আমেরিকায় খাবারের খরচ সামলাতে হিমশিম? ফ্রিতে এই ৫টি জায়গায় পেতে পারেন খাবার
আমেরিকায় কম আয়ের পরিবার বা হঠাৎ আর্থিক সংকটে পড়া মানুষের জন্য খাবার ও গ্রোসারি সহায়তার একাধিক সরকারি এবং বেসরকারি কর্মসূচি রয়েছে। ফুড ব্যাংক ও ফুড প্যান্ট্রি থেকে সরাসরি খাবার নেওয়ার পাশাপাশি যোগ্য পরিবারগুলো স্ন্যাপ, উইক এবং টিইএফএপের মতো কর্মসূচির মাধ্যমেও সহায়তা পেতে পারে।
তবে সব কর্মসূচি থেকে প্রত্যেক সপ্তাহে বিনামূল্যে বাজার পাওয়া যায়, এমন ধারণা সঠিক নয়। কোন কর্মসূচিতে কতটুকু সহায়তা পাওয়া যাবে, কতবার পাওয়া যাবে এবং কারা যোগ্য হবেন, তা রাজ্য, পরিবার, আয় এবং স্থানীয় সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
ফুড ব্যাংক ও ফুড প্যান্ট্রি
দ্রুত খাবারের প্রয়োজন হলে স্থানীয় ফুড ব্যাংক ও ফুড প্যান্ট্রি অন্যতম সহজ উপায়। ফিডিং আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, তাদের জাতীয় নেটওয়ার্কে ২০০টির বেশি ফুড ব্যাংক এবং ৬০ হাজারের বেশি ফুড প্যান্ট্রি ও মিল প্রোগ্রাম রয়েছে।
স্থানভেদে এসব কেন্দ্র থেকে চাল, পাস্তা, সিরিয়াল, ক্যানজাত খাবার, ফল ও সবজি, দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের প্রোটিনজাত খাবার পাওয়া যেতে পারে। তবে কী খাবার পাওয়া যাবে এবং কতবার নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট প্যান্ট্রির সরবরাহ ও নিজস্ব নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
ইউএসএগভের তথ্য অনুযায়ী, নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে কাছের ফুড প্যান্ট্রি খোঁজা যায়। ২১১ নম্বরে কল করেও এলাকায় জরুরি খাবার সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্যান্ট্রিতে যোগাযোগ করে সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।
স্ন্যাপ
সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ কম আয়ের মানুষের খাবার কেনার জন্য ফেডারেল সহায়তা দেয়। আগে এটি সাধারণভাবে ‘ফুড স্ট্যাম্প’ নামে পরিচিত ছিল।
যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি মাসে ইলেকট্রনিক বেনিফিট ট্রান্সফার বা ইবিটি কার্ডে নির্ধারিত অর্থ দেওয়া হয়। সেই অর্থ অনুমোদিত গ্রোসারি স্টোর, সুপারমার্কেট এবং অন্যান্য বিক্রেতার কাছ থেকে যোগ্য খাবার কেনার জন্য ব্যবহার করা যায়।
তবে স্ন্যাপ সবার জন্য নয়। পরিবারে সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ এবং রাজ্যের নির্দিষ্ট নিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে। ২০২৬ সালে স্ন্যাপের কিছু নিয়মে পরিবর্তনও কার্যকর হচ্ছে এবং পরিবর্তনের সময় রাজ্যভেদে আলাদা হতে পারে। আবেদন করতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্ন্যাপ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।
উইক
গর্ভবতী নারী, সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া মা, বুকের দুধ খাওয়ানো মা, শিশু এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য রয়েছে উইক কর্মসূচি।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারকে নির্দিষ্ট পুষ্টিকর খাবার কেনার সুবিধার পাশাপাশি পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ, বুকের দুধ খাওয়ানো সংক্রান্ত সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সঙ্গে সংযোগ করে দেওয়া হয়।
শুধু মা বা শিশুর বয়সের শর্ত পূরণ করলেই উইক পাওয়া নিশ্চিত নয়। আয়, বসবাসের স্থান এবং পুষ্টিগত ঝুঁকিসহ নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীকে নিজের রাজ্য বা স্থানীয় উইক সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।
টিইএফএপি
দ্য ইমার্জেন্সি ফুড অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা টিইএফএপি একটি ফেডারেল কর্মসূচি। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের খাবার রাজ্যগুলোর মাধ্যমে ফুড ব্যাংক, ফুড প্যান্ট্রি ও অন্যান্য অনুমোদিত সংস্থার কাছে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে যোগ্য নিম্ন আয়ের মানুষ বিনামূল্যে খাবার পেতে পারেন।
টিইএফএপের আওতায় ফল ও সবজি, মাংস, মাছ, ডিম, বাদাম, বিনস, চাল, সিরিয়াল, পাস্তা, দুধ, দই ও চিজসহ বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করা হতে পারে। তবে সব কেন্দ্রে একই খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো যুক্তরাষ্ট্রে টিইএফএপের জন্য এককভাবে ‘ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৮৫ শতাংশের নিচে আয়’ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার খাবারের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাজ্য নিজস্ব আয়ভিত্তিক যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে। ফলে নিজের রাজ্যের বর্তমান নিয়ম যাচাই করতে হবে।
কমিউনিটি ও ধর্মীয় সংগঠন
সরকারি কর্মসূচির বাইরে স্থানীয় চার্চ, মসজিদ, সিনাগগ, গুরুদ্বারা এবং বিভিন্ন অলাভজনক ও কমিউনিটি সংগঠনও বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করে থাকে। ইউএসএগভও জরুরি খাবারের প্রয়োজনে স্থানীয় কমিউনিটি ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়।
কিছু এলাকায় সরাসরি খাবারের প্যাকেজ দেওয়া হয়, আবার কোথাও কমিউনিটি মার্কেটের মতো ব্যবস্থা থাকে। তবে সব প্রতিষ্ঠান কাগজপত্র ছাড়াই খাবার দেয় বা প্রত্যেক সপ্তাহে একই সুবিধা দেয়, এমন কোনো জাতীয় নিয়ম নেই। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ম আগে জেনে নেওয়া উচিত।
কোথা থেকে শুরু করবেন
জরুরি খাবারের প্রয়োজন হলে প্রথমে ২১১ নম্বরে কল করে নিজের এলাকার সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারেন। ফিডিং আমেরিকার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জিপ কোড ব্যবহার করে কাছের ফুড ব্যাংক খোঁজা যায়। ইউএসএগভের সরকারি খাদ্য সহায়তা নির্দেশিকা থেকেও স্ন্যাপ, উইক ও জরুরি খাদ্য সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ইউএসএগভের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় হাঙ্গার হটলাইনে ১-৮৬৬-৩-হাংরি নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। হটলাইনটি সোমবার থেকে শুক্রবার ইস্টার্ন টাইম সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু থাকে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাহায্য চাইতে গিয়ে কোনো একটি কর্মসূচির নিয়মকে সারা দেশের জন্য প্রযোজ্য ধরে না নেওয়া। স্ন্যাপ, উইক ও টিইএফএপের যোগ্যতা এবং ফুড প্যান্ট্রির বিতরণ পদ্ধতি রাজ্য ও এলাকাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন বা খাবার সংগ্রহের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা স্থানীয় সংস্থার সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড পুয়ের্তো রিকোতে তীব্র খরা ও দীর্ঘদিনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে পালাক্রমে ৪৮ ঘণ্টা করে পানি ছাড়া থাকতে হচ্ছে। রাজধানী সান হুয়ানসহ সাতটি মিউনিসিপ্যালিটির বাসিন্দাদের ওপর এই পানি রেশনিং কার্যকর হয়েছে। সংকট আরও কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুয়ের্তো রিকোর অ্যাকুয়েডাক্ট অ্যান্ড স্যুয়ার অথরিটি জানিয়েছে, কারাইজো জলাধারের পানির স্তর সংকটজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। নতুন রেশনিং ব্যবস্থায় একদল গ্রাহকের পানি সরবরাহ ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে, এরপর তাদের সংযোগ চালু করে অন্য এলাকার পানি বন্ধ করা হবে। অন্তত আগস্টের শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চলার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান সংকটের পেছনে শুধু খরা নয়, দ্বীপটির পুরোনো ও দুর্বল পানি অবকাঠামোর সমস্যাও রয়েছে। চলতি বছরের জুনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ পাইপলাইনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পর সান হুয়ান ও আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানি সংকটে পড়েন। কিছু এলাকার বাসিন্দারা চলতি বছর ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে অনিয়মিত পানি সরবরাহের মুখোমুখি হয়েছেন বলে নিউজউইকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বর্তমান খরা আগে থেকেই চাপে থাকা পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জুনে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে পুয়ের্তো রিকোর গভর্নর জেনিফার গনজালেজ ন্যাশনাল গার্ডকে পানি বিতরণে সহায়তার জন্য মোতায়েন করেছিলেন। সে সময় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কয়েক হাজার গ্রাহকের পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। পানি সংকটের প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ছাড়িয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাতেও পড়ছে। দীর্ঘ সময় পানি না থাকায় পরিবারগুলোকে পানীয় জল সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ এবং সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। পুয়ের্তো রিকোর বর্তমান সংকট নিয়ে শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউজউইক বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে প্রেসিডেন্টের মন্তব্য না করার বিষয়টিকে সংকট মোকাবিলায় ফেডারেল সরকারের কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পুয়ের্তো রিকোর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনার মূল দায়িত্ব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের। পুয়ের্তো রিকোর বাসিন্দারা মার্কিন নাগরিক। ক্যারিবিয়ানে অবস্থিত দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আনইনকরপোরেটেড টেরিটরি। সেখানে প্রায় ৩২ লাখ মানুষের বসবাস। দ্বীপটির পানি অবকাঠামোর সমস্যা নতুন নয়। পুরোনো পাইপলাইন, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, হারিকেন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে খরা। রয়টার্সের ৭ আগস্টের প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে, পুয়ের্তো রিকোতে পালাক্রমে পানি রেশনিং শুরু হচ্ছে এবং এতে কয়েক দশ হাজার মানুষকে একটানা ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি ছাড়া থাকতে হবে। অন্তত আগস্টের শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চলবে বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জলাধারের পানির স্তর ও বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে রেশনিংয়ের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় পানি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকায় খাবারের খরচ সামলাতে হিমশিম? ফ্রিতে এই ৫টি জায়গায় পেতে পারেন খাবার
এইচ ওয়ান বি ও জে ওয়ান ভিসার জন্য বড় ধাক্কা! অনুদান বন্ধের পরিকল্পনা এনআইএইচের
ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েও প্রাইমারিতে হারলেন মুসলিমবিরোধী মন্তব্য করা অ্যান্ডি ওগলস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পের চুল আগের তুলনায় বেশি ঘন ও ভলিউমযুক্ত দেখায়। তার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা মন্তব্য, প্রশ্ন ও মিম। লাস ভেগাসের ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তবে অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবিতে তার চুলের চেহারা অনেকের নজর কাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পুরোনো ছবির সঙ্গে নতুন ছবির তুলনা করে দেখতে শুরু করেন। কেউ কেউ জানতে চান, চুলের এই পরিবর্তন কি নতুন কোনো হেয়ারস্টাইলের কারণে, নাকি অন্য কোনো পরিবর্তন হয়েছে। এরপর থেকেই ট্রাম্প নতুন কোনো উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, তা নিয়ে অনলাইনে নানা জল্পনা শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং নতুন উইগ ব্যবহারের দাবির পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাস ভেগাসের বক্তব্যে ট্রাম্পের চুলকে আগের তুলনায় বেশি পূর্ণ ও কিছুটা ভিন্ন রঙের দেখাচ্ছিল। এই দৃশ্যমান পরিবর্তনই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার মূল কারণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের হেয়ারস্টাইল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমনে কৌতূহল রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে কেউ এটিকে নতুন হেয়ারস্টাইল বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ উইগ বা হেয়ারপিসের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসবের পাশাপাশি ট্রাম্পের চুল নিয়ে নানা ধরনের মিমও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সামাজিক মাধ্যমের এসব মন্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ট্রাম্পের চুল নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহু বছর ধরেই তার স্বতন্ত্র হেয়ারস্টাইল যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে আলোচিত হয়ে আসছে। ২০১১ সালের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই তার চুলের স্টাইল নিয়ে কথা বলেছিলেন। পরবর্তী বছরগুলোতেও বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও সামাজিক মাধ্যমে তার চুল নিয়ে নানা রসিকতা ও আলোচনা হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রবল বাতাসে ট্রাম্পের চুলের স্টাইল কিছুটা এলোমেলো হয়ে যাওয়ার একটি ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনার পরও তার চুল নিয়ে নতুন করে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। এবার লাস ভেগাসের উপস্থিতি সেই পুরোনো কৌতূহলকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তবে চুলের ঘনত্ব বা চেহারায় পরিবর্তন দেখালেই সেটিকে উইগ, হেয়ারপিস বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কসমেটিক পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আলো, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, চুলের স্টাইলিং এবং মঞ্চের পরিবেশেও একজনের চুলকে ভিন্ন দেখাতে পারে। ফলে আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, লাস ভেগাসে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উপস্থিতির পর তার চুলের চেহারা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছে এবং তা নিয়ে নানা মিম ছড়িয়েছে। কিন্তু তিনি নতুন কোনো উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিএ বিরুদ্ধে রায় দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, টার্গেট করা হয়েছে বিচারকের পরিবারকেও
চীনের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণ করছেন ইলন মাস্ক
মর্টগেজে বছরে গড়ে ৩,৩০০ ডলার বেশি দিচ্ছেন লাখো মার্কিন বাড়ির মালিক
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কস্টকোর এক কর্মীর বিরুদ্ধে ঈর্ষা থেকে সহকর্মীকে মোটরসাইকেলসহ গাড়ির ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ধূসর রঙের সেডান গাড়ি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দিলে চালক ছিটকে পাশের একটি ধাতব সাইনপোস্টে আঘাত করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী টাইলার সোরেনসেন ও নিহত ২০ বছর বয়সী জনাথন ল্যাংডন দুজনেই ওয়াশিংটনের ইসাকুয়ায় অবস্থিত কস্টকোতে কর্মরত ছিলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ঘটনার আগে সোরেনসেন তার সহকর্মী সামান্থা পিটারসনকে ল্যাংডনের সঙ্গে আলিঙ্গন করতে দেখেন। সামান্থার প্রতি তার একতরফা আকর্ষণ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই দৃশ্য দেখার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পার্কিং এলাকা থেকে ল্যাংডন মোটরসাইকেলে বের হলে নিজের গাড়ি নিয়ে তার পিছু নেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পার্কিং লটেই প্রথমে গাড়ি দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যান সোরেনসেন। পরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ল্যাংডন বের হলে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেন। এতে ল্যাংডন ছিটকে গিয়ে একটি সড়কচিহ্নের খুঁটিতে সজোরে আঘাত করেন। মোটরসাইকেলটি চালক ছাড়াই সামনের দিকে কিছু দূর এগিয়ে যায়। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, আঘাতের তীব্রতায় ল্যাংডনের শরীর ধাতব খুঁটির সঙ্গে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা তাকে উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার পরা হেলমেটের সামনের অংশও আঘাতে খুলে গিয়েছিল। শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন সাইনপোস্টের সঙ্গে মিলে যায় বলেও তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর সোরেনসেন থেমে আহত সহকর্মীকে সাহায্য করেননি কিংবা জরুরি সেবায় ফোনও করেননি। বরং তিনি কিছু দূরে গিয়ে নিজের গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করে সেখান থেকে চলে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে জরিমানা করেন। তখন ওই কর্মকর্তা জানতেন না, কয়েক মাইল দূরেই একটি প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটেছে। পরে সোরেনসেনের বাবা ঘটনাটি জানতে পেরে তাকে আবার ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গ্রেপ্তারের পর সোরেনসেন তদন্তকারীদের কাছে বলেন, "এটি বোকামি ছিল, কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই করেছি।" তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের আলিঙ্গন করতে দেখে তিনি আতঙ্কিত ও প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সামান্থা পিটারসন তদন্তকারীদের জানান, তার সঙ্গে সোরেনসেনের কখনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং তিনি একাধিকবার সোরেনসেনকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করছেন এবং তার থেকে দূরে থাকতে হবে। এদিকে সোরেনসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক তার জামিন ২০ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৭ আগস্ট মামলার প্রাক-বিচার শুনানির জন্য আবারও আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার। প্রকাশিত ভিডিওটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকে যায় গাছের ডাল, অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি
সমুদ্রের পথ হারিয়ে সৈকতে উঠে এসেছিল ৭৫টি কচ্ছপশাবক, উদ্ধার করে সাগরে ফিরিয়ে দিলেন ফ্লোরিডার কর্মকর্তারা