সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

১৭ বছর বয়সে থেমে যায় হেইলির জীবন, তার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে নবজাতকদের বই উপহার দিচ্ছে পরিবার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৫:৩২
নবজাতকদের বই উপহার দিচ্ছে পরিবার
নবজাতকদের বই উপহার দিচ্ছে পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মিডল্যান্ড শহরে এক মায়ের ভালোবাসা ও শোকের গল্প নতুন করে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মেয়েকে হারিয়েছেন বেকি জারোসিয়েভিচ। কিন্তু মেয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং তার ভালোবাসা অন্য শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। নবজাতকদের জন্য বই উপহার দিচ্ছে তাঁর পরিবার।

 

হেইলি জারোসিয়েভিচ ছিলেন মিডল্যান্ড হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা, সুন্দর ব্যবহার এবং ছোট শিশুদের প্রতি বিশেষ স্নেহের জন্য পরিচিত ছিলেন হেইলি।

 

মেয়েকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই তাঁর মা বেকি জারোসিয়েভিচ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে এমন একটি উদ্যোগ শুরু করেন, যার মাধ্যমে হেইলির প্রিয় কাজগুলো বেঁচে থাকবে অন্য মানুষের জীবনে।

 

এ বছর টানা দ্বিতীয়বারের মতো হেইলির স্মরণে মিশিগানের মাইমিশিগান মেডিকেল সেন্টার মিডল্যান্ডের মাতৃসেবা কেন্দ্রে ১০০টি বই উপহার দিয়েছে তাঁর পরিবার। নভেম্বর মাসে যেসব পরিবার সেখানে নতুন সন্তানের জন্ম দেবে, তাদের হাতে একটি করে বই তুলে দেওয়া হবে।

 

এই উদ্যোগে হেইলির মায়ের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন তাঁর ধর্মীয় অভিভাবক ক্রিস্টি বার্নস এবং খালা এরিন রে। পরিবারের সদস্যরা চান, প্রতিটি নবজাতকের পরিবার বইগুলো পড়ে শিশুদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাক এবং ছোটবেলা থেকেই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুক।

 

হেইলির মা বেকি জানিয়েছেন, বই পড়া তাঁর মেয়ের কাছে ছিল আনন্দের একটি বিশেষ বিষয়। ছোট শিশুদের প্রতিও হেইলির গভীর মমতা ছিল। এখন অন্য পরিবারগুলো যখন তাদের নবজাতক সন্তানকে বই পড়ে শোনাবে, তখন তাঁর মেয়ের ভালোবাসার একটি অংশ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

 

এই উদ্যোগের সঙ্গে হাসপাতালটিরও রয়েছে বিশেষ আবেগের সম্পর্ক। কারণ হেইলির জন্ম হয়েছিল এই মাইমিশিগান মেডিকেল সেন্টারেই। যে হাসপাতালে একদিন তাঁর জন্ম হয়েছিল, সেই হাসপাতালের নবজাতকদের জন্যই এখন তাঁর স্মরণে বই উপহার দেওয়া হচ্ছে।

 

মাইমিশিগান হেলথ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডেনিস ও'কিফ পরিবারটির এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, গভীর শোকের মধ্যেও হেইলির পরিবার এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছে, যা অন্য পরিবারের জীবনে আনন্দ ও সুন্দর স্মৃতি তৈরি করবে।

 

একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে হেইলির জীবন। তাঁর পরিবার আর কখনো তাঁকে ফিরে পাবে না। কিন্তু তাঁর ভালোবাসা, পড়ার প্রতি আগ্রহ এবং শিশুদের প্রতি মমতা অন্য পরিবারের জীবনে নতুনভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।

 

একটি বই হয়তো হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে ফিরিয়ে আনতে পারে না। কিন্তু সেই বইয়ের পাতায় নতুন কোনো শিশুর জীবনে আনন্দের শুরু হতে পারে। হেইলির পরিবার ঠিক সেই কাজটিই করছে—মেয়ের স্মৃতিকে শুধু ছবিতে আটকে না রেখে অন্যের জীবনে ভালোবাসার উপহার হিসেবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
নবজাতকদের বই উপহার দিচ্ছে পরিবার
১৭ বছর বয়সে থেমে যায় হেইলির জীবন, তার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে নবজাতকদের বই উপহার দিচ্ছে পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মিডল্যান্ড শহরে এক মায়ের ভালোবাসা ও শোকের গল্প নতুন করে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মেয়েকে হারিয়েছেন বেকি জারোসিয়েভিচ। কিন্তু মেয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং তার ভালোবাসা অন্য শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। নবজাতকদের জন্য বই উপহার দিচ্ছে তাঁর পরিবার।   হেইলি জারোসিয়েভিচ ছিলেন মিডল্যান্ড হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা, সুন্দর ব্যবহার এবং ছোট শিশুদের প্রতি বিশেষ স্নেহের জন্য পরিচিত ছিলেন হেইলি।   মেয়েকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই তাঁর মা বেকি জারোসিয়েভিচ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে এমন একটি উদ্যোগ শুরু করেন, যার মাধ্যমে হেইলির প্রিয় কাজগুলো বেঁচে থাকবে অন্য মানুষের জীবনে।   এ বছর টানা দ্বিতীয়বারের মতো হেইলির স্মরণে মিশিগানের মাইমিশিগান মেডিকেল সেন্টার মিডল্যান্ডের মাতৃসেবা কেন্দ্রে ১০০টি বই উপহার দিয়েছে তাঁর পরিবার। নভেম্বর মাসে যেসব পরিবার সেখানে নতুন সন্তানের জন্ম দেবে, তাদের হাতে একটি করে বই তুলে দেওয়া হবে।   এই উদ্যোগে হেইলির মায়ের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন তাঁর ধর্মীয় অভিভাবক ক্রিস্টি বার্নস এবং খালা এরিন রে। পরিবারের সদস্যরা চান, প্রতিটি নবজাতকের পরিবার বইগুলো পড়ে শিশুদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাক এবং ছোটবেলা থেকেই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুক।   হেইলির মা বেকি জানিয়েছেন, বই পড়া তাঁর মেয়ের কাছে ছিল আনন্দের একটি বিশেষ বিষয়। ছোট শিশুদের প্রতিও হেইলির গভীর মমতা ছিল। এখন অন্য পরিবারগুলো যখন তাদের নবজাতক সন্তানকে বই পড়ে শোনাবে, তখন তাঁর মেয়ের ভালোবাসার একটি অংশ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।   এই উদ্যোগের সঙ্গে হাসপাতালটিরও রয়েছে বিশেষ আবেগের সম্পর্ক। কারণ হেইলির জন্ম হয়েছিল এই মাইমিশিগান মেডিকেল সেন্টারেই। যে হাসপাতালে একদিন তাঁর জন্ম হয়েছিল, সেই হাসপাতালের নবজাতকদের জন্যই এখন তাঁর স্মরণে বই উপহার দেওয়া হচ্ছে।   মাইমিশিগান হেলথ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডেনিস ও'কিফ পরিবারটির এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, গভীর শোকের মধ্যেও হেইলির পরিবার এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছে, যা অন্য পরিবারের জীবনে আনন্দ ও সুন্দর স্মৃতি তৈরি করবে।   একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে হেইলির জীবন। তাঁর পরিবার আর কখনো তাঁকে ফিরে পাবে না। কিন্তু তাঁর ভালোবাসা, পড়ার প্রতি আগ্রহ এবং শিশুদের প্রতি মমতা অন্য পরিবারের জীবনে নতুনভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।   একটি বই হয়তো হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে ফিরিয়ে আনতে পারে না। কিন্তু সেই বইয়ের পাতায় নতুন কোনো শিশুর জীবনে আনন্দের শুরু হতে পারে। হেইলির পরিবার ঠিক সেই কাজটিই করছে—মেয়ের স্মৃতিকে শুধু ছবিতে আটকে না রেখে অন্যের জীবনে ভালোবাসার উপহার হিসেবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৫:৩২
আলাবামায় পাঁচ দিনের অভিবাসন অভিযান

আলাবামায় পাঁচ দিনের অভিবাসন অভিযানে ১৮০ জনের বেশি গ্রেপ্তার, সতর্ক প্রবাসী পরিবার

আতঙ্কে ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু ও অভিভাবকেরা

স্কুলের সামনে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান, আতঙ্কে ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু ও অভিভাবকেরা

মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিন ভাইবোনের দায়িত্ব

মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিন ভাইবোনের দায়িত্ব, যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মাকে হারিয়ে বদলে গেল তরুণীর জীবন

কিশোর জাভিটস ফ্রিমপংয়ের মা
ছেলেকে শেষবার দেখতে আমেরিকায় আসছেন মা, ১৫ বছরের সন্তানের মৃত্যুতে শোকে পরিবার

সন্তানের মৃত্যু কোনো মায়ের জন্যই সহজ নয়। আর সেই সন্তান যদি হাজার হাজার মাইল দূরে অন্য দেশে প্রাণ হারায়, তাহলে শোকের সঙ্গে যুক্ত হয় শেষবারের মতো তার মুখ দেখার অসহায় আকুতি।   যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত ১৫ বছর বয়সী ঘানার কিশোর জাভিটস ফ্রিমপংয়ের মায়ের জীবনে নেমে এসেছে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ছেলের শেষকৃত্যে অংশ নিতে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি পেয়েছেন তাঁর মা ডরিস আদু গিয়ামফি।   ৪ নভেম্বর ঘানার রাজধানী আক্রা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে তাঁকে ছেলের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য ভিসা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।   ১৫ বছর বয়সী জাভিটস নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে গুলিতে নিহত হয়। অল্প বয়সেই তার জীবনের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ থেমে যায়। সন্তানের মৃত্যুর পর তাঁর মা ঘানায় অবস্থান করছিলেন। ছেলের শেষ বিদায়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা হয়।   এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ঘানার অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। একটি পরিবারের স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় আসা কিশোরের এমন মৃত্যু নতুন করে তরুণদের নিরাপত্তা ও বন্দুক সহিংসতার বিষয়টি সামনে এনেছে।   একজন মা এখন ছেলের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন। যে সন্তানকে ঘিরে ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সেই সন্তানকেই শেষবারের মতো বিদায় জানাতে হবে তাঁকে।   ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের বেদনার গল্প নয়, বরং অভিবাসী পরিবারগুলোর বিচ্ছিন্নতা, নিরাপত্তা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর মানবিক বাস্তবতার কথাও মনে করিয়ে দেয়।   তথ্যসূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৪:২৪
আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ বছরের শিশু

মায়ের অপেক্ষায় সাত মাস আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ বছরের শিশু, পুনর্মিলনের স্বপ্ন ভেঙে গেল পরিবারটির

আদালতের নির্দেশে মুক্তির তিন মিনিটেই ফের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার নিকারাগুয়ার অভিবাসী

আদালতের নির্দেশে মুক্তির তিন মিনিটেই ফের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার নিকারাগুয়ার অভিবাসী

কানেকটিকাটে টানা তৃতীয়বার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান

কানেকটিকাটে টানা তৃতীয়বার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান

মেয়র নির্বাচনে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুহিত মাহমুদের বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করেছে ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে হ্যামট্রামিকের মেয়র নির্বাচনে মুহিত মাহমুদের জয়, রবিবার শপথ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামিক শহরের মেয়র নির্বাচনে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুহিত মাহমুদের বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করেছে ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স। ২০২৫ সালের নির্বাচনের পর বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ৩৭টি ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার ফলে প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১২ ভোটে এগিয়ে যান মাহমুদ। সেই সংশোধিত ফলাফলের ভিত্তিতে বুধবার (৪ নভেম্বর) তাঁর জয় প্রত্যয়ন করা হয়। আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) তাঁর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।   ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে প্রথমে অ্যাডাম আলহারবিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরদিন সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে ৩৭টি ব্যালট পাওয়া গেলে ফলাফল নিয়ে নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। ওই ব্যালটগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়। প্রথমে ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স ব্যালটগুলো গণনা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। একাধিক মামলা ও আপিলের পর আদালত ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এক বিচারক ৩৭টি ব্যালট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত করার রায় দেন।   আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যালটগুলো গণনার পর নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে যায়। নতুন হিসাবে অ্যাডাম আলহারবির চেয়ে ১২ ভোট বেশি পান মুহিত মাহমুদ। এর ফলে প্রথমে পরাজিত ঘোষিত প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন। মাহমুদের আইনজীবী মার্ক ব্রুয়ার বোর্ডের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত একাধিকবার বিষয়টি পর্যালোচনা করে ৩৭টি ব্যালট গণনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। ব্রুয়ার আরও জানান, মাহমুদের বাসস্থানসংক্রান্ত যে অভিযোগ উঠেছিল, সেটিও ভিত্তিহীন হিসেবে খারিজ হয়েছে। ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়নের পথে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিরোধেরও নিষ্পত্তি হয়েছে।   মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টিতে অবস্থিত হ্যামট্রামিক একটি বহুজাতিক অভিবাসী অধ্যুষিত শহর। এখানে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যীয় বংশোদ্ভূত মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কারণে শহরটির মেয়র নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মেয়র নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে চলা বিরোধের পর বোর্ডের এই প্রত্যয়ন মুহিত মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণের পথ খুলে দিয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৮ নভেম্বর শপথ নিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।   তবে নির্বাচনী বিরোধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএক্সওয়াইজেডের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডাম আলহারবির আইনজীবী নাবিহ আয়াদ নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর পরিকল্পনা করেছেন। তাঁর পক্ষ থেকে বিতর্কিত ব্যালট এবং নির্বাচনের অন্যান্য অনুপস্থিত ভোটারের ব্যালট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   অন্যদিকে মুহিত মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রত্যেক ভোটারের ভোট গণনা হওয়া উচিত এবং জনগণের একটি সুষ্ঠু নির্বাচনপ্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকার রয়েছে। শপথ গ্রহণের আগে বিস্তারিত সাক্ষাৎকার দিতে চাননি তিনি। সূত্র: ক্লিকঅনডেট্রয়েট, ডব্লিউএক্সওয়াইজেড, ফক্স ২ ডেট্রয়েট    

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ০:১৩
নতুন বাড়ি কেনার অগ্রিম অর্থ জোগাড়ে সহায়তার জন্য প্রস্তাবনা ৩৭ অনুমোদন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্টে ঋণ দেবে ক্যালিফোর্নিয়া, প্রস্তাবনা ৩৭ পাস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি ইলন মাস্ক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

রিপাবলিকানদের জেতাতে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় মাস্কের, তবু ডেমোক্র্যাটদের কাছে হার

ইতালীয় পর্যটকের একুশ হাজার ডলার ও পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়ে সততার প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশি তরুণ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে ইতালীয় পর্যটকের গাড়িতে ফেলে যাওয়া ২১ হাজার ডলার ফেরত দিলেন বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক

0 Comments