সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২০:৪৭
ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি
ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ও আগ্রাসী মন্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি পুরো ইরানকে "উড়িয়ে দেওয়ার" কথা বিবেচনা করছেন। গত রোববার ক্যাম্প ডেভিডে ছুটি কাটানোর মাঝপথে তড়িঘড়ি করে হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি জানান, খুব শিগগিরই বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে এবং এই মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন।

 

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ইরানের সামনে তিনটি সম্ভাব্য বিকল্পের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, হয় ইরানকে একটি চুক্তিতে আসতে হবে, অথবা তিনি দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দেবেন, আর না হয় পুরো দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন।

 

সাক্ষাৎকারে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বলেন, "আমার প্রশ্ন হলো—কখন এবং কীভাবে আমি পুরো দেশটিকে উড়িয়ে দেব? তাদের বরং সতর্ক থাকা উচিত"। তাঁর এই হুমকির ঠিক এক দিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় একটি বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল। সেখানে মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পাশাপাশি হঠাৎ বিমান বাতিল বা আকাশপথ বন্ধের মতো পরিস্থিতির বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছিল।

 

এদিকে, চলতি সপ্তাহেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। এই অধিবেশনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে আলোচনার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, তিনি হয়তো এমন কোনো বৈঠকের বিষয়ে সম্মত হতে পারেন।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এমন হুমকির পর কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এক কঠোর বার্তায় তারা জানিয়েছে, যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর কোনো বাছবিচার ছাড়াই লাগাতার ও যন্ত্রণাদায়ক হামলা চালানো হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
সংক্রমিত গরুর সংস্পর্শে
যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে আরও এক মৃত্যু, সাধারণ মানুষের ঝুঁকি কম বলছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমিত গরুর সংস্পর্শে আসার পর ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে ১ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে এটি প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।   ইয়াকিমা কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির আগে থেকেই কিছু শারীরিক জটিলতা ছিল। তিনি সংক্রমিত গবাদিপশু থাকা একটি দুগ্ধখামারে ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁর পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।   এ ঘটনায় একই কাউন্টিতে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনে। তৃতীয় আক্রান্ত ব্যক্তিও সংক্রমিত গরুর সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে তাঁর অসুস্থতা গুরুতর নয় এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো কম। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঘটনা এখনো শনাক্ত হয়নি। তবে সংক্রমিত পশুর সংস্পর্শে থাকা খামারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।   ইয়াকিমা কাউন্টিতে গত ৮ অক্টোবর প্রথম দুটি দুগ্ধখামারের গরুর শরীরে এইচ৫এন১ ভাইরাস শনাক্ত হয়। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত কাউন্টির ৩৩টি দুগ্ধখামারে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের স্বাস্থ্য এবং কৃষি বিভাগ।   বার্ড ফ্লু সাধারণত পাখির মধ্যে ছড়ালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর মধ্যেও এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমিত পশুর কাছাকাছি কাজ করা মানুষের শরীরেও বিরল ক্ষেত্রে ভাইরাসটি প্রবেশ করতে পারে।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষ করে দুগ্ধখামারের কর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। অসুস্থ বা মৃত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   কাঁচা দুধ বা অপাস্তুরিত দুগ্ধজাত খাবার নিয়েও সতর্কতা জারি রয়েছে। সংক্রমিত গরুর কাঁচা দুধে ভাইরাস থাকতে পারে। তাই কাঁচা দুধ ও অপাস্তুরিত দুধ দিয়ে তৈরি পণ্য এড়িয়ে চলা উচিত। তবে যথাযথভাবে পাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার নিরাপদ বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, শরীর ব্যথা এবং চোখ লাল হওয়া বা জ্বালাপোড়া। তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই যে বার্ড ফ্লু হয়েছে, তা নয়। অসুস্থ পশুর সংস্পর্শে আসার পর এমন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসককে সেই সংস্পর্শের বিষয়টি জানানো জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে যাঁরা দুগ্ধখামার, পোলট্রি খামার বা পশুপালনের কাজে যুক্ত, তাঁদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কাঁচা দুধের পরিবর্তে পাস্তুরিত দুধ ব্যবহারে উৎসাহিত করা উচিত।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা লোকজনের খোঁজ রাখছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম হলেও সংক্রমিত পশুর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৯:৫০
গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় ১৫ লাখ আবেদন, জানুন স্টেটভিত্তিক নতুন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য

বাড়ির প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র না থাকলে ভাড়া আদায়ে বাধার মুখে পড়তে পারেন বাড়িওয়ালারা

বাড়ির প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র না থাকলে ভাড়া আদায়ে বাধার মুখে পড়তে পারেন বাড়িওয়ালারা

এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর নীতিতে ক্ষুব্ধ ভারতীয় আমেরিকানরা, কমছে রিপাবলিকান সমর্থন

এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর নীতিতে ক্ষুব্ধ ভারতীয় আমেরিকানরা, কমছে রিপাবলিকান সমর্থন

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে জিপ কিনতে গিয়ে জাল চেকে গ্রেপ্তার নারী
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে জিপ কিনতে গিয়ে জাল চেকে গ্রেপ্তার নারী, জামিন করাতে এসে ধরা সঙ্গিনীও

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের ওয়াউপাকায় একটি গাড়ির শোরুমে সম্প্রতি এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। পিটারসেন ক্রাইসলার ডজ জিপ র‍্যাম নামের ওই শোরুমে গত ২৪ মার্চ মরগান (২৮) নামের এক নারী জিপ কেনার জন্য চেক প্রদান করেন। কিন্তু শোরুমের এক কর্মীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি মরগানের ব্যাংক ফান্ড এবং আদালতের পুরোনো রেকর্ড যাচাই করেন।   ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, গাড়ি কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ মরগানের অ্যাকাউন্টে নেই। উল্টো আদালতের পুরোনো এক নির্দেশ অনুযায়ী মরগানের কোনো ধরনের চেক ব্যবহারেরই অনুমতি ছিল না!   পুলিশ এসে জেরা করলে মরগান দাবি করেন, অ্যাকাউন্টে টাকা আছে ভেবেই তিনি চেক দিয়েছিলেন এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভাঙেননি। কিন্তু জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় পুলিশ তাকে সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার করে। এ সময় মরগান তার সঙ্গিনীকে (পার্টনার) ডেকে তার জামিনের ব্যবস্থা করার জন্য আকুতি জানাতে থাকেন।   কিন্তু পুলিশ যখন তার সঙ্গিনীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তখন তিনি জানান যে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা তিনি আগে থেকেই জানতেন এবং মরগানকে চেক দিতে নিষেধও করেছিলেন। তবে মরগান তাকে বুঝিয়েছিলেন যে অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলে চেক দেওয়া যাবে। এরপর অপরাধের সহযোগী হিসেবে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই সঙ্গিনীকেও গ্রেপ্তার করে!   সঙ্গিনী গ্রেপ্তার হওয়ার পর মরগান এবার উল্টো পুলিশের কাছে জানতে চান, তিনি নিজে তার সঙ্গিনীর জামিন করাতে পারবেন কি না! এমনকি তাদের ডেবিট কার্ডসহ ওয়ালেট পুলিশের কাছে জব্দ থাকায় তারা কীভাবে টাকা শোধ করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।   পুলিশ সাফ জানিয়ে দেয় যে, জামিনের পুরো সিদ্ধান্তই বিচারকের ওপর নির্ভর করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মরগানের বিরুদ্ধে ভুয়া চেক দেওয়া, জামিনের শর্ত ভঙ্গ এবং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোসহ মোট পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৮:১৪
ইসলাম গ্রহণের পর মার্কিন আদিবাসী নারী

‘সারা জীবন মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না’, ইসলাম গ্রহণের পর মার্কিন আদিবাসী নারী

মহাকাশে ৫০ হাজার আয়না বসিয়ে রাতে সূর্যের আলো বিক্রির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা

মহাকাশে ৫০ হাজার আয়না বসিয়ে রাতে সূর্যের আলো বিক্রির পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বড় প্রভাব

অভিবাসন নীতি ও দ্রব্যমূল্যের চাপে বদলে গেল লাতিনো ভোট, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বড় প্রভাব

প্রিয় বেসবল কোচকে আটকে রাখল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ
শিক্ষার্থীদের চিঠিতেও মিলল না মুক্তি, প্রিয় বেসবল কোচকে আটকে রাখল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেসবল কোচ আমাউরি মনসালভেকে আটক রাখার সিদ্ধান্তে হতাশ তাঁর শিক্ষার্থী, পরিবার ও স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ। শিক্ষার্থীরা তাঁর মুক্তির আবেদন জানিয়ে চিঠি দিলেও মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর এক অভিবাসন বিচারক তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করেছেন।   আলিস ডিল মিডল স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি পরিচিত ‘কোচ এ’ নামে। বহু বছর ধরে তিনি শিশু-কিশোরদের বেসবল শেখানোর পাশাপাশি তাদের জীবনে একজন অভিভাবকসুলভ মানুষ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলেন।   দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা মনসালভে ২০০৩ সালে দেশটিতে পাড়ি জমান এবং ২০০৬ সালে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান। গত মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে উবার চালানোর সময় পুলিশের একটি তল্লাশির পর তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশ প্রতিবেদনে গাড়িতে খোলা অ্যালকোহলের পাত্র, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রসিকিউটররা তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেননি।   এরপরও তাঁর অভিবাসন মামলায় বহিষ্কারের আদেশ জারি হয় এবং তিনি লুইজিয়ানায় আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তবে তাঁর স্ত্রী আনিউশকা মনসালভের দাবি, বহু বছর আগে কাগজপত্র তৈরি করা আইনজীবী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেননি। সে সময় ইংরেজিতে সীমিত দক্ষতার কারণে তাঁর স্বামী বিষয়টি বুঝতে পারেননি।   কোচের মুক্তির দাবিতে তাঁর বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা বিচারকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা তাঁকে একজন যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের ভাষ্য, তিনি শুধু বেসবল শেখাননি, বরং ভালো মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষাও দিয়েছেন।   ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লুকাস শিহি বলেন, তাঁর জীবনে অনেক অভিবাসীর ইতিবাচক অবদান রয়েছে। সমাজের উচিত এমন মানুষদের অবদানকে মূল্য দেওয়া।   মনসালভের আইনজীবী আভা বেনাচ জানিয়েছেন, বিচারকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। বিচারক তাঁর সিদ্ধান্তে কমিউনিটির সমর্থনের বিষয়টি স্বীকার করলেও বহিষ্কারের আদেশ এবং অভিবাসন আবেদনে ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।   এদিকে কোচের পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষ তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন। ৩ নভেম্বর সকালে সেই তহবিলে প্রায় ৯০ হাজার ডলার জমা পড়েছিল বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।   মনসালভের পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যে কমিউনিটির সেবা করেছেন, সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের ছেড়ে থাকতে হওয়ায় তারা গভীরভাবে হতাশ। পরিবারের আশা, তিনি ন্যায়সংগত আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন এবং একদিন আবার ঘরে ফিরতে পারবেন।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে একজন মানুষের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান; তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অভিযোগ ও পরিবারের বক্তব্যকে আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৭:১০
ডিগ্রি ছাড়াই প্রযুক্তি খাতে চাকরির প্রশিক্ষণ

4. যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কাজের সুযোগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ কমিউনিটি কলেজে ডিগ্রি ছাড়াই বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ

গুলিতে আহত সাত বছরের শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার বার্তা

গুলিতে আহত সাত বছরের শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার বার্তা, উপহার ও চিঠি পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবার

‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এল-সায়েদের জয় নিয়ে ইলহান ওমরের উচ্ছ্বাস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এল-সায়েদের জয় নিয়ে ইলহান ওমরের উচ্ছ্বাস

0 Comments