লং আইল্যান্ডে প্রেমিকার সাবেক সঙ্গীকে হ ত্যা, ২৫ বছরের কারাদণ্ড প্রেমিকের
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি অভিজাত ইয়ট ক্লাবে 'ত্রিভুজ প্রেমের' জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ভিক্টর প্যানেবিয়াঙ্কো (৩২) নামের এক যুবককে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ফার্স্ট-ডিগ্রি ম্যানস্লটার বা হত্যার দায়ে তাকে এই সর্বোচ্চ সাজা শোনানো হয়। গত ১০ নভেম্বর ক্রিস্টোফার মিলওয়াটার (৫২) নামের ওই ব্যক্তিকে স্টনি ব্রুক ইয়ট ক্লাবের পার্কিং লটে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল, যেখানে তিনি মাছ ধরতে যেতেন।
প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, হত্যাকারী ভিক্টর এবং তার প্রেমিকা ক্যাসি কর্সো (৩৩) নর্থ ক্যারোলিনা থেকে গাড়ি চালিয়ে লং আইল্যান্ডে এসেছিলেন ক্রিস্টোফারকে হত্যা করার পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে। উল্লেখ্য, ক্রিস্টোফার একসময় ক্যাসির প্রেমিক ছিলেন, কিন্তু তাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ক্যাসি তার প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতে শুরু করেন।
ঘটনার দিন ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্রিস্টোফার যখন ইয়ট ক্লাবে পৌঁছান, তখন আগে থেকেই পার্কিং লটে ওত পেতে ছিলেন ভিক্টর ও ক্যাসি। বিপদের আঁচ পেয়ে ক্রিস্টোফার নিজের গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ভিক্টর তার গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পথ আটকে দেন। এরপর ক্রিস্টোফার গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ভিক্টর তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন এবং বুকে দুবার মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে এই রোমহর্ষক দৃশ্য ধরা পড়েছে, যেখানে মৃত্যুর ঠিক আগে ক্রিস্টোফারের শেষ কথা ছিল, "তুমি আমাকে ছুরি মারছ?"
হত্যাকাণ্ডের পরপরই ভিক্টর এবং ক্যাসি গাড়ি চালিয়ে নর্থ ক্যারোলিনায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্টোকস কাউন্টির শেরিফ তাদের সেখান থেকে গ্রেপ্তার করেন। সাফোক কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রে টিয়ার্নি এই রায়কে ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তারা আশা করেন এই সর্বোচ্চ সাজার মাধ্যমে নিহতের পরিবার কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবে।
অন্যদিকে, নিহতের সাবেক প্রেমিকা ও এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ইন্ধনদাতা ক্যাসি কর্সোও দোষ স্বীকার করেছেন এবং তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।
মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে ক্রিস্টোফার তার ফেসবুক পেজে নিজের অতীত ও জীবন নিয়ে বেশ কিছু রহস্যময় পোস্ট করেছিলেন। একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "আমি মারা গেলে বিশ্রামের জন্য প্রচুর সময় পাব, তাই এখন দ্রুত গোসল সেরে জিমে যাওয়ার সময়।" অন্য একটি পোস্টে তিনি তার অতীত নিয়ে মানুষকে গসিপ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি সবকিছুর সাথেই আপস করে শান্তিতে রয়েছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শিখ স্বেচ্ছাসেবক অবতার সিংকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় মেক্সিকোয় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সান হোয়াকিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় শনিবার (৭ নভেম্বর) জানায়, গ্রেপ্তার আলবের্তো আলোনসো আলেনকাস্ত্রোর বয়স ২৫ বছর। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁকে সান হোয়াকিন কাউন্টির কারাগারে রাখা হয়েছে। এ মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনকে খুঁজছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা হলেন ২০ বছর বয়সী আলফনসো ক্রেসেনসিও সেগুরা আরেয়ানো ও ২২ বছর বয়সী বার্নাবে আন্তোনিও সেগুরা আরেয়ানো। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যালেহো শহরের এই তিন বাসিন্দার বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ এনেছে সান হোয়াকিন কাউন্টির একটি গ্র্যান্ড জুরি। কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রন ফ্রেইটাস জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ২টার দিকে ট্রেসি শহরের ওয়েস্ট গ্রান্ট লাইন রোডে গুরু নানক প্রকাশ গুরুদুয়ারা প্রাঙ্গণ থেকে ৫৭ বছর বয়সী অবতার সিংকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্তকারীদের ধারণা, গাঢ় রঙের পোশাক পরা তিন ব্যক্তি সিংকে জোর করে একটি সাদা এসইউভিতে তোলেন। কয়েক দিন পর নাপা কাউন্টির লেক বেরিয়েসার কাছে একটি নির্জন এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা নজরদারি ফুটেজ ও গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার তথ্য মিলিয়ে সাদা এসইউভিটি শনাক্ত করেন। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ওই তথ্যের সূত্র ধরে ১৯ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেহো শহর থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়। এরপর ট্রেসি ও ভ্যালেহোর বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে তিন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের ধারণা, সন্দেহভাজনেরা একটি পণ্যবাহী ট্রেলার চুরির ঘটনায় অন্য এক ব্যক্তিকে খুঁজছিলেন। অপহরণের সময় ওই ব্যক্তি কানাডায় ছিলেন বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তদন্তকারীরা কানাডায় গিয়ে জানতে পারেন, ট্রেলারটি নিয়ে ওই ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার হুমকি পাচ্ছিলেন। শেরিফ প্যাট্রিক উইথরো জানিয়েছেন, ট্রেলার চুরির ঘটনার সঙ্গে অবতার সিংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। অবতার সিং বহু বছর ধরে গুরুদুয়ারায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে রান্না করতেন এবং মেরামতের কাজেও হাত লাগাতেন। স্ত্রী ও একসঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন শিশুসন্তানকে নিয়ে তিনি গুরুদুয়ারা প্রাঙ্গণেই থাকতেন। বাকি দুই সন্দেহভাজনের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে সান হোয়াকিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ২০৯-৪৬৮-৪৪০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছে। সংবাদসূত্র: কেটিভিইউ ফক্স ২, কেসিআরএ ৩, সিবিএস স্যাক্রামেন্টো
স্ত্রীর বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনায় চ্যাটজিপিটির সহায়তা, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেন স্বামী
ইসরায়েলে মার্কিন সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে চান নবনির্বাচিত সিনেটর এল-সাইয়েদ
ডেট্রয়েটে লেবাননের কনসাল জেনারেলকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে মরণোত্তর পিএইচডি ডিগ্রি পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক শাশ্বত সৌম্য। ২০২৫ সালের জুনে কানাডায় রহস্যজনক নয়, বরং আকস্মিক এক মৃত্যুর ঘটনায় থেমে যায় তাঁর গবেষণাজীবন। তবে মৃত্যুর পরও স্বীকৃতি পেয়েছে তাঁর অসাধারণ গবেষণাকাজ। এমআইটির ২০২৬ সালের সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক তালিকায় তাঁর নামের পাশে উল্লেখ করা হয়েছে মরণোত্তর ডিগ্রি প্রদানের বিষয়টি। যে বন্ধুকে নিয়ে একসময় সহপাঠীরা স্বপ্ন দেখতেন, তিনিই সবার আগে পিএইচডি শেষ করবেন, সেই শাশ্বত সৌম্য এখন তাঁদের কাছে ডক্টর শাশ্বত সৌম্য। বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন শাশ্বত সৌম্য। ২০২১ সালে স্নাতক শেষ করার পর প্রথমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পরে বুয়েটে শিক্ষকতা করেন তিনি। গবেষণার প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে এমআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ দেন। সেখানে গবেষণার পাশাপাশি ২০২৪ সালের মে মাসে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এমআইটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ল্যাবরেটরিতে অধ্যাপক নির শাভিতের গবেষক দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এমআইটির গবেষণাগারে সৌম্য মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ নিয়ে কাজ করতেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম বিষয় ছিল নিউরাল নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা এবং কম্পিউটেশনাল মডেলকে আরও কার্যকর করে তোলা। আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলনেও তাঁর কাজ স্থান পায়। এমআইটির ২০২৬ সালের সমাবর্তনের তালিকায় তাঁর গবেষণার শিরোনাম হিসেবে উল্লেখ রয়েছে নিউরাল নেটওয়ার্কের ব্যাখ্যাযোগ্যতা ও কম্প্রেশন। গবেষণায় মেধার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন সৌম্য। তিনি এমআইটির বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। সৌম্যর বুয়েটজীবনের বন্ধু খন্দকার মুশফিকুর রহমানের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্বের নানা দিক। বন্ধুদের মধ্যে যখন আলোচনা হতো, কে সবার আগে পিএইচডি শেষ করবেন, তখন সবার উত্তর ছিল সৌম্য। পড়াশোনা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা বন্ধুদের প্রয়োজনে এগিয়ে যাওয়া, সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। মুশফিকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌম্যর লক্ষ্য ছিল দ্রুত গবেষণার কাজ শেষ করে আরও বড় পরিসরে কাজ করা। পিএইচডি শেষে পোস্টডক্টরাল গবেষণার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাগারে কাজ করার আগ্রহের কথাও বন্ধুকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের জুনে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় নিজের গবেষণা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন সৌম্য। ২ জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কেলৌনা শহরের ওকানাগান লেক থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং এমআইটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এমআইটির শিক্ষার্থী পত্রিকা দ্য টেকের প্রকাশিত স্মরণলেখায় তাঁকে একজন প্রতিশ্রুতিশীল গবেষক হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট স্যালি কর্নব্লুথও সৌম্যর কমিউনিটি গড়ে তোলার ভূমিকার প্রশংসা করেন। মৃত্যুর পরও সৌম্যর গবেষণার অর্জন হারিয়ে যায়নি। এমআইটির ২০২৬ সালের আনুষ্ঠানিক ডক্টরাল ডিগ্রিপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নামের পাশে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, মরণোত্তর ডিগ্রি। এই স্বীকৃতি তাঁর গবেষণাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হয়ে থাকল। বন্ধুদের কাছে খবরটি একদিকে গর্বের, অন্যদিকে গভীর বেদনার। যাঁর সঙ্গে পিএইচডি শেষ করার আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন ছিল, তিনি সেই আনন্দের মুহূর্তে উপস্থিত নেই। বন্ধু মুশফিকুর রহমান লিখেছেন, সৌম্যর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন তাঁকে নিয়ে কিছু লিখতে পারেননি। পুরোনো ছবিতে বন্ধুর হাসিমুখ দেখলে এখনো মনে হয়, সৌম্য যেন তাঁদের মাঝেই আছেন। একসময় তাঁরা যে বন্ধুকে সবার আগে পিএইচডি শেষ করতে দেখার প্রত্যাশা করেছিলেন, সেই প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছে। শুধু মানুষটি আর নেই। মুশফিকুরের আক্ষেপ, জীবিত থাকতে যদি একবার বন্ধুকে ডক্টর শাশ্বত সৌম্য বলে ডাকতে পারতেন! সংবাদসূত্র: এমআইটির ২০২৬ সালের সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক তালিকা, দ্য টেক
এইচএসসিতে ৩.৪১ জিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে সাফল্য! পেলে গ্রীন কার্ড
আগুনে দগ্ধ ৩ ইরাকি শিশুকে চিকিৎসা দিতে রাজি না হওয়ায়, কান্নায় ভেঙে পরেন মার্কিন সেনা
আমেরিকায় নতুন! জেনে নিন ক্রেডিট স্কোর গড়ার সাতটি কার্যকর উপায়
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শামীম নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন। সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয় বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে ব্রুকলিনের কিংস কাউন্টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত ও শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে শনিবার, ৭ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বাংলা আওয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেদী হাসান শামীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পড়াশোনা শেষ করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু নিউইয়র্কে আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁর চিকিৎসা ও সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় শামীম সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর গাড়ির চালক আহত শিক্ষার্থীকে সহায়তা না করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় শামীমের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। শরীরের অভ্যন্তরেও রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর শামীমের পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর পরিবার বাংলাদেশে থাকায় এই সংকটময় সময়ে স্বজনেরা সরাসরি পাশে থাকতে পারছেন না। দূর থেকে তাঁরা চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা একজন শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ব্যক্তিগত সহায়তা এবং আইনি সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে, ঘটনার পর শামীম তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানিয়েছে বাংলা আওয়ার। খবর পেয়ে ফারহান আরিয়ান হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এটি সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বর্ণবিদ্বেষমূলক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে এ ধরনের উদ্দেশ্যের পক্ষে পুলিশের কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। দুর্ঘটনাটি ব্রুকলিনের ঠিক কোন এলাকায় এবং কখন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গাড়ির চালককে শনাক্ত করা হয়েছে কি না কিংবা পুলিশ কোনো আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত নয়। শামীমের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাই এখন তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা। সূত্র: সিএসবি নিউজ
স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনায় স্ত্রীকে চ্যাটজিপিটির সহায়তার অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
বিশ্বকে বোকা বানানো সেই জলপরীর আসল পরিচয় উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা