়ালী খান
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে অজ্ঞান করে জোরপূর্বক গর্ভপাত, দোষ স্বীকার সাবেক সেনা ক্যাডেটের
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্ট্যাটাস পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কোটি ডলারের প্রতারণা, ১৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা এবং সাধারণ নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কয়েকটি নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিলের খবরের পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ চালু নেই। নতুন করে এমন ব্যবস্থা চালুর কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়নি। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের আইওয়া ও কানসাসে নির্ধারিত নির্বাচনি সমাবেশ এবং ভ্যান্সের মিনেসোটায় একটি সংবাদ সম্মেলন বাতিলের খবর সামনে আসে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন আলোচনায় আসে। তবে কর্মসূচি বাতিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বন্ধ হয়। এরপর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী মূলত স্বেচ্ছায় যোগ দেওয়া সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে জরুরি পরিস্থিতির জন্য সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেম নামে একটি নিবন্ধনব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর আওতায় ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অধিকাংশ পুরুষ মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসীকে নিবন্ধন করতে হয়। সিলেক্টিভ সার্ভিসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডধারী, শরণার্থী, অ্যাসাইলাম আবেদনকারী এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী পুরুষ অভিবাসীরাও নিবন্ধনের আওতায় পড়েন। তবে বৈধ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় অবস্থানকারী ব্যক্তিদের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে। নিবন্ধনের অর্থ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া নয়। এটি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নিয়োগের জন্য তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বা মিলিটারি ড্রাফট চালু করতে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নির্ধারিত বয়সের নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে লটারি পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হতে পারে। এরপর শারীরিক ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকেরা বর্তমানে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কম বলে মনে করছেন। ফোরসাইট স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার্সের ক্রিস্টোফার লি দ্য মিররকে জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান প্রধানত নৌ ও বিমানবাহিনীকেন্দ্রিক হতে পারে। এ ধরনের সংঘাত পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক সাধারণ নাগরিককে নতুন করে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা কম। এদিকে যুক্তরাজ্যেও সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকার সাবেক সামরিক সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে পুনরায় দায়িত্বে ডাকার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে। এই পরিবর্তনের লক্ষ্য অভিজ্ঞ সাবেক সেনাসদস্যদের প্রয়োজনের সময় কাজে লাগানো। এটি সাধারণ নাগরিকদের নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ব্যবস্থা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি-আমেরিকান ও অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য সিলেক্টিভ সার্ভিসের নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী যোগ্য পুরুষদের নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিবন্ধন না করলে নির্দিষ্ট সরকারি চাকরি, সুবিধা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সেনা নিয়োগব্যবস্থায় পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি। ১৯৭৩ সাল থেকে চালু থাকা স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগব্যবস্থাই কার্যকর রয়েছে। ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রয়োজন দেখা দিলে তার জন্য পৃথক আইনি ও সরকারি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, যুক্তরাষ্ট্রের সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেম; ইউএসএ গভর্নমেন্ট
নিউইয়র্কের রাস্তায় গাড়ির পাশে নামাজ আদায়ের ছবি নিয়ে আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কর্মীদের গর্ভপাত ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা কমানোর পরিকল্পন ট্রাম্প প্রশাসনের