ট্রাম্প ২০২৮’ জেনারেলের পোশাকে ট্রাম্প, পোস্টে ফের তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে তীব্র বিতর্ক!
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা একটি প্রচারণামূলক ছবি এবং জেনারেলের পোশাকে নিজের একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেন তিনি। পোস্ট দুটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি ছবিতে তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন জেনারেল জর্জ এস. প্যাটনের আদলে সামরিক পোশাকে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা প্রচারণামূলক বার্তা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নির্ধারিত দুই মেয়াদের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে ট্রাম্পের ২০২৮ সালের সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে ইঙ্গিত বাস্তবে সাংবিধানিক বাধার মুখে রয়েছে। অতীতেও তিনি একাধিকবার তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে মন্তব্য করলেও পরে স্বীকার করেছেন যে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর নির্বাচন করতে পারবেন না।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টের পর সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, সামরিক প্রতীক এবং এআই-নির্মিত চিত্র ব্যবহার করে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে তার সমর্থকদের একটি অংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা ও প্রতীকী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এ ধরনের পোস্ট রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও উসকে দিলেও, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা অনেক বাংলাদেশি ইংরেজিতে পরীক্ষা দেওয়ার ভয় বা ভাষাগত সমস্যার কারণে ড্রাইভার লাইসেন্স করার প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি করেন। অথচ নিউইয়র্কে লার্নার পারমিটের লিখিত নলেজ টেস্ট বাংলায় দেওয়ার সরকারি সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিএমভির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ গাড়ির ক্লাস ডি পারমিট পরীক্ষা বাংলা-সহ মোট ২০টি ভাষায় নেওয়া হয়। ডিএমভির তালিকায় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা, আরবি, চীনা, ফ্রেঞ্চ, কোরিয়ান, নেপালি, রাশিয়ান, স্প্যানিশ, উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষা রয়েছে। ফলে ইংরেজিতে স্বাচ্ছন্দ্য না থাকলেও একজন বাংলা ভাষাভাষী আবেদনকারী নিউইয়র্কে নিজের ভাষায় প্রশ্ন পড়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। নিউইয়র্কের ক্লাস ডি পারমিট পরীক্ষায় মোট ২০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকে। পাস করতে অন্তত ১৪টির সঠিক উত্তর দিতে হয়। একই সঙ্গে চারটি রোড সাইন-সংক্রান্ত প্রশ্নের মধ্যে অন্তত দুটির উত্তর সঠিক হতে হবে। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিউইয়র্ক ডিএমভি ড্রাইভার ম্যানুয়াল ও প্র্যাকটিস টেস্টও প্রকাশ করে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিউইয়র্কে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ঘরে বসে বাংলায় অনলাইন পারমিট টেস্ট দেওয়ার সুযোগ বর্তমানে ডিএমভির সাধারণ নির্দেশনায় দেখানো হচ্ছে না। ডিএমভির অনলাইন নলেজ টেস্ট কর্মসূচির একটি অংশ অংশগ্রহণকারী হাইস্কুলগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সেখানে ইংরেজি ও স্প্যানিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বাংলায় পরীক্ষা দিতে চাইলে নিকটস্থ ডিএমভি অফিসে বর্তমান ব্যবস্থা আগে নিশ্চিত করে নেওয়াই নিরাপদ। ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য কী কী কাগজ লাগবে, সেটিও আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। নিউইয়র্কে আবেদন করতে বয়স, পরিচয় এবং বসবাসের প্রমাণ দিতে হয়। তবে স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকা বাধ্যতামূলক নয়। নিউইয়র্কের গ্রিন লাইট আইনের অধীনে যোগ্য বাসিন্দারা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর না থাকলেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক ডিএমভির ভাষা সহায়তা নীতিতেও বাংলা গুরুত্বপূর্ণ ভাষার তালিকায় রয়েছে। সীমিত ইংরেজি দক্ষতা থাকা ব্যক্তিদের জন্য ডিএমভি বিনামূল্যে ভাষা সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে ফর্ম বা সরকারি প্রক্রিয়া বুঝতে সমস্যা হলে আবেদনকারীরা ভাষা সহায়তা চাইতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়াতেও ড্রাইভার নলেজ টেস্টের ক্ষেত্রে বিস্তৃত ভাষা সুবিধা রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিএমভির তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন নলেজ এক্সাম ৩৫টি ভাষায় দেওয়া হয়। তবে বর্তমান সরকারি ড্রাইভার হ্যান্ডবুকের তালিকায় বাংলা আলাদাভাবে দেখানো হচ্ছে না। তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আছে কি না, আবেদন করার আগে সরাসরি ডিএমভির বর্তমান ভাষার তালিকা যাচাই করা উচিত। লিখিত নলেজ টেস্ট পাস করলেই ড্রাইভার লাইসেন্স পাওয়া যায় না। নিউইয়র্কে প্রথমে লার্নার পারমিট নিতে হয়, এরপর প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং প্র্যাকটিস ও প্রি-লাইসেন্সিং শর্ত পূরণ করে রোড টেস্ট পাস করতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ড্রাইভার লাইসেন্সের নিয়ম কেন্দ্রীয়ভাবে এক নয়। প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব ডিএমভি বা সমপর্যায়ের সংস্থা নিয়ম নির্ধারণ করে। তাই নিউইয়র্কে বাংলায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অন্য স্টেটে একই সুবিধা থাকবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেটের সরকারি ডিএমভির সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
এপস্টেইন তদন্তে বাধার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা
একই শহর, তবু কোথাও ১৫ ডিগ্রি কম গরম, গবেষণায় জানা গেল রহস্য
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ বাড়ি কিনতে এখনও দরকার ৬ ডিজিটের আয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা একটি প্রচারণামূলক ছবি এবং জেনারেলের পোশাকে নিজের একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেন তিনি। পোস্ট দুটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি ছবিতে তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন জেনারেল জর্জ এস. প্যাটনের আদলে সামরিক পোশাকে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা প্রচারণামূলক বার্তা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নির্ধারিত দুই মেয়াদের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে ট্রাম্পের ২০২৮ সালের সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে ইঙ্গিত বাস্তবে সাংবিধানিক বাধার মুখে রয়েছে। অতীতেও তিনি একাধিকবার তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে মন্তব্য করলেও পরে স্বীকার করেছেন যে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর নির্বাচন করতে পারবেন না। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টের পর সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, সামরিক প্রতীক এবং এআই-নির্মিত চিত্র ব্যবহার করে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে তার সমর্থকদের একটি অংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা ও প্রতীকী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এ ধরনের পোস্ট রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও উসকে দিলেও, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
শিশুদের সুরক্ষায় ব্যর্থ মেটা, ৯৪২ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা
১৯৭৮ সালে এক সামার জবেই মিটত কলেজ টিউশন, থাকত বাড়তি আয়ও
যুক্তরাষ্ট্রে ‘জন্মসূত্রে’ নাগরিকত্ব সীমিতের বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ পরিশোধে ব্যর্থ ঋণগ্রহীতার সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মহামারিকালীন ঋণ পরিশোধ স্থগিত কর্মসূচির সমাপ্তি এবং শিক্ষাঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে লাখো মানুষ কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে পড়ছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৯৫ লাখ ফেডারেল শিক্ষাঋণগ্রহীতা যা মোট ঋণগ্রহীতার প্রায় ২০ শতাংশ টানা নয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। কোভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়া ঋণ পরিশোধ স্থগিত কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর খেলাপির সংখ্যা এক লাফে প্রায় ৪২ লাখ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের সহায়তায় দেওয়া মোট ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২৩৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘প্রটেক্ট বরোয়ার্স’-এর নীতিনির্ধারণ পরিচালক আইসা কানচোলা বানিয়েজ এপিকে বলেন, “মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়তে থাকা শিক্ষাঋণের কিস্তি তাদের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে অনেকেই নিয়মিত কিস্তি দিতে পারছেন না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক মাস কিস্তি বকেয়া থাকলেই একজনের ঋণমান (ক্রেডিট স্কোর) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর ঋণ খেলাপি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে সরকার ভবিষ্যতে বেতন বা সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার একটি অংশ কেটে নেওয়ার মতো ব্যবস্থা নিতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত বেতন থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার পদক্ষেপ স্থগিত রেখেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লাভজনক (ফর-প্রফিট) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহীতারা সরকারি বা অলাভজনক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে পড়ছেন। এই শ্রেণির ৩৩ শতাংশ ঋণগ্রহীতা অন্তত ৯০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে কিস্তি পরিশোধ করেননি। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিসিসিপিতে শিক্ষাঋণ খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে লুইজিয়ানা, আলাবামা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ওকলাহোমা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাস। এছাড়া আলাস্কা, অ্যারিজোনা, ওহাইও, ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, নিউ মেক্সিকো এবং নেভাদাও খেলাপির দিক থেকে শীর্ষ ১৫ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনেকের ধারণা শিক্ষাঋণ খেলাপিরা বেকার বা কর্মহীন। বাস্তবে এর বড় অংশই কর্মজীবী মানুষ, যারা ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে শিক্ষাঋণের কিস্তির চাপ সামলাতে পারছেন না। কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ ফেডারেল শিক্ষাঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। যদিও ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কিস্তি পরিশোধ পুনরায় চালু হয়, বাইডেন প্রশাসন এক বছরের জন্য একটি ‘সুরক্ষা সময়’ (বাফার পিরিয়ড) দিয়েছিল। এই সময়ে কিস্তি বকেয়া থাকলেও ঋণ খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হয়নি। সেই সময়সীমা ২০২৪ সালের শেষ দিকে শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের জুন থেকে আবারও ঋণ খেলাপির হিসাব শুরু হয়। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষাঋণ পরিশোধ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আয়ভিত্তিক সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিশোধ কর্মসূচি ‘সেভ’ (SAVE) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেক ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য একাধিক বিকল্পের পরিবর্তে একটি সাধারণ পরিশোধ পরিকল্পনা এবং একটি আয়ভিত্তিক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। ফলে আগে ‘সেভ’ কর্মসূচির আওতায় থাকা লাখো ঋণগ্রহীতাকে এখন তুলনামূলক বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে। তবে যেসব ঋণ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়েছে, সেগুলো আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য ঋণগ্রহীতারা আয়ভিত্তিক ধারাবাহিক নয়টি কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন অথবা নতুন ফেডারেল ডাইরেক্ট লোনের মাধ্যমে ঋণ একীভূত (কনসোলিডেশন) করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন আসমা আলী, মিসিসিপিতে প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী বিচারক
লেকে বেড়াতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না, ডুবে মারা গেলেন তরুণ শিক্ষিকা ও তার ভাই